পিঁপড়া ও পায়রার গল্প - একজন ভালো বন্ধুর পরিচয়

পিঁপড়া ও পায়রার গল্প - বন্ধুত্বের উপকার ছোট গল্প 

মানুষের জীবনে বন্ধুত্ব, সহানুভূতি ও উপকারের গুরুত্ব অপরিসীম। কখনো কখনো ছোট্ট একটি প্রাণীও বড় কোনো উপকার করতে পারে। অন্যের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে একদিন সেই সাহায্যের প্রতিদান পাওয়া যায়। 

পিঁপড়া ও পায়রার বন্ধুত্ব

‘পিঁপড়া আর পায়রা’ গল্পটি আমাদের এমনই একটি শিক্ষণীয় ঘটনা জানায়, যেখানে একটি ছোট্ট পিঁপড়া এবং একটি পায়রা পরস্পরের উপকার করে সত্যিকারের বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পিঁপড়া ও পায়রার গল্প

শুনি ও পড়ি

এক নদীর ধারে একটা ছোটো পিঁপড়া বাস করত। একদিন তার খুব পানির পিপাসা পেল। সে পানি খেতে নদীর ধারে গেল। নদীতে অনেক ঢেউ ছিল। পিঁপড়াটি নদীর ঢেউরে ভেসে গেল।

নদীর পাড়ে একটা বড়ো গাছ ছিল। সেই গাছে একটা বড়ো পায়রা বাস করত। পায়রাটি দেখতে পেল, পিঁপড়াটি পানিতে ভেসে যাচ্ছে। সে তখন গাছ থেকে একটি পাতা ফেলে দিল। পিঁপড়াটি পাতার উপর উঠে বসল। এরপর ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে ডাঙার কাছে চলে এল। এভারে পিঁপড়াটি বেঁচে গেল। তখন পায়রা আর পিঁপড়া ভালো বন্ধু হয়ে গেল।

একদিন পিঁপড়াটি দেখল, গাছের নিচে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে তীর-ধনুক। লোকটা পায়রাটিকে মারার জন্য তীর ছুড়তে গেল। তখন পিঁপড়াটি লোকটার পায়ে অনেক জোরে কামড় দিল। লোকটা ব্যথায় উঃ উঃ করতে লাগল। তখন লোকটার ধনুক থেকে তীর ছুটে গেল। কিন্তু তীরটা পায়রার গায়ে লাগল না। তীরটা গিয়ে গাছের ডালে লাগল। পায়রাটি সাথে সাথে উড়ে গেল। এভাবে একটা ছোটো পিঁপড়া একটা পায়রার জীবন বাঁচাল।

গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)

জীবনে কোনো উপকারই কখনো বৃথা যায় না। অন্যের বিপদে আন্তরিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে একদিন সেই সাহায্যের প্রতিদান কোনো না কোনোভাবে ফিরে আসে। 

কাউকে সাহায্য করার সময় তার অবস্থান, শক্তি বা আকার দেখে বিচার করা উচিত নয়, কারণ ছোট বা দুর্বল বলে কাউকে অবহেলা করা ঠিক নয়। পিঁপড়া যেমন পায়রার সাহায্যে জীবন রক্ষা পেয়েছিল, তেমনি পরে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পায়রার জীবন বাঁচিয়েছিল। 

এই গল্প আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের বন্ধুত্ব, কৃতজ্ঞতা এবং পরোপকার মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। তাই আমাদের সবসময় অন্যের উপকার করা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং উপকারের কথা মনে রাখা উচিত। কারণ একটি ছোট্ট সৎ কাজও একদিন বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

পিঁপড়া ও পায়রার গল্পের প্রশ্নোত্তর

১০টি সহজ এবং কার্যকর প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হল:

১. পিঁপড়াটি কোথায় বাস করত?

উত্তর: পিঁপড়াটি নদীর ধারে বাস করত।

২. পিঁপড়াটি কেন নদীর ধারে গিয়েছিল?

উত্তর: পানি খাওয়ার জন্য নদীর ধারে গিয়েছিল।

৩. পিঁপড়াটি কীভাবে নদীতে ভেসে গিয়েছিল?

উত্তর: নদীর ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছিল।

৪. পায়রাটি কোথায় বাস করত?

উত্তর: নদীর পাড়ের একটি বড় গাছে বাস করত।

৫. পায়রাটি পিঁপড়াকে কীভাবে বাঁচিয়েছিল?

উত্তর: গাছ থেকে একটি পাতা ফেলে দিয়ে পিঁপড়াকে বাঁচিয়েছিল।

৬. পিঁপড়া ও পায়রা কেন ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিল?

উত্তর: পায়রা পিঁপড়ার জীবন বাঁচিয়েছিল বলে তারা ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিল।

৭. পিঁপড়াটি একদিন কী দেখল?

উত্তর: সে দেখল, একজন লোক তীর-ধনুক নিয়ে পায়রাকে মারার জন্য দাঁড়িয়ে আছে।

৮. পিঁপড়াটি লোকটির পায়ে কেন কামড় দিয়েছিল?

উত্তর: পায়রার জীবন বাঁচানোর জন্য কামড় দিয়েছিল।

৯. তীরটি কোথায় গিয়ে লেগেছিল?

উত্তর: তীরটি গাছের ডালে গিয়ে লেগেছিল।

১০. শেষ পর্যন্ত পায়রাটি কীভাবে রক্ষা পেয়েছিল?

উত্তর: পিঁপড়ার কামড়ে লোকটির লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় পায়রাটি উড়ে গিয়ে রক্ষা পেয়েছিল।

পিঁপড়া ও পায়রার গল্পটি

আরো গল্প পড়ুন,

১. ঘাসফড়িং ও পিঁপড়ার গল্প - সময় মত সঠিক পরিশ্রম এর ফল। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url