চড়ুই পাখির গল্প - রিমা ও চড়ুই পাখি

চড়ুই পাখির গল্প: টিনের চালে চড়ুই পাখির বাসা

রিমাদের বাড়ির টিনের চালের নিচে একদিন একটি চড়ুই পাখি বাসা বাঁধল। শুকনো ঘাস, খড় ও নরম পালক দিয়ে সে ধীরে ধীরে গড়ে তুলল তার ছোট্ট সংসার। রিমা প্রতিদিন মুগ্ধ হয়ে দেখত চড়ুইটির ছোটাছুটি, খাবার সংগ্রহ, বাসা গোছানো এবং ছানাদের যত্ন নেওয়ার দৃশ্য।

চড়ুই পাখির গল্প - রিমা ও চড়ুই পাখি

চড়ুই পাখিটির এই ছোট্ট জীবন ছিল বাসা তৈরি, খাবার সংগ্রহ এবং নিজের ছানাদের যত্ন নেওয়ার এক মায়াময় গল্প। রিমার চোখে দেখা সেই চড়ুই পাখির জীবন, তার বাসা এবং ছোট্ট সংসারের মায়াভরা গল্পই আজ আমরা পড়ব। চলুন, গল্পটি পড়ি।

চড়ুই পাখির গল্প - রিমা ও চড়ুই পাখি 

সকালে ৬টা কিংবা ৭টা বাজছে। উপরে টিনের চাল, চারদিকে ইট দেওয়া ঘেরা।‌ ছোট্ট চৌকির উপর শুয়ে আছে ছোট্ট রিমা। রিমার বয়স হবে হয়তো ৫-৭ বছর।‌

ঘরের বাইরে থেকে ডাকছে রিমার মা।‌

রিমা রিমা পূর্ব দিকে সূর্য উঠে গেছে মা। তাড়াতাড়ি উঠ, মুরগি গুলো বের কর।‌ 

উঠছি মা…

রিমা বিছানা থেকে উঠেই তাঁর চোখ পড়ল টিনের চালের নিচে থাকা চড়ুই পাখির দিকে।‌ দুটি চড়ুই পাখি, ছেলে চড়ুই পাখি ও মেয়ে চড়ুই পাখি। 

রিমা ঘর থেকে বের হয়ে মুরগি গুলো ছেড়ে দিল। কুকুরুকু ডাক দিয়ে বের হল সকল মুরগি। 

রিমা দৌড়ে গিয়ে হেসেল ঘরে গেল এবং বলল মা মা আমার ঘরের টিনের চালের নিচে এক জোড়া চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছে। একটা ছেলে চড়ুই পাখি আরেকটি মেয়ে চড়ুই পাখি। আমি দুটি পাখিকেই দেখলাম তাঁরা খড়, ছোট শুকনো পাতা, চিকন ডাল, শিকড় বা উদ্ভিদের তন্তু, পালক, পশম বা চুল, সুতা, এবং কাগজের টুকরো নিয়ে গিয়ে বাসা তৈরি করছে।‌ 

মা তুমি জানো আমার পড়ার টেবিলের উপরে ছিঁড়ে রাখা কাগজ গুলো ও তাঁরা ঠোটে করে নিয়ে গিয়েছে। 

মা মা দেখো এই চড়ুই পাখি দুটি আমাদের টিনের চালের নিচে বাসা করেছে। দেখো নিমের গাছের পাতার খিল গুলো মুখে করে আছে। 

হ্যাঁ, তাই তো রে রিমা। চড়ুই পাখি গুলো বসতবাড়ির আশপাশে বসবাস করে। তাঁরা খুবই চঞ্চল প্রকৃতির হয়। একটু শব্দ পেলেই তারা পালিয়ে যায়। 

জানিস রিমা এই চড়ুই পাখি গুলো তোর নানা বাড়িতে বাড়ির ছাদের নিচে বাসা বেঁধে আছে। 

রিমা তুই এই চড়ুই পাখির কথা ছাড়। তুই ঘরে গিয়ে চাউল নিয়ে আয়। 

আচ্ছা মা আমি চাউল নিয়ে আসছি। 

মা কতটুকু চাউল নিব। 

তুই ১ কেজি চাউল নিবি একটা ছোট্ট কৌটায়। এতে আমাদের চারজনের সকালের খাওয়া দাওয়া হয়ে যাবে। তোর আব্বা আর বড় ভাই তো মাঠে গিয়েছে জমির আইল কাটতে।

তাড়াতাড়ি যা চাউল নিয়ে আয়। 

রিমা ঘরে গেল এবং চাউল নিয়ে এলো। 

মা এই নাও চাউল। 

আজকে তরকারি কি রাঁধবে মা। 

আজ সকালে শুধু আলুর সানা আর ভাত রাঁধবো।‌ ঘরে টাকা নেই। তোর আব্বা কয়েকদিন থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজে যাচ্ছে না। তাই ঘরে টাকা ও নেই। কি যে করব সংসারের।

মা মা দেখো চড়ুই পাখি দুটি আবার হেসেল সামনে এসেছে। 

মা তাঁরা কি চাউল খায়? 

হ্যাঁ খায়। 

মা আমি পাখি গুলো কে এক মুট চাউল দিব? 

