বিখ্যাত সুফি সাধক বায়েজিদ বোস্তামীর মাতৃভক্তি
বায়েজিদ বোস্তামীর মায়ের ঘটনা
ইসলামে মায়ের প্রতি ভালোবাসার গল্প গুলোর মধ্যে বায়েজিদ বোস্তামীর তার মায়ের সাথে ঘটা ঘটনাটি অন্যতম জনপ্রিয়। বায়েজিদ বোস্তামী যখন অনেক ছোট, তখন তার মা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মা তাঁকে পানি আনতে বললেন এবং বায়েজিদ গ্লাসে পানি আনলেন এবং দেখলেন তার মা ঘুমিয়ে পড়েছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী তার মাকে রাতে না ডেকে সারা রাত তার মায়ের বিছানার পাশে দাড়িয়ে থাকেন। ফজরের সময় তার মার ঘুম ভাঙলে দেখতে পান, তার একমাত্র আদরের সন্তান তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বায়েজিদের এর মা তাঁকে দেখা মাত্রই কেঁদে ফেলেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া ও দোয়া প্রার্থনা করে।
অসুস্থ মায়ের বায়েজিদ বোস্তামীর সেবা
৮০৪ খ্রিস্টাব্দের পরের ঘটনা, যখন ইরানের বোস্তাম শহরের বায়েজিদ বোস্তামী নামে এক শিশু বসবাস করতেন এবং তার সাথে তার মা বসবাস করতেন।
বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন নম্র, ভদ্র, এবং শান্ত একজন বালক। মায়ের প্রতি তার দরদ ছিল, আরো দশটা ছেলের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি তাঁর মা কে অনেক শ্রদ্ধা, সম্মান, এবং ভক্তি করতেন। সব সময় তিনি মায়ের সাথে চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, কাজ-কর্ম করতেন।
ইরানের বোস্তাম শহরে ভালোই কাটছিল মা ও ছেলের জীবন।
একদিন সন্ধ্যায় বায়েজিদর মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তখন বায়েজিদ তার মাকে বিছানার নিয়ে গিয়ে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন এবং বললেন, “মা তুমি ঘুমাও। আমি বাড়ির অন্যান্য কাজ করে দিচ্ছি।”
তার মা অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। সন্ধ্যার পর রাত হল। ছোট্ট বায়েজিদ তাঁর মায়ের বিছানার শুয়ে পড়লেন।
বায়েজিদ ও তাঁর মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অসুস্থ মায়ের হঠাৎ পিপাসা পেল। অসুস্থ শরীর নিয়ে তার মা বিছানা থেকে উঠতে পারছে না।
বায়েজিদ বোস্তামী কে তার মা বলল, “বায়েজিদ, বায়েজিদ একটু পানি দেবে আব্বু, আমার অনেক পিপাসা পেয়েছে।"
অসুস্থ মায়ের ডাক শুনে বায়জিদ দ্রুত বিছানা থেকে উঠে পানি নিয়ে আসতে গেলেন।
বায়েজিদ রান্না ঘরে গিয়ে দেখলেন কলসিতে একফোঁটা পানি নেই। তিনি দ্রুত বাড়ির বাইরে গেলেন এবং কুয়ো থেকে এক কলসি পানি নিয়ে আসলেন।
রান্না ঘরে তিনি কলসিটা রাখলেন এবং একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে নিয়ে আসলেন।
বায়েজিদ বোস্তামী ঘরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন তার মা শুয়ে পড়েছেন। তিনি তাঁর মাকে ডাকতে সংকোচ বোধ করলেন। বায়েজিদ ভাবলেন, যদি মায়ের ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে মা কষ্ট পাবেন।
বায়েজিদ সারারাত তার মায়ের বিছানার পাশে এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।
হঠাৎ শেষ রাতে ফজরের নামাজের সময় হঠাৎ তার মার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বিছানার ডান পাশে হাত দিয়ে তার মা বায়েজিদ খুঁজে পেলেন না।
হঠাৎ, বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন বায়েজিদ কে। তার মা কেঁদে ফেললেন এবং আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তার নেক সন্তান এর জন্য দোয়া করলেন।
গল্পের শিক্ষা (moral of the story)
সকল সন্তান কে তার মাকে ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে, এবং মায়ের সব সময় সেবা করতে হবে। যদি মায়ের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ও সেবা করা যায়। তাহলে, জীবনে সফল হওয়া যাবে এবং পরকালে জান্নাত পাওয়া যাবে।
শুধু অসুস্থ মাকে নয়, সর্বক্ষণ মাকে সেবা করাই একজন ভালো, আদর্শবান, এবং আল্লাহ ভীরু সন্তানের কাজ। কারণ, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।
বায়েজিদ বোস্তামীর মাতৃভক্তি গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি সাধারণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রশ্ন: বায়েজিদ বোস্তামী কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি একজন বিখ্যাত সুফি সাধক ও আল্লাহভীরু ব্যক্তি ছিলেন।
২. প্রশ্ন: বায়েজিদের মা তাঁকে কী আনতে বলেছিলেন?
উত্তর: এক গ্লাস পানি আনতে বলেছিলেন।
৩. প্রশ্ন: পানি আনতে গিয়ে বায়েজিদ কী দেখলেন?
উত্তর: ঘরে কোনো পানি ছিল না।
৪. প্রশ্ন: বায়েজিদ কোথা থেকে পানি নিয়ে এসেছিলেন?
উত্তর: কুয়ো থেকে পানি নিয়ে এসেছিলেন।
৫. প্রশ্ন: ফিরে এসে তিনি কী দেখলেন?
উত্তর: তাঁর মা ঘুমিয়ে পড়েছেন।
৬. প্রশ্ন: বায়েজিদ কেন মাকে ডাকেননি?
উত্তর: মায়ের ঘুম ভেঙে কষ্ট হবে বলে।
৭. প্রশ্ন: তিনি কতক্ষণ পানি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন?
উত্তর: পুরো রাত পানি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
৮. প্রশ্ন: মায়ের ঘুম কখন ভাঙে?
উত্তর: ফজরের সময়।
৯. প্রশ্ন: মায়ের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: তিনি আবেগে কেঁদে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং ছেলের জন্য দোয়া করেন।
১০. প্রশ্ন: এই গল্পের মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: মায়ের সেবা, সম্মান ও ভালোবাসা করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url