ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে শুরু করবেন

ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে শুরু করবেন


ফ্রিল্যান্সিং অনলাইন ইনকাম এর জগতের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ইনকাম পদ্ধতি। আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার লাখ লাখ ডলার আয় করছে। কিন্তু আপনি জানেন কি লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার এর এতো টাকা ইনকাম এর কারণ কি? 

কারণ, বাংলাদেশের প্রতিটি সফল ফ্রিল্যান্সাররা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এরা এলোমেলো ভাবে ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা শুরু করেনি বরং সকল সফল ফ্রিল্যান্সাররা সঠিক Strategy মেনে কাজ করে আজ সফল। এছাড়াও, তারা জানে কীভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে। 

আজকে আপনি একটি ধাপে ধাপে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সফল পদ্ধতি জানবেন, যা আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন ইনকাম করতে সাহায্য করবে। 

ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে তার ছবি

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সঠিক পদ্ধতি: স্কিল থেকে পেমেন্ট সিস্টেম পর্যন্ত

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে আপনাকে মোট ৭টি প্রসেস ফলো করতে হবে, যা আপনাকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে সাহায্য করবে এবং আপনার স্বপ্ন যদি হয় ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা বা ডলার আয়, তাহলে এটা আপনাকে আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করবে। ফ্রিল্যান্সিং এ zero to hero হতে চাইলে দক্ষতা বা স্কিল তৈরি করতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এ আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে হবে, ক্লায়েন্ট এর কাজ সঠিকভাবে এবং সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দিতে হবে, প্রজেক্ট বা কাজ (Projects / Gigs) এর মধ্যে থেকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে সেরা প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও (Profile & Portfolio) তৈরি করতে হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা (Communication System) উন্নত, সহজ, সব সময় উপলভ্য রাখতে হবে, সব শেষে আপনাকে যখন ক্লাইন্ট পেমেন্ট দিবে, তখন পেমেন্ট সিস্টেম (Payment System) ঠিক রাখতে হবে। 

আসুন এখন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি, যে প্রসেস অনুসরণ করলে কেউ ফ্রিল্যান্সিং থেকে অনলাইন ইনকাম করতে বাধা দিতে পারবে না। শেষে তিনটি অতিরিক্ত টিপস রয়েছে, যা দ্রুত ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

১. দক্ষতা বা স্কিল (Skills) অর্জন করা

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মূল ভিত্তি হলো দক্ষতা। স্কিল ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং সম্ভব নয়। দক্ষতা হলো ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভিত্তি। কোন দক্ষতা ছাড়া কোনো সফলতা আসে না, সফলতা আসে দক্ষতার উপর ভিত্তি করে। প্রথমে আপনাকে নিজের দক্ষতা চিহ্নিত করতে হবে, অর্থাৎ আপনি কোন অনলাইন কাজে expert তা আপনাকে নিজেই অনুধাবন করতে হবে। 

কারণ, ক্লাইন্ট বা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো আপনার দক্ষতার উপর ইনকাম দেয়, ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বা অস্ত্র হল আপনার শেখা দক্ষতা, যেমন: আপনি যদি ভিডিও এডিটিং কাজ করতে পারেন, তাহলে এটাই আপনার ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা বা skill হিসেবে আপনাকে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে সাহায্য করবে। 

ধরুন, আপনি নতুন এবং ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম এর চিন্তা করছেন, তাহলে অবশ্যই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ এর কাছে পরামর্শ নিতে পারেন।‌ আপনার প্রশ্ন হতে পারে যে, “আমি ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী আমি কোন skill development করলে আমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে এবং অনলাইন থেকে একটি ভালো ইনকাম করতে পারবো?”

