F-commerce কি: সম্পূর্ণ বিজনেস মডেল ব্যাখ্যা
F-commerce কি: সম্পূর্ণ বিজনেস মডেল ব্যাখ্যা
F-commerce হল মূলত একটি ফেসবুক ভিত্তিক কেনাবেচার প্লাটফর্ম, যেখানে একজন উদ্যোক্তা তার পন্য বা সার্ভিস গুলো বিক্রয় করে এবং যখন কাস্টমার কিনে নেয়, তখন আয় হয়। আপনি কি জানেন, এই ব্যবসা আপনার জন্য সেরা হতে পারে। কীভাবে, আসুন সম্পূর্ণ বিজনেস মডেল ব্যাখ্যা করে বোঝায়।
- তবে, প্রথমে আপনাকে জানতে হবে F-commerce কি?
- Facebook Commerce Channel গুলো কি কি বা কোন কোন উপায়ে পন্য ও সার্ভিস বিক্রি করা যায়?
- ব্যবসা শুরু করার পূর্ব প্রস্তুতি গুলো কি কি।
- ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার সম্পূর্ণ প্রসেস সমূহ, (ব্যাখ্যা সহ)
- ফেসবুকে ব্যবসা করার সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ সমূহ।
- অতিরিক্ত টিপস সমূহ (সফল হওয়ার জন্য)
F-commerce কি?
F-commerce (Facebook Commerce) হল মেটার ফেসবুক ব্যবহার করে কেনাবেচা করার একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন উদ্যোক্তা কাস্টমারদের সরাসরি Facebook Page, marketplace, Profile, Group, Messenger, Comments ব্যবহার করে পন্য বা সার্ভিস গুলো বিক্রি করে।
Facebook Commerce মূলত একটি ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা, যেখানে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী গণ তাদের পন্য সেল করে। এটি নারীদের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী হতে পারে, যখন একজন নারী চাই ছোট্ট একটি ব্যবসা দাঁড় করাতে। যেখানে ফেসবুক হবে নারীর দোকান এবং কাস্টমার হল ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। এছাড়াও, ফেসবুকে পন্য বা সার্ভিস বেচাকেনা যে কেউ শুরু করতে পারে, কারণ ফেসবুক সকল উদ্যোক্তা কে স্বাধীন ব্যবসা করা সুযোগ দিচ্ছে।
ফেসবুক কমার্স, e-commerce এর থেকে আলাদা
F-commerce মূলত সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক) নির্ভর ব্যবসা, যেখানে পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়াটি Facebook প্ল্যাটফর্মের ভেতরেই ঘটে। প্রথমে একটি Facebook Page বা Group খুলে পণ্যের ছবি, ভিডিও প্রচার করতে হয়। যদিও আপনার ১০০ ফলোয়ার হলে লাইভের মাধ্যমে পণ্য প্রসারের সুযোগ রয়েছে। এরপর, যখন কাস্টমার অডার করার জন্য কমেন্ট বা Messenger এ নক দেয় এবং ডেলিভারি দেওয়ার পর পেমেন্ট করে ব্যক্তিগত bKash, Nagad বা Cash on Delivery-তে।
ফেসবুকে ব্যবসা চালাতে আলাদা ওয়েবসাইট, কার্ট সিস্টেম বা অটোমেটেড সফটওয়্যার লাগে না। ফলে ফেসবুকের ব্যবসায়ীদের খরচ কম, শুরু করা সহজ হয়, তবে পুরো প্রক্রিয়াই নিজের হাতে করতে হয়।
অন্যদিকে E-commerce হলো সিস্টেম এর উপর নির্ভর ডিজিটাল ব্যবসা। এখানে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থাকে, E-commerce পণ্য গুলো অডার দেওয়া সহজ। কারণ, এখানে রয়েছে ক্যাটালগ, Add to Cart, Checkout, Payment Gateway, অর্ডার ট্র্যাকিং, ইত্যাদি, যা সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। এখানে ক্রেতা নিজে অর্ডার সম্পন্ন করে এবং ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে ইনভয়েস ও কনফার্মেশন পায়। ব্যবসার ডেটা, কাস্টমার তথ্য ও ট্রাফিক পুরোপুরি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ মালিকের হাতে নিয়ন্ত্রণিত থাকে।
