ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি - ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ক্যাটাগরি ভালো?

ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি - ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ক্যাটাগরি ভালো?


ফ্রিল্যান্সিং, মানে হলো নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করা, নিজের সময় নিজে ঠিক করা। বস নেই, অফিসের তাড়া নেই – ব্যাপারটা দারুণ না? কিন্তু যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যান, তখন একটা প্রশ্ন প্রায় সবার মাথাতেই ঘোরে: “ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ক্যাটাগরি ভালো? বা ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি (freelancing job category) কোন গুলো কোনটির ভিতর কোনটি থাকে" এই জানতে চলুন ফ্রিল্যান্সিং ক্যাটাগরি সম্পর্কে জানি। 
ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি ছবি

আসলে, কোন ক্যাটাগরি আপনার জন্য ভালো, সেটা নির্ভর করে আপনার আগ্রহ, দক্ষতা, এবং লক্ষ্যের ওপর। চিন্তা নেই, আমি আপনাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করব! আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনি আপনার জন্য সঠিক পথটি খুঁজে নিতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। কিছু ক্যাটাগরি খুব জনপ্রিয়, যেখানে কাজ পাওয়া যায় সহজেই। চলুন, এমন কয়েকটি ক্যাটাগরি দেখে নেওয়া যাক:

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web Development)

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট মানে হলো ওয়েবসাইট তৈরি করা। এখন প্রায় সব ব্যবসারই একটা ওয়েবসাইট লাগে, তাই ওয়েব ডেভেলপারদের চাহিদা সবসময়ই থাকে। আপনি যদি কোডিং ভালোবাসেন, তাহলে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য দারুণ হতে পারে।

ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপমেন্ট (Front-End Development)

ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপাররা ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং ইউজার ইন্টারফেসের ওপর কাজ করেন। অর্থাৎ, ওয়েবসাইটের যে অংশটি আপনি দেখেন এবং ব্যবহার করেন, সেটি ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপাররাই তৈরি করেন। HTML, CSS, এবং JavaScript এর মতো প্রোগ্রামিং ভাষা জানা থাকলে আপনি ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন।

ব্যাক-এন্ড ডেভেলপমেন্ট (Back-End Development)

ব্যাক-এন্ড ডেভেলপাররা ওয়েবসাইটের ভেতরের কাজগুলো করেন, যেমন সার্ভার, ডাটাবেস, এবং অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা। তারা নিশ্চিত করেন যে ওয়েবসাইটটি সঠিকভাবে চলছে এবং ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষিত আছে। Python, Java, এবং PHP এর মতো প্রোগ্রামিং ভাষা জানা থাকলে আপনি ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার হতে পারেন।

ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট (Full-Stack Development)

ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপাররা ফ্রন্ট-এন্ড এবং ব্যাক-এন্ড দুটোই সামলাতে পারেন। তারা একটি ওয়েবসাইটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কাজ করতে সক্ষম।

গ্রাফিক ডিজাইন (Graphic Design)

গ্রাফিক ডিজাইন হলো ছবি এবং নকশা তৈরি করার কাজ। লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন – এই সবই গ্রাফিক ডিজাইনের অংশ। আপনার যদি ক্রিয়েটিভ মন থাকে এবং ডিজাইন করতে ভালো লাগে, তাহলে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য উপযুক্ত।

লোগো ডিজাইন (Logo Design)

লোগো হলো একটি কোম্পানির পরিচয়। একটি ভালো লোগো দেখলেই মানুষ বুঝতে পারে কোম্পানিটি কী নিয়ে কাজ করে। লোগো ডিজাইনাররা কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য লোগো তৈরি করেন।

ওয়েব ডিজাইন (Web Design)

ওয়েব ডিজাইনাররা একটি ওয়েবসাইটের লেআউট এবং ভিজ্যুয়াল ডিজাইন তৈরি করেন। তারা নিশ্চিত করেন যে ওয়েবসাইটটি দেখতে সুন্দর এবং ব্যবহার করা সহজ।

মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপন ডিজাইন (Marketing and Advertisement Design)

মার্কেটিং এবং বিজ্ঞাপন ডিজাইনাররা বিভিন্ন প্রচারণার জন্য ডিজাইন তৈরি করেন, যেমন ব্যানার, পোস্টার, এবং সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাফিক্স।

ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)

ডিজিটাল মার্কেটিং মানে হলো অনলাইনে কোনো পণ্য বা সেবার প্রচার করা। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন), ইমেইল মার্কেটিং – এই সবই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অংশ। আপনি যদি মার্কেটিং ভালোবাসেন এবং অনলাইনে মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পছন্দ করেন, তাহলে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য দারুণ।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটাররা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কোম্পানির ব্র্যান্ড এবং পণ্য প্রচার করেন। তারা কন্টেন্ট তৈরি করেন, বিজ্ঞাপন চালান, এবং ফলোয়ারদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

এসইও (Search Engine Optimization)

