অভাবের সংসারে দুই ছেলের গল্প

ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি

জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে শুধু পরিশ্রম করলেই হয় না, তার সঙ্গে প্রয়োজন ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল বিশ্বাস। অনেক সময় মানুষ তাৎক্ষণিক ফলাফল না দেখে হতাশ হয়ে পড়ে এবং অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় না, তারাই একদিন সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়।

অভাবের সংসারে দুই ছেলের গল্প

এই গল্পটি এমনই এক পরিবারের, যেখানে অভাব-অনটনের মাঝেও এক তরুণ নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গেছে। পরিবারের অবহেলা, কষ্ট এবং নানা বাধা সত্ত্বেও সে হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত তার ধৈর্য ও অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয় এবং বদলে দেয় পুরো পরিবারের ভাগ্য।

অভাবের সংসারে দুই ছেলের গল্প

লেখক: মোঃ সামিউল আলী

কোনো এক ছোট্ট সবুজে ভরা গ্রামে এক দম্পতির দুইজন ছেলে ছিল। তাদের পরিবারে মোট চারজন সদস্য ছিল। তাদের বেশ কষ্টে জীবন অতিবাহিত করতে হতো।

তাদের মধ্যে উপার্জনে সক্ষম ছিলেন শুধু তাদের বাবা। বড় ছেলে অনলাইনে কাজ করত এবং ছোট ছেলে বিভিন্ন কাজ করে কোনো রকমে তার বাবাকে সাহায্য করত।

বাড়ির বড় ছেলে যদিও অনলাইনে কাজ করত, তবুও সে কোনো টাকা পেত না। টাকা না পাওয়া নিয়ে প্রায়ই তার মা-বাবা তাকে কথা শোনাতেন এবং কখনো কখনো তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হতো।

মা-বাবার কথা ছিল, ছেলে বড় হলে কাজ করে মা-বাবাকে খাওয়াতে হবে। যদি কোনো জায়গা থেকে টাকা না পাওয়া যায়, তাহলে সেই কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করতে হবে।

কিন্তু বড় ছেলে ছিল একটু অন্যরকম। সে বলত, “বাবা, আজ আমি টাকা পাচ্ছি না, কিন্তু পরে টাকা পেলেই আমি সফল হব এবং আমাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না।”

মা-বাবা বলতেন, “তুমি আমাদের এখনই খাওয়াতে পারো না, পরে টাকা পেলে তুমি আমাদের কখনোই খেতে দেবে না। তোমার ভাইকে দেখো, সে প্রতিদিন কাজ করে এবং আজ এক বছর যাবৎ কাজ করছে। সে প্রতিদিন আমাদের ৫০০ টাকা করে দেয়। আর তুমি এখনও বাড়িতে একটি টাকাও দাওনি। তুমি কখনোই সফল হতে পারবে না।”

বড় ছেলে উত্তরে বলত, “দেখো মা-বাবা, অনলাইনে প্রথমে একটি কাজ শিখতে হয়, তারপর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হয় এবং এরপর টাকা পাওয়া যায়। এটা খুব সহজ নয়। অনলাইন কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ এবং এখানে ধৈর্য ধারণ করে কাজ করতে হয়। অনলাইনে সফল হতে হলে অবশ্যই ২-৩ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমাকে কিছু সময় দাও।”

মা-বাবা বলতেন, “তোমাকে আর কত সময় দেব? ইতিমধ্যেই তো তোমাকে আমরা দুই বছর সময় দিয়েছি। তুমি আরও সময় চাও। আমরা আর তোমাকে সময় দিতে চাই না।” তারা তার অনলাইন কাজের ব্যাপারেও কোনো সাহায্য করতেন না।

এছাড়াও, বড় ছেলের মা-বাবা বিভিন্নভাবে তাকে কথা শোনাতেন এবং নানা ধরনের মানসিক কষ্ট দিতেন। বড় ছেলে এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই চিন্তায় পড়ে থাকত।