F-commerce এবং E-commerce এর বড় পার্থক্য হলো নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরতা। Facebook commerce সম্পূর্ণভাবে Facebook-এর নীতিমালা ও অ্যালগরিদমের উপর নির্ভরশীল। একজন উদ্যোক্তার Page হঠাৎ ব্লক হলে ব্যবসা থেমে যেতে পারে। কাস্টমার বেশি হলে ইনবক্স ম্যানেজ করা, অর্ডার ট্র্যাক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপরীতে E-commerce এ ব্যবসার অবকাঠামো নিজের হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে কাস্টমার কে নিয়ন্ত্রণ করা, অটোমেশন চালু করা এবং ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সহজ হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে Facebook commerce বেশি জনপ্রিয় কারণ এটি কম মূলধন, কম প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দ্রুত বিক্রির সুযোগ দেয়। মানুষ এখানে মানুষকে বিশ্বাস করে, মোট তিনটি জিনিস দেখে, যেমন: লাইভ ভিডিও, কমেন্ট, এবং রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু টেকসই ও বড় পরিসরের ব্যবসার জন্য শেষ পর্যন্ত E-commerce কাঠামোই বেশি কার্যকর। তাই বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সফল F-commerce ব্যবসা একসময় E-commerce এ রূপ নেয়।
Facebook Commerce Channel গুলো কি কি বা কোন কোন উপায়ে পন্য ও সার্ভিস বিক্রি করা যায়?
ফেসবুকের রয়েছে বিভিন্ন Channel, ফিচার বা বৈশিষ্ট্য, যা ব্যবহার করে আপনি আপনার পন্য ও সার্ভিস প্রচার করতে পারবেন এবং বিক্রি করতে পারবেন, যেমন: Facebook page, Facebook profile, Facebook group, Facebook marketplace, Facebook comments বা Messenger, Facebook Live, Facebook বা meta Ads ইত্যাদি।
Facebook page
ফেসবুকে ব্যবসা করার সহজ, প্রফেশনাল, এবং স্ট্যান্ডার্ড উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Facebook page, যা ব্যবহার করে আপনি আপনার ফিজিক্যাল পন্য, ডিজিটাল পন্য, এবং সার্ভিস (ডিজাইন, কনসালটিং, কোর্স) ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। এখানে আপনি ছবি, ভিডিও, এডস ইত্যাদি দিয়ে পন্য ও সার্ভিস এর প্রচার-প্রচারণা করতে পারেন।
Facebook profile
আপনি যদি কোন personal product বা Service গুলো পরিচিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান, তাহলে আপনার personal Facebook Account হতে পারে আপনার একটি ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারেন।
Pro tip: Facebook profile এ ব্যবসা করার বড় সুবিধা হলো সহজেই পরিচিত দের কাস্টমার এ পরিণত করা যায় এবং পরিচিতি বাড়ানোর জন্য এটা ভালো।
Facebook group
ফেসবুকে অনেক Community বা group রয়েছে, যেখানে একজন উদ্যোক্তা চাইলে niche অনুযায়ী তার পন্য ও সার্ভিস গুলোর সুবিধা, উপকারিতা, কার্যকারিতা তুলে ধরতে পারে এবং Community-based Selling শুরু করতে পারে।
Pro tip: নিজস্ব গ্রুপ খুলতে পারেন অথবা Buy & Sell গ্রুপে জয়েন করে আপনার পন্য ও সার্ভিস গুলো প্রচার করতে পারেন। অবশ্যই, আপনার niche অনুযায়ী মার্কেট টার্গেটিং করে প্রচার করা সবচেয়ে উত্তম এবং বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Facebook marketplace