অল্প দে। বেশি দিবি না।‌

রিমা একমুট চাল নিয়ে চড়ুই পাখি দুটি কে খেতে দিল।‌ 

যেমনি রিমা মেঝেতে চাল ফেলল। তেমনি চড়ুই পাখি গিয়ে টিনের চালের উপর উড়ে গিয়ে বসল। 

রিমা তার মাকে বলল চড়ুই পাখি চাল খায় না মা? 

আরে খাই তো তাঁরা চাল। চড়ুই পাখিরা ভাত, ধান ও গমের দানাভাঙা চাল ও অন্যান্য শস্য, বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ, পোকামাকড় ও ছোট কীটপতঙ্গ খায়। একটু পড় দেখ উড়ে এসে খাবে।‌

কিছুক্ষণ পর পাখি গুলো তাঁরা টিনের চাল থেকে নেম চাল খেতে লাগল। 

পাখি গুলোর খাওয়া দেখে রিমার খুব আনন্দ হল। 

আয় আয় খা খা। তোরা প্রতিদিন আসবি, আমি তোদের প্রতিদিন চাল খেতে দেব। 

কিচিরমিচির করতে করতে পাখিগুলো উড়ে চলে গেল।‌

এভাবে প্রতিদিন চড়ুই পাখি খাবার খোঁজা, খাওয়া, পানি পান করা, বিশ্রাম, নিজের পালক পরিষ্কার করা, সঙ্গীর সঙ্গে থাকা শুরু করল। 

একদিন মেয়ে চড়ুই পাখি ডিম পাড়ল।

রিমা একদিন বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল, সে দেখতে পেল। শুধু একটা চড়ুই পাখি বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে খাবার খুজছে। 

রিমার একটু ভয় হল এবং রিমা মনে মনে বলল মনে হয় আরেকটা চড়ুই পাখি মারা গেছে। 

সে দ্রুত টিনের চালে নিচে গেল এবং ঘরের কোনে রাখা ধানের বস্তার উপর পা দিয়ে চড়ুই পাখির বাসার দিকে উঁকি দিয়ে তাকালো। সে দেখল একটা চড়ুই পাখি দুটি ডিম নিয়ে বসে আছে। 

রিমা বুঝতে পারল চড়ুই পাখি ডিম পেড়েছে। 

সে সারা বাড়িতে ঘুরে ঘুরে বলতে লাগলো চড়ুই পাখি ডিম পেড়েছে, চড়ুই পাখি ডিম পেড়েছে। কি মজা কি মজা। 

আনন্দ করতে করতে তাঁর মায়ের কাছে গেল এবং তার মাকে রিমা বলল, মা জানো চড়ুই পাখি ডিম পেড়েছে। 

তাই নাকি। 

হ্যাঁ মা। আমি চড়ুই পাখির বাসা থেকে দেখে এলাম। বাদামি ও ধূসর রঙের চড়ুই পাখিটি ডিমের উপর বসে আছে। 

ও তাহলে ওটা মনে হয় মেয়ে চড়ুই পাখি। 

আচ্ছা মা। তাহলে যে চড়ুই পাখিটির মাথার কিছু অংশ ধূসর, গলা ও বুকের কাছে কালচে দাগ আছে - সেটা হল ছেলে চড়ুই পাখি। 

হ্যাঁ। চড়ুই পাখিরা একসাথে বাসা বাঁধে ও বসবাস করে। 

কয়েকদিন পর দেখতে পাবি যে, ডিম থেকে ছোট্ট ছোট্ট চড়ুই পাখির বাচ্চা হয়েছে। 

বেশ কিছুদিন পর রিমা তাঁর ঘরে ঢুকতেই শুনতে পেল কিচিরমিচির আওয়াজ। 

দৌড়ে গিয়ে ঘরের কোণের টিনের চালে উঁকি দিয়ে দেখল। চড়ুই পাখি দুটির ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা হয়েছে। 

রিমা খুব খুশি হল এবং এখানেই গল্প শেষ হল। 

চড়ুই পাখি গুল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

৫টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. রিমাদের বাড়ির কোথায় চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছিল?

উত্তর: রিমাদের বাড়ির টিনের চালের নিচে চড়ুই পাখি বাসা বেঁধেছিল।

২. চড়ুই পাখি বাসা তৈরিতে কী কী ব্যবহার করেছিল?

উত্তর: শুকনো ঘাস, খড়, ছোট পাতা, চিকন ডাল, পালক, পশম, সুতা ও কাগজের টুকরো ব্যবহার করেছিল।

৩. রিমা চড়ুই পাখিকে কী খাবার দিয়েছিল?

উত্তর: রিমা চড়ুই পাখিকে এক মুঠো চাল খেতে দিয়েছিল।

৪. চড়ুই পাখি কতটি ডিম পেড়েছিল?

উত্তর: চড়ুই পাখি দুটি ডিম পেড়েছিল।

৫. গল্পের শেষে কী হয়েছিল?

উত্তর: কয়েকদিন পর চড়ুই পাখির দুটি ছোট্ট বাচ্চা হয়েছিল।

আরো গল্প পড়ুন, 

১. পাখি - লিলা মজুমদার 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url