কুমির ও বানরের গল্প – বোকা কুমিরের গল্প
কমির এবং বানরের মধ্যে ঘটা লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা ও বুদ্ধিমত্তার এক শিক্ষণীয় গল্প
অনেক দিন আগে এক সবুজ-শ্যামল বনের নদীর ধারে একটি জামগাছে বাস করত এক বুদ্ধিমান বানর। সেই নদীতেই থাকত এক কুমির ও তার স্ত্রী। মিষ্টি জাম খেতে খেতে একসময় বানর ও কুমিরের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব।
কিন্তু লোভ মানুষের যেমন সর্বনাশ ডেকে আনে, তেমনি প্রাণীদের জীবনেও বিপদ সৃষ্টি করে। কুমিরের স্ত্রীর লোভের কারণে একদিন সেই বন্ধুত্ব কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে। এরপর কী ঘটেছিল? কীভাবে বুদ্ধিমান বানর নিজের প্রাণ রক্ষা করেছিল? জানতে পড়ুন এই মজার ও শিক্ষণীয় গল্প।
কুমির ও বানরের গল্প
একটি বিশাল বড় বন ছিল। সেখানে গাছপালা, নদীনালা এবং নানা ধরনের পশুপাখি ছিল। তারা সবাই সেখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করত।
সেই বনের একটি নদীর ধারে একটি জামগাছে এক বানর থাকত। জামগাছটি ছিল মিষ্টি জামে ভরা। সব জাম কালো হয়ে টসটসে ও রসালোভাবে পেকে ছিল। বানরটি প্রতিদিন গাছে উঠে জাম খেত। সে রোজ পেট ভরে মিষ্টি জাম খেত।
সেই নদীতে দুটি কুমির থাকত—একটি পুরুষ কুমির এবং একটি স্ত্রী কুমির। পুরুষ কুমিরটি প্রতিদিন বানরকে দেখত এবং মিষ্টি জাম খাওয়ার ইচ্ছা করত।
একদিন কুমিরটি বানরের কাছে জাম খেতে চাইল। বানরের দয়া হলো, তাই সে কুমিরকে কিছু জাম ছুড়ে দিল। জাম খেয়ে কুমিরের খুব ভালো লাগল। এরপর থেকে বানর তাকে প্রতিদিন জাম দিতে লাগল। একসময় দুজনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
কুমির প্রতিদিন কিছু জাম বাড়িতে নিয়ে তার স্ত্রীকে দিত। কুমিরের স্ত্রী জাম খেয়ে ভাবল, “যে বানর রোজ এত মিষ্টি জাম খায়, তার কলিজাটা না জানি কত মিষ্টি হবে!”
লোভী কুমিরের স্ত্রী তার স্বামীর কাছে বায়না ধরল, “আমি বানরের কলিজা খাব। ওকে ডেকে নিয়ে এসো।”
কুমির প্রথমে রাজি হলো না। সে বলল, “আরে, পাগল হয়ে গেছ! বানর আর আমি খুব ভালো বন্ধু। সে আমাকে প্রতিদিন জাম খেতে দেয়।”
কিন্তু স্ত্রীর জেদের কাছে পুরুষ কুমিরটি হার মানল। পরদিন সে বানরকে বলল, “বন্ধু, আমার স্ত্রী তোমাকে দাওয়াত দিয়েছে। আমার পিঠে চড়ে আমাদের বাড়ি চলো। আমরা তোমাকে কিছু খাওয়াতে চাই।”
সরলমনা বানর বন্ধুর কথায় বিশ্বাস করে কুমিরের পিঠে উঠে বসল। নদীর মাঝখানে গিয়ে কুমির আসল কথা বলল, “বন্ধু, আমাদের মধ্যে অনেক গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রীর ইচ্ছা হলো সে তোমার কলিজা খেতে চায়। তাই তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি। তোমার কলিজা নেওয়ার পর আমরা তোমাকে ছেড়ে দেব।”
বানর ভয়ে অস্থির হয়ে গেল। কিন্তু সে কুমিরের চালাকি বুঝতে পারল এবং বুদ্ধি করে হাসতে হাসতে বলল, “এই কথা আগে বললে না কেন? আমার কলিজাটা তো আমি জামগাছের ডালে রেখে এসেছি। চলো, গাছ থেকে আমার কলিজাটা নিয়ে আসি।”
বোকা কুমির বানরের কথায় বিশ্বাস করে আবার তাকে জামগাছের নিচে নদীর পাড়ে নিয়ে এল।
নদীর পাড়ে পৌঁছেই বানর এক লাফে গাছের মগডালে উঠে গেল। তারপর কুমিরকে বলল, “ওরে বোকা কুমির! কেউ কি কখনো কলিজা খুলে রেখে ঘোরে? তুই বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখলি না। যেমন লোভী তোমার স্ত্রী, তেমনই বোকা তুমি। আর কোনোদিন আমার কাছে আসবে না।”
কুমির নিজের বোকামির জন্য মাথা চাপড়াতে চাপড়াতে পানিতে ফিরে গেল।
গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)
বিপদের সময় বুদ্ধি ও ধৈর্য হারালে চলবে না। বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় শক্তির চেয়েও বেশি কার্যকর। লোভ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। যেমন কুমির লোভ করে বানর এর কলিজা খেতে গেল এবং বন্ধুত্ব নষ্ট করল। মনে রাখা উচিত, সত্যিকারের বন্ধুত্বে বিশ্বাসঘাতকতার স্থান নেই এবং অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা শেষ পর্যন্ত নিজের ক্ষতির কারণ হয়।
কুমির ও বানরের গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. বানর কোথায় থাকত?
উত্তর: নদীর ধারের একটি জামগাছে থাকত।
২. জামগাছটি কিসে ভরা ছিল?
উত্তর: মিষ্টি ও রসালো জামে ভরা ছিল।
৩. নদীতে কয়টি কুমির ছিল?
উত্তর: দুটি কুমির ছিল।
৪. কুমির ও বানরের মধ্যে কী হয়েছিল?
উত্তর: তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছিল।
৫. কুমির প্রতিদিন বাড়িতে কী নিয়ে যেত?
উত্তর: জাম নিয়ে যেত।
৬. কুমিরের স্ত্রী কী খেতে চেয়েছিল?
উত্তর: বানরের কলিজা খেতে চেয়েছিল।
৭. কুমির বানরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল?
উত্তর: নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল।
৮. নদীর মাঝখানে কুমির কী সত্য কথা বলেছিল?
উত্তর: তার স্ত্রী বানরের কলিজা খেতে চায়।
৯. বানর কী বুদ্ধি করেছিল?
উত্তর: বলেছিল যে তার কলিজা জামগাছের ডালে রাখা আছে।
১০. গল্পের শেষে কুমিরের কী হলো?
উত্তর: নিজের বোকামির জন্য অনুতপ্ত হয়ে পানিতে ফিরে গেল।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url