অনলাইন ইনকাম কি - এর রহস্য উন্মোচন
অনলাইন ইনকাম কি - এর রহস্য উন্মোচন
অনলাইন আয় বা ইনকাম একটি অন্যতম জনপ্রিয় এবং সেরা ইনকাম পদ্ধতি, যা একটি interesting ইনকাম পদ্ধতি। যদি ১০০ জন মানুষ কে নিয়ে একটি জরিপ করানো হয়, তাহলে সেই জরিপে দেখা যাবে ৯০% এর ও উপরে মানুষ অনলাইন থেকে আয় নিয়ে আগ্ৰহী।
যাইহোক, আপনি জানেন কি, এই ইনকাম এর মানে কি বা আসলে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম বলতে কি বোঝায়? আসুন online income কি তা সম্পর্কে জানি।
অনলাইন ইনকাম কি?
অনলাইন ইনকাম হল একটি অনলাইন ভিত্তিক ইনকাম পদ্ধতি, যেখানে একজন ফ্রিল্যান্সার, ব্লগার, অ্যাফিলিয়েটর, রিসেলার, অনলাইন ব্যবসায়ী, অনলাইন worker ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করে ইনকাম করতে পারে। এটি মূলত একাধিক অনলাইন কাজের মাধ্যমে পাওয়া ইনকাম, যেমন: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, রিসেলিং, ব্লগিং, ফ্রিল্যান্সিং, ড্রপসিপিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ট্রেডিং, অনলাইন স্টোর/ই-কমার্স, ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি, সার্ভে / মাইক্রো কাজ ইত্যাদি।
সংজ্ঞা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করে দেশে বসেই দেশীয় বা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের জন্য বিভিন্ন অনলাইন কাজ সম্পন্ন করে এবং সেই কাজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (যেমন Upwork, Fiverr, Freelancer ইত্যাদি) অথবা বিভিন্ন অনলাইন সাইট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি ক্লায়েন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, এরপর সেই কাজের বিনিময়ে PayPal, Payoneer, Wise, ব্যাংক বা অন্যান্য বৈধ পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় অর্থ গ্রহণ করা হয় - তাহলেই সেই আয়কে অনলাইন ইনকাম বলে।
Online earning অর্থ হল অনলাইনে কাজ করে, অনলাইনেই পেমেন্ট এর একটি পদ্ধতি। এটি আমাদের বাস্তব জীবনের মতই ধাপে ধাপে ইনকাম আসে। আসলে প্রার্থক্য মূলত বাস্তব জীবনে পরিমাণে বেশি পরিশ্রম করে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে কাজ করতে হয় এবং অনলাইন কাজ গুলো খুব অল্প পরিশ্রম করে ইনকাম করা যায়।
মনে রাখা ভালো অনলাইন ইনকাম গুলো যতটা সহজ মনে হয় ততটা সহজ নয়, অনলাইন আয় মূলত ধৈর্য, সময়, এবং যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। অনলাইনে কাজ করতে হলে অনেক বেশি সময় আপনাকে ঘরে বসে থাকতে হবে এবং ক্লাইন্ট এর কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মজার ব্যাপার হলো শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে যতটুকু আয় করা সম্ভব, তার চেয়েও বেশি ঘরে বসে, বাইরে না গিয়ে, মোবাইল দিয়ে, কম পরিশ্রমে, অধিক টাকা ইনভেস্ট না করে, বিশ্বস্ত অনলাইন সাইট থেকে online ইনকাম করা যায়।
একজন ফ্রিল্যান্সার, অ্যাফিলিয়েটর, রিসেলার, ব্লগার, ড্রপসিপার, অনলাইন প্রোডাক্ট সেলার বা অনলাইন কর্মী সাধারণত দুই বা ততোধিক মাধ্যমে পেমেন্ট পায়। অর্থাৎ, একজন ইউজার বা অনলাইন কর্মী টাকা এবং ডলার বা অন্যান্য কারেন্সির মাধ্যমে পেমেন্ট রিসিভ করে থাকে। যখন আপনি বাংলাদেশে বসবাস করে বাংলাদেশি কোন সাইট বা অ্যাপস থেকে ইনকাম করেন, তখন তা বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা ব্যাংকিং সিস্টেমে অনলাইন থেকে অনলাইন টাকা ইনকাম হয়।
