ছোটবেলার তালের আঁটির শাঁস খাওয়ার গল্প


পাকা তালের আঁটি ভাদ্র মাসে মাটিতে বা ছায়ে পুতে কার্তিক মাসে সেটা কেটে যে শাঁস পাওয়া যায় সেটাই হল তালের আঁটির শাঁস বা তাল শাঁস। তাল শাঁস দেখতে সাদা এবং এটি তালের আঁটির ভিতরে থাকে। এটি খেতে পানসে মিষ্টি ও সুস্বাদু খেতে। 

তালের আঁটির শাঁস খেতে হলে প্রথমে আপনাকে এটি দা দিয়ে কাটতে হবে। কারণ, তালের আঁটি অনেক শক্ত। শক্ত খোসা কাটতে অবশ্যই দা ব্যবহার করতে হবে। দা দিয়ে তালের আঁটির উপর জোরে আঘাত করলে তালের আঁটি থেকে তালের সাদা শাঁস বের হয় তা খাওয়া যায় । তবে, তালের আঁটি খাওয়া যায় না। 

তালের আঁটি থেকে তালের শাঁস খেতে চাইলে তাল পাকার পর তালের আঁটি মাটিতে পুঁতেতে হবে। তবে মাটির উপর দেখা যায় এমন ভাবে তালের আঁটি রাখতে হবে। তারপর দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। বাংলা কার্তিক ও ইংরেজি মাসের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে তালের শাঁস খাওয়ার উপযোগী হয়। 
তালের আঁটি খাওয়া ও এর সারে স্মৃতি

এখনো আমরা গ্ৰামে তালের আঁটি থেকে শাঁস বের খায়। হারানো সোনালি অতীত এখনো আমরা গ্ৰামে উপভোগ করি। 

চলুন আজকে আপনাকে সেই হারিয়ে যাওয়া তালের আঁটি শাঁস কীভাবে খেতে হয় তা জানিয়ে দেয় গল্পে গল্পে। 

তালের আঁটির শাঁস খাওয়ার গল্প

ভাদ্র মাস তাল পেকেছে, চারিদিকে পাকা তালের আঁটিতে সয়লাব। কেউ তালের আঁটি ঘসে তালের পিঠা তৈরি করছে, কেউ তাল কুড়িয়ে বিক্রি করছে। 

এই সময় তালের আঁটি থেকে তালের পিঠা বানানোর পর সকল তালের আঁটি পুতে ফেলেছিলাম। 

এরপর দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা। আমাকে প্রায় ২ মাস অপেক্ষা করতে হল তালের আঁটির শাঁস খাওয়ার জন্য জন্য। 

আমি ঘরের পিছনে তালের আঁটি ফেলে রেখে দিয়েছিলাম। কার্তিক মাসে আমি সেই আঁটি তুলতে গিয়ে দেখলাম তালের আঁটি গেজে গেছে। তালের আঁটির পেছন দিক থেকে একটি জড় বের হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম তালের আঁটি কেটে খাওয়ার সময় হয়েছে। তালের আঁটির বাড়ি নিয়ে আসলাম। 
একটি তালের আঁটি

তালের আটি দেখতে কিছুটা ছাই রঙা কালো এবং তালের আঁটি বেশ শক্ত। তাই, ঘর থেকে একটি দা বের করলাম। 

তালের আঁটি ও দা এক জায়গায় রেখে, আমি একটি ইট সংগ্ৰহ করলাম, যেনো তালের আঁটি ইট উপর রেখে তালের আঁটি কাটতে পারি। 
তালের আঁটি ও দা

এরপর, আমি দা দিয়ে একটি তালের আঁটি কাটলাম। কয়েকবার দা দিয়ে কাটার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হলাম। আরো কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর আমি তালের আঁটি মাঝ বরাবর কাটতে সক্ষম হলাম। 

অনেক কষ্ট শেষে আমি তালের আঁটির মধ্যে সাদা শাঁস দেখতে পেলাম। তালের শাঁস দেখে আমি খুব খুশি হলাম। 
তালের আঁটি শাঁস দেখা যাচ্ছে

তালের শাঁস দা দিয়ে কাটার করণে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাই আমি একভাগ তাল শাঁস বের করে খেলাম। 

মুখে দিতেই তালের শাঁস মুখে মিলিয়ে গেল এবং আমি তাল শাঁস থেকে মিষ্টি এবং কিছুটা পানসে স্বাদ অনুভব করলাম। যদিও এটি আমাকে খেতে অনেক ভালো লেগেছে। তাই বেশ কটা তালের আঁটি থেকে তালের শাঁস বের করে খেলাম। 
তালের আঁটির শাঁস বের করে খেলাম

আমার সাথে আমার একটি ছোট্ট বোন বিথি ছিল। সেও আমার সাথে খাওয়া শুরু করলো। তালের শাঁস খেতে এতোটাই মজা লেগেছিল যে, আমরা দু ভাইবোন তাল শাঁস খাওয়ার জন্য একটু মারামারি ও শুরু করলাম। 

যাইহোক, তালের আঁটি থেকে তালের শাঁস খাওয়ার মজা শুধু কেটে খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কাউকে খেতে দেখা নিশ্চিত ভালো অনুভূতি দেয় না। 

তালের আঁটির শাঁস খাওয়ার পর আমি ও আমার বোন সিদ্ধান্ত নিলাম। পরের বছর বেশি করে হাজীর তালের গাছ থেকে তালের আঁটি সংগ্ৰহ করে রাখবো। 




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url