ফেসবুকে একটি লোকাল মার্কেট হল marketplace, যেখানে আপনি আপনার পন্য ও সার্ভিস কাস্টমার এর লোকেশন অনুযায়ী সেল করার সুযোগ পান। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি চান একটি নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের কাস্টমার আপনার পন্য ও সার্ভিস গুলো ক্রয় করুক। এখানে আপনি ব্যবহৃত পন্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স পন্য, সহ প্রায় সকল পন্য বিক্রি করতে পারেন, লোকেশন ভিত্তিক।
Facebook comments বা Messenger
ফেসবুক কমেন্ট বা Messenger হল ফেসবুক এর একটি যোগাযোগ Channel বা মাধ্যমে, যেখানে একজন উদ্যোক্তা এবং কাস্টমার এর কথাবার্তা, মেসেজ, অডার রিসিভ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করে। এখানে আপনি নিজে অথবা Messenger Automation এর মাধ্যমে আপনার কাস্টমারদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
Facebook Live
আপনি যদি একজন রিয়েল উদ্যোক্তা বা ব্রন্ড হন এবং আপনি যদি চান আপনার প্রতি কাস্টমার এর বিশ্বাস বৃদ্ধি পাক এবং পন্য ও সার্ভিস গুলো দেখে, জেনে, বুঝে ক্রয় করুক, তাহলে Facebook Live আপনার জন্য একটি সেরা উপায় হতে পারে।
কারণ, কাস্টমার যদি আপনার পন্য ও সার্ভিস দেখে অডার দেয় এবং কাস্টমার এর পছন্দ হয়। তাহলে আপনার রিপিটেড কাস্টমার বৃদ্ধি পাবে, এটা নিশ্চিত।
মনে রাখা উচিত যে, ফেসবুক এর শর্ত অনুযায়ী ১০০ ফলোয়ার হলে ফেসবুক লাইভ এ product or service সেল করা যায়।
Facebook Ads
আপনি যদি কিছু সক্ষক কাস্টমার না চান, বৃহত কাস্টমার এর কাছে পৌঁছাতে চান, এবং সেল কয়েক গুণ বৃদ্ধি করতে চান তাহলে Facebook এ Ads Run করতে পারেন। এটাকে ফেসবুক এর Paid Commerce Channel ও বলা হয়, যেখানে আপনি আপনার পন্য ও সার্ভিস গুলো Click to Messenger Ads, Website Conversion Ads, Lead Ads, Catalog Ads ইত্যাদি ব্যবহার কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
পরিশেষে, আপনি চাইলেই, ফেসবুক এর সব গুলো channel বা ফিচার ব্যবহার করে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এতে করে আপনি খুব দ্রুত অনলাইন ইনকাম শুরু হবে, যা প্রত্যেক brand বা উদ্যোক্তা চাই।
F-Commerce ব্যবসা শুরু করার পূর্ব প্রস্তুতি
একটি ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি শক্তিশালী, পারফেক্ট পূর্ব পরিকল্পনা লাগে, ফেসবুক কমার্স বা ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করলে ও অনুরুপ একটি পূর্ব প্রস্তুতি লাগবে। কারণ, এটিও এক ধরনের ব্যবসা, যা ফেসবুক এর মাধ্যমে করা যায়। আপনি কি কি পূর্ব প্রস্তুতি গ্ৰহণ করবেন?
- পণ্য ও ফেসবুক মার্কেট রিসার্চ করা
- সরবরাহ ও স্টক ব্যবস্থা
- পেমেন্ট প্রস্তুতি
- ডেলিভারি সাপোর্ট
- একটি ছোট্ট Landing page বা ওয়েবসাইট রাখা
পণ্য ও ফেসবুক মার্কেট রিসার্চ করা
আপনাকে জানতে হবে কোন পন্য গুলো ফেসবুক ইউজার বা কাস্টমাররা কিনতে আগ্ৰহী এবং মার্কেট রিসার্চ করে বের করতে হবে ফেসবুকে কি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে দ্রুত সফল হতে পারবেন।
এছাড়াও, আপনাকে জানতে হবে, জনপ্রিয় Facebook পণ্য গুলো কি কি, যেমন: ছেলে ও মেয়েদের পোশাক, শিশুদের পোশাক ও খেলনা, কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার, ব্যাগ, জুতা, ঘড়ি, হোম ডেকোর, ডিজিটাল সার্ভিস (ডিজাইন, কোর্স) ইত্যাদি।
