বন্যার পানি যখন আশির্বাদ: কি পেল?

বন্যার পানিতে পেল টাকার বস্তা 

বন্যা সাধারণত মানুষের জীবনে ক্ষতি ও দুর্ভোগ নিয়ে আসে। কিন্তু কখনো কখনো বড় বিপদের মাঝেও লুকিয়ে থাকে অপ্রত্যাশিত আশীর্বাদ। 

বন্যার পানি যখন আশির্বাদ: বস্তা ভর্তি টাকা

"বন্যার পানি যখন আশীর্বাদ" গল্পে জানা যাবে, কীভাবে বন্যায় সব হারানো একটি পরিবার নদীর পানিতে ভেসে আসা একটি রহস্যময় বস্তার মাধ্যমে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পায়। চলুন গল্লটি পড়ি। 

বন্যার পানি যখন আশির্বাদ

গতকাল মুহুরপুর গ্ৰামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে আগাম বন্যার পানি। সেই পানিতে ঘর-বাড়ি, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সব কিছুকেই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এই সর্বনাশা বন্যা মূহুর্তের মধ্যেই গ্ৰামের সকল ঘরবাড়ি সহ সকল জিনিস ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। 

মাঠের ফসল এখন পানির নিচে। সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের চারা, সবজি খেত, পাট খেত সহ সকল মাঠের কাঁচাপাকা ফসল সব এখন পানির নিচে।‌ 

মাথায় এখন ভবিষ্যতের চিন্তা, কি করব, কি খেয়ে বাঁচব, কিভাবে বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করব। 

এই সকল কিছু চিন্তা করছিল, রাজিব, আমেনা, এবং ফিরোজ। রাজিব ও আমেনা হল ফিরোজ এর মা আর বাবা। 

ফিরোজ বলল মা আমরা আমাদের বাড়ি কে নতুন করে উঁচু এলাকায় তৈরি করতে হবে, যেনো বন্যার পানি কোন ক্ষতি করতে না পারে। 

মা বলল, ঠিক বলেছিস বাবা বাড়িটিকে ভালো উঁচু এবং বন্যার ভয় নেই এমন স্থানে তৈরি করতে হবে। 

রাজিব বলল, রাখো তোমার মা-ছেলের অপ্রাসঙ্গিক সব কথা।‌ এখন ভাবো কীভাবে আমরা দুইবেলা ভাত খাবো। কারণ, আমাদের সব নিয়ে গেছে বন্যার পানি।‌ শুধু, আঁকড়ে ধরে আছি এই ছোট্ট বটগাছ। আমাদের টাকা পয়সা ও নেই যে, আমরা অন্য কোথাও গিয়ে বাড়ি ঘর তৈরি করব। নতুন করে জীবন শুরু করব। 

ফিরোজের বাবা রাজিব আরো বলল, চলো আমরা তিনজনে মিলে বাড়ির চালটি নদীর তীরে উঠানোর চেষ্টা করি। যখন নদীর পানি আরো নেমে যাবে, তখন আমরা বাড়ির কাজ শুরু করতে পারব। 

বাড়ির তিনজন সদস্য পানিতে নেমে টিনের চাল উঠানোর চেষ্টা করছে। এমন সময় ফিরোজের পায়ে একটি বড় বস্তা বাঁধল এবং সে ভয় পেয়ে গেল। 

ফিরোজ বলল, বাবা বস্তায় মনে লাশ এবং এক লাফে ফিরোজ তার বাবার কোলে উঠে বসলো। 😆😆😆😆

এরপর, তাঁর বাবা বলল, কি বলো ফালতু কথাবার্তা। বস্তায় লাশ থাকবে কোন দুঃখে। শুধু শুধুই তুমি ভয় পাও। তোমাকে না বলছি মোবাইলে হরর মুভি দেখবে না। চলো গিয়ে দেখি বস্তায় কি আছে? 

আমেনা, রাজিব, ফিরোজ তিনজন মিলে শক্ত করে বাঁধা বস্তার মুখ খোলার চেষ্টা করছে।‌

ফিরোজের বাবা বলল, কোথায় লাশ? বস্তায় যদি লাশ থাকত। তাহলে তো গন্ধ অনুভব করতাম। কোথায় গন্ধ?

