বায়েজিদ বোস্তামী কে ছিলেন? (মানুষ না জিন)

বিখ্যাত সুফি সাধক বায়েজিদ বোস্তামীর জীবনী

বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন আল্লাহ তায়ালার একজন অলি। যিনি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দুনায়াবি সকল চাহিদা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছিলেন। কারণ, তিনি সব সময় পালন করেছেন ইসলামের নিয়ম-কানুন, শৃঙ্খল সমূহ এবং তিনি মেনে চলেছেন কুরআন ও সহীহ হাদীস। তিনি কঠোর আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও ত্যাগের জীবনযাপন করেছেন।

বায়েজিদ বোস্তামী জীবনী কাহিনী

একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী আল্লাহ তায়ালা কে বেশি মনে ধারণ করেছেন। তিনি আধ্যাত্মিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর আধ্যাত্মিকতা এতোটাই শক্তিশালী এবং সক্রিয় ছিল যে, তিনি আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইতেন তা তাঁকে দেওয়া হতো। তাই, আমরা যদি তার জীবনী পড়ি, তাহলে দেখতে পাবো। বায়েজিদ বোস্তামীর নানান কারামত, যা ইতিহাসের পাতায় লিখিত আছে।

বায়েজিদ বোস্তামীর কে ছিলেন? 

বায়েজিদ বোস্তামী হল একজন আল্লাহ ভীরু মানুষ এবং এই আল্লাহ ভীরুতা তাকে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করতে সাহায্য করেছিল। তার জীবনী থেকে জানা যায়, তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল আল্লাহর নৈকট্য লাভ, আত্মশুদ্ধি এবং নফস বা প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ।

তিনি আত্মশুদ্ধির সাধনা করেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের অন্তরকে অহংকার, লোভ, হিংসা ও পার্থিব মোহ থেকে পবিত্র করতে আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই। তাই, সকল কাজের তাঁকে একজন বিখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক বা সুফি সাধক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। 

ইতিহাসের পাতায় বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন ইরানি একজন নাগরিক। তিনি ইরানের বোস্তাম নামক শহরে বসবাস করতেন, ইরানের খোরাসান প্রদেশের একটি শহর। তিনি ৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্ৰহণ করেন। 

বায়েজিদ বোস্তামী দুটি নামে মুসলিম উম্মাহর কাছে বেশি জনপ্রিয়। ১. বিখ্যাত ইরানি সূফী সাধক, ২. আবু ইয়াজিদ বিস্তামি নামে পরিচিত। এছাড়াও, তিনি ছিলেন সুলতান-উল-আরেফিন এবং তায়ফুর আবু ইয়াজিদ আল-বোস্তামি নামে সুপরিচিত। 

বায়েজিদ বোস্তামীর জীবনীতে আরো পাওয়া যায়, তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক এবং তিনি তাঁর পুরো জীবন জুড়ে আধ্যাত্মিকতাবাদ চর্চা করেছেন। যাকে আমরা দর্শন হিসেবে জানি। 

বায়েজিদ বোস্তামীর জীবনে অর্জন হল আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ এবং ওয়াহদাত আল উজুদ। যা তার পুরো জীবনের একটি বিশেষ অর্জন। 

বায়েজিদ বোস্তামীর পারিবারিক পরিচিতি 

বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন তার মা-বাবার একমাত্র ছেলে। তার বাবার নাম তায়ফুর। ইতিহাসে তার মায়ের নাম ও দাদার নাম জানা যায়নি। 

পারিবারিক ভাবে বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন একজন মুসলিম এবং তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম পালন করেছেন। 

শৈশবে বায়েজিদ নিজ গৃহে এবং মসজিদে ইবাদাত বন্দেগি করতেন। 

বায়েজিদ বোস্তামী তাঁর মাকে খুব ভক্তি, শ্রদ্ধা, সম্মান এবং ভালোবাসতেন। বায়েজিদ এর মাতৃভক্তি কতটুকু তা তার শৈশবের একটি ঘটনা থেকে জানা যায়। 

একদিন বায়েজিদ বোস্তামীর মা অসুস্থ হয়ে যান এবং গভীর রাতে অসুস্থ শরীর নিয়ে তার মা পানি খেতে চান। 

বায়েজিদ রান্না ঘর থেকে পানি আসতে গেলে দেখা যায়, কলসিতে পর্যাপ্ত পানি নেই ‌। তাই, তিনি কুয়ো থেকে কলসিতে পানি নিয়ে আসেন এবং কলসি থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে তার মায়ের জন্য মায়ের ঘরে নিয়ে যান। 

কিন্তু, বায়েজিদ এর পানি আনতে দেরি হওয়াই তার মা শুয়ে যান এবং তার মায়ের কষ্ট হবে ভেবে বায়েজিদ তার মাকে আর রাতে ডাক দিল না।‌

পুরো রাত তার মায়ের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন বায়েজিদ। ভোর রাতে তার মা জেগে দেখেন যে, তার ছেলে হাতে এক গ্লাস পানি পাশি দাঁড়িয়ে আছে। 

বায়েজিদ মা বায়েজিদ কে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া ও বায়েজিদ এর জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করেন। 

উপসংহার 

বায়েজিদ বোস্তামী শুধু একজন সুফি সাধকই না। বরং, তিনি ছিলেন মাতৃভক্তি সম্পন্ন একজন মানুষ, যিনি আল্লাহ এবং তাঁর মার সন্তুষ্টি লাভ করতে পেরেছেন। তার জীবনী থেকে আমরা জানতে পারি যে, কোনো ব্যক্তি সফলতার পেছনে থাকে তার মায়ের দোয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন বায়েজিদ বোস্তামীর সুফি সাধক হওয়ার পেছনে রয়েছে তার মায়ের দোয়া। 

আরো গল্প পড়ুন,

১. বায়েজিদ বোস্তামীর মাতৃভক্তি কাহিনি 

২. বায়েজিদ বোস্তামী ও কুকুরের ঘটনা 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url