এভাবেই কেটে গেল আরও একটি বছর।

বড় ছেলে তার পরিশ্রম আরও বাড়িয়ে দিল। নিয়মিত কাজ করল, ভুল থেকে শিক্ষা নিল এবং দ্রুত সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

একদিন বড় ছেলে তার কাজের প্রথম টাকা পেল। প্রথম অনলাইন কাজের মাধ্যমে সে দুই লক্ষ টাকা উপার্জন করল এবং সেই টাকা নিজ হাতে তার মা-বাবার কাছে তুলে দিল।

বড় ছেলে বলল, “দেখো মা, আমি আমার প্রথম অনলাইন কাজের পেমেন্ট পেয়েছি। এই নাও আমার প্রথম কাজের টাকা। এখানে মোট দুই লক্ষ টাকা আছে। তুমি বলেছিলে না, তোমার ছোট ছেলে শুধু সংসারে টাকা দেয় এবং সে এক বছর যাবৎ কাজ করছে?

জেনে রেখো মা-বাবা, তোমার ছোট ছেলে এক বছরে মোট ১,৮০,০০০ টাকা দিয়েছে, যদি প্রতিদিন ৫০০ টাকা হিসেবে হিসাব করা হয়। আর আমি তোমাদের যে টাকা দিলাম, তা তোমাদের ছোট ছেলের এক বছরের আয়ের চেয়ে ২০,০০০ টাকা বেশি।”

এরপর তাদের সংসার থেকে দুঃখ বিদায় নিল এবং তাদের পরিবার সুখ-শান্তিতে ভরে গেল।পরামর্শ: গল্পের শেষে একটি শিক্ষণীয় অংশ (নৈতিক শিক্ষা) যোগ করলে গল্পটি আরও আকর্ষণীয় ও পাঠকপ্রিয় হবে।

গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)

ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম একদিন অবশ্যই সফলতা এনে দেয়। কোনো কাজের ফল পেতে সময় লাগতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। অন্যের স্বপ্ন ও প্রচেষ্টাকে সম্মান করা উচিত। প্রতিটি মা বাবা কে তাদের সন্তানদের সমর্থন দেওয়া উচিত, যদি প্রচেষ্টা সঠিক, বৈধ, এবং হালাল হয়‌। পরিবারের সমর্থন একজন মানুষের সফলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যর্থতার ভয় নয়, বরং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সফলতার চাবিকাঠি। মনে রাখুন, আত্মবিশ্বাস থাকলে কঠিন পরিস্থিতিও জয় করা সম্ভব।

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. গল্পে কয়জন ছেলে ছিল?

উত্তর: দুইজন ছেলে ছিল।

২. পরিবারে মোট কতজন সদস্য ছিল?

উত্তর: চারজন সদস্য ছিল।

৩. পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী কে ছিলেন?

উত্তর: তাদের বাবা ছিলেন।

৪. বড় ছেলে কী কাজ করত?

উত্তর: অনলাইনে কাজ করত।

৫. ছোট ছেলে কী করত?

উত্তর: বিভিন্ন কাজ করে সংসারে সাহায্য করত।

৬. বড় ছেলে কত বছর অনলাইনে কাজ করেছিল?

উত্তর: প্রায় তিন বছর কাজ করেছিল।

৭. বড় ছেলে প্রথম পেমেন্ট হিসেবে কত টাকা পেয়েছিল?

উত্তর: দুই লক্ষ টাকা পেয়েছিল।

৮. মা-বাবা বড় ছেলেকে কেন বকাবকি করতেন?

উত্তর: সে দীর্ঘ সময় কোনো টাকা উপার্জন করতে পারেনি বলে।

৯. বড় ছেলে সফল হওয়ার জন্য কী করেছিল?

উত্তর: ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছিল।

১০. গল্পের শেষে কী ঘটেছিল?

উত্তর: পরিবারের দুঃখ দূর হয়ে সুখ-শান্তি ফিরে এসেছিল।

আরো গল্প পড়ুন,

১. দুই ছেলের দুই ফুল গাছ গল্প

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url