বৃষ্টি নিয়ে গল্প: বর্ষাকালের একটি মনোরম বৃষ্টিভেজা দিন
বর্ষা ঋতুতে একটি বৃষ্টিমুখর দিনের গল্প
বর্ষাকাল বাংলাদেশের প্রকৃতির বৃষ্টিমুখর একটি ঋতু। ‘বৃষ্টি নিয়ে গল্প: বর্ষাকালের একটি মনোরম বৃষ্টিভেজা দিন’ গল্পে নিলা ও তার ছোট ভাই রবিউলের চোখে বাংলাদেশের গ্রামীণ বর্ষাকালের এমনই একটি বৃষ্টিমুখর দিনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পে রয়েছে বৃষ্টির শব্দে ঘুমিয়ে পড়া, টিনের চালের পানি সংগ্রহ, গরম খিচুড়ি খাওয়া, কৃষকের বৃষ্টিভেজা মাঠে কাজ করা, কই মাছ পাওয়া এবং বৃষ্টির পর গ্রামের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি ঘুরে দেখার আনন্দ। আপনি পুরো গল্পটি পড়লে বৃষ্টি দিনের বিভিন্ন আনন্দ খুঁজে পাবেন।
পাশাপাশি কাদামাটির পথ, কেঁচো, রাজহাঁস, শাপলা ফুল ও ব্যাঙের ডাকের মতো বর্ষাকালের পরিচিত দৃশ্যগুলো নিলা ও রবিউলের আনন্দময় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
এই গল্পটি শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের বর্ষাকালের প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও পারিবারিক আনন্দকে সহজ ও মনোরমভাবে অনুভব করতে সাহায্য করবে। চলুন গল্লটি পড়ি।
বৃষ্টি নিয়ে গল্প
নিলা ও তার পরিবার নদীর ধারে ছোট্ট দুচালা ঘরে বসবাস করে। তার পরিবারে তার মা, বাবা, ছোট্ট ভাই এবং নিলা বসবাস করে। এই নিয়েই নিলার সুখী পরিবার। তার বাড়ির উঠোনে রয়েছে কদম গাছ, পাশে বিশাল মাঠ।
নিলা এবার এ বছর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবে। তাই পড়ালেখায় ব্যস্ত নিলা।
রাত তখন দশটা। হঠাৎ আকাশে মেঘের গর্জন। চারদিকে বিদ্যুৎ চমকিয়ে মেঘ ডাকছে। নিলা মেঘের আওয়াজ শুনে খুব ভয় পেয়ে গেল।
নিলা তার মাকে ডাক দিয়ে বলল, মা মা, আকাশে খুব মেঘ ডাকছে।
হ্যাঁ, প্রতি বছরই বর্ষাকালে শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি হয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস বৃষ্টির সময়। এই সময় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়।
নিলা, তুই গিয়ে ঘুমা। মনে হচ্ছে আজ সারারাত বৃষ্টি হবে। আবহাওয়া দেখে আমার ভালো মনে হচ্ছে না।
মা, তাহলে বাবা কৃষি কাজের কী হবে। বাবা তো বলেছিল কাল আমন মাসের জন্য ধান লাগাবে?
