খাবার লোভী ইঁদুরের গল্প - পেটুক ইঁদুরের গল্প
অতিরিক্ত লোভ কীভাবে একটি চালাক ইঁদুরের জীবন শেষ করল
গ্রামবাংলার লোককাহিনিতে ইঁদুরকে প্রায়ই চতুর ও ধূর্ত প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু অতিরিক্ত লোভ এবং আরামের প্রতি আসক্তি কখনো কখনো সবচেয়ে চালাক প্রাণীকেও বিপদে ফেলে দিতে পারে। "খাবার প্রিয় ইঁদুরের গল্প" এমনই একটি শিক্ষামূলক গল্প, যেখানে একটি পেটুক ইঁদুর নিজের লোভের কারণে এমন ভুল করে বসে, যার পরিণতি হয় অত্যন্ত করুণ।
গল্পটি আমাদের সংযম, দূরদর্শিতা এবং লোভের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আসুন গল্পটি পড়ি।
খাবার লোভী ইঁদুরের গল্প
একটি ছোট্ট গ্ৰামের একটি ছোট্ট কুড়ে ঘরে এক ইঁদুর বসবাস করত। ইঁদুরটি ছিল বেশ মোট এবং বড়। যখনই তার ক্ষুধা লাগত, তখনই বিভিন্ন খাবার জিনিস খেত।
কুড়ে ঘরটিতে ইঁদুর এভাবেই বাড়িথ বিভিন্ন খাবার দাবার খেয়ে বসবাস করত। ইঁদুরটি এতোটাই ধূর্ত ছিল যে, বাড়ির মালিক কখনো ইঁদুরটি ধরতে পারত না। যদিও বাড়ির মালিক পেটুক ইঁদুরটিকে মারার অনেক পরিকল্পনা করে ছিল। কিন্তু চালাক ও মোটা ইঁদুর কিছুতেই মালিকের ফাঁদা ফাঁদে পা দিত না।
বাড়ির মালিকের নানান রকমের খাবার খেতে নেওয়াই ইঁদুরের প্রতি খুবই রাগ ছিল বাড়ির মালিকের। এভাবেই কেটে গেল বেশ কিছুদিন।
একদিন বাড়ির মালিক চালের বস্তা থেকে কিছু পরিমাণ চাল নিয়ে একটি বয়ামে ভরে দিল, যেনো বিপদের সময় সেখানে থেকে চাল নিয়ে কিছু দিন অতিবাহিত করা যায়। ইঁদুরের থেকে চাল কে রক্ষা করতে মালিক বয়ামটি একটি সুরক্ষিত জায়গায় রেখে দেয়।
কিন্তু, মালিক একটি ছোট্ট ভূল করে দেয়, বয়ামে চাল ঢুকানোর পর বয়ামের ছিপি লাগাতে ভূলে যায়।
রাতে যখন বাড়ির মালিক ঘুমাতে যায়, তখন ইঁদুরটি বয়ামে ভর্তি চাল দেখতে পায়। সে লোভ সামলাতে পারে না। তাই, দ্রুত পেটুক ইঁদুর বড় বয়ামের ভিতর ঢুকে যায়।
প্রথম প্রথম ইঁদুরটির আগে ভালো লাগে, কারণ তার কাছে আছে বয়াম ভর্তি চাল, যা সে যখন ইচ্ছা খেতে পারে। তাই, ইঁদুরটি খুব আরামে বসে বসে চাল খেতে থাকে এবং সে এভাবে এতোটাই লোভ হয় যে, সে বয়ামের ভেতর থেকে বের হতে চায় না।
এভাবে একদিন চলে গেল। পেটুক ইঁদুর শুধু খায় আর ঘুমায়। আসতে আসতে চালের পরিমাণ কমতে লাগল এবং ইঁদুর বয়ামের ভিতর আরো ঢুকে যেতে লাগল। যদিও সে চাইলেই এখনি একলাফে বাইরে বের হতে পারে। কিন্তু, খাবারের প্রতি লোভ, আরাম, আয়েস, তাকে বয়াম থেকে বের হতে দিল না।
এভাবে চলে গেল আরো তিন থেকে চারদিন। আরামে বসে খেতে খেতে পেটুক ইঁদুর একটু মোটা এবং ভারী হয়ে গেল। এখন চাইলেই সে বয়ামের ভিতর থেকে বের হতে পারবেন না। কিন্তু বোকা ইঁদুর তবুও কিছুই বুঝতে পারল না। সে শুধু চাল খায় আর ঘুমায়, চাল খায় আর ঘুমায়।
এভাবে ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে বয়ামের ভিতরের সব চাল শেষ হয়ে গেল।
একদিন ইঁদুর বয়ামের ভিতর থেকে বের হতে চেষ্টা করল। কিন্তু তার ভারী এবং মোটা শরীর এর কারণে সে লাফ দেওয়ার মত ক্ষমতা টুকু হারিয়ে ফেলেছে।
এভাবেই প্রতিনিয়ত ইঁদুর বয়াম থেকে বের হতে চেষ্টা করল কিন্তু দুঃখের বিষয় সে সেখান থেকে বের হতে পারল না। অনেক বার চেষ্টা করার ফলে ইঁদুরটি ক্লান্ত হয়ে চেষ্টা করা ছেড়ে দিল এবং সে বসে পড়ল।
আর শেষ পর্যন্ত ইঁদুরের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হল এবং সে কয়েকদিনের মধ্যেই মারা গেল।
হঠাৎ, একদিন বাড়ির মালিক তার ঘরে প্রবেশ করার পর গন্ধ অনুভব করল এবং সেই ঘরে রাখা বয়ামের কাছে গিয়ে দেখল একটি ইঁদুর বয়ামের ভিতর মরে পড়ে আছে।
বাড়ির মালিক ইঁদুরটি কে বয়ামের ভিতর থেকে বের করে দূরে একটা পরিত্যক্ত মাটিতে পুঁতে দিল এবং এখানে লোভী, বোকা, পেটুক, পেট মোটা ইঁদুরের জীবন কাহিনী শেষ হল।
গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)
অতিরিক্ত লোভ মানুষের বা প্রাণীর সর্বনাশ ডেকে আনে। তাই লোভ ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং অল্প পেয়ে সন্তুষ্টি থাকা উচিত এবং সময় থাকতে বিপদ বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, আরাম-আয়েশে ডুবে থাকলে ভবিষ্যতের ক্ষতি হতে পারে। তাই, আরাম আয়েস ত্যাগ করুন, বেশি পরিশ্রম করুন। এক জায়গায়, এক কাজে বেশি সময় নষ্ট করবেন না।
মনে রাখুন, সংযম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ সফল জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি। নিজের চাহিদা কে এতোটাই প্রাধান্য দিবে না, যার ফল হয় ভয়াবহ এবং পরিণতি হয় মৃত্যু।
ইঁদুরের গল্প থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, অতিরিক্ত লোভ সর্বনাশ ডেকে আনে। অতিরিক্ত লোভ এবং খাবার লোভী হওয়া ভালো নয়।
পেটুক ইঁদুরের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. ইঁদুরটি কোথায় বাস করত?
উত্তর: একটি ছোট্ট গ্রামের কুড়ে ঘরে বাস করত।
২. ইঁদুরটির স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর: ইঁদুরটি ছিল খুব লোভী ও পেটুক।
৩. বাড়ির মালিক কেন ইঁদুরের উপর রাগ করত?
উত্তর: কারণ ইঁদুরটি বাড়ির বিভিন্ন খাবার খেয়ে ফেলত।
৪. মালিক চাল কোথায় রেখেছিল?
উত্তর: একটি বড় বয়ামের মধ্যে রেখেছিল।
৫. মালিক কী ভুল করেছিলেন?
উত্তর: বয়ামের ঢাকনা লাগাতে ভুলে গিয়েছিলেন।
৬. ইঁদুরটি বয়ামের ভিতরে কেন ঢুকেছিল?
উত্তর: অনেক চাল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ঢুকেছিল।
৭. ইঁদুরটি বয়ামের ভিতরে কী করত?
উত্তর: সারাদিন চাল খেত এবং ঘুমাত।
৮. ইঁদুরটি কেন বয়াম থেকে বের হতে পারল না?
উত্তর: অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে সে খুব মোটা ও ভারী হয়ে গিয়েছিল।
৯. বয়ামের সব চাল শেষ হতে কতদিন লেগেছিল?
উত্তর: প্রায় ছয় থেকে সাত দিন লেগেছিল।
১০. গল্পের শেষে ইঁদুরটির কী হয়েছিল?
উত্তর: বয়াম থেকে বের হতে না পেরে কয়েকদিন পরে মারা গিয়েছিল।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url