রাজা ও ভূতের গল্প | সাহসী রাজা বিজয়সিংহের রহস্যময় কাহিনী

রাজা ও ভুতের গল্প | ভৌতিক গল্প

অনেক দিন আগের কথা। সেই সময় গ্রামে ভূত-প্রেত ও আত্মার গল্প খুবই প্রচলিত ছিল। মানুষ এসব ঘটনাকে অবিশ্বাস্য কিছু মনে করত না, বরং স্বাভাবিক বলেই ভাবত। আজ আমি আপনাদের এমনই একটি ভূতের গল্প বলবো।
রাজা ও ভূতের দৃশ্য এবং প্রাসাদ সহ

অনেক অনেক দিন আগে বাংলার এক পুরোনো রাজ্যে এক শক্তিশালী রাজা ছিলেন। তাঁর নাম ছিল রাজা বিজয়সিংহ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং বুদ্ধিমান। ভূত-প্রেতের গল্প তিনি একদমই বিশ্বাস করতেন না।

এক উজ্জ্বল সকালে রাজা বিজয়সিংহ রাজসভায় বসে রাজ্যের কাজের পরিকল্পনা করছিলেন। হঠাৎ একজন প্রজা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলল—

“মহারাজ! মহারাজ! আমাকে বাঁচান! আমার ধন-সম্পদ রক্ষা করুন!”

রাজা শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“শান্ত হও। আমি থাকতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। কী হয়েছে, সব খুলে বলো।”

প্রজাটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“মহারাজ, গত রাতে আমি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। রাজ্যের পূর্ব পাশে যে পুরোনো পরিত্যক্ত প্রাসাদটি আছে, সেখানে হঠাৎ এক অদ্ভুত গায়েবী আওয়াজ শুনতে পাই। আওয়াজটি বলল— ‘এই সুরেশ! এখানে আয়। ধন-সম্পদ বের করো এবং সব গরিব-দুঃখী মানুষদের দিয়ে দাও।’ কিন্তু মহারাজ, আমি তো গরিব মানুষ। আমার কাছে কোনো ধন-সম্পদ নেই!”

রাজা কিছুক্ষণ চিন্তা করে সেনাপতিকে বললেন,
“আজ রাতেই সেখানে গিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখো।”

সেনাপতি ভয়ে বলল,
“মহারাজ, আমার কাজ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কিন্তু ভূতকে কীভাবে সামলাবো?”

রাজা রেগে বললেন,
“ঠিক আছে, আমিই যাবো সেই পুরোনো প্রাসাদে। দেখি তো কে আছে সেখানে!”

পরদিন রাজসভায় রাজা ঘোষণা করলেন,
“আজ রাতে আমি সেই প্রাসাদে যাবো। দেখি তো ভূত আমার কী করতে পারে!”

মন্ত্রী ভয়ে বললেন,
“মহারাজ, সেখানে যাওয়া বিপজ্জনক। আপনার কিছু হয়ে গেলে রাজ্যের কী হবে?”

রাজা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“চুপ! আমি কোনো ভূতকে ভয় পাই না।”

সন্ধ্যা নামতেই রাজা হাতে মশাল ও তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে একাই সেই পরিত্যক্ত প্রাসাদের দিকে রওনা দিলেন। চারদিকে ঘন অন্ধকার, ভাঙা দেয়াল আর বাদুড়ের ডাক। হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল। মশালের আলো কাঁপতে শুরু করল।

ঠিক তখনই উপরের দিক থেকে গম্ভীর আওয়াজ ভেসে এলো—

“কে এসেছে আমার প্রাসাদে?”

রাজা সাহসের সঙ্গে বললেন,
“আমি এই রাজ্যের রাজা বিজয়সিংহ! সামনে এসো! কেন আমার প্রজাদের ভয় দেখাচ্ছো?”

হঠাৎ ধোঁয়ার ভেতর থেকে এক লম্বা সাদা ছায়া বেরিয়ে এলো। তার চোখ দুটো লাল আগুনের মতো জ্বলছিল।

ভূতটি বলল,
“অনেক বছর আগে আমি ছিলাম এই প্রাসাদের রক্ষক। কিছু লোভী মানুষ ধন-সম্পদের লোভে আমাকে হত্যা করেছিল। তারপর থেকেই আমি এই প্রাসাদ পাহারা দিচ্ছি। যেনো ধন সম্পদ ভূল মানুষ এর কাছে না চলে যায়। 

অনেক কথা হল -

রাজা বুঝলেন, ভূতটি আসলে কষ্টে আছে এবং রক্ষক হিসেবে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমার মুক্তির উপায় কী?”

ভূতটি বলল,
“প্রাসাদের নিচে লুকিয়ে রাখা ধন-সম্পদ গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলে আমি মুক্তি পাব।”

পরদিন সকালে রাজা সৈন্যদের নিয়ে এসে প্রাসাদের নিচে খনন করালেন। সত্যিই সেখানে বিপুল সোনার ধন পাওয়া গেল। রাজা সব ধন গরিব ও অসহায় মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন।

সেই রাতেই আকাশে এক উজ্জ্বল আলো দেখা গেল। তারপর ভেসে এলো এক শান্ত কণ্ঠ—

“ধন্যবাদ মহারাজ। আপনি আমাকে মুক্তি দিয়েছেন।”

তারপর থেকে সেই প্রাসাদে আর কখনও কোনো ভূত দেখা যায়নি। আর রাজা বিজয়সিংহের সাহস ও দয়ার গল্প সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল।

আরো গল্প পড়ুন,



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url