এসইও বিশেষজ্ঞরা একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনেRank করানোর জন্য কাজ করেন। তারা ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট অপটিমাইজ করেন, কিওয়ার্ড রিসার্চ করেন, এবং ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করেন।

ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)

ইমেইল মার্কেটাররা ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য এবং সেবা সম্পর্কে গ্রাহকদের জানান। তারা নিউজলেটার তৈরি করেন, প্রমোশনাল ইমেইল পাঠান, এবং গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন।

কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing)

কন্টেন্ট রাইটিং মানে হলো বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি করা। ব্লগ পোস্ট, আর্টিকেল, ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট – এই সবই কন্টেন্ট রাইটিংয়ের অংশ। আপনার যদি লিখতে ভালো লাগে এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ থাকে, তাহলে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য খুব ভালো।

ব্লগ রাইটিং (Blog Writing)

ব্লগ রাইটাররা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য ব্লগ পোস্ট লেখেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন, সুন্দর করে গুছিয়ে লেখেন, এবং পাঠকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলেন।

আর্টিকেল রাইটিং (Article Writing)

আর্টিকেল রাইটাররা ম্যাগাজিন, জার্নাল, এবং নিউজ ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখেন। তারা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীরভাবে গবেষণা করে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তারপর সেটি লেখেন।

ওয়েবসাইট কন্টেন্ট রাইটিং (Website Content Writing)

ওয়েবসাইট কন্টেন্ট রাইটাররা একটি ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লেখা তৈরি করেন, যেমন হোমপেজের টেক্সট, অ্যাবাউট আস পেজের তথ্য, এবং প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন।

ভিডিও এডিটিং (Video Editing)

ভিডিও এডিটিং হলো ভিডিও ফুটেজ সম্পাদনা করে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করে তোলার কাজ। ইউটিউব ভিডিও, সিনেমার ট্রেইলার, বিজ্ঞাপনের ভিডিও – এই সবই ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। আপনার যদি ভিডিও এবং গল্প বলার আগ্রহ থাকে, তাহলে এই ক্যাটাগরিটি আপনার জন্য দারুণ।

ইউটিউব ভিডিও এডিটিং (YouTube Video Editing)


ইউটিউব ভিডিও এডিটররা ইউটিউবারদের জন্য ভিডিও এডিট করেন। তারা ফুটেজ কাটেন, ইফেক্ট যোগ করেন, এবং ভিডিওটিকে আকর্ষণীয় করে তোলেন।

ফিল্ম এডিটিং (Film Editing)

ফিল্ম এডিটররা সিনেমার ফুটেজ সম্পাদনা করেন এবং গল্পটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন ভিডিও এডিটিং (Advertisement Video Editing)

বিজ্ঞাপন ভিডিও এডিটররা বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনের জন্য ভিডিও এডিট করেন। তারা কম সময়ের মধ্যে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে যে বিষয়গুলো জানা দরকার

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো। এতে আপনি সহজেই নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন এবং সফল হতে পারবেন।

নিজের দক্ষতা চিহ্নিত করুন

প্রথমত, আপনাকে জানতে হবে আপনি কোন কাজে ভালো। আপনার কী কী দক্ষতা আছে, সেটা খুঁজে বের করুন। হতে পারে আপনি ভালো লিখতে পারেন, অথবা ডিজাইন করতে পারেন, কিংবা কোডিং আপনার ভালো লাগে। নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানুন

এরপর, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানতে হবে। Upwork, Fiverr, এবং Freelancer.com এর মতো অনেক জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস রয়েছে। প্রতিটি মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব নিয়মকানুন এবং কাজের ধরণ আছে। তাই, কাজ শুরু করার আগে মার্কেটপ্লেসগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।

একটি ভালো প্রোফাইল তৈরি করুন

আপনার প্রোফাইল হলো আপনার পরিচয়। তাই, প্রোফাইলটিকে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করে তৈরি করুন। আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, এবং কাজের নমুনা প্রোফাইলে যোগ করুন। একটি ভালো প্রোফাইল আপনাকে কাজ পেতে অনেক সাহায্য করবে।

কাজের জন্য বিড করুন

যখন আপনি কাজ খুঁজে পাবেন, তখন সেটির জন্য বিড করতে হবে। বিড করার সময় আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করুন। ক্লায়েন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনিই এই কাজের জন্য সেরা।

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান

ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করার জন্য আপনার যোগাযোগ দক্ষতা ভালো থাকতে হবে। ক্লায়েন্টের সাথে পরিষ্কারভাবে কথা বলুন, তাদের প্রয়োজনগুলো বুঝুন, এবং সময় মতো কাজ জমা দিন।

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং টিপস

আপনি যদি নতুন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে কিছু টিপস আপনার জন্য খুব কাজে দেবে:

  • ধৈর্য ধরুন:প্রথম দিকে কাজ পেতে একটু সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য হারাবেন না এবং চেষ্টা চালিয়ে যান।
  • ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন: প্রথমে ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন। এতে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং আত্মবিশ্বাস জন্মাবে।
  • নিজের কাজের মান উন্নত করুন: সবসময় চেষ্টা করুন নিজের কাজের মান উন্নত করতে। নতুন কিছু শিখতে থাকুন এবং নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকুন।
  • সময় মতো কাজ জমা দিন: ক্লায়েন্টকে দেওয়া কথা অনুযায়ী সময় মতো কাজ জমা দিন। এতে আপনার সুনাম বাড়বে।
  • ভালো ব্যবহার করুন: ক্লায়েন্টের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করুন। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করুন।

ফ্রিল্যান্সিং-এর ভবিষ্যৎ

ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। বর্তমানে, অনেক মানুষ ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। কোভিড-১৯ এর পর থেকে অনলাইন কাজের চাহিদা আরও বেড়েছে। তাই, ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।

টেকনোলজির প্রভাব

টেকনোলজির উন্নতির সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। এখন ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কাজ করা সম্ভব। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজ আরও সহজে এবং দ্রুত করতে পারছেন।

চাহিদা বৃদ্ধি

বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের কাজ আউটসোর্স করতে পছন্দ করে। এতে তাদের খরচ বাঁচে এবং তারা বিশ্বের সেরা ট্যালেন্টদের খুঁজে নিতে পারে। এই কারণে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

নতুন সুযোগ

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবসময় নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেইন, এবং ডেটা সায়েন্সের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বাড়ছে। তাই, যারা নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং একটি দারুণ সুযোগ।

ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি (freelancing job category) নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। এখানে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কী কী প্রয়োজন?

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আপনার একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ইন্টারনেট সংযোগ, এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকতে হবে। এছাড়া, একটি ভালো প্রোফাইল এবং কাজের জন্য বিড করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং-এ কত টাকা আয় করা সম্ভব?

ফ্রিল্যান্সিং-এ আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, এবং কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে আপনার আয় কম বা বেশি হতে পারে। তবে, ভালোভাবে কাজ করলে এবং ক্লায়েন্টদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখলে ভালো আয় করা সম্ভব।

ফ্রিল্যান্সিং কি ফুল-টাইম পেশা হিসেবে নেওয়া যায়?

অবশ্যই! অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংকে ফুল-টাইম পেশা হিসেবে নিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন এবং নিজের কাজের প্রতি ডেডিকেটেড থাকেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য একটি দারুণ পেশা হতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য ভালো রিসোর্স কী কী?

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য অনলাইনে অনেক রিসোর্স রয়েছে। ইউটিউব, ব্লগ, এবং বিভিন্ন অনলাইন কোর্স থেকে আপনি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এছাড়া, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের ফোরামগুলোতেও আপনি অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং-এ সফল হওয়ার মূল মন্ত্র কী?

ফ্রিল্যান্সিং-এ সফল হওয়ার মূল মন্ত্র হলো নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম, এবং ক্লায়েন্টদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। সবসময় নতুন কিছু শিখতে থাকুন এবং নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকুন।

ফ্রিল্যান্সিং-এর জন্য কোন ক্যাটাগরি ভালো?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা একটু কঠিন, কারণ এটা সম্পূর্ণভাবে আপনার আগ্রহ এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে। তবে, কিছু ক্যাটাগরি সবসময় জনপ্রিয় থাকে এবং সেগুলোতে কাজের সুযোগও বেশি থাকে। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে কিছু জনপ্রিয় ক্যাটাগরি এবং তাদের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো: ফ্রিল্যান্সিং এর বিশাল ক্যাটাগরি এর চাহিদা ও বেশি, আপনার প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে অনলাইনে কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।‌

  1. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা খুব বেশি HTML, CSS, JavaScript, PHP, Python দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের চাহিদা বাড়ছে, তাই সুযোগও বাড়ছে।
  2. গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা বেশি Adobe Photoshop, Illustrator, InDesign ইত্যাদি ব্যবহার করে লোগো, ব্যানার, এবং অন্যান্য ডিজাইন তৈরির চাহিদা সবসময় থাকে।
  3. ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা খুব বেশি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি ব্যবহার করে অনলাইন প্রচারণার চাহিদা বাড়ছে, তাই সুযোগও বাড়ছে। 
  4. কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা বেশি  ভালো লেখার দক্ষতা, ব্যাকরণ জ্ঞান, এসইও জ্ঞান দিয়ে ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট এবং ব্লগ পোস্ট লেখার চাহিদা সবসময় থাকে।
  5. ভিডিও এডিটিং এর চাহিদা বাড়ছে Adobe Premiere Pro, Final Cut Pro ইত্যাদি ব্যবহার করে ইউটিউব এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের জন্য ভিডিও তৈরির চাহিদা বাড়ছে। 
  6. ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট এর চাহিদা ও বাড়ছে  যোগাযোগ দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটার জ্ঞান দিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং ব্যