একটি ক্ষুধার্ত কাকের গল্প
অসুস্থ অবস্থায় একটি ক্ষুধার্ত কাক
একটি শহরে একটি গাছের ডালে বসবাস করত একটি কালো কাক। সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং কাকটি ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল। খাবার খাওয়ার জন্য সে অনেক চেষ্টা করল। কিন্তু কাকটি পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য কোন খাবার পেল না।
একদিন হঠাৎ ঝড় উঠল এবং অনাহারী কাকটি একটি কোকিল পাখির খাঁচার মধ্যে পড়ল এবং সেখানে অসুস্থ থেকে সুস্থ হল এবং নিজ বাসায় ফেরত গেল। পুরো ঘটনাটি পড়ুন আরো গভীর ভাবে।
ক্ষুধার্ত কালো কাকের গল্প
এক শহরে এক কালো কুচকুচে কাক বাস করত। প্রতিদিন সে খাবারের খোঁজে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতো। বিভিন্ন ধরনের গাছের ফল, পোকামাকড়, শস্য, ডাস্টবিন বা আবর্জনার থেকে খাবার সংগ্রহ করে কাকটি জীবন অতিবাহিত করত।
কিন্তু একদিন কাক অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে আর আগের মত খাবার সংগ্রহের জন্য কোথাও যেতে পারলা না। নিজ বাসায় কাকটি বসে রইল।
গাছের ডালে ছিল কাকের বাসা সেখান থেকে সে দেখতে পেল অন্য কাকেরা ডাস্টবিন ও আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবার সংগ্রহ করে খাচ্ছে। কত মানুষ খাবার ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু, সে খাবার সংগ্রহ করে খেতে পাচ্ছে না।
কাকের অনেক দুঃখ হল। সে খাবারের অভাবে কাঁদতে লাগল। প্রচন্ড খিদে কোথায় পাবে খাবার। যেনো কিছুক্ষণের জন্য খাবার শুন্য হয়ে পড়েছে পুরো শহর।
হঠাৎ, কাকের কাছেই হাঁটতে হাঁটতে এলো এক মাকরোশা। কাকটি খপ করে ধরে খেয়ে ফেলল এবং খালিপেটে থাকা কাকটির খুব সামান্য পরিমাণ খাবার জুটল। কিন্তু ছোট্ট একটি মাকরোশা খেয়ে কতটুকু পেট ভর্তি হয়।
সে অন্য পাখিদের ডাকল এবং একটি কাক খাবার মুখে নিয়ে ঘুরছিল। ক্ষুধার্ত কাক তাকে দেখা মাত্রই কা কা…. করতে লাগল। কাকটি কাছে এলো, যেমনি ক্ষুধার্ত কাকটি খাবার মুখে নেওয়া কাকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করল। অমনি কাকটি পালিয়ে গেল।
এভাবে কেটে গেল পুরো দিন কাকের ভাগ্যে কোন খাবার জুটল না। সে উড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু, তার শরীর এতোটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে যে, সে উড়তে পারল না।
সন্ধার পর আকাশে মেঘ উঠল এবং ঝড় বাতাস সহ বৃষ্টি এলো। সে কোথাও যেতে পারল না। সেই গাছের ডালেই বসে থাকলো।
হঠাৎ দমকা বাতাস এবং ঝড়ো হাওয়া কাকের ডাল কে ভেঙে ফেলল এবং কাকটি একটি বাড়ির কোকিলের পাখির খাঁচায় পড়ে গেল।
ভালো খবর হলো যে পাখির খাঁচাটি ছিল কয়েকটি কোকিলের খাঁচা। যেখানে একজন কোকিল প্রেমী ছেলে। সে অনেকগুলা কোকিল পাখি লালন পালন করতো।
খাঁচায় পড়ার পর কাকটি হতভম্ব হয়ে গেল এবং দেখল তার মতই দেখতে অন্য পাখিগুলোও খাঁচার মধ্যে রয়েছে। সে উড়ার চেষ্টা করল কিন্তু কোনভাবেই উঠতে পারল না।
সকালে বাড়ির মালিক কোকিল পাখিগুলো কে খাবার দিতে এল এবং সকল কোকিল পাখি সহ কাক কে ও খাবার দিল।
এভাবেই কেটে গেল কাকের বেশ কিছুদিন ক্ষুধার্ত কাক আর ক্ষুধার্ত থাকলো না। সে এখন কোকিঋ পাখির সঙ্গে খাবার খায় এবং সেখানেই বসবাস শুরু করল।
