বুদ্ধিমান রাজার গল্প: জঙ্গল কে থেকে শহর বানানোর গল্প

এক বুদ্ধিমান লোককে একটি বড় পাখি একটি নতুন দেশে নিয়ে আসলো। সেই দেশটি ছিল এক অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর দেশ। যেখানে একটা নিয়ম ছিল এই যে, পাঁচ বছর পর পর রাজা পরিবর্তন হবে এবং রাজা জঙ্গলে ফেলে আসা হবে। 

সব জেনে বুদ্ধিমান লোকটি একটি বুদ্ধি করল এবং সে ঐ দেশের রাজা হয়ে গেল এবং পাঁচ বছর শেষে যখন সবাই রাজা কে জঙ্গলে ফেলে আসলো। তখন রাজা খুশিতে রাজ্য ছেড়ে জঙ্গলে চলে গেল। 
এক বুদ্ধিমান রাজা ও জঙ্গলের দৃশ্য

কেন ভিনদেশী মানুষ রাজা হল এবং কেন আনন্দ করতে করতে ঐ রাজা জঙ্গলে গেল। জানতে এখনি বিস্তারিত পড়ুন।

বুদ্ধিমান রাজার গল্প: জঙ্গল কে থেকে শহর বানানোর গল্প 

এক দেশে অনেক মানুষ বাস করত। সেখানে মানুষ খুবই সুখে বসবাস করছিল।‌ 

হঠাৎ একদিন অনেক বড় পাখি সেই দেশে প্রবেশ করল। 

সেই দেশের মানুষ সবাই আতংকিত হয়ে পড়ল। সবাই চারিদিকে দিকবিদিক ছুটতে লাগলো। 

এক বুদ্ধিমান লোক বুদ্ধি করে এক বনের মধ্যে যেতে চাইলো। কিন্তু, বনের মধ্যে প্রবেশ করার আগেই একটি বড় পাখা ওয়ালা পাখি এসে লোকটি কে নক দিয়ে শক্ত ধরে ফেলল এবং অনেক বড় বড় পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়তে লাগলো। 

লোকটি পাখির কাছ থেকে বাঁচতে ছটফট করতে লাগলো। সে বলতে লাগল বাঁচাও বাঁচাও, আমাকে কেউ বাঁচাও। আমাকে বড় পাখি নিয়ে গেল। কেউ বাঁচাও। 

কিন্তু কোন লোক তার কথা শুনতে পেল না এবং শেষে বড় পাখিটি তাঁকে একটি জঙ্গলের পাশে একটি দেশের ঘন বসতি পূর্ণ এলাকায় ফেলে দিল। 

লোকটি গিয়ে পড়ল এক গাছের উপর। 

সে অনেক কষ্ট করে গাছের উপর থেকে নামল এবং এক বাজারে মধ্যে প্রবেশ করল। 

সেখানে ছিল অনেক লোকের ভিড়। সেখানে একটা মাঠে আলাপ চলছে, বর্তমান রাজার পাঁচ বছর শেষ হয়ে গেছে। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজার মেয়াদ পাঁচ বছর। 

পাঁচ বছর রাজত্ব করার পর রাজকে দেশের সকল মানুষ মিলে নির্জন জঙ্গলে ফেলে আসতে হয়। তাই আমাদের এই রাজা কে ও দেশের পাশের বিশাল জঙ্গলে ফেলে আসতে হবে এবং নতুন রাজা খুঁজতে হবে।‌

পাখিতে নিয়ে আসা লোকটি ঐ দেশের মানুষের সাথে মিশে গেল এবং তাদের সাথে রাজাকে জঙ্গলে ফেলে আসার জন্য তাঁদের সাথে যোগ দিল। 

সেই দেশের সকল মানুষ মিলে রাজাকে জঙ্গলে ফেলে আসলো। রাজা অনেক কান্নাকাটি করছিল। কিন্তু কেউ রাজার কান্নার মায়ায় পড়ল না এবং সবাই তাঁকে জঙ্গলে একা ফেলে রেখে চলে গেল। 

রাজাকে হিংস্র প্রাণী এসে খেয়ে ফেলল। রাজার জীবনের এখানেই সমাপ্তি ঘটল।‌

এরপর দেশের মানুষ নতুন রাজা কে হবে তা খুঁজতে লাগলো। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনেক মানুষ কে রাজা হওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু কেউ ভয়ে দেশের রাজা হতে চাইলো না। 

কিন্তু অন্য দেশ থেকে আসা মানুষটি একটি বুদ্ধি করল এবং সে দেশের রাজা হতে ইচ্ছা প্রকাশ করল। দেশের সকল মানুষ মিলে লোকটি কে রাজা বানালো এবং তাঁর আদেশে দেশ পরিচালিত হতে লাগল।‌

লোকটি বুদ্ধি করে অনেক কাঠুরিয়া কে দিয়ে জঙ্গলের গাছ কাটালো। 
 
জঙ্গলের সকল হিংস্র প্রাণী চিড়িয়াখানায় রেখে দিল। 

জঙ্গলের মধ্যে যোগাযোগের জন্য রাস্তা, ব্রিজ, তৈরি করল। 

বড় বড় প্রকৌশলীকে দিয়ে রাজা জঙ্গলের মধ্যে বিশাল বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ করল, বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরি করল, এবং সেখানে কিছু মানুষের যাতায়াত শুরু হল। 

দেখতে দেখতে রাজার পাঁচ বছর পূর্ণ হল এবং দেশের মানুষ ভিন দেশ থেকে আগত রাজা জঙ্গলের মধ্যে পাঠিয়ে দিল। 

সকল রাজা যায় কাঁদতে কাঁদতে। কিন্তু ভিন দেশি বুদ্ধিমান রাজা গেল আনন্দ করতে করতে। 

কারণ বুদ্ধিমান ঐ লোকটি রাজা হওয়ার আগে বুঝতে পেরেছিল। সে তো পাঁচ বছর পর জঙ্গলে যাবেই। তাই সে আগাম বুদ্ধি করে জঙ্গল কে শহরে পরিণত করল এবং সেখানে লোকটি, অর্থাৎ রাজা বসবাস শুরু করল। 

গল্পের শিক্ষা (moral of the story) 

গল্পটি শুধু একটি রাজার গল্প নয়। বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি বড় শিক্ষা। 

শিক্ষাটি হল এই যে, যদি আপনি আপনার নিজের জীবনের সুখের কথা চিন্তা করে, নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আজ থেকেই যদি আপনি আপনার জীবনকে সুন্দর বানানোর সঠিকভাবে লেখাপড়া করেন, খেলাধুলা করেন এবং নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য নিয়মিত চেষ্টা করেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আপনিও রাজার মতো সুখী ও আনন্দময় জীবন কাটাতে পারবেন। তাই ভবিষ্যতের সুন্দর জীবনের জন্য আজ থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত।

নিজের ভূলে ভরা জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করুন। একদিন শিখতে শিখতে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। 

আরো গল্প পড়ুন,




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url