Pro tip: ট্রেডিং এর পেছনে না ছুটে, নিজের পন্য ও সার্ভিস কে ট্রেডিং এ পরিণত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফেসবুকের মার্কেটিং গ্যাপ খুঁজে বের করুন এবং আরামে ব্যবসা করুন।
সরবরাহ ও স্টক ব্যবস্থা
ফেসবুকে একজন কাস্টমারের অডার পাওয়ার আগে সরবরাহ ও স্টক ব্যবস্থা ঠিক করুন। পন্য ও সার্ভিস গুলো যখন কাস্টমাররা ক্রয় শুরু করবে, তখন কীভাবে পন্য ও সার্ভিস গুলো কাস্টমার এর কাছে পৌঁছে দিবেন তা নিয়ে আগাম সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্ৰহণ করুন।
ব্যবসার মধ্যে পন্য ও সার্ভিস এর সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক এবং Smooth রাখা জরুরি, এতে করে কাস্টমার রিভিউ উন্নত হয় এবং ব্যবসায়িক গতি ত্বরান্বিত হয়। তাই, পন্য গুলো কালেকশন করে স্টক করে রাখা।
এই জন্য, আপনি পন্য স্টক করতে আপনার বাড়ির ছোট্ট একটি ঘর পছন্দ করতে পারেন, অথবা পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অফিস খুলতে পারেন, যেখানে আপনার পন্য গুলো একসাথে থাকবে।
Pro tip: পন্য গুলো আগাম ক্রয় করতে কয়েক হাজার টাকা লাগতে পারে, আপনি চাইলেই ৫,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং ১৫-২০ টি Product রাখতে পারেন, যখন অডার এর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে তখন আরো বেশি পন্য রাখার চেষ্টা করুন।
যদি আপনি ডিজিটাল পন্য সেল করতে চান, তাহলে কোন কিছু স্টক করা লাগবে না, শুধু আপনার কাছে কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল পন্যটি থাকলেই হবে। Pdf আকারে ডিজিটাল পন্য সেল করতে পারেন।
পেমেন্ট প্রস্তুতি
ফেসবুকে কাস্টমার অডার দেওয়ার পর, অডার সম্পন্ন করতে পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে টাকা নিতে হবে। বাংলাদেশে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য কার্ড (ডেবিড, ক্রেডিট), বিকাশ, নগদ, রকেট উপায়, ব্যাংক ইত্যাদিতে একাউন্ট খুলে রাখতে পারেন এবং বিদেশীদের থেকে পেমেন্ট নিতে ব্যাংক, পেওনিয়ার, ইত্যাদি বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করা যায়।
যাইহোক, আপনি পন্য ও সার্ভিস গুলো বিক্রি করার সময় Case on delivery এর মাধ্যমে অডার গুলো কাস্টমার এর কাছে পৌঁছে দিতে হবে, এতে করে কাস্টমার আপনার কাছে পন্য ও সার্ভিস নিতে সাহস পাবে।
ডেলিভারি সাপোর্ট প্রস্তুতি
একটি পন্য কাস্টমার এর কাছে পৌঁছাতে ডেলিভারি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং কাস্টমার কে ডেলিভারি সাপোর্ট দেওয়া ফেসবুকে ব্যবসা করার মূল ভিত্তি। তাই, বিশ্বস্ত কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে পন্য গুলো ডেলিভারি দেওয়া উচিত। বিশ্বস্ত কুরিয়ার সার্ভিস গুলো হল Pathao Courier, RedX, Steadfast, Paperfly।
এছাড়াও, কাস্টমার যখন ফেসবুকে অডার করবে, তার আগে কাস্টমারদের কে ডেলিভারি চার্জ, রিটার্ন পলিসি ইত্যাদি জানিয়ে রাখতে হবে, এতে করে কাস্টমার এর সাথে অডার প্রসেস স্বাভাবিক রাখা যাবে।
পন্য গুলো ডেলিভারি করার আগে ত্রুটি মুক্ত ভাবে সুন্দর প্যাকেজিং এ কাস্টমার এর চাহিদা অনুযায়ী পন্যটি ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
Pro tip: ডেলিভারি চার্জ, ঢাকার মধ্যে ৮০৳ এবং ঢাকার বাইরে ১২০৳ রাখুন।
