বানর আর বাঘের গল্প – বানরকে খেয়ে ফেলে বাঘ

একটি দুষ্টু বানর ও চালাক বাঘের বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা এবং শেষ পরিণতির গল্প

বন মানেই নানা রকম প্রাণীর বসবাস, যেখানে আনন্দ, বন্ধুত্ব আর কখনো কখনো চালাকির খেলা চলে। এই গল্পে আমরা দেখবো এক বাঘ এবং এক বানরের গভীর বন্ধুত্ব, যেটা শুরুতে খুব মজার আর আনন্দের হলেও শেষ পর্যন্ত ভুল বোঝাবুঝি, দুষ্টুমি আর বুদ্ধির খেলার কারণে ভয়ংকর পরিণতিতে গিয়ে শেষ হয়। 
বানর আর বাঘের গল্প – বানরকে খেয়ে ফেলে বাঘ

গল্পটি শুধু বিনোদন নয়, বরং সতর্কতা দেয় যে, সবসময় সবাইকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।‌

বানর ও বাঘ গল্প

লেখক, মোঃ সামিউল আলী

বিশাল এক বনের মধ্যে বাঘ, বানর, হরিণ সহ অন্যান্য বন্য প্রাণী খুব সুখের সাথে বসবাস করতো এবং তারা একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করে খাদ্যের চাহিদা মেটাতো।

বনের সবাই সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেও বাঘ এবং বানরের বন্ধুত্ব ছিল গলায় গলায়। যেখানে যেতো, যা কিছু খেতো—সব সময় তারা একসাথে সব কাজ করতো।

একদিন বানর গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছিল এবং বাঘ গাছের নিচ থেকে বানরকে বলল, চলো বন্ধু আমরা বরই খেয়ে আসি। তুমি গাছে উঠে বরই পারবে এবং আমি নিচ থেকে বরই খাবো।

বাঘ নিচ দিয়ে হাঁটছে এবং বানর গাছের উপর দিয়ে ঝুলে ঝুলে যাচ্ছে। তাদের গন্তব্য বনের পশ্চিমে থাকা বড় বরই গাছ, যেখানে অনেক পাকা পাকা বরই পেকে আছে।

তারা দুজন একসাথে হাঁটতে হাঁটতে বরই গাছের কাছে চলে আসলো।

বাঘ বলল, যাও বন্ধু বরই পেরে আমাকে দাও এবং তুমি ও খাও। বানর খুবই ক্ষিপ্রতার সাথে বরই গাছে উঠে গেল এবং বরই খেতে শুরু করল।

বানর একাই বরই গাছে বসে বরই খাচ্ছে তা দেখে বাঘ বলল, হে বানর বন্ধু তুমি একা খাচ্ছো কেন? আমাকে ও বরই দাও, আমিও পাকা টক-মিষ্টি বরই খেতে চাই।

বানর বাঘের সাথে একটু মজা করার চেষ্টা করল। বানর বাঘ মামাকে কিছু পাকা বরইয়ের বিচি ফেললো এবং কিছু ভালো টসটসে রসালো পাকা বরই দিল।

বাঘ রেগে গিয়ে বলল, বানর তুমি আমাকে খারাপ ও ভালো বরই দিচ্ছো। আমাকে শুধু পাকা ভালো বরই দাও।

বানর বাঘের কথা শুনে একটু হেসে উত্তর দিল, এবার তোমাকে ভালো বরই দিব। এই নাও….।

দুষ্টু বানর বাঘকে আবার শুধু বরইয়ের বিচি দিল। সে পাকা বরই দিল না।

বাঘ বলল, দেখো আমি বরই গাছে উঠতে পারবো না, কারণ এই গাছে কাঁটা আছে। সুতরাং তুমি আমাকে ভালো বরই দাও।

দুষ্টু বানর তবুও বাঘকে শুধু বরই বিচি দেয়। খায় আর বরই বিচি দেয়, খায় আর বরই বিচি দেয়।

বাঘ বলল, দেখো তুমি কিন্তু আমাকে রাগিয়ে তুলছো। আমি রেগে গেলে তোমাকে খুবই খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

বানর একটু কোমর দুলিয়ে, লেজ নাড়িয়ে তাকে বরই বিচি দিয়ে বিরক্ত করতে থাকলো। এক পর্যায়ে বাঘ খুব হুংকার দিয়ে উঠল এবং বলল, এখানেই তোমার আর আমার বন্ধুত্ব শেষ।

রাগান্বিত বাঘ বরই গাছের নিচে বসে পড়ল এবং বানরের অপেক্ষা করতে থাকলো—কখন বানর গাছ থেকে নিচে নামবে।

বাঘের অপেক্ষার পালা শেষ হল। বানর অতিরিক্ত বরই খাওয়ার ফলে তার পেট ব্যথা করতে লাগল। সে নিচে নামার জন্য পানি খাওয়ার একটু চেষ্টা করল।