আসতে আসতে কাকটি সুস্থ হতে লাগল এবং সে যখন পুরোপুরি সুস্থ হল। তখন বিভিন্নভাবে কাক খাঁচা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু অনেক বার চেষ্টার করার পরে ও বের হতে পারল না।
একদিন কোকিলের মালিক কোকিল গুলো পোষ মেনেছি কিনা পরীক্ষা করার জন্য খাঁচার দরজা খুলল এবং কোকিল পাখি গুলোকে একে একে বের করলো এবং বিভিন্ন ভাষা শেখাতে লাগলো।
কোকিলের মালিক যখন কোকিল গুলোকে ভাষা শেখা নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় সুযোগ বুঝে বুদ্ধি করে কাক কোকিলের খাঁচা থেকে বের হয়ে দূরে একটি গাছের ডালে গিয়ে বসল।
কোকিলের মালিক একটি পাখিকে বের হতে দেখল এবং সে ভয় পেয়ে গেল কোকিল গুলোকে একে একে গুনতে শুরু করল সে বোঝার চেষ্টা করল যে পাখিটি উড়ে গিয়ে গাছের ডালে বসল সেটি তার কোকিল না অন্য কিছু।
যে একে একে দশটি কোকিল খুঁজে পেল এবং বুঝতে পারল কোকিলের সাথে যে পাখিটি ছিল সেটি হল একটি কাক।
কোকিলের মালিক কাকের দিকে তাকালো এবং বলল তুমি বড় চালাক কাক তুমি আমার বাসায় থাকলে আমার খাবার খেলে এবং আমার বাসা থেকে আবার উড়ে চলে গেলে।
কাক গাছের ছেঁড়ে তার বাসার উদ্দেশ্যে উড়াল দিল।
গল্পের শিক্ষা (Moral of the story)
- ১. বিপদ চিরস্থায়ী নয়। ধৈর্য ও সুযোগের অপেক্ষা করলে কঠিন সময় একদিন কেটে যায়।
- ২. স্বাধীনতার মূল্য সবচেয়ে বেশি। আরাম ও পর্যাপ্ত খাবার পেলেও বন্দী জীবন কখনো মুক্ত জীবনের বিকল্প হতে পারে না।
- ৩. বুদ্ধি ও ধৈর্য অনেক সময় শক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। কাকটি শক্তি দিয়ে নয়। বরং, সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে বুদ্ধি খাটিয়ে মুক্তি লাভ করেছিল।
- ৪. সুস্থতা ও স্বাধীনতা মানুষের কিংবা প্রাণীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই কঠিন পরিস্থিতিতেও মুক্তি লাভের আশা হারানো উচিত নয়।
ক্ষুধার্ত কাকের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর:
১. প্রশ্ন: গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
উত্তর: একটি ক্ষুধার্ত কাক।
২. প্রশ্ন: কাকটি কেন খাবার সংগ্রহ করতে পারছিল না?
উত্তর: সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
৩. প্রশ্ন: কাকটি প্রথমে কী খেয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: একটি ছোট মাকড়সা।
৪. প্রশ্ন: ঝড়ের সময় কাকটির কী হয়েছিল?
উত্তর: ডাল ভেঙে কোকিলের খাঁচায় পড়ে যায়।
৫. প্রশ্ন: কোকিলের মালিক কাকটির সঙ্গে কী করেছিলেন?
উত্তর: কোকিলদের সঙ্গে তাকেও খাবার দিয়েছিলেন।
৬. প্রশ্ন: খাঁচায় থেকে কাকটির কী পরিবর্তন হয়েছিল?
উত্তর: সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
৭. প্রশ্ন: কাকটি কীভাবে খাঁচা থেকে বের হয়েছিল?
উত্তর: সুযোগ বুঝে উড়ে পালিয়ে যায়।
৮. প্রশ্ন: মালিক কীভাবে বুঝলেন কাকটি তাঁর কোকিল নয়?
উত্তর: কোকিলগুলো গুনে দেখেন সব ঠিক আছে।
৯. প্রশ্ন: কাকটি শেষে কোথায় ফিরে গিয়েছিল?
উত্তর: নিজের বাসার উদ্দেশ্যে উড়ে যায়।
১০. প্রশ্ন: গল্পের মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: ধৈর্য, বুদ্ধি ও স্বাধীনতার মূল্য সবচেয়ে বেশি।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url