কে জানি রে মা। কালকে তোর বাবাকে বলব কখন মাঠে ধান লাগাবে।
কিছুক্ষণ পর… মেঘ ডেকে বৃষ্টি এলো। ফট ফট করে পড়ল বৃষ্টি। বৃষ্টি পড়ার প্রতিটি শব্দ যেন রাতের আবহকে আরও মাতিয়ে তুলেছে।
বৃষ্টির আওয়াজে নিলার খুব ঘুম পেল। সে ঘরে ঘুমাতে গেল। বৃষ্টির মন মাতানো শব্দে নিলা ঘুমিয়ে পড়ল।
সকাল ৬টায় নিলার ঘুম ভাঙল। উঠে দেখে এখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ঘর থেকে বের হয়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বারান্দায় গেল।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিলা দেখল এক বিষণ্ন আকাশ। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা।
টিনের চাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানিতে নিলা মুখ ধুয়ে নিল। টিন থেকে গড়িয়ে পড়া পানি যেন সাদা সুতোর মতো পড়ছে।
নিলা বৃষ্টির পানিতে হাত দিতেই হাত থেকে বৃষ্টির ছিটে পড়ল নিলার চোখে, মুখে, নাকে, কপালে।
কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পড়ল নিলার ঠোঁটে।
নিলা বৃষ্টির পানি চেটে বৃষ্টির পানির স্বাদ অনুভব করল। পানি খাওয়ার উপযোগী নয়, তাই থু করে ফেলে দিল।
এমন সময় তার নিলার মা ডাকল বলল: নিলা, তুই বারান্দায় দাঁড়িয়ে কী করছিস। এই নে কলসি, বৃষ্টির পানিগুলো ভরে নে। আমি বৃষ্টির পানি দিয়ে ভাত রান্না করব। বৃষ্টির পানির ভাত খুব সাদা হয়।
নিলা কলসি নিয়ে টিনের চালের পানি পড়ার স্থানে রাখল এবং বৃষ্টির পানি কলসিতে পড়তে লাগল।
মা, মা, আমি গিয়ে পড়তে বসছি। তোমার কলসিতে বৃষ্টির পানি পড়ছে। ভরে গেলে টেনে নিও।
আচ্ছা, তুই গিয়ে পড়তে বস।
তার মা রান্না করছিল। এমন সময় নিলা বলল: মা, আজ তুমি কী রান্না করবে?
আজ খিচুড়ি রান্না করব। কেমন হয় বল তো, বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, সাথে ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি খাচ্ছিস।
মা, সাথে ডিমের ওমলেট হলে পুরো জমে যায়।
আচ্ছা, তাহলে খিচুড়ি এবং ডিমের ওমলেট তৈরি করছি।
আর আজকে বুধবার। তোর ছোট ভাইকে ডেকে ওঠা। ওর ৮টায় স্কুল আছে।
কিন্তু মা, এখন তো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, কীভাবে তাকে স্কুলে দিয়ে পাঠাবে?
তাহলে, নিলা, তুই বাক্স থেকে রেইনকোট বের করে দে।
কিন্তু মা, রেইনকোট তো তোমার ছেলে পড়তে চায় না? তার নাকি রেইনকোট পছন্দ না।
হেঁসেলঘর থেকে বামে বারান্দায় একটা ছাতা আছে, সেটা রবিউলকে গিয়ে দিয়ে আয়?
আচ্ছা, তুমি এখন খিচুড়ি রান্না করো।
নিলা, নিলা, একটু এদিকে আয় তো মা।
কী হয়েছে বাবা?
আমি এখন একটু মাঠে যাব। আমাকে ছাতাটা দে।
বাবা, তোমার ছাতা রবিউল স্কুলে নিয়ে যাবে।
তাহলে আমাকে মাথাল দে।
আচ্ছা বাবা, দিচ্ছি, দাঁড়াও।
একটু পর নিলা মাথাল নিয়ে আসলো।
এই বাবা, নাও তোমার মাথাল।
বাবা, আজকে এই বৃষ্টির মধ্যে ধান লাগাবে?
হ্যাঁ, রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ের মধ্যেই কৃষকের কাজ। থাক, আমি গেলাম।
আচ্ছা, বাবা, যাও।
নিলা, নিলা, এদিকে আয় তো মা।
কী হয়েছে?
