বামুন ও মেয়ে ইঁদুর এর গল্প
জাত দেখে পাত ঠিক করতে হয়, শেষে ইঁদুর সাথে ইঁদুরের বিয়ে
মানুষের জীবনে শক্তি, মর্যাদা ও অবস্থানের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু শুধুমাত্র বাহ্যিক পরিবর্তন একজনের প্রকৃত স্বভাবকে বদলে দিতে পারে না। প্রকৃতি ও স্বভাবের সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই শিক্ষণীয় গল্পে এক দয়ালু ও শক্তিশালী তপস্বী বামুন একটি অসহায় ইঁদুরছানার প্রাণ রক্ষা করেন এবং মন্ত্রবলে তাকে মানুষের মেয়েতে পরিণত করে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরে মেয়েটির বিয়ের সময় তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পাত্র খুঁজতে বের হন। কিন্তু একের পর এক শক্তিশালীর সন্ধান করতে গিয়ে তিনি এমন একটি সত্য উপলব্ধি করেন, যা আমাদের জীবনেও গভীর শিক্ষা দেয়।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক বামুন ও ইঁদুরের এই চমৎকার নীতিগল্পটি।
বামুন ও ইঁদুর এর গল্প
এক বনে এক তপস্বী বামুন থাকতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর মন্ত্রবলে তিনি বিভিন্ন অসাধ্য কাজ খুব সহজেই করতে পারতেন।
একদিন তিনি নদীতে স্নান করতে যাওয়ার সময় দেখলেন, একটি শকুন একটি ছোট্ট ইঁদুরছানাকে ঠোঁটে করে নিয়ে যাচ্ছে। বামুনের মনে হলো, ইঁদুরছানাটিকে বাঁচানো উচিত।
বামুনের দয়া হলো। তিনি মন্ত্র পড়ে শকুনের মুখ থেকে ইঁদুরছানাটিকে উদ্ধার করলেন। ইঁদুরছানাটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল এবং সে ছিল একটি মেয়ে।
তিনি মন্ত্র পড়ে ইঁদুরছানাটিকে একটি মানুষের মেয়েতে পরিণত করলেন। এরপর তাকে নিজের আশ্রমে নিয়ে গিয়ে নিজের মেয়ের মতো আদর-যত্ন করে বড় করতে লাগলেন। তিনি প্রতিদিন তাকে খাবার দিতেন, যত্ন নিতেন এবং তার দেখাশোনা করতেন।
ইঁদুর-মেয়েটি বড় হয়ে যখন বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছাল, তখন বামুন ভাবলেন, “ওকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাত্রের সঙ্গেই বিয়ে দেব।” তাই তিনি বিভিন্ন ধরনের পাত্র খুঁজতে শুরু করলেন।
প্রথমে তিনি সূর্যকে ডেকে বললেন, “তুমিই সবচেয়ে শক্তিশালী। তুমি আমাদের পৃথিবীকে গরম রাখো এবং বাসযোগ্য করে তুলেছ। আমার মেয়েকে তুমি বিয়ে করো।”
সূর্য বলল, “আমার চেয়ে মেঘ বেশি শক্তিশালী। সে তার শক্তি দিয়ে আমাকে ঢেকে দিতে পারে।”
তখন বামুন মেঘকে ডেকে বললেন, “মেঘ, তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করো। তুমি বৃষ্টি দিয়ে পৃথিবীকে সবুজ ও সজীব রাখো।”
মেঘ বলল, “আমার চেয়ে বাতাস বেশি শক্তিশালী। সে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।”
এরপর বামুন বাতাসকে ডেকে বললেন, “তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করো। তুমি তোমার শীতল বাতাস দিয়ে আমাদের দেহ ঠান্ডা রাখো।”
বাতাস বলল, “আমার চেয়ে পাহাড় বেশি শক্তিশালী। আমি তাকে নাড়াতেও পারি না।”
তখন বামুন পাহাড়কে ডেকে বললেন, “তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করো। তুমি পৃথিবীকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছ।”
পাহাড় বলল, “আমার চেয়ে ইঁদুর বেশি শক্তিশালী। সে আমার গায়ে গর্ত করে বাসা বানায়।”
এই কথা শুনে বামুন অবাক হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, ইঁদুর-মেয়েটির বিয়ে একটি শক্তিশালী ইঁদুরের সঙ্গেই হওয়া উচিত।
তখন তিনি অনেক ইঁদুর-পাত্রকে ডেকে আনলেন। তাদের মধ্যে একজন সুদর্শন ও শক্তিশালী ইঁদুরকে দেখেই তাঁর পালিত ইঁদুর-মেয়েটির খুব পছন্দ হলো।
বামুন তখন মন্ত্র পড়ে মেয়েটিকে আবার ইঁদুরে পরিণত করলেন এবং সেই ইঁদুরের সঙ্গেই তার বিয়ে দিলেন।
গল্পের শিক্ষা
ভাগ্য বদলায় কর্মে, কিন্তু স্বভাব সহজে বদলায় না। মানুষ বা প্রাণী যে যেমন স্বভাবের, সে তেমন পরিবেশ ও সঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। নিজের স্বভাব, যোগ্যতা ও প্রকৃত পরিচয় অনুযায়ী চলাই উত্তম। জোর করে অন্য কিছু হতে গেলে শেষ পর্যন্ত নিজের আসল অবস্থানেই ফিরে আসতে হয়।
বামুন ও ইঁদুরের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. বামুন কোথায় থাকতেন?
উত্তর: একটি বনের আশ্রমে।
২. বামুন কাকে শকুনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন?
উত্তর: একটি ইঁদুরছানাকে।
৩. ইঁদুরছানাটি কী ছিল?
উত্তর: একটি মেয়ে ইঁদুর।
৪. বামুন ইঁদুরছানাটিকে কী বানিয়েছিলেন?
উত্তর: মানুষের মেয়েতে পরিণত করেছিলেন।
৫. বামুন মেয়েটিকে কীভাবে বড় করেছিলেন?
উত্তর: নিজের মেয়ের মতো আদর-যত্ন করে।
৬. প্রথমে বামুন কাকে পাত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন?
উত্তর: সূর্যকে।
৭. সূর্য নিজের চেয়ে কাকে বেশি শক্তিশালী বলেছিল?
উত্তর: মেঘকে।
৮. বাতাস নিজের চেয়ে কাকে বেশি শক্তিশালী বলেছিল?
উত্তর: পাহাড়কে।
৯. পাহাড় নিজের চেয়ে কাকে বেশি শক্তিশালী বলেছিল?
উত্তর: ইঁদুরকে।
১০. শেষ পর্যন্ত মেয়েটির বিয়ে কার সঙ্গে হয়েছিল?
উত্তর: একটি শক্তিশালী ইঁদুরের সঙ্গে।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url