এবং যখন আপনি বাংলাদেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বাইরের কোনো সাইট, অ্যাপস বা ক্লাইন্ট এর কাছে থেকে ইনকাম করেন, তখন তা PayPal, Payoneer, ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ব্যাংকিং চ্যানেল এর মাধ্যমে ডালার বা অন্যান্য কারেন্সিতে ইনকাম রিসিভ হয়ে থাকে।
আমাদের বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে প্রাপ্ত আয় কে মূলত অনলাইন ইনকাম হিসেবে মনে করে, যদি ও এটা ঠিক নয়। অনলাইন এর মাধ্যমে যে টাকা বা ডলার কোন অনলাইন ইউজার পায় সেটাই online ইনকাম বলতে বোঝায়।
আমাদের দেশের অনেকেই আরো একটি জিনিস ভূল করে বলে সেটা হল সবাইকে গণহারে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ধরে নেয়, তবে ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। যদি ও এই ধারণা ও করা যাবে না যে, সকলেই ফ্রিল্যান্সার।
ফ্রিল্যান্সিং মূলত অনলাইন কাজের একটি ক্যাটাগরি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর অংশ গুলো হল: ডাটা এন্ট্রি, ডিজাইন, ভিডিও ও অডিও এডিটিং, কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইনকাম ইত্যাদি। কেউ উপরের কাজ গুলো করে fiverr, Upwork, freelancer ইত্যাদি মার্কেট প্লেস থেকে যখন অর্থ উপার্জন করে তখন তাকে মূলত ফ্রিল্যান্সার বলায় হয়।
এছাড়াও, যে ব্যক্তি অনলাইনে ড্রপসিপিং করে তাকে বলে ড্রপসিপার, যে ব্যক্তি অনলাইনে কন্টেন্ট লেখে আয় করে তাকে বলে কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটার, ই-কমার্স সাইট এর পন্যের লিংক যে ব্যক্তি মার্কেটিং করে আয় করে তাকে বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এরা সবাই ঘরে বসে অনলাইন আয় করে থাকে।
অনলাইন কাজ করে সম্পন্ন করতে পারলেই অনলাইন আয় হয়, কিন্তু এটি বিভিন্ন দিক থেকে আসে এবং এই অনলাইন ইনকাম এর বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন: যখন কেউ লেখালেখি করে ওয়েবসাইট থেকে আয় করে সেটা হল ব্লগিং করে ইনকাম, ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ইনকাম, ই-কমার্স ওয়েবসাইটে পন্য দেখিয়ে ও বিক্রি করে ই-কমার্স থেকে ইনকাম, ই-কমার্স পন্য গুলো প্রমোশন করিয়ে এবং বিক্রি করিমে দিয়ে অ্যাফিলিয়েট ইনকাম, ই-কমার্স পন্য গুলো পুনরায় আপনার দামে বিক্রি করে আয় কে রিসেলিং করে ইনকাম, কোন কাজের প্রতি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে Upwork, fiverr, বা অন্যান্য ফ্রিল্যান্সার প্লাটফর্মে সার্ভিস দিয়ে আয় করে ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম। শেষ কথা হল এগুলো সবই অনলাইন ইনকাম।
অনলাইন আয় বা ইনকাম কীভাবে কাজ করে
অনলাইন আয় মূলত একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে কাজ করে এবং একজন ব্যক্তি যদি online earning করতে চায় বা money উপার্জন করতে চায়, তাহলে এই চক্রের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হবে এবং যদি আপনার প্রসেস ঠিক থাকে, তবেই অনলাইন থেকে টাকা বা ডলার উপার্জন করতে পারবেন।
1. কাজ প্রদানকারী (Client / Company / Platform)
প্রথমে অনলাইন কোম্পানি বা প্লাটফর্ম থেকে কাজ খুঁজে বের করতে হয়। এখানে আপনাকে কাজ দিবে কোন ওয়েবসাইট, অ্যাপস, অথবা Client। অনেকে client hunting করে ও কাজ খুঁজে থাকে।
2. কাজ সম্পন্ন করা
এরপর, একজন ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন কর্মী কে client, কোম্পানি বা প্লাটফর্ম এর চাহিদা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে দিতে হয়। এখানে নিজের ইচ্ছামত কাজের কোন সুযোগ নেই।
3. পেমেন্ট মাধ্যম (Payoneer, Bank, Mobile Banking ইত্যাদি)
এরপর, একজন ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন কর্মী কে তাদের কাজ client, কোম্পানি বা প্লাটফর্ম কে দিয়ে দিতে হয় এবং সব ঠিক থাকলেই client Payoneer, wise, Bank ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট দেয় এবং যদি বাংলাদেশি সাইট বা ক্লাইন্ট হয়, তখন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এর মাধ্যমে টাকা নেওয়া যায়।
Notice: যদি আপনি কোন ক্লাইন্টের কাজ করার পর টাকা চায় - কোনো সার্ভিস এর জন্য, তাহলে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
Online income মূলত, কাজ খোঁজা, কাজ সম্পন্ন করা করা, কাজ জমা দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট নেওয়া এই চক্রের মধ্য আবদ্ধ।
অনলাইন ইনকাম কত প্রকার?
অনলাইন ইনকাম এর কোন প্রকার ভেদ নেই, এটা বাড়তে আছে, যেমন: AI আসার পর একটি নতুন অনলাইন থেকে ইনকামের পদ্ধতি চালু হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতেও আরো অনলাইন এর বিভিন্ন সেক্টর আবিষ্কার হবে। যদি ও আমরা অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন কে প্রধানত ৮ ভাগে ভাগ করতে পারি।
1. ফ্রিল্যান্সিং
ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে অতি জনপ্রিয় একটি ইনকাম হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম সাধারণত ডাটা এন্ট্রি, ডিজাইন করা, আর্টিকেল রাইটিং, ট্রান্সলেটিং ইত্যাদি কাজ এর করে পাওয়া যায়। এগুলো fiverr, Upwork, freelancer, LinkedIn ইত্যাদি প্লাটফর্মে গিয়ে এই ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।
আরো পড়ুন: ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে শুরু করব
2. ব্লগিং ও ওয়েবসাইট
ব্লগিং মূলত একটি অনলাইন ভিত্তিক লেখালেখি, টুলস তৈরি, ও saas এর সাথে যুক্ত। এগুলো ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে করা যায়। প্রথমে ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার পর প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বা কনটেন্ট লেখার পর সেই আর্টিকেল বা কনটেন্ট কে মনিটাইজ করে ইনকাম করে। অনেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও ব্লগিং এর সাথে করে থাকে।
3. ইউটিউব, ফেসবুক ও ভিডিও কনটেন্ট
বাংলাদেশে ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ইনকাম বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। Mr beast, Rakib hossain, rafsan the choto vai, ইউটিউবার এর নাম নিশ্চয় শুনেছেন এবং ফেসবুকে BD Viral Video / Bangladesh Viral Videos, ChannelB24Official ইত্যাদি পেজ থেকে ভিডিও প্রকাশিত হয় এবং বর্তমানে অনেক ভাইরাল এবং বর্তমান তারা খুব ভালো ইনকাম করছে।
4. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি অনলাইন প্যাসিভ ইনকাম এর একটি উপায়, যেখানে আপনি অন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপস এর সার্ভিস বা পন্য বিক্রি প্রমোশন করিয়ে ইনকাম করা যায়। এখানে, প্রথমে আপনাকে সার্ভিস বা পন্য এর লিঙ্ক মার্কেটিং করতে হয় এবং সেই লিংকে ক্লিক করে যখন কোন কাস্টমার পন্য কিনে তখন সেই বিক্রিত পন্য বা সার্ভিস এর লাভের টাকা থেকে কিছু পার্সেন্ট কমিশন আপনি একজন অ্যাফিলিয়েটর পান।
5. অনলাইন টিউশন ও কোর্স
আপনি যদি নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, তাহলে অনলাইন টিউশন ও কোর্স চালু করতে পারেন। ধরুন, আপনি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বা গণিত এ ভালো বোঝাতে পারেন, তাহলে পুরো অধ্যায় এর একটি ভিডিও তৈরি করে, সেই ভিডিওটি সম্পর্কে অনলাইনে মার্কেটিং করে বিক্রি করতে পারেন বা পেইড student মাসিক সিস্টেম ও অনলাইনে পড়াতে পারেন। অথাবা ইউটিউব বা ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে আপনার টিচিং শুরু করতে পারেন।
6. মাইক্রোটাস্ক ও ডাটা এন্ট্রি
অনলাইন এর ছোট ছোট কাজ গুলো কে মূলত মাইক্রোটাস্ক বলা হয়, যেমন: কোন প্লাটফর্মে শুধু সাইন আপ করা, রিভিউ দেওয়া, ফেসবুক বা ইউটিউব ফলো বা সাবস্ক্রাইব করা ইত্যাদি কাজ।
ডাটা এন্ট্রি হল কোন ডাটা কালেক্ট করা, একত্র করা, বা ছোট ছোট আলাদা আলাদা করা কে বোঝায়। যেমন: নোকিয়া মোবাইল এর বাজারমূল্য ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত একটি ডাটা সেট।
7. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি
ডিজিটাল প্রোডাক্ট বলতে অনলাইনে কোনো, কোর্স সার্ভিস, কোনো পন্যের বান্ডেল, টেমপ্লেট, ডিজাইন ইত্যাদি সেল করা। যেমন: ১০০ টিশার্ট ডিজাইন টেমপ্লেট বিক্রি করা।
8. Amazon kindle এ বই ও পন্য বিক্রি করে ইনকাম
Amazon kindle লেখক এবং সৃজনশীল মানুষদের জন্য এক নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম, যেখানে আপনি ইবুক, বই, notebook, colouring book সেল করে ইনকাম করতে পারেন।
যাইহোক, আরো বিভিন্ন ভাবে online ইনকাম গুলো পাওয়া যায়, তা হল ড্রপসিপিং, অনলাইন প্রিন্টিং সার্ভিস, ই-কমার্স selling করা, ই-কমার্স সাইট তৈরি ও পন্য বিক্রি ইত্যাদি।
অনলাইন ইনকাম করার সুবিধা
ঘরে বসে কাজ করা যায় - ঘরের বাইরে মাঠে গিয়ে কাজ করতে হয় না।
বিদেশি ক্লায়েন্ট থেকে ডলার ইনকাম - দেশে নয়, বরং বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করা যায়। এখানে হাজার টাকা নয় , বরং লাখ টাকা ইনকাম করা যায়।
সময়ের স্বাধীনতা - কেউ আপনাকে কাজে বাধ্য করতে পারে না, আপনি আপনার দক্ষতা, ইচ্ছে, এবং সময় অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, রিসেলিং, বা ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে পারেন এবং আপনি চাইলে এক বা একাধিক কাজ ও করতে পারেন। কারণ, সময় আপনার, কাজ আপনার এবং আপনিই টাকা ইনকাম করতে পারবেন আনলিমিটেড।
কম পুঁজি প্রয়োজন - অনেক বেশি টাকা বা ডলার লাগে না ৫০০-১০০০ টাকা দিয়েই যেকোনো অনলাইন ইনকাম শুরু করা যায়। skill development করা বাধ্যতামূলক। Skill অর্জন ছাড়া কম পুঁজিতে অধিক লাভ করা যায় না।
স্কিল বাড়লে ইনকাম বাড়ে - আপনি যদি অনলাইন কাজ গুলো বুঝে নেবেন, তখন আপনার টাকা ইনকাম এক গুণ, দুই গুণ নয় বরং হাজার গুণ বৃদ্ধি করা যায়।
অনলাইন ইনকাম করার অসুবিধা
অনলাইন ইনকাম যেমন সহজ এবং এর অনেক সুবিধা রয়েছে, ঠিক তেমনি এর অপকারিতা ও রয়েছে, যা আমাদের শারীরিক, মানসিক, ও সামাজিক ভাবে সমস্যাই ফেলে দেয়।
শুরুতে ইনকাম অনিশ্চিত - আমরা কাজ করে টাকা পেতে অভ্যস্ত, কিন্তু অনলাইন টাকা আয় প্রথম দিন থেকেই নাও হতে পারে, যা আমাদের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি করে। অনলাইনে ইনকাম করতে হলে অবশ্যই ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগতে পারে, যদি আপনার কাপাল ভালো হয় এবং সঠিক জায়গায় skill প্রদর্শন করতে পারেন, তাহলে ইনকাম করা আরো সহজ হবে এবং একটি ভালো ইনকাম করতে পারবেন।
স্ক্যাম ও ভুয়া সাইটের ঝুঁকি - অনেকেই আপনাকে ইনভেস্ট করেই ইনকাম শুরুর কথা বলবে, যা স্ক্যাম করার একটি পদ্ধতি। আমাদের এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হবে এবং কোনো সাইটে প্রবেশ করা ও কাজ করার আগে ইউটিউব ও ফেসবুকে এর রিভিউ দেখা।
ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা দরকার - আজ কিছু কাজ করলেন কাল বসে থাকলেন এভাবে কাজ করতে হয় না। ধারাবাহিক ভাবে ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে। অনলাইন শারীরিক ভাবে শক্তিশালী মানুষ এর কাজ নয় বরং প্রত্যেক ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করতে পারে এমন ছেলে ও মেয়ে অনলাইন কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।
নিজে নিজে শিখতে হয় - অবশ্যই অনলাইন কাজ শিখতে হবে এবং নিজের একাগ্ৰতা, বুদ্ধি এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ শিখতে হবে।
উপসংহার
অনলাইন ইনকাম একটি আধুনিক ইনকাম এর অংশ, যা বর্তমানে ও ভবিষ্যৎ এর চাহিদা আরো বেশি বাড়বে। এখনি সিধান্ত নেওয়ার সময়। তবে সতর্কতা ও বাস্তবতা জেনে নেওয়া উচিত, কারণ যে কেউ বললেই হবে না যে, আপনি কাল থেকেই লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অর্থাৎ রাতারাতি ধনী হওয়ার মিথ্যা আশ্বাস গ্ৰহণ করা যাবে না। আমার মতামত হল স্ক্যাম থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত শিখুন এবং ধৈর্য রাখুন, online income হবেই।
FAQs ( অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর)
১. অনলাইন ইনকাম করতে কী লাগে?
অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে বেশি কিছু জিনিস লাগবে, সেগুলো হলো: ইন্টারনেট, একটি ডিভাইস, নির্দিষ্ট দক্ষতা, ধৈর্য, বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম
২. টাকা কীভাবে আসে?
আপনি যখন অনলাইন এ কাজ সম্পন্ন করবেন এবং ক্লাইন্ট, সাইট, বা প্লাটফর্ম থেকে ডলার বা টাকা আসে। আপনি কাজের বিনিময়ে, বিজ্ঞাপন থেকে, পন্য বা সার্ভিস বিক্রয় কমিশন, সাবস্ক্রিপশন ইত্যাদির মাধ্যমে টাকা পাবেন।
৩. ছোট বাজেটে কি সম্ভব?
হ্যাঁ। অনেকেই শূন্য টাকা দিয়ে শুরু করে সফল।
৪. ইংরেজি না জানলেও কি সম্ভব?
হ্যাঁ। বাংলা কনটেন্ট, লোকাল ক্লায়েন্ট, ইউটিউব, ফেসবুকের মাধ্যমে সম্ভব।
৫. বাংলাদেশে ঘরে বসে ইনকামের উপায়?
আপনি ঘরে বসে থাকবেন, সামনে মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকবে, অনলাইন কাজ করবেন এবং টাকা ইনকাম হবে এমন কিছু অনলাইন কাজ হল ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব, ব্লগিং, অনলাইন কোর্স, ডিজিটাল সার্ভিস
৬. টাকা বা ডলার কিভাবে আনবো?
আপনি যদি বাংলাদেশে বসে জনপ্রিয় পেমেন্ট মাধ্যমে ডলার বা টাকা ইনকাম করতে পারবেন। Payoneer (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য), ব্যাংক ট্রান্সফার, লোকাল কাজের পেমেন্ট পেতে বিকাশ, নগদ ইত্যাদি এবং কিছু ক্ষেত্রে Wise, crypto currency তে পেমেন্ট নেওয়া যায়।
৭. অনলাইন আয় শুরু করতে কি ধরণের খরচ লাগে?
প্রতি মাসে ইন্টারনেট খরচ ৫০০–১০০০ টাকা লাগবে , একবার খরচ করতে হবে যে কোন এক বা একাধিক skill শিখতে খরচ ৫০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা লাগে, এরপর আপনি সময় ও শ্রম দিলেই অনলাইন আয় শুরু করা যায়।
৮. শুধু মোবাইল দিয়ে কি শুরু করা যায়?
হ্যাঁ আপনি অনলাইন আয় শুরু করতে পারেন মোবাইল দিয়ে। মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই অনলাইন আয় করা যায়।
আপনি এখনি ইনকাম করতে পারেন বিশেষ করে, ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট, ডাটা এন্ট্রি ও অনলাইন সার্ভে থেকে। তবে লং-টার্মে কাজ করতে হলে ল্যাপটপ ভালো।
৯. নতুনদের জন্য সহজ কাজগুলো কি কি?
আপনি যদি নতুন হন এবং অনলাইন কাজ করতে আগ্ৰহী হন, তাহলে আপনি বাংলায় কনটেন্ট লেখালেখি করা, ডাটা এন্ট্রি, ফেসবুক পেজ ম্যানেজমেন্ট, ক্যানভা ডিজাইন, ইউটিউব শর্টস ইত্যাদি করতে পারেন। এই কাজ গুলো beginner দের জন্য সেরা।
১০. অনলাইন ইনকাম হালাল না হারাম
ইসলামিক দৃষ্টিতে হালাল, যদি কাজটি বৈধ হয় প্রতারণা না থাকে, এবং হারাম কনটেন্ট না হয় এবং কোন শরিয়ত বিরোধী কাজ না হয়।
হারাম ইনকাম হবে, যদি জুয়া, প্রতারণা, ভুয়া ক্লিক, অবৈধ অ্যাড বা স্ক্যাম করেন। অনলাইন ইনকাম হারাম নয় বরং নির্দিষ্ট কিছু কাজ হারাম, হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে পারলেই অনলাইন থেকে হালাল ইনকাম করা যায়।
১১. কাদের জন্য অনলাইন ইনকাম উপযুক্ত
সকশ নারী ও পুরুষ এই কাজ করতে পারে, এছাড়াও ছাত্রছাত্রী, বেকার যুবক-যুবতী, গৃহিণী, চাকরিজীবী (পার্টটাইম), অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সব বয়সের মানুষই এই কাজ করে ইনকাম করতে পারে। এই কাজ করতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
১২. অনলাইন ইনকাম কি বাস্তবভাবে সম্ভব?
হ্যাঁ, বাস্তবভাবে সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব, ব্লগিং থেকে নিয়মিত ইনকাম করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক রেমিট্যান্স রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বছরে শত কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসে।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url