যাইহোক, বর্তমানে Ai ব্যবহার করে অনেক কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ কাজ সহজে করা যাচ্ছে, Ai এর মাধ্যমে সব কাজ করানো যায় কিন্তু অবশ্যই নিজের ব্যাসিক দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রাখতে হবে, যেনো ভূল তথ্য বা ভূল জিনিস তৈরি করে দিলে Solve করা যায়। 

মনে রাখা উচিত যে, এমন কোন skill ডেভেলপ করা যাবে না, যার উপর আপনার ক্যারিয়ার তৈরি করা যাবে না, এমন skill শিখতে হবে, যেনো পরবর্তী ১০-১৫ বছর সেই skill এর উপর কাজ করা যায়। 

এছাড়াও, আপনার চাহিদা এবং মার্কেট এর চাহিদা আছে কিনা এমন skill লিখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, অনলাইন মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, ভিডিও এডিটিং, অনুবাদ ইত্যাদি। আমার পরামর্শ হলো ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা। 

একটি মজবুত দক্ষতা ফ্রিল্যান্সিং এর পরবর্তী ধাপ গুলো সহজ করতে সাহায্য করে, যেমন: প্রোফাইল তৈরি, মার্কেটপ্লেসে কাজ খোঁজা এবং ক্লায়েন্ট পাওয়া সহজ করে দেয়। অবশ্যই, যে কোন skill শেখার পর সার্টিফিকেট আপনার দক্ষতা তা প্রদর্শন করে এবং CV কে শক্তিশালী করে। 


২. ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (Freelancing Marketplace) খোঁজা 

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যুক্ত হওয়া, যা আপনাকে অনলাইন কাজের নিশ্চয়তা দেয়। মূলত, এখানেই ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারের সংযোগ ঘটে। আপনি যদি নতুন বা পুরাতন যাই হন না কেন, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো আপনার জন্য নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ জায়গা। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের দক্ষতা অনুযায়ী অনলাইন কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন। 

Fiverr, Upwork, Freelancer, PeoplePerHour, LinkedIn এবং Guru বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে অন্যতম, এখানে আপনি সকল ধরনের অনলাইন এর কাজ করতে পারবেন, যেমন ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, প্রোগ্রামিং, মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি, অনুবাদ ইত্যাদি।

এই প্ল্যাটফর্মগুলো কাজের পোস্ট করতে দেয়, প্রজেক্ট শুরু করতে দেয়। এছাড়াও, পেমেন্ট সিকিউরিটি ও রেটিং সিস্টেম প্রদান করে, যা অন্যান্য ক্লাইন্ট কে সিধান্ত নিতে দেয় যে, ফ্রিল্যান্সার এর কাজ গুলো কতটা সুচারু রুপে করেছে এবং ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে এবং আরো বেশি কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। 

৩. প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও (Profile & Portfolio) তৈরি করা 

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস খোঁজার পর আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একটি শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য, আসল, যোগ্যতা যুক্ত প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও তৈরি করা। প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও কে বলা হয় একজন ফ্রিল্যান্সার এর পরিচয়পত্র, যা একজন ফ্রিল্যান্সার এর দক্ষতা কতটুকু আছে তা ক্লাইন্ট কে দেখায়। 

প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও হল একজন ফ্রিল্যান্সার এর দক্ষতার বাস্তব প্রমাণ। কারণ, একজন ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ দেওয়ার আগে আপনার রিয়েল প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও দেখে এবং ক্লাইন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, আপনাকে কাজ দেওয়া যাবে কিনা। যদি আপনার প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও এর মধ্যে এমন কিছু যুক্ত থাকে, যা ক্লাইন্ট কে আপনাকে Hire করতে সাহায্য করে তা যুক্ত থাকলে আপনি ক্লাইন্টের কাজ পান এবং যদি আপনার প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও এর মধ্যে ক্লাইন্টের Requirements না থাকে, তখন ক্লাইন্ট আপনাকে Hire করে না। 

আপনাকে যেনো ক্লাইন্ট Hire করে একটি ভালো ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও স্পষ্টভাবে থাকতে হবে:
  1. প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি
  2. পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট প্রোফাইল টাইটেল
  3. শক্তিশালী প্রোফাইল ডিসক্রিপশন (Overview)
  4. প্রাসঙ্গিক স্কিল লিস্ট
  5. কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও
  6. কাজের অভিজ্ঞতা (Experience)
  7. শিক্ষা ও সার্টিফিকেশন
  8. রেট বা চার্জ (Hourly / Fixed Price)
  9. ক্লায়েন্ট রিভিউ ও রেটিং
  10. অ্যাভেইলেবিলিটি ও কমিউনিকেশন তথ্য