আমার খিচুড়ি রান্না করা শেষ হয়েছে। যা, খিচুড়িগুলোকে বারান্দায় নিয়ে যা।
বারান্দায় মাদুর পাতল নিলা এবং তার ছোট ভাইকে ডাকল। রবিউল, রবিউল, খিচুড়ি খেয়ে নে। পড়ালেখা পরে করবি।
আপু, আসছি।
আপু, আজকে মা খিচুড়ি রান্না করেছে। আমাকে তাড়াতাড়ি দাও। আমার প্রচুর খিদে পেয়েছে।
তাড়াতাড়ি খেয়ে স্কুলে যা। ছাতা আছে তোর মাথার উপর। ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে চলে যাবি।
আচ্ছা আপু।
খিচুড়ি খেয়ে রবিউল স্কুলে গেল। নিলা তার ঘরে গিয়ে একটি গল্পের বই পড়তে শুরু করল। তার মা বাড়ির আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করল।
নিলার গল্পের বই প্রায় তিন ভাগের মধ্যে দুই ভাগ শেষ করেছে। এমন সময় তার বাবা ডাক দিয়ে বলল,
নিলার মা, নিলার মা, বাইরে বের হও, দেখো আমি কী নিয়ে এসেছি। আমি কই মাছ নিয়ে এসেছি।
বাবা, তুমি কোথায় পেলে কই মাছ?
আমি ধান লাগাচ্ছিলাম, এমন সময় দেখি পাশের পুকুর থেকে জমিতে কই মাছ চলে এসেছে।
জব্বার মিয়াকে বললাম, ভাই আপনার পুকুর থেকে কই মাছ জমিতে চলে এসেছে। কি করব? তিনি বললেন, রান্না করে খেয়ে নিতে।
এই যে দেখো, পাঁচটি কই মাছ। সব দিয়ে এক, দেড় কেজি তো হবেই। নিলার মা, মাছগুলো রান্না করে নাও।
আচ্ছা দাও, আজকে কই মাছ রান্না করছি। রবিউল, নিলা তো খুবই কই মাছ পছন্দ করে।
নিলার মা দুপুরের রান্না শেষ করল।
এমন সময় রবিউল ছাতা ভেঙে, শরীরে কাদামাটি মেখে বাড়িতে এসে তার মাকে ডাকছে।
মা মা, তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে এসো। আমি বৃষ্টির পানিতে পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম। আমাকে গামছা দাও, পুকুরে গিয়ে গোসল করব।
হেঁসেলঘর থেকে বের হয়ে সখীনা বলল, কী হয়েছে রে রবিউল তোর? তোর এই অবস্থা কেন?
আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে কাদায় পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম।
তুই উঠোনে দাঁড়া, আমি গামছা নিয়ে আসছি।
এই নে গামছা, আর গোসল করে আয়।
মা, স্কুল ব্যাগ, স্কুল শার্ট, জুতা এবং এই নাও ছাতা। আমি পুকুরে গোসল করে আসছি।
সাবধানে গোসল করতে নামিস।
আচ্ছা মা।
সবাই বাড়িতে বারান্দায় বসে দুপুরের খাবার খেলো এবং দুপুরের খাবার শেষে সবাই ঘুমাতে গেল।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে রবিউল বলল, আপু, আমাদের বাড়ির উঠোনে থাকা কদম গাছ থেকে কত মিষ্টি গন্ধ আসছে অনুভব করেছো। মনে হচ্ছে কেউ কদম ফুলের আতর গায়ে লাগিয়েছে।
হ্যাঁ, তাই তো, আমি এতক্ষণ এই গন্ধ খেয়াল করিনি।
দুপুরে সবাই ঘুমাতে গেল এবং ঘুম থেকে বিকেলে উঠল।
রবিউল বলল, আপু, এখন বাইরে বৃষ্টি কমেছে। চলো, বাইরে গিয়ে বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি দেখে আসি।
চল, আমরা বাইরে যাই।
