টেবিল ছেড়ে উঠছিল না কাস্টমার, অতঃপর যা করলেন দোকানি

হারেস চিন্তা করছে, কীভাবে জিদ্দি কাস্টমার কে সরানো যায়

হারেস তাঁর বাড়ির পাশে একটি ছোট কফিশপের মালিক। রাস্তার পাশে দোকান হওয়ায় তাঁর কফির বেশ ভালো বিক্রি হতো। এ কারণে ছোট্ট কফিশপটিতে সারাক্ষণ ভিড় লেগে থাকত। সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যা - প্রায় সব সময়ই দোকানটি ক্রেতায় পরিপূর্ণ থাকত।

হারেসের দোকানের কফির স্বাদ ছিল দারুণ, আর দামও ছিল ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে। তাই আশপাশের অনেক মানুষ সেখানে কফি পান করতে আসতেন।

আপনার মনে হতে পারে, এত বেশি ক্রেতা আসছেন, কফিও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। তাহলে দোকানির তো বেশ ভালোই আয় হওয়ার কথা!

হ্যাঁ, ক্রেতাদের আনাগোনার কারণে হারেসের কফিশপে ভালোই বিক্রি হতো। কিন্তু একটা সময় পর তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে পড়লেন। কারণ, অনেক ক্রেতা এক কাপ কফি কিনে দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত দোকানে বসে থাকতেন। তাঁরা টেবিল ছেড়ে উঠতে চাইতেন না। কেউ কেউ সেখানে বসে অফিসের কাজ করতেন, আবার কেউ ফোনে কথা বলতেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটাতেন।

অন্যদিকে, নতুন ক্রেতারা দোকানে এসে বসার জায়গা পেতেন না। ফলে অনেকেই কফি না খেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হতেন।

হারেস বুঝতে পারলেন, একজন ক্রেতা দীর্ঘ সময় ধরে একটি টেবিল দখল করে রাখলে তাঁর ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে। কারণ, একজন ক্রেতা কফি পান করে চলে গেলে সেখানে অন্য একজন ক্রেতা বসতে পারবেন। এতে আরও বেশি কফি বিক্রি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু তাঁর দোকানে ঘটছিল ঠিক এর উল্টোটা।

কেউ ফোনে কথা বলতেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন, আবার কেউ এক কাপ কফি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের কাজ করতেন। অথচ দীর্ঘ সময় দোকানে বসে থাকলেও তাঁদের অনেকেই দ্বিতীয়বার আর কফি অর্ডার করতেন না। এদিকে নতুন ক্রেতারা বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতেন।

সব মিলিয়ে হারেস বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন, কীভাবে এই ক্রেতাদের কফি পান করার পর স্বাভাবিকভাবে দোকান ছেড়ে যেতে উৎসাহিত করা যায়।

তিনি কাউকে অপমান করতে চাইতেন না। আবার নিজের ব্যবসার ক্ষতিও মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে থাকলেন। হঠাৎ তাঁর মাথায় একটি নতুন মার্কেটিং কৌশলের ধারণা এল।

ব্যবসায়ীর মাথায় এল নতুন মার্কেটিং কৌশল

হারেস সরাসরি কাউকে দোকান থেকে উঠে যেতে না বলে একটি নতুন পরিকল্পনা করলেন।

প্রথমে তিনি তাঁর কফিশপের এক পাশে একটি বড় বিলবোর্ড টাঙিয়ে দিলেন। এরপর সেখানে একটি বিজ্ঞপ্তি লিখে দিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল:

“আজ থেকে কফি পান করার পরও যদি কেউ ক্যাফেতে বসে গল্প করতে, আড্ডা দিতে কিংবা অফিসের কাজ করতে চান, তাহলে প্রতি ঘণ্টা বসার জন্য তাঁকে ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।”

অর্থাৎ, ক্রেতারা চাইলে কফি পান করার পরও দোকানে বসে চা খেতে, গল্প করতে, ফোনে কথা বলতে কিংবা অফিসের কাজ করতে পারবেন। তবে তাঁদের মনে রাখতে হবে, কফি পান করার পর অতিরিক্ত সময় দোকানে বসে থাকতে চাইলে প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০০ টাকা দিতে হবে।

হারেসের এই নতুন কৌশল কাজে আসতে শুরু করল। অনেক ক্রেতা কফি পান করার পর আর অযথা দীর্ঘ সময় দোকানে বসে থাকলেন না। তাঁরা কফি শেষ করে দোকান ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলেন।

ফলে কফিশপে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। নতুন ক্রেতারাও বসার জায়গা পেতে লাগলেন। অন্যদিকে, যাঁরা অতিরিক্ত সময় দোকানে বসে থাকতে চাইতেন, তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের সুযোগ তৈরি হলো।

এভাবে হারেস কাউকে সরাসরি অপমান না করেই তাঁর ব্যবসার একটি বড় সমস্যার সমাধান খুঁজে পেলেন। একই সঙ্গে তিনি দোকানের টেবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয়েরও একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেন।

শিক্ষণীয় বিষয়: ব্যবসায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে সব সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো সঠিক পরিকল্পনা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও কার্যকর মার্কেটিং কৌশলের মাধ্যমে এমন সমাধান বের করা যায়, যা ব্যবসার ক্ষতি কমাতে এবং আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url