একটি ছোট্ট Landing page বা ওয়েবসাইট রাখা
একটি ছোট্ট Landing page বা ওয়েবসাইট আপনার কাস্টমার কে পন্য অডার করতে সুবিধা দিতে পারে এবং আপনি যে রিয়েল বিক্রেতা এটির পরিচয় বহন করবে। সুতরাং, ডোমেইন এবং হোস্টিং ব্যবহার করে আপনি একটি Landing page বা ওয়েবসাইট তৈরি করিয়ে নিতে পারেন।
Pro tip: ছোট্ট Landing page বা ওয়েবসাইট রাখা বাধ্যতামূলক নয়, যদি ফেসবুক এর অন্যান্য চ্যানেল ব্যবহার করে সন্তুষ্টির সাথে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।
আশা করি, আপনি আপনার ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার আগে পূর্ব প্রস্তুতি গুলো গ্ৰহণ করতে পারবেন।
কীভাবে F-Commerce ব্যবসা শুরু করবেন (সম্পূর্ণ প্রসেস)
ফেসবুকে সফল ব্যবসায়ী হতে হলে, আপনাকে ব্যবসা শুরু করার প্রসেস বা ধাপ গুলো জানতে হবে। একবার সফল ভাবে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করতে পারলেই ব্যবসা চলবে রকেটের গতিতে। এই জন্য প্রথমে আপনাকে একটি Optimize ফেসবুক পেজ খুলতে হবে এবং এরপর প্রতিদিন পন্য ও সার্ভিস এর প্রচার চালালেই আপনার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হবে।
কীভাবে ফেসবুক পেজ Optimize করবেন?
আপনি যদি একটি ফেসবুক পেজ ইতিমধ্যেই তৈরি করে থাকেন, তাহলে আপনাকে ফেসবুক পেজ Optimize করা উচিত, কারণ ফেসবুকে রিচ পেতে হলে এবং আশানুরূপ ফল পেতে হলে এটা খুবই জরুরি।
কি কি করবেন ফেসবুক পেজের মধ্যে, যেনো ফেসবুক ইউজাররা আপনার পন্য ও সার্ভিস সম্পর্কে জানতে পারে এবং আপনার কাস্টমার এ পরিণত হয়?
১. ফেসবুক পেজের profile picture যুক্ত করুন - আপনার ব্যবসার লোগো সংবলিত একটি ছবি যুক্ত করুন, অবশ্যই প্রফেশনাল লোগো তৈরি করবেন।
২. Add a cover photo - একটি ফেসবুক পেজের জন্য কভার ফটো যুক্ত করুন, এমন ছবি ব্যবহার করুন, যাতে আপনার পেজ সম্পর্কে কাস্টমার ধারণা পায়।
৩. Add a bio - আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখুন, এখানে বাক্য আকারে আপনার ব্যবসার প্রধান লাইন গুলো তুলে ধরুন।
৪. Add an action button - একটি অ্যাকশন বাটন যুক্ত করুন, যা আপনার ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজে নিয়ে যায়। যেখানে প্রবেশ করলে বা মেসেজ করলে কাস্টমার অডার করতে পারবে, এমন বাটন যুক্ত করুন।
৫. Connect WhatsApp business number - play store থেকে WhatsApp business অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং তা আপনার পেজের সাথে যুক্ত করুন।
৬. Link to your website - আপনার ওয়েবসাইট এর লিঙ্ক দিন।
৭. Add your location - আপনি কোথা থেকে ব্যবসা করছে তার লোকেশন দিন।
৮. Add your business hours - আপনি কখন কখন অডার গ্ৰহণ করেন বা আপনার অনলাইন স্টোর খোলার টাইম যুক্ত করুন।
৯. Add a phone number - একটি ফোন নাম্বার দিন, যাতে কাস্টমাররা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
১০. Invite friends to like your page - আপনার পেজটি অন্যান্য ফেসবুক ইউজার বা আপনার আত্মীয় স্বজন এর কাছে শেয়ার করুন, যাতে তারা আপনার থেকে পন্য ও সার্ভিস নিতে পারে।
উপরের ১০টি সেটআপ করলেই আপনার পেজ অপটিমাইজেশন শেষ এবং এখন আপনি রেডি পেজে পন্য ও সার্ভিস গুলো প্রচার করতে।
কীভাবে প্রতিদিন পন্য ও সার্ভিস এর প্রচার করবেন?
ফেসবুক তৈরি করলেন, ফেসবুক পেজ অপটিমাইজ করলেন, এবার আপনি চাইলেই পন্য ও সার্ভিস গুলো প্রচার করতে পারেন। কিন্তু কীভাবে?
১. যেকোনো পন্য ও সার্ভিস গুলো পছন্দ করুন, যার উপর কাস্টমার এর চাহিদা বেশি রয়েছে। আপনি মার্কেট এনালাইসিস করে ও পন্য ও সার্ভিস পছন্দ করতে পারে।
২. এরপর, আপনি ফেসবুক পেজে পন্য ও সার্ভিস এর ছবি, ভিডিও, ওয়েবসাইট লিংক ইত্যাদি প্রচার করুন।
৩. কাস্টমার পন্য ও সার্ভিস নিতে আগ্ৰহী হলে messenger বা WhatsApp এ যোগাযোগ করে অডার কনফার্ম করুন।
৪. পন্যটি প্যাকেজিং করুন।
৫. পন্যটি কুরিয়ার এ দিয়ে দিন এবং আপনার কোন সার্ভিস থাকলে, প্রথমে টাকা নিন এবং পরে সার্ভিস দিন।
৬. শেষে, কাস্টমার পন্য বা অডার রিসিভ করলে, মনে করবেন ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।
আসা করি, এভাবে পন্য ও সার্ভিস গুলো প্রচার করে আপনি ফেসবুকে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠবেন।
অতিরিক্ত টিপস সমূহ (সফল হওয়ার জন্য)
১. ফেসবুকে পন্য ও সার্ভিস এর পোস্ট করার সময় পোস্টের মধ্যে কোয়ালিটি সম্পন্ন টেক্সট রাখুন, যেনো টেক্সট পড়ে কাস্টমার ক্রয় করতে পারে।
২. প্রতিদিন পন্য ও সার্ভিস এর রিলস ভিডিও আপলোড করুন।
৩. কিছুদিন পর পর ফেসবুক লাইভ করুন।
৪. একক ক্যাটাগরি নিয়ে পন্য ও সার্ভিস উপর কাজ করুন, নির্দিষ্ট Niche এর উপর সফলতার পাওয়ার হার বেশি।
৫. ফেসবুকের পোস্টের মধ্যে #Tag ব্যবহার করুন, অন্য জনকে @মেনশন করুন, এতে করে ভিউজ এবং সেল বাড়বে।
৬. একটি সেরা ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল তৈরি করতে, এর মধ্যে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করুন, যেমন: লোগো ও কভার ফটো, bio বা Description, website link, social media link, WhatsApp যুক্ত করুন, Cta buttons যুক্ত করুন, ঠিকানা, খোলা রাখার সময় ইত্যাদি।
FAQs (অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর)
নিচে খুব সহজে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল:
১. এফ কমার্স ব্যবসা আর ই-কমার্স ব্যবসা কী এক?
হ্যাঁ, দুইটাই পন্য ও সার্ভিস নিয়ে ব্যবসা, তবে প্রার্থক্য কিছুটা রয়েছে খরচ, আর ব্যবসার গঠনে। যেখানে এফ কমার্স ব্যবসায় প্রায় সকল জিনিস ফেসবুক এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার প্রয়োজন পড়ে না। অন্যদিকে ই-কমার্স ব্যবসায় ডোমেইন ও হোস্টিং লাগে এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ওয়েবসাইট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার আগে কি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করা যায়?
হ্যাঁ, অনলাইন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার আগে এফ-কমার্স ব্যবসা শুরু করা যায় এবং আগে এফ-কমার্স ব্যবসা শুরু করা উচিত, যখন আপনি দেখতে চান মার্কেট কীভাবে চলে, পন্যের চাহিদা কতটুকু, এবং ফেসবুক এর রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন ট্রাফিক যার উপর ভিত্তি করে দেখতে পারেন আপনার Niche অনুযায়ী ব্যবসা চলবে কি না।
মজার ব্যাপার হলো: অনেক সফল এফ-কমার্স ব্যবসা পরবর্তীতে ই-কমার্স ব্যবসায় পরিণত হয়।
৩. বাড়িতে বসে F-commerce ব্যবসার মাধ্যমে কি ক্যারিয়ার তৈরি করা যায়?