কিন্তু বানরের চেষ্টা ব্যর্থ হল, কারণ নিচে শুয়ে আছে বাঘ—যাকে সে এতক্ষণ বরই বিচি দিয়ে বিরক্ত করেছে।

তবুও, বন্ধু বলে কথা। বানর বলল, বন্ধু তোমার সাথে আমি দুষ্টুমি করেছি। তুমি রাগ করোনি তো? আমি এখন গাছ থেকে নামব, তুমি রাগ করো না।

বাঘ একটু চালাকি করে বলল, আরে বানর তুমি আমার বন্ধু। তোমার উপর রাগ করবো কেন? তুমি কি গাছ থেকে নামতে চাও? তাহলে আমার মুখের উপর পড়ে যাও। আমি তোমাকে ধরে ফেলবো এবং তুমি নিচে নেমে যাবে।

বানরের মনে একটু সন্দেহ হল এবং বাঘকে বলল, বাঘ বন্ধু তুমি যদি আমাকে খেয়ে ফেলো?

বাঘ বলল, আরে বন্ধু দেখো, তোমার তো হাত আছে। কিন্তু আমার কি হাত আছে? না নেই। তাহলে তোমাকে ধরে আমি নামাতে পারবো কি? পারবো না। তাই বলছি, আসো আমার মুখের উপর পড়ে যাও।

বোকা বানর বাঘের চালাকির কথায় পাত্তা দিয়ে বাঘের মুখের উপর পড়ল এবং রাগান্বিত বাঘ বানরকে এক নিমিষেই খেয়ে ফেললো।

গল্পের মূলভাব

এই গল্পের মূল শিক্ষা হলো: অতিরিক্ত দুষ্টুমি, অবিশ্বাস এবং অন্যকে ছোট করে দেখা যাবে না। অবশ্যই সবাই কে বিশ্বাস, সম্মান করতে হবে এবং এমন কাউকে বন্ধু বানতে হবে যে, তোমার দুষ্টুমি সহ্য করতে পারে এবং তাকে বন্ধু বানানো উচিত নয়। যার কাছে গেলে তোমার প্রাণ নাশের হুমকি থাক বা তোমার ক্ষতি করতে পারে এমন কাউকে বন্ধু বানানো উচিত নয়। 

গল্পে বানর ছিল খুব চঞ্চল এবং দুষ্টু স্বভাবের। সে বাঘকে বারবার বিরক্ত করেছিল এবং মজা করতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করেছিল। অন্যদিকে বাঘ প্রথমে বন্ধুসুলভ থাকলেও ধীরে ধীরে রাগ এবং প্রতিশোধের পথে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বাঘ তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রাগে বানর কে খেয়ে ফেলে। 

গল্পটি দেখায়, বন্ধুত্বে সম্মান ও বোঝাপড়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি অন্যকে বারবার অপমান করে বা বোকা বানায়, তাহলে সেই সম্পর্ক টিকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত বানরের ভুল সিদ্ধান্ত এবং বাঘের চালাকির কারণে বানর এর জীবন হারাতে হয়।

এটি একটি সতর্কতামূলক গল্প, যা শেখায় বুদ্ধি ও দুষ্টুমি এক জিনিস নয়, এবং ভুল বিশ্বাস কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে। 

যদি গল্পে বানর বাঘের চালাকি কথায় পাত্তা না দিত, তাহলে বানরের প্রাণ বেঁচে যেত। এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, জীবনে এমন কোন সিদ্ধান্ত নিব না, যা নিজের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি কোথায় সন্দেহ হয়, তাহলে সেই জায়গায় না যাওয়া এবং কোন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা। 

গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. গল্পে কোন দুটি প্রধান চরিত্র ছিল?

উত্তর: বাঘ এবং বানর।

২. তারা কোথায় থাকতো?

উত্তর: একটি বিশাল বনে।

৩. তারা কীভাবে সম্পর্ক রাখতো?

উত্তর: তারা শুরুতে ভালো বন্ধু ছিল।

৪. তারা কী খেতে গিয়েছিল?

উত্তর: বরই খেতে গিয়েছিল।

৫. বানর কোথায় থেকে বরই খেতো?

উত্তর: গাছে উঠে।

৬. বানর বাঘকে কী দিতো?

উত্তর: বরইয়ের বিচি ও কিছু পাকা বরই।

৭. বাঘ কেন রেগে গেল?

উত্তর: বানরের দুষ্টুমির কারণে।

৮. বাঘ কী করেছিল শেষ পর্যন্ত?

উত্তর: বানরকে খেয়ে ফেলেছিল।

৯. গল্পের শিক্ষা কী?

উত্তর: অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও অবিশ্বাস বিপদ ডেকে আনে।

১০. বানর কোথায় ভুল করেছিল?

উত্তর: সে বাঘকে বারবার অপমান করেছিল।

আরো গল্প পড়ুন,










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url