সাপ ও ব্যাঙের গল্প - সেরা উপদেশমূলক গল্প
ব্যাঙের উপদেশ মানল না সাপ - সাপের ভয়ানক পরিণতি
বুদ্ধিমান ব্যাঙ ও ভয়ানক সাপের একটি গল্প, যেখানে ব্যাঙ সাপকে উপদেশ দিল। কেন ব্যাঙ সাপকে উপদেশ দিল এবং কীভাবে সাপ মারা গেল চলুন জেনে নিই।
চলুন গল্লটি একবার পড়ি। পড়লে আপনি ব্যাঙের উপদেশ গুলো জানতে পারবেন।
সাপ ও ব্যাঙের গল্প
এক লোকালয় থেকে দূরে বিশাল একজন জঙ্গল ছিল। সেই বিশাল জঙ্গলে বসবাস করত সাপ ও ব্যাঙ।
সাপ ছিল একটু রাগী, বেপরোয়া, আঁকাবাঁকা চলত। অন্যদিকে ব্যাঙ ছিল বেশ শান্ত, সোজা, এবং লাফিয়ে লাফিয়ে চলত।
সাপ শুধু হিসহিস…. আওয়াজ করত এবং রেগে মেতে সোজা পথ দিয়ে আঁকাবাঁকা যেত এবং সুযোগ পেলে মানুষ কে কামড়িয়ে নিতো।
অন্যদিকে ব্যাঙ ডোবায় বসে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর আওয়াজ করত। মুখ ফুলিয়ে ফুলিয়ে ডাকত। বৃষ্টির সময় ব্যাঙের ডাক বেড়ে যেত।
ব্যাঙের ডাকের আওয়াজ শুনে প্রায়ই সাপ রেগে যেত এবং সাপ ব্যাঙ কে ধরতে যেত। কিন্তু ব্যাঙ তার বড় বড় লাফ দিয়ে পালিয়ে যেত।
একদিন জঙ্গলের পাশের সোজা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক নাদিমপুর গ্ৰামের ছেলে। রাস্তার পাশে ঘন জঙ্গলে বসেছিল একটি সাপ। আচমকা ছেলেটির সাপের উপর পা পড়ে গেল।
সাপটি রেগে গেল এবং ছেলেটিকে কামড় দিল। সাথে সাথেই ছেলেটি মারা গেল। সাপ ছেলেটিকে কামড়ে জঙ্গলের মধ্যে চলে গেল।
একই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক কৃষক। ধানের জমিতে নিড়ানি দেওয়ার জন্য যাওয়ার সময় দেখতে পেল একটি ছোট্ট ছেলে রাস্তার পাশে ঘাসের উপরে শুয়ে আছে।
কৃষকটি ছেলেটির মুখ দেখে চিনতে পারলো এবং সে বলল এটা আমাদের গ্ৰামের বকুলের ছেলে সুজন। কি হয়েছে তার?
কৃষকটির হঠাৎ চোখ গেল পায়ের দিকে, সে দেখতে পেল দুটো লাল দাগ এবং সুজনের মুখ দিয়ে সাদা ফেপড়া উঠছে। কৃষকের বুঝতে আর দেরি হল না। সুজন কে সাপ কেটেছে। তাই, কৃষকটি সুজন কে ঘাড়ে করে বাড়িতে নিয়ে গেল এবং সুজনের বাবা বকুল ও তার স্ত্রী অনেক কান্না করল।
গ্ৰামের সকলে রেগে গেল এবং বলল যে ভাবেই হোক সাপকে মেরে ফেলতে হবে। নইলে সাপ গ্ৰামের অন্য মানুষকে ও কাটতে পারে।
এদিকে জঙ্গলে পালানোর সময় ব্যাঙটি সাপটিকে দেখে ফেললো এবং তাঁকে বলল, হে সাপ একটু দাঁড়াও।
আমি তোমাকে কিছু ভালো উপদেশ দিতে চাই। উপদেশ গুলো হল তুমি অন্য কাউকে কামড়িয়ো না। সব সময় রেগে যেয়ো না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ো না। যদি আমার কথা শোনো এই ঘন জঙ্গল তোমার জন্য নিরাপদ। আর যদি না মানো আমার উপদেশ। তাহলে এই জঙ্গল তোমার জন্য অনিরাপদ।
সাপটি ব্যাঙের কথা না শুনে, ব্যাঙ কে তেড়ে গেল এবং কামড়াতে চাইলো। কিন্তু চালাক ব্যাঙ সাপের কামড় থেকে বেঁচে গেল।
বেশ কিছুদিন পর একজন কৃষক রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় সাপ রাস্তা পার হচ্ছিল। কৃষক সাপটিকে দেখে ফেললো এবং এক লাঠি নিয়ে সাপকে দিল মাইর। প্রচন্ড মাইরের কারণে সাপটি মারা গেল এবং কৃষক রাস্তার পাশে সাপটিকে সোজা করে শুয়ে দিয়ে চলে গেল।
কৃষক যাওয়ার পর, রাস্তার পাশে থাকা ডোবা থেকে ব্যাঙ রাস্তার উপর উঠে এলো এবং ব্যাঙ সাপকে বলল বন্ধু তোমাকে আমি কিছু উপদেশ দিয়েছিলাম বেচলণ চলিও না, রেগে গিয়ে কাউকে কামড় দিয়ো না। কিন্তু তুমি কোন কথায় শুনলে না।
আজ নিজেকে দেখো। রাস্তার পাশে সোজা হয়ে শুয়ে আছো। আজ আমাকে কামড়াবে না।
গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)
গল্পটি আমাদের শেখায় যে, বন্ধুর ভালো পরামর্শকে মানা উচিত। অকারণে রেগে যাওয়া, নিজের শক্তি দিয়ে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত নিজেরই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই, আমাদের বেপথে, বেপরোয়া বা ভুল পথে চলা উচিত নয়। বরং সব সময় সৎ, সোজা ও ন্যায়ের পথে চলা, অন্যকে সম্মান করা এবং ধৈর্য ও নম্রতার পরিচয় দেওয়াই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন, বেপরোয়া জীবন একদিন সাপের মতো করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মানুষ মৃত্যুর পর সবাইকে সোজা করে শুইয়ে রাখে, কিন্তু তখন আর নিজের জীবন বদলানোর সুযোগ থাকে না। তাই মৃত্যুর পরে নয়, জীবিত থাকতেই নিজের চরিত্র, আচরণ ও পথকে সোজা ও সঠিক করে নেওয়াই প্রকৃত বিবেকবান মানুষের পরিচয়।
ব্যাঙ ও সাপের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
৫টি সহজ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রশ্ন: শেষে ব্যাঙ সাপকে কি সম্পর্কে ডাকল?
উত্তর: বন্ধু।
২. প্রশ্ন: সাপটি কেমন স্বভাবের ছিল?
উত্তর: সাপটি রাগী, বেপরোয়া এবং সুযোগ পেলেই মানুষকে কামড়াতো।
৩. প্রশ্ন: ব্যাঙ সাপকে কী উপদেশ দিয়েছিল?
উত্তর: ব্যাঙ বলেছিল, কাউকে কামড়াবে না, অকারণে রাগ করবে না এবং সঠিক পথে চলবে।
৪. প্রশ্ন: গ্রামের মানুষ কেন সাপটিকে মারতে চেয়েছিল?
উত্তর: কারণ সাপটি একটি ছেলেকে কামড়ে মেরে ফেলেছিল এবং সবাই ভয় পেয়েছিল।
৫. প্রশ্ন: গল্পের শেষে সাপটির কী পরিণতি হয়?
উত্তর: এক কৃষক লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপটিকে মেরে ফেলে।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url