এরপর, রাজিব বস্তার মুখ খুললো এবং দেখে বস্তার মুখ আবার বন্ধ করে দিল এবং ফিরোজ এবং আমেনার দিকে বিস্ময় চোখে তাকিয়ে রইল। 

কোনো কথা বলছে না ফিরোজের বাবা। 

ফিরোজের মা বলল, আপনার কি হয়েছে। বস্তার মুখ খুলে আবার বন্ধ করে দিলেন কেন? 

এবার ফিরোজের মা আমেনা বস্তার মুখ খুলেই জ্ঞান হারালেন।‌ 

নদীর পানিতে রাজিব আমেনার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছে। রাজিব ফিরোজের মার মুখে নদীর পানি ছিটালেন এবং কিছুক্ষণ পর আমেনার জ্ঞান ফিরে এলো এবং তিনি হাসতে লাগলেন। 

আমেনা ও রাজিব বস্তা ধরে হাসতে লাগলেন এবং বললেন আমরা বড়লোক হয়ে গেছি, আমরা বড়লোক হয়ে গেছি। 

ফিরোজ বলল, মা, বাবা তোমরা এগুলো কি বলছো। আমি তো কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। 

তখন ফিরোজ কে কাছে ডেকে চুপিচুপি তার মা তাঁকে বললেন, তোমার পায়ে যে বস্তাটি বেঁধে ছিল এবং ভয় পেয়ে বলেছিলে না বস্তায় লাশ আছে। 

আসলে সেই বস্তায় লাশ নয়। বরং, এক বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এই কথা কাউকে বলবে না। ঠিক আছে।

ফিরোজ, রাজিব, আমেনা সবাই নদী থেকে চাল তোলা বাদ দিয়ে পড়ে পাওয়া নিয়ে একটি নতুন বাড়ি তৈরি করলেন এবং নতুন করে জীবন শুরু করলেন। 

গল্পের শিক্ষা (Moral of the story) 

সকল বিপদাপদ সব সময় অমঙ্গল বয়ে আনে না। কোন কোন সময় সাময়িক বিপদ বড় মঙ্গল নিয়ে আনে। 

এছাড়াও, কোনো জিনিস কে দেখে ভয় না পেয়ে অনুসন্ধান করা উচিত। কারণ, অনুসন্ধান করলেই ভালো খারাপ ভেদাভেদ করা যায় এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। 

গল্ল থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি, 

১. ভয় না পেয়ে পরীক্ষা করা উচিত। 

২. বিপদাপদ অমঙ্গল নয়, কখনো কখনো মঙ্গল বয়ে আনে। 

বন্যার পানি যখন আশির্বাদ গল্প থেকে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১০টি সাধারণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর 

১. গল্পের নাম কী?

উত্তর: বন্যার পানি যখন আশীর্বাদ।

২. গল্পের প্রধান চরিত্র কারা?

উত্তর: রাজিব, আমেনা ও ফিরোজ।

৩. বন্যায় কী ক্ষতি হয়েছিল?

উত্তর: ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশু ভেসে যায়।

৪. ফিরোজ প্রথমে বস্তাটিকে কী ভেবেছিল?

উত্তর: একটি লাশ।

৫. বস্তাটি কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: নদীর পানিতে।

৬. বস্তার ভেতরে কী ছিল?

উত্তর: এক বস্তা টাকা।

৭. টাকা পেয়ে পরিবারটি কী করল?

উত্তর: নতুন বাড়ি তৈরি করে নতুন জীবন শুরু করল।

৮. গল্পের প্রধান শিক্ষা কী?

উত্তর: বিপদ কখনো কখনো আশীর্বাদ বয়ে আনে।

৯. আরেকটি শিক্ষা কী?

উত্তর: না দেখে ভয় পাওয়া উচিত নয়।

১০. ফিরোজ কে?

উত্তর: আমেনা ও রাজিব এর একমাত্র ছেলে।

আরো গল্প পড়ুন,

১. বন্যায় সুনামগঞ্জে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং পুনরায় ফসল চাষ।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url