দুই ভাই-বোন একসাথে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখতে বের হল। হাত ধরে হাঁটছে দুই ভাই-বোন। দেখছে গ্রামের সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা পরিবেশ।
চারদিকে থই থই করছে পানি। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, ছোট মাটির গর্ত ভরে গেছে বৃষ্টির পানিতে।
ধুলা মাখা গ্রীষ্মের গাছপালাগুলোও বৃষ্টির পানিতে চকচকে, ঝকঝকে হয়ে গেছে। গাছের সবুজ পাতাগুলো যেন বর্ষার পানিতে সজীবতা ফিরে পেয়েছে। সবুজ গাছপালা আরও সবুজময় হয়ে গেছে।
আকাশ যেন তার সব রাগ, দুঃখ, কষ্ট, কান্না গুলো পানি আকারে বের করে দিয়েছে। তাই তো আকাশ দেখে মনে হচ্ছে শান্ত, নীরব, কোথাও আওয়াজ নেই।
আপু, দেখো, আকাশটা কী শান্ত হয়ে আছে।
হ্যাঁ, বৃষ্টির পর আকাশটা অনেক পরিষ্কার লাগছে। আর পা টিপে টিপে হাঁটিস, মাটির রাস্তা অনেক পিছলে।
আপু আপু, দেখো, আমরা যেখানে যেখানে পা দিয়ে হেঁটেছি, পায়ের ছাপগুলো বসে গেছে। দেখো, তোমার পায়ের ছাপ বড় আর আমার পায়ের ছাপ কতটা ছোট।
হ্যাঁ, এখানে দেখ। আমি মাটিতে পা রাখতেই পা পুঁতে যাচ্ছে এবং পায়ের আঙুলের ভিতর দিয়ে কাদা বের হচ্ছে।
ঠিক বলেছো আপু, আমি বৃষ্টির পর কাদায় হেঁটে অনেক মজা পাচ্ছি।
এই আপু, দেখো, এখানে একটা কেঁচো।
কোথায় কোথায় কেঁচো?
এই যে এখানে।
ও হ্যাঁ। এটা তো পুঁজের মতো দেখতে, ছি! ওগুলো দেখতে হবে না। এদিকে আয়।
বল তো আপু, বৃষ্টির সময় মাটির কাঁচা রাস্তাগুলোতে এত কেঁচো কেন মাটি থেকে উপরে উঠে আসে?
এই, তুমি কি আমাকে মাটি বিশেষজ্ঞ বা জীববিজ্ঞানী মনে করিস? তোকে এত প্রশ্ন করতে হবে না। উঠ, চল এখান থেকে।
আমরা বাড়ি থেকে অনেক দূর হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছি। আকাশের দিকে তাকাও। আকাশ এখন মেঘলা। এখনই নামবে ঝড়-তুফান। চল, বাড়ি চলে যাই।
দাঁড়া একটু, ওই দিকে দেখ, পুকুরে জাব্বার চাচার রাজহাঁসগুলো কে। তারা কী চমৎকার পানিতে সাঁতার কাটছে।
এই রবিউল, ওইটা বাবা না?
হ্যাঁ, ওইটাই বাবা। মাথল মাথায় দিয়ে জমিতে কাজ করছে।
চল, বাবার কাছে যাই?
না, বাবা দেখলে বকা দেবে। চলো, আমরা বিলে গিয়ে শাপলা ফুল তুলি।
আচ্ছা চল। কিন্তু আমি বিলের পানিতে নামতে পারব না। আমার সাপের অনেক ভয়। তুই বিলে নেমে শাপলা তুলে নিয়ে আসবি।
আচ্ছা, চলো। আমি বিলে গিয়ে শাপলা তুলব।
বিলের ধারে এসে পৌঁছাল নিলা ও রবিউল।
আপু, বিলে তো অনেক পানি। প্যান্ট খুলে নামব। নইলে তো প্যান্ট ভিজে যাবে। মা তখন বকা দেবে।
ধুর পাগল। তোর লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই। প্যান্টটা পায়ের উপরে গুঁজে নে। এরপর বিলে নেমে যা।
আচ্ছা…
আপু, দেখো, দূরে বক এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বক মাছ খেয়ে এখন বিশ্রাম নিচ্ছে। তুই আমার জন্য ওই বড় শাপলা ফুলটা তুলে নিয়ে আয়।
এটা আপু?
হ্যাঁ, ওইটা তুল।
আমি ও শাপলা ফুল নেব। এটা আমার জন্য।
এই নাও, আপু, তোমার জন্য একটা শাপলা ফুল এবং এটা আমার শাপলা ফুল।
আরও বেশি করে শাপলা ফুল তুলে নে। আমি শাপলা ফুল দিয়ে মাথার মুকুট, হাতের ঘড়ি, গলার মালা তৈরি করব।
এখন আমি আর নামতে পারব না। দেখো, শাপলা ফুলগুলো বিলের ধারের কাছে নেই। দূরে দূরে শাপলা ফুল ফুটে আছে।
আচ্ছা, তাহলে থাক। কালকে একবার আসব। তারপর অনেকগুলো শাপলা ফুল তুলব।
চল, এখন বাড়িতে যাই।
চলো আপু, আমরা বাড়িতে যাই।
রবিউল ও নিলা বাড়ির পথ ধরল।
হাঁটতে হাঁটতে একটা ডোবায় ব্যাঙের ডাক শুনতে পেল।
আপু, শুনতে পাচ্ছো, পাশের ডোবা থেকে ব্যাঙের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
ঠিক বলেছিস, একসাথে অনেক ব্যাঙের আওয়াজ। চল তো দেখি গিয়ে।
এই যে দেখো আপু, কত বড় একটা ব্যাঙ। গাল ফুলিয়ে ফুলিয়ে ডাকছে।
ব্যাঙটা দেখতে রবিউল তোর মতো। তুই যখন কাদিস, সেই রকম দেখতে লাগছে।
হ্যাঁ, তুমি আবার আমাকে রাগানোর চেষ্টা করছো। কিন্তু আমি রাগব না।
কিন্তু… ব্যাঙটা দেখতে আমার দুলাভাইয়ের মতো। হা হা হা হা হা হা হা হা!
এই দাঁড়া, দাঁড়া বলছি। তোর কথা দিন দিন অনেক বেড়ে গেছে।
বলবি আর বলবি।
না আপু, ছেড়ে দাও। আমার কান ব্যথা করছে। ছাড়ো ছাড়ো ছাড়ো…
আচ্ছা, ছেড়ে দিলাম এবারের মতো। বাঁদর একটা।
চল, দ্রুত বাড়িতে যাই।
আচ্ছা চলো।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।
আপু, দৌড় দাও। দুইজন একসাথে দৌড় দিয়েছে।
বাড়ির সামনে আসা মাত্রই ধপাস করে পড়ল রবিউল। সারা শরীরে কাদা মেখে ভূত হয়ে গেল।
হা হা হা হা হা! ভূত একটা।
এই নাও আপু, বলে রবিউল তার বোন নিলার গায়ে দিল এক মুঠো কাদা মেরে। আরেক মুঠো কাদা ছোড়া মাত্রই।
ভোঁ দৌড় দিল নিলা। দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিল।
এমন সময় তার মা এসে হাজির। কীভাবে কাদায় পড়লি তুই?
আসলে মা, আমি আর আপু দৌড়ে আসছিলাম। এমন সময় বাড়ির সামনে থাকা কাদা পানিতে পড়ে গেছি।
তোকে দেব একটা মাইর। বৃষ্টির সময় এআরকি হচ্ছে তাই না? যা, দ্রুত পুকুরে গিয়ে গোসল করে আয়।
বৃষ্টি নিয়ে গল্প থেকে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
৫টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. নিলার পরিবার কোথায় বসবাস করে?
উত্তর: নিলার পরিবার নদীর ধারে একটি ছোট্ট চালা ঘরে বসবাস করে।
২. নিলার মা বর্ষার দিনে কী রান্না করেছিলেন?
উত্তর: নিলার মা গরম খিচুড়ি ও ডিমের ওমলেট রান্না করেছিলেন।
৩. নিলার বাবা বৃষ্টির মধ্যে কী কাজ করছিলেন?
উত্তর: নিলার বাবা বৃষ্টির মধ্যে মাঠে ধান লাগানোর কাজ করছিলেন।
৪. নিলা ও রবিউল বিকেলে কী দেখতে বের হয়েছিল?
উত্তর: নিলা ও রবিউল বিকেলে গ্রামের বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি দেখতে বের হয়েছিল।
৫. বৃষ্টির পর নিলা ও রবিউল কী কী দেখেছিল?
উত্তর: তারা কাদামাটির রাস্তা, কেঁচো, রাজহাঁস, শাপলা ফুল ও ব্যাঙ দেখেছিল।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url