কিভাবে বই পড়তে হয়?

কিভাবে বই পড়তে হয়? বই পড়ার সঠিক পদ্ধতি 

বই পড়া হল জ্ঞান অর্জন, চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং নিজেকে উন্নত করার অন্যতম কার্যকর উপায়। কিন্তু শুধু বইয়ের পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করলেই একটি বই থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায় না। বই থেকে কিছু মূল্যবান পেতে বইয়ের মধ্যে কি বলছে তা বোঝা খুবই জরুরি। 

আপনি হয়তোবা নিয়মিত বই পড়েন, অথচ কিছুদিন পর পাঠকৃত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে পারেন না কিংবা শেখা জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো: বই পড়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। 

এখন তাহলে প্রশ্ন হল কিভাবে বই পড়তে হয়? একটি বই কার্যকরভাবে পড়তে হলে শুধু দ্রুত পড়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রথমে পড়ার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে, এরপর নিজের জন্য সঠিক বই নির্বাচন করতে হবে, বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝে পড়তে হবে, গুরুত্বপূর্ণ অংশ কলম দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় নিজের ভাষায় খাতায় নোট করতে হবে। ফলে, আপনার বই পড়া সার্থক হবে এবং বই পড়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। 

একই সঙ্গে পড়ার বিষয় মনে রাখার জন্য নিজেকে প্রশ্ন করা, নিয়মিত রিভিশন করা এবং শেখা জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি না করে তবে খুব দ্রুত পড়া ভূলে যাবেন এবং বই পড়া বৃধা হয়ে যাবে। 

তাহলে সঠিক পদ্ধতিতে বই পড়ে কি করতে পারব? সঠিক নিয়মে বই পড়লে আপনি শুধু একটি বই শেষ করবেন না; বরং বইয়ের মূল বক্তব্য বুঝতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারবেন। 

তাই যারা কিভাবে বই পড়তে হয়, বই পড়ার সঠিক নিয়ম কী এবং কীভাবে বই পড়ে বেশি শেখা যায়। এই সমস্ত প্রশ্ন যারা করেন। 

কীভাবে বই পড়তে হয়, । জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

তাহলে নিচের ১০টি বই পড়ার পরিপক্ক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।‌ চলুন আজকের class টি শুরু করা যাক।‌

কিভাবে বই পড়তে হয় - বই পড়ার ১০টি পরিপক্ক পদ্ধতি 

আসুন বই পড়ার পদ্ধতি গুলো জেনে রাখি। 

১. আপনি কেন বইটি পড়ছেন

বই পড়ার সঠিক পদ্ধতি গুলোর মধ্যে প্রথম ধাপ হলো পড়ার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা। বইটি কেন পড়বেন? শুধু বই হাতে নিয়েই পড়া শুরু না করে আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আমি এই বইটি কেন পড়ছি, বইটি পড়ে কী শিখতে চাই, এবং কি কি উপকার করবে বই?

যখন আপনি নিজেকে বই পড়ার আসল কারণ জিজ্ঞাসা করবেন, তখন আপনার মন বলবে কোন কোন বই পড়তে হবে, এবং এর মাধ্যমে আপনি একটি পছন্দের বই নির্বাচন করতে পারবেন। 

আপনি যদি আত্মউন্নয়নের বই পড়েন, তাহলে আপনার লক্ষ্য হতে পারে নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করা। ব্যবসার বই হলে ব্যবসা সম্পর্কে নতুন ধারণা শেখা, শিক্ষামূলক বই হলে জ্ঞান অর্জন করা, আর গল্পের বই হলে বিনোদন ও সাহিত্য উপভোগ করা আপনার উদ্দেশ্য হতে পারে।

বই পড়ার আগে এক লাইনে নিজের উদ্দেশ্য লিখে নিন। যেমন: এই বই পড়ে আমি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর নতুন কৌশল শিখব। এরপর বই পড়ার সময় আপনার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিন।

শুধু বই শেষ করার জন্য দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টাবেন না। আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আপনার বই পড়ার উদ্দেশ্য হাসিল করুন। 

আপনি বুঝতে পারবেন কোন বিষয় আপনার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বই পড়া হবে লক্ষ্যভিত্তিক এবং আপনি বই থেকে বেশি উপকার পাবেন।

২. নিজের জন্য সঠিক বই নির্বাচন করুন

বই পড়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো সঠিক বই নির্বাচন করা। কারণ আপনি যদি নিজের জ্ঞান, আগ্রহ ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বই নির্বাচন না করেন, তাহলে পড়ার আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হবে। 

তাই, বই পড়ার আগে বইটির নাম, লেখক, বিষয়বস্তু, সূচিপত্র, ভূমিকা এবং প্রয়োজনে পাঠকের মতামত দেখে নিন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন বইটি আপনার জন্য উপযুক্ত কি না।

নতুন পাঠক হলে খুব কঠিন বই দিয়ে শুরু না করে নিজের আগ্রহের সহজ বিষয়ের বই দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে কঠিন ও গভীর বিষয়ের বই পড়তে পারেন।

কিভাবে নিজের জন্য একটি সঠিক বই নির্বাচন করবেন? 

  • নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী বই নির্বাচন করুন।
  • বইয়ের সূচিপত্র দেখে বিষয়বস্তু বুঝুন।
  • নিজের জ্ঞান ও পড়ার স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বই বেছে নিন।

তবে, আপনি যদি শুধু জনপ্রিয় বলে এমন বই পড়বেন না, যার বিষয় আপনার কোনো কাজে আসে না বা আপনার আগ্রহ নেই।

যদি আপনি নিজের জন্য সঠিক বই নির্বাচন করতে পারেন, তাহলে আপনার পড়ার আগ্রহ বাড়বে, মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে এবং বই থেকে বাস্তব উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

৩. পড়া শুরু করার আগে বইটি একবার দেখে নিন

সূচিপত্র

আপনি যদি বই হাতে নিয়েই প্রথম পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করেন। তাহলে বই থেকে ভালো উপকার পাবেন না। আপনি যদি কার্যকরভাবে বই পড়তে চান, তাহলে আগে পুরো বইটির একটি সামগ্রিক ধারণা নেওয়া ভালো।

প্রথমে বইয়ের প্রচ্ছদ ও নাম দেখুন। এরপর লেখকের পরিচয়, ভূমিকা, সূচিপত্র এবং অধ্যায়গুলোর শিরোনাম পড়ুন। এতে আপনি বুঝতে পারবেন বইটি কী নিয়ে লেখা এবং কোন অধ্যায়ে কী আলোচনা করা হয়েছে। এখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য তথ্য গুলো পেতে বই বিভিন্ন অংশ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।‌

এটি অনেকটা ভ্রমণের আগে মানচিত্র দেখে নেওয়ার মতো। আপনি কোথা থেকে শুরু করছেন এবং কোথায় যেতে চান, তা আগে বুঝে নিলে পথ চলা সহজ হয়।

কীভাবে বই পড়ার আগে বইয়ের বিভিন্ন তথ্য দেখাবেন? 

  • সূচিপত্র পড়ুন।
  • ভূমিকা পড়ুন।
  • অধ্যায়গুলোর শিরোনাম দেখুন।
  • বইটির মূল বিষয় অনুমান করার চেষ্টা করুন।

বইয়ের কাঠামো না বুঝে অন্ধভাবে দ্রুত পড়া শুরু করবেন না। এটি আপনার প্রয়োজন পূরণের জন্য বড় বাঁধা। বরং, বইয়ের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, কেউ একটি বই থেকে সকল তথ্য আহরণ করতে পারে না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। 

যাইহোক, পড়া শুরু করার আগে বইটি একবার দেখে নিলে আপনার মস্তিষ্ক বইটির একটি সামগ্রিক কাঠামো পেয়ে যাবে। পরবর্তীতে নতুন তথ্য পড়ার সময় সেগুলো কোথায় এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা সহজ হবে।

৪. একবারে বেশি নয়, অধ্যায় বা ছোট অংশ ধরে পড়ুন

বই পড়ার সঠিক পদ্ধতি হলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়া। একটি বড় বই একসঙ্গে শেষ করার চিন্তা না করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পড়ার লক্ষ্য রাখুন এবং এক মাস বা বেশি সময় ধরে একটি বই পড়ার চেষ্টা করুন। 

একটি অধ্যায়কে আপনার দৈনিক পড়ার লক্ষ্য হিসেবে নিতে পারেন। অধ্যায়টি পড়ার পর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে ভাবুন, আমি এই অধ্যায় থেকে কী শিখলাম?