যদি উপরের তথ্য গুলো সঠিকভাবে একটি প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও এর মধ্যে থাকে থাকে, তাহলে সেই প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ায়।

Notice: অবশ্যই Seo friendly Profile তৈরি করতে হবে এবং একটি তথ্যসমৃদ্ধ Portfolio হতে হবে।‌ কারণ সঠিকভাবে সাজানো গোছানো প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও ক্লায়েন্টের আস্থা তৈরি করে এবং কাজের পাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে, আপনার কাজের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় এবং নিয়মিত কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

৪. ক্লায়েন্ট (Clients)

ক্লায়েন্টই ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় উৎস। ক্লায়েন্ট হল এমন একজন ব্যক্তি, যে ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দেয় এবং কাজের উপর ভিত্তি করে অর্থ দেয়। ক্লাইন্টের সাথে এমন সখ্যতা গড়ে তুলতে হবে, যেনো সেই ক্লাইন্ট আপনার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কারণ, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, ফ্রিল্যান্সার, সবই তৈরি হয়েছে ক্লায়েন্ট এর উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ ক্লাইন্ট না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং ধ্বংস হয়ে যাবে এবং লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার এর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। 

একজন ক্লায়েন্ট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং বিভিন্ন জন ক্লাইন্ট হতে পারে। ক্লাইন্ট মানে যিনি ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দেন, একজন ক্লাইন্ট হতে পারে ব্যক্তি (Individual), কর্পোরেট, ছোট ব্যবসায়ী ও স্টার্টআপ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মালিক বা টিম, বিদেশি বা দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। 

একজন ক্লাইন্টের মূল কাজ হলো ফ্রিল্যান্সারদের job application দেখা এবং কাজ দেওয়া। এছাড়াও, কিছু কিছু ক্লাইন্ট ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও দেখে এবং কাজ দেয়। 

ফ্রিল্যান্সিং এর পুরো প্রক্রিয়াটিকে সুন্দর করে সম্পন্ন করতে ক্লাইন্টের এবং ফ্রিল্যান্সার এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন ফ্রিল্যান্সার এর কাজ হবে ক্লাইন্টের সাথে সঠিক যোগাযোগ তৈরি করা। 

৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা 

ফ্রিল্যান্সিং পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর, তাই ফ্রিল্যান্সারদের পরিষ্কার যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। আর অনলাইন কাজের পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করে মার্কেটপ্লেস চ্যাট, ইমেইল, Zoom / Google Meet, Slack / WhatsApp ইত্যাদি ব্যবহার করে।‌ 

একজন ফ্রিল্যান্সার যেহেতু সার্ভিস দাতা, সুতরাং এখানে communication ঠিক রাখা একজন ফ্রিল্যান্সার এর নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব। ক্লাইন্টের কাছ থেকে কাজের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর ও যোগাযোগ down থাকার কারণে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, ফ্রিল্যান্সিং এ যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে কোন গ্যাপ রাখা যাবে না। 

যাইহোক, zoom, Google meet, সহ সকল যোগাযোগ প্লাটফর্মে একজন ফ্রিল্যান্সার এর একাউন্ট আগে থেকেই তৈরি করতে হবে, যেনো ক্লাইন্ট যোগাযোগ করতে চাইলেই আপনি খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সময় অনুবর্তিতা, ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, স্পষ্ট ভাষা, সময়মতো এবং পেশাদারিত্বের সাথে ফ্রিল্যান্সিং করতে হবে। 

যদি ক্লাইন্ট আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তাহলে আপনাকে ক্লাইন্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। মনে রাখা উচিত যে, আপনার স্পষ্ট ও পেশাদার যোগাযোগ, আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে কাজ করে‌ এবং ক্লাইন্টের সাথে দীর্ঘমেয়াদি কাজের নিশ্চয়তা দেয়। 
Notice: অবশ্যই ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ করতে হবে এবং আপনি কি পারেন এবং ক্লাইন্টের requirements তুলে ধরতে হবে তাহলে কাজের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। 