হ্যাঁ, F-commerce ব্যবসার মাধ্যমে ১০০% সেফ একটি ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন। ব্যবসা করতে ফেসবুক পেজ খুলুন, আপনার বাড়িতে পন্য রাখার স্থান তৈরি করুন, ফেসবুকে প্রতিদিন পন্য নিয়ে প্রচার করুন, পন্য প্রচারে ফেসবুক এর সকল চ্যানেল গুলো ব্যবহার করুন , যখন অডার আসবে, তখন পন্যটি কুরিয়ার এর কাছে পাঠান এবং ডেলিভারি সম্পন্ন করুন। খুবই সহজ।
৪. লোকাল এফ-কমার্স ব্যবসা করা যায় কি?
হ্যাঁ, লোকাল এফ-কমার্স ব্যবসা করা যায় এবং এটি খুবই সহজ, কারণ আপনি যদি কোন জেলা, বিভাগ টার্গেট করেন। তবে, দেখতে হবে স্থানীয় মানুষ এর মধ্যে কি আপনার পন্যের চাহিদা রয়েছে কিনা। যদি থাকে তাহলে বিভিন্ন ভাবে পন্যের প্রচার করুন এবং নিজেই একজন ডেলিভারি ম্যান হয়ে যান। কাস্টমার পন্য অডার করলে বলুন সাতদিন সময় লাগবে এবং বেশি কিছু অডার একসাথে নিয়ে ডেলিভারি দেওয়া।
৫. এফ-কমার্স ব্যবসায় কাস্টমার কারা?
এফ-কমার্স ব্যবসায় কাস্টমার হল ফেসবুক এর মিলিয়ন মিলিয়ন ট্রাফিক, ভিজিটর বা ইউজার। আপনাকে পন্য ও সার্ভিস এর প্রচার প্রচারণা এমন ভাবে করতে হবে, যাতে ফেসবুক এর মিলিয়ন মিলিয়ন ট্রাফিক, ভিজিটর বা ইউজার কনভার্ট হয়ে আপনার পন্য ও সার্ভিস কিনে। অর্থাৎ, আপনাকে ফেসবুক ইউজার কে কাস্টমার এ পরিণত করতে হবে।
৬. ফেসবুকে কোন ধরনের প্রচার বেশি কাস্টমার এনে দেয়।
ফেসবুকে ভিডিও এডস বা পন্যের ভিডিও প্রচার করলে বেশি কাস্টমার আসে। প্রথমে আপনি আপনার পন্যের ভিডিও করুন এবং সুন্দর ভয়েস কভার দিন, এরপর সেই ভিডিও রিলস এ পাবলিশ করুন এবং ফেসবুক এর মার্কেট প্লেস ও পাবলিশ করতে পারেন অথবা Meta ads Run করতে পারেন, যা আপনাকে অনেক কাস্টমার এনে দিতে সক্ষম।
৭. কতগুলো পন্য নিয়ে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করা যায়?
ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার জন্য কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ পন্য লাগে না, আপনি চাইলেই এক থেকে দুইটি পন্য নিয়ে ও ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অবার কয়েকশো পন্য নিয়ে ও ব্যবসা করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কতটুকু কনফিডেন্ট এবং আপনার মার্কেটিং কতটুকু শক্তিশালী। অর্থাৎ, মার্কেটিং দূর্বল হলে দিনে কয়েকটি পন্য সেল করা যায়, আবার মার্কেটিং শক্তিশালী হলে দিনে কয়েকশো পন্য সেল করা যায়।
৮. ফেসবুকে কোন জিনিস, কাস্টমার কে বেশি পন্য বা সার্ভিস ক্রয় করাতে বাধ্য করে
ফেসবুকে আপনার নিজের উপস্থিতি কাস্টমার কে পন্য ক্রয় করতে আগ্ৰহী করে। অর্থাৎ, নিজেকে লুকিয়ে নয়, বরং ফেসবুক এ আপনার শারীরিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক এবং এতে করে কাস্টমার এর বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং নতুন ও পুরাতন ফেসবুক ইউজার কাস্টমার এ পরিণত হয়।
_20260211_092104_0000.png)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url