প্রয়োজনে একটি বড় অধ্যায়কে আরও ছোট অংশে ভাগ করে পড়ুন। কয়েকটি প্যারা, কয়েকটি পৃষ্ঠা, বা একটি পুরো অধ্যায় ভাগ করে পড়তে পারেন।‌

শুধু দ্রুত বই শেষ করার জন্য একসঙ্গে অনেক পৃষ্ঠা পড়বেন না। বুঝে, মনোযোগ দিয়ে, বিরতির নিয়ে একটি বই পড়ে শেষ করুন। 

এতে আপনার পড়ার চাপ কমবে, মনোযোগ বাড়বে এবং বিষয়বস্তু গভীরভাবে বোঝা সহজ হবে। আপনি ধীরে ধীরে একটি বই শেষ করার পাশাপাশি বইটি সত্যিকার অর্থে শিখতেও পারবেন। 

৫. শব্দ নয়, অর্থ বুঝে পড়ুন

বুঝে বুঝে পড়ছে একজন ছেলে

বই পড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল বুঝে পড়া। শুধু চোখ দিয়ে শব্দ পড়ে পৃষ্ঠা শেষ করাকে কার্যকর বই পড়া বলা যায় না।

প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করুন। এখানে লেখক আসলে কী বলতে চেয়েছেন?

যদি নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারেন, তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনি বিষয়টি বুঝেছেন। কোনো বিষয় কঠিন মনে হলে ধীরে পড়ুন, প্রয়োজনে আবার পড়ুন এবং উদাহরণ খুঁজে দেখুন।

ধরুন আপনি একটা বাক্য পড়ছেন, বাক্যটি এই রকম যে, “বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি ছোট বদ্বীপ, যেখানে মোট ১৮ কোটির ও বেশি মানুষ বসবাস করে।" 

এই বড় বাক্যটি যদি আপনি শুধু পড়ার জন্যই প্রতিটি শব্দ একের পর আরেক পড়ে যান, তাহলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত, ছোট্ট বদ্বীপ, ১৮ কোটি মানুষ এই সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বুঝে না পড়ার কারণে ভূলে যাবেন এবং বই পড়ে লাভ হবে না। তাই, না বুঝে শুধু দ্রুত পড়ে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

বুঝে, মনোযোগ দিয়ে বই পড়লে আপনি শুধু বই পড়ে শেষ করবেন না; বরং বইয়ের জ্ঞান নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারবেন। এতে পড়া বিষয় দীর্ঘদিন মনে রাখাও সহজ হবে।

৬. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দাগিয়ে রাখুন

বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দাগানো হয়েছে

বই পড়ার সময় সব তথ্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, সংজ্ঞা, তথ্য, সূত্র বা মূল বক্তব্য, ঠিকানা, নাম, তারিখ, দাগিয়ে বা হাইলাইট করে রাখা বই পড়ার একটি কার্যকর পদ্ধতি।

প্রিন্ট বই হলে পেন্সিল বা হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। ই-বুক হলে Highlight বা Bookmark ব্যবহার করুন। তবে প্রতিটি বাক্য দাগাবেন না; শুধু সেই অংশ চিহ্নিত করুন যা ভবিষ্যতে আবার পড়ার প্রয়োজন হতে পারে।

উদাহরণ স্বরূপ, উদাহরণ: "গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দাগিয়ে রাখুন"

ধরুন, আপনি বিজ্ঞান বইয়ের "পানি কেন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?" অধ্যায় পড়ছেন। পুরো অনুচ্ছেদে দাগ না দিয়ে শুধু মূল তথ্যগুলো দাগিয়ে রাখুন।

মূল অনুচ্ছেদ: মানবদেহের প্রায় ৬০% পানি দিয়ে গঠিত। পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছে দেয়, বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।

যেভাবে দাগিয়ে রাখবেন:

  1. মানবদেহের প্রায় ৬০% পানি দিয়ে গঠিত।
  2. পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
  3. পুষ্টি উপাদান কোষে পৌঁছে দেয়।
  4. বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।
  5. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।

পেন্সিল বা হাইলাইটার দিয়ে বই দাগালে পরবর্তীতে পুরো বই না পড়েও আপনি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত রিভিশন করতে পারবেন। এতে সময় বাঁচবে এবং শেখা বিষয় পুনরায় মনে করা সহজ হবে।

৭. নিজের ভাষায় নোট তৈরি করুন

বই পড়ার সময় নোট করছে একজন

আপনি শুধু বই পড়বেন না, নিজের ভাষায় লিখে বোঝার চেষ্টা করাও বই পড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি যখন নিজের ভাষায় কোনো বিষয় লিখবেন, তখন বিষয়টি আপনি সত্যিই বুঝেছেন কি না, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

প্রতিটি অধ্যায় শেষে ৩–৫টি মূল বিষয় লিখুন। আপনি চাইলে নোটে চারটি বিষয় রাখতে পারেন, যেমন: মূল ধারণা 

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 
  • আমি কী শিখলাম
  • কোথায় প্রয়োগ করব
  • বইয়ের পুরো বক্তব্য কপি না করে সংক্ষিপ্তভাবে নিজের ভাষায় লিখুন।

আপনার পড়া বিষয় আরও পরিষ্কার হবে এবং ভবিষ্যতে দ্রুত রিভিশন করার জন্য নিজের তৈরি একটি কার্যকর নোট থাকবে, যা পড়ে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন বইয়ের লেখার মধ্যে কি বলা হচ্ছে। ফলে দ্রুত বই রিভিশন করা যাবে। 

৮. বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন

বই পড়ার পর আপনি কতটা শিখেছেন, তা যাচাই করার অন্যতম ভালো উপায় হলো বই বন্ধ করে নিজের স্মৃতি থেকে বিষয়টি মনে করার চেষ্টা করা।

একটি অধ্যায় পড়া শেষ হলে বই বন্ধ করুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন

  • আমি কী শিখলাম?
  • এই অধ্যায়ের মূল বক্তব্য কী?
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  • আমি কি নিজের ভাষায় এটি ব্যাখ্যা করতে পারি?
  • এই জ্ঞান আমি কোথায় ব্যবহার করতে পারি?

বই না দেখে নিজের ভাষায় অধ্যায়টির সারাংশ বলুন বা লিখুন। শুধু একই অংশ বারবার পড়ে নিজেকে শেখা হয়েছে বলে ধরে নেবেন না।

বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করলে আপনি দ্রুত বুঝতে পারবেন কোন বিষয় আপনি সত্যিই বুঝেছেন এবং কোন বিষয় আবার পড়া দরকার। ফলে আপনার পড়া আরও সক্রিয় ও কার্যকর হবে। 

৯. পড়া বিষয় নিয়মিত রিভিশন করুন

একবার বই পড়ে শেষ করলেই শেখা বিষয় সবসময় মনে থাকবে, এমন নয়। তাই বই পড়ার পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পুনরায় দেখুন।

আপনার হাইলাইট করা অংশ ও তৈরি করা নোট নির্দিষ্ট সময় পরপর পড়ুন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বই হলে পড়া শেষ করার কয়েক দিন পর আবার মূল বিষয়গুলো দেখুন। সপ্তাহের মধ্যে একবার আপনার পাঠকৃত বই রিভিশন করুন।‌

পড়া বিষয় নিয়মিত রিভিশন করলে আপনার শেখা বিষয় দীর্ঘদিন মনে রাখার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত তথ্য মনে করতে পারবেন। এটা সকল সেরা শিক্ষার্থী ও সফল মানুষেরা করে থাকে। আপনি ও আজ থেকে বই রিভিশন দেওয়া শুরু করুন।‌ 

১০. শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন

বই পড়ার সবচেয়ে পরিপক্ক নিয়ম হলো বই থেকে শেখা বিষয় বাস্তবে প্রয়োগ করা। কারণ জ্ঞান তখনই সবচেয়ে মূল্যবান হয়, যখন তা আপনার চিন্তা, সিদ্ধান্ত, দক্ষতা বা কাজে পরিবর্তন আনতে পারে।

আপনি যদি আত্মউন্নয়নের বই পড়েন, তাহলে শেখা একটি কৌশল বাস্তবে ব্যবহার করুন। যোগাযোগের বই পড়লে মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন কৌশল অনুশীলন করুন। ব্যবসার বই পড়লে শেখা কোনো ধারণা ছোট পরিসরে পরীক্ষা করে দেখুন।

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, “এই বই থেকে শেখা একটি বিষয় আমি আজ কীভাবে কাজে লাগাতে পারি?”

উদাহরণ স্বরূপ, আপনি একটি অঙ্ক সম্পন্ন করতে পারেন। এই অঙ্কটি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন। ধরুন আপনি বইয়ে পড়লেন ২+২=৪ হয়। তাহলে এক হাতে দুই কমলা এবং অন্য হাতে দুটি কমলা নিন। এখন দুই হাতের কমলা যোগ করুন। এভাবে পড়া জিনিস বাস্তবে প্রয়োগ করুন। 

শুধু জ্ঞান সংগ্রহ করে বাস্তবে কোনো প্রয়োগ না করা। আপনার শেখার ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে।‌

শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে আপনার পড়া বই শুধু তথ্যের সংগ্রহ হয়ে থাকবে না; বরং আপনার দক্ষতা, অভ্যাস, চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্তে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। পড়া বহুদিন মনে থাকবে, পড়ার আসল লাভ আপনি গ্ৰহণ করতে পারবেন। 

১১. একা বই পড়ুন 

একা নিরিবিলি বই পড়ছে একজন মেয়ে

বই পড়ার পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একা বই পডা, যেখানে আপনার বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, মোবাইল ফোন নেই। একটি ফাঁকা ঘরে বসে পড়ুন। নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখুন। 

সকালে, দুপুরে, সন্ধ্যা, ও রাতে পড়ার অভ্যাস করুন, যখন সকল মানুষ চুপ থাকে। কারণ, নিরিবিলি পরিবেশ আপনার বই পড়া কে সার্থক করে এবং সহজেই বিরক্ত না হয়ে পড়াশোনা করা যায়। 

পড়ার আগে একটি ছোট্ট ঘর খুঁজুন, আপনার ঘর থেকে আপনার পছন্দের মানুষদের বের দিন, মোবাইল ফোন অন্য ঘরে রাখুন। এরপর, পড়া শুরু করুন।‌

এভাবে একা পড়লে দ্রুত পড়া শেষ করা যায়, পড়া বোঝা যায়, পড়া অর্থবহ হয়। ঝামেলার মধ্যে বা মোবাইল টিপতে টিপতে পড়লে অনেক বই পড়তে অনেক সময় লাগে, পড়া বোঝা যায় না, এবং সময় নষ্ট হয়। 

উপসংহার 

কিভাবে বই পড়তে হয়, এর আসল উত্তর হলো, বইকে শুধু পড়ার বস্তু হিসেবে না দেখে শেখার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা। 

আপনি যখন বই পড়ার আগে নিজের উদ্দেশ্য ঠিক করবেন, সঠিক বই নির্বাচন করবেন, বুঝে পড়বেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করবেন, নিজের ভাষায় নোট করবেন, নিজেকে প্রশ্ন করবেন, নিয়মিত রিভিশন করবেন এবং শেখা বিষয় বাস্তবে প্রয়োগ করবেন, তখন আপনার বই পড়ার অভ্যাস আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

মনে রাখবেন, একটি বই দ্রুত শেষ করা বড় কথা নয়; একটি বই থেকে সত্যিকার অর্থে কিছু শেখাই হলো সফলভাবে বই পড়ার আসল উদ্দেশ্য। 

তাই আজ থেকেই একটি বই বেছে নিন, আপনার পড়ার উদ্দেশ্য ঠিক করুন এবং উপরের ১০টি নিয়ম অনুসরণ করে পড়া শুরু করুন। ধীরে ধীরে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। হ্যাঁ, এবার আমি সত্যিই বই পড়তে পারছি।

আরো পোস্ট পড়ুন,

১. পড়া মনে রাখার বৈজ্ঞানিক ও ইসলামীক উপায় 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url