৬. প্রজেক্ট (Projects / Gigs) এ কাজ করা 

একজন ফ্রিল্যান্সার এর সাথে ক্লাইন্ট এর সফল যোগাযোগ এর পর প্রজেক্ট বা গিগ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ সাধারণত দুইভাবে হয়: প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ (Fixed price) এবং সময় ভিত্তিক কাজ (Hourly)। 

একজন ফ্রিল্যান্সার কে সাধারণত প্রজেক্ট বা গিগ এ অনলাইন এর বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে হয়, যেমন: একটি ওয়েবসাইট তৈরি, ১০টি আর্টিকেল লেখা, লোগো ডিজাইন, মাসিক সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। 

মনে রাখা উচিত, Projects ও Gigs দুটি আলাদা অংশ এবং এটি দেখেই একজন ক্লাইন্ট একজন ফ্রিল্যান্সার কে Hire করবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কেট প্লেস ভিন্ন হলেও একজন ফ্রিল্যান্সার কে নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, এবং সেবা স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে হয়। 

প্রজেক্ট এর ক্ষেত্রে,

সকল ফ্রিল্যান্সারদের জানা উচিত যে, Upwork, Freelancer, Guru-এর মতো জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে সাধারণত project based কাজ পাওয়া যায়। যেখানে ক্লায়েন্ট কাজ পোস্ট করে এবং ফ্রিল্যান্সার প্রপোজাল পাঠায়।

মনে রাখা উচিত যে, ক্লাইন্ট কে প্রপোজাল পাঠানোর আগে ক্লাইন্টের চাহিদা অনুযায়ী বার্তা পাঠাতে হবে, যেনো শত শত competitor ফ্রিল্যান্সারদের ভীরে ক্লাইন্টের কাছে আপনার প্রপোজাল সেরা মনে হয়। 

গিগ বা Gig এর ক্ষেত্রে,

যে সকল ফ্রিল্যান্সাররা জনপ্রিয় এবং সেরা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস Fiverr ও PeoplePerHour এ নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে চায় তারা এখানে গিগ পাবলিশ করতে পারে। কারণ, Fiverr ও PeoplePerHour মূলত Gig based প্লাটফর্ম, যেখানে ফ্রিল্যান্সার নিজের সার্ভিস আগে থেকেই সাজিয়ে রাখে।

একজন ফ্রিল্যান্সার এখানে Gig description, কাজের নমুনা, রিভিউ, এবং Basic, Standard, Premium প্যাকেজ তৈরি করে রাখে। এখানে গিগ গুলো ক্লাইন্ট দেখে এবং তাদের কাজের requirements অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকে। 

৭. কাজ সম্পন্ন করা এবং পেমেন্ট গ্ৰহণ 

লাখো ফ্রিল্যান্সার এর স্বপ্ন হল কাজ সম্পন্ন করা ও পেমেন্ট গ্রহণ। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় এখানেই। বলা যায় যে, কাজ সম্পন্ন করা এবং পেমেন্ট গ্ৰহণ করা ফ্রিল্যান্সিং আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ অংশ, যদি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হন তাহলে এটি তার জন্য সোনার হরিণ পাওয়ার মত। 

কাজ সম্পন্ন করা পর এবং ক্লাইন্ট কে কাজ ডেলিভারি দেওয়ার আগে পুরো কাজের পুনরায় রিভিশন করা এবং প্রত্যক্ষ ভাবে দেখা যে কাজের মধ্যে কোন ভূল আছে কিনা এবং ক্লাইন্ট যেভাবে কাজ ডেলিভারি চায় ঠিক সেভাবেই কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া। 

কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো এবং একজন ফ্রিল্যান্সার কীভাবে কাজ জমা দেবে তা দেওয়া হল। এখানে ক্লাইন্ট কে বিভিন্ন ফরম্যাট ফাইলে কাজ ডেলিভারি দিতে হবে। এটাই মূলত কাজ জমা বা ডেলিভারি দেওয়ার সঠিক প্রক্রিয়া। 
  • লেখার কাজ: DOCX, PDF, Google Docs
  • ডিজাইন: JPG, PNG, PSD, AI
  • ভিডিও: MP4
  • ওয়েব কাজ: ZIP ফাইল, লাইভ লিংক
একজন ফ্রিল্যান্সার কাজ ডেলিভারি দেওয়ার পর PayPal, Payoneer, Wise, Skrill, cryptocurrency তে, লোকাল ব্যাংক ব্যাংক এর মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারে। বাংলাদেশে PayPal, crypto currency যেহেতু available নয় তাই Payoneer, Wise, Skrill, এবং bank এর মাধ্যমে পেমেন্ট রিসিভ করতে হবে। 

একজন ফ্রিল্যান্সার এর কাজ হবে বাংলাদেশে available সকল payment গেটওয়েতে একটি করে একাউন্ট করে রাখা। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় Payoneer এবং Wise পেমেন্ট গেটওয়ে। খুশির খবর হল যে, Payoneer এর মাধ্যমে একজন বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার তার পেমেন্ট সরাসরি লোকাল বিকাশ একাউন্টে নিয়ে আসতে পারে।‌


টিপস ১. কাজ ডেলিভারি ও রিভিশন (Delivery & Revision)

ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ অনলাইনে ডেলিভারি দেওয়ার মাধ্যমে একজন ফ্রিল্যান্সার একটি প্রজেক্ট বা গিগ এর কাজ শেষ করে। তাই, কাজ ডেলিভারি দেওয়ার আগে আগে বার বার রিভিশন করা, যেনো ক্লাইন্ট ভূল ধরতে না পারে এবং অসন্তুষ্ট না হতে পারে। 

টিপস ২. রেটিং ও রিভিউ সিস্টেম (Rating & Review)

ফ্রিল্যান্সারের ভবিষ্যৎ কাজ নির্ভর করে এই অংশের উপর। একজন ক্লাইন্ট আপনার তৈরি করে দেওয়া কাজ কতটা ভালো হয়েছে তা নির্ভর করে ক্লাইন্টের রেটিং ও রিভিউ এর উপর। প্রায় সকল প্লাটফর্মে ফ্রিল্যান্সারদের ক্লাইন্টরা রেটিং ও রিভিউ দিয়ে থাকে। একটি ভালো রেটিং বা রিভিউ একজন ফ্রিল্যান্সার এর গোটা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কে প্রভাবিত করে এবং ভবিষ্যতে কাজের দোয়ার উন্মোচন করে দেয়। রেটিং ও রিভিউ সিস্টেম এর সুবিধা হল বেশি ক্লায়েন্ট পাওয়া, বেশি চার্জ নেওয়ার সুযোগ, মার্কেটপ্লেসে র‍্যাংক বৃদ্ধি। 

টিপস ৩. সময় ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্ব (Time Management & Professionalism)

ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজেই নিজের বস। ফ্রিল্যান্সিং আপনার কাজ সময় এবং আপনার passion অনুযায়ী কাজ করে না, ফ্রিল্যান্সিং মূলত তার নিজস্ব গতিতে চলে। তাই, একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সময় ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্ব এর সাথে কাজ করা বাধ্যতামূলক। 

আমেরিকায় বসে থাকা ক্লাইন্ট তাদের সময় সকল দশটা এবং বাংলাদেশে সেই সময় রাত। অর্থাৎ, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে, এটাই ফ্রিল্যান্সিং এর নিয়ম। কি বুঝলেন, একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার নিয়মিত অনলাইন থাকা বাধ্যতামূলক। 

উপসংহার 

ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে শুরু করবেন এর আলোচনায় ফ্রিল্যান্সিং Skill development থেকে শুরু করে payment system নিয়ে ও আলোচনা করা হয়েছে। এটি নতুন এবং পুরাতন ফ্রিল্যান্সার আগে সাহায্য করবে বুঝতে যে, আসলে ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে কি করতে হবে। যদি ও এটি খুবই সংক্ষিপ্ত এবং সংকীর্ণ কথা। আমি খুবই সিগরই প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত নিয়ে একটি কন্টেন্ট তৈরি করব‌। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url