হাতি ও পিঁপড়ার গল্প - ছোট ও বড় প্রাণীর গল্প
ছাই রঙা হাতি ও লাল পিঁপড়ার গুলোর গল্প
একসাথে এক বনের মধ্যে মাটির ঢিবিতে বসবাস করত কিছু ছোট লাল পিঁপড়া এবং একই বনের মধ্যে বসবাস করত এক বড় শক্তিশালী হাতি। একদিন ছাই রঙা হাতি বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো এবং তাঁর পা পিঁপড়ার উপর পড়ে যায় এবং পিঁপড়া গুলো তাঁকে কামড় দেয়। পরে ছাই রঙা হাতি টা পিঁপড়া দের মাটির ঘর ভেঙে দেয় এবং পিপড়ার সর্দার একটি লাল পিঁপড়ার মাধ্যমে হাতিটিকে শাস্তি দেয়।
কীভাবে একটি ছোট্ট লাল পিঁপড়া বিশাল দেহী হাতিকে শাস্তি দিল। চলুন গল্লটি পড়ি এবং গল্প থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করি।
হাতি ও পিঁপড়ার গল্প
এক সময় এক বিশাল বনে বসবাস করত একটি ছাই রঙা হাতি আর কিছু ছোট্ট লাল পিঁপড়া। পিঁপড়া ও হাতির সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। তাঁরা কখনোই একে অপরের কোন ক্ষতি করত না। তাঁরা আপন মনে স্বাধীনভাবে বসবাস করত বনে।
ছাই রঙা হাতি 🐘 ছিল বেশ প্রকান্ড শক্তিধর একটি প্রাণী। তাঁর বড় বড় দুটি কান ছিল। কান গুলো কচুপাতার মত বড়।
একবার এক ছোট্ট মাছি হাতির কানের উপর এসে বসল। বসা মাত্রই হাতিটা তার বড় কান দিয়ে জোরে সামনে পেছনে বাতাস দিল এবং মাছিটা এক বাতাসের ধাক্কায় উড়ে গিয়ে পড়ল।
হাতিটার ছিল চারটি পা, একটি ছোট্ট লেজ এবং একটি বড় শুঁড়।
একদিন এক কলা বনে গেল হাতি। কলার গাছ গুলো ছিল বেশ উঁচু এবং মোটা। তবুও, হাতি তার শক্তিশালী শুঁড় দিয়ে গলা গাছ ভেঙ্গে খেল।
অন্যদিকে বনের পিঁপড়া গুলো ছিল বেশ ছোট এবং নগ্ন। পিঁপড়া গুলো দেখতে ছিল লাল এবং তাঁরা একসাথে বসবাস করত এক মাটির ঢিবির উপর।
একদিন বিশাল বড় হাতি, তার বিশাল দেহ নিয়ে বনের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় হাতিটির পা পড়ে গেল লাল পিঁপড়ার ঢিবির উপর। মূহূর্তের মধ্যে কয়েকটি পিঁপড়া হাতির পায়ে কামড় দিল।
বেচারা হাতি ছটফট করতে লাগলো এবং দৌড়ে পালিয়ে গেল। দৌড়াতে দৌড়াতে হাতিটি একটি নদী দেখতে গেল এবং সে নদীতে ঝাঁপ দিল এবং পিঁপড়া কামড় থেকে হাতি রক্ষা পেল।
লাল পিঁপড়ার কামড় খেয়ে হাতিটির অনেক রাগ হল এবং সে পিঁপড়ারদের কামড়ানোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিল।
পরের দিন বিকেল বেলা হাতিটা লাল পিঁপড়ার ঢিবির কাছে গেল এবং চুপিচুপি, কোন শব্দ ছাড়া পিঁপড়ার ঘর ভেঙে দিল এবং বনের মধ্যে হাতি দৌড়ে পালালো।
লাল পিঁপড়ার গুলোর মধ্যে অনেক পিঁপড়া হাতির পায়ের চাপে মারা গেল এবং লাল পিঁপড়ার সর্দার সকল পিঁপড়া গুলো কে ডাকলো এবং বলল “হাতি আমাদের ঘর ভেঙেছে। তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। যেনো সে বুঝতে পারে একটি ঘর ভাঙলে কতটা কষ্ট লাগে।"
অনেক লাল পিঁপড়ার সামনে পিঁপড়ার সর্দার আরো বলল “কে ছাই রঙা হাতিটিকে একটি কঠিন শাস্তি দিতে পারবে"
কেউ কোনো কিছু বলতে পারছে না। কারণ সবাই বিশাল দেহী এবং শক্তিশালী হাতিটাকে দেখে ভয় পায়।
পিঁপড়ার মধ্যে একজন বুদ্ধিমান ও চালাক পিঁপড়া বলল, “আমি হাতিটিকে একটি কঠিন শাস্তি দিতে পারব”
পিঁপড়ার সর্দার ঐ লালা পিঁপড়াটিকে ডাকল এবং বলল, "যাও হাতিটিকে একটি কঠিন শাস্তি দিয়ে আসো।”
লাল টকটকে পিঁপড়াটি প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ছুটে গেল হাতির কাছে। পিঁপড়াটি তাঁর ছোট ছোট পা দিয়ে ধীরে ধীরে হাতিটিকে খুঁজতে লাগল।
কিছুক্ষণ এদিক সেদিক খোঁজার পর পিঁপড়াটি হাতির দেখা পেল। পিঁপড়া দেখতে পেল, হাতিটি খুব আরাম করে কুমাচ্ছে।
তখন পিঁপড়া বলল, "ঘুমাও হাতি! তুমি আমাদের ঘর ভেঙে মহাসুখে ঘুমিয়ে আছো। একটু অপেক্ষা কর তোমার আরামের ঘুম হারাম করতে আমি আসছি।"
এই বলে ছোট্ট লাল পিঁপড়া শুয়ে থাকা হাতির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো এবং হাতির মস্ত বড় শুঁড়ের দিকে এগিয়ে গেল।
আসতে আসতে করে ছোট্ট পিঁপড়া টি হাতির শুঁড়ের ভিতর ঢুকে গেল।
মূহূর্তেই বিশাল হাতি শুঁড়ের ভিতর সুরসুরি অনুভব করল। হাতিটা সুরসুরির কারণে শুঁড় ছিটকাতে লাগলো। কয়েকবার শুঁড় ঝাড়া দিল। কিন্তু সুরসুরি থামে না।
বেশ কিছুক্ষণ এভাবে চলল…..
কয়েক মিনিট পর সুরসুরি এবং কামড়ানো আরম্ভ করলো পিঁপড়াটি। পিঁপড়ার কামড়ে হাতিটি দিক বেদিক ছুটতে লাগলো এবং সে বুঝতে পারলো শুঁড়ের ভিতর পিঁপড়া ঢুকেছে।
বেচারা হাতি পিঁপড়ার কামড়ে তাঁর শুঁড় কখনো গাছের ডালে, কখনো নদীর পানিতে, আবার কখনো মাটিতে কচলাতে লাগলো।
শেষে হাতিটা তাঁর শুঁড়ের ভিতর পানিতে নিয়ে জোরে শুঁড় ঝাড়া দিল। পানি ও জোরে হাচ্চির ফলে হাতির শুঁড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো সেই ছোট্ট লাল পিঁপড়াটি।
এবার হাতিটিকে পিঁপড়া টি বলল, “কেমন লাগল কামড়। যখন আমাদের ঘর তুমি ভেঙেছিলে তখন খুব তোমার মজা লেগেছিল তাই না।”
এখন বুঝো পরের ঘর ভাঙার কষ্ট কতটুকু।
আর আমাদের ঘর ভাঙবে?
পিঁপড়ার কথার উত্তরে হাতি বলল, "আমার ভূল হয়েছে, আমাকে ক্ষমা করো। আর তোমাদের কোনো দিন ঘর ভাঙবো না।
গল্পের শিক্ষা (moral of the story)
পৃথিবীতে কাউকে তুচ্ছ করা বা ছোট মনে করে ক্ষতি করা ঠিক নয়। কারণ, ছোট জিনিস বা প্রাণীও বড় জিনিস বা প্রাণী কে শাস্তি দিতে পারে।
তাই, কারো ক্ষতি করা ঠিক নয়। সকলে মিলেমিশে একসাথে থাকা উচিত। ছোট থেকে বড়, বড় ছেলে অতি নিগন্য বস্তুর ও বেঁচে থাকার অধিকার রাখে।
এছাড়াও, বড়, শক্তিশালী ব্যক্তি বা প্রাণী সব সময় শক্তিশালী নয়। যার বুদ্ধি আছে, সেই বড় শক্তিশালী। হাতি বড় ও শক্তিশালী হওয়ার পরও ছোট্ট পিঁপড়া হাতিকে উচিত শিক্ষা দেয়।
আমাদের শক্তি কম হতে পারে। কিন্তু, বেঁচে থাকার জন্য বুদ্ধি থাকা আবশ্যক। তাই, মাথায় বুদ্ধি করে চলাটাই উত্তম।
হাতি ও পিঁপড়ার গল্প থেকে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
ছোট ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রশ্ন: হাতির রং কেমন ছিল?
উত্তর: হাতিটির রং ছিল ছাই রঙা।
২. প্রশ্ন: পিঁপড়াগুলো কোথায় বসবাস করত?
উত্তর: পিঁপড়াগুলো মাটির ঢিবির ওপর তৈরি ঘরে বসবাস করত।
৩. প্রশ্ন: হাতি কেন পিঁপড়াদের ওপর রাগ করেছিল?
উত্তর: পিঁপড়ারা হাতির পায়ে কামড় দেওয়ায় হাতি তাদের ওপর রাগ করেছিল।
৪. প্রশ্ন: পিঁপড়া কীভাবে হাতিকে শাস্তি দিয়েছিল?
উত্তর: একটি লাল পিঁপড়া হাতির শুঁড়ের ভেতরে ঢুকে তাকে কামড় দিয়ে শাস্তি দিয়েছিল।
৫. প্রশ্ন: গল্পটি থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
উত্তর: কাউকে ছোট বা দুর্বল মনে করে ক্ষতি করা উচিত নয়; বুদ্ধি ও সাহস অনেক সময় শক্তির চেয়েও বেশি কার্যকর।
আরো গল্প পড়ুন,
১. সিংহ ও হাতির লড়াই - বনের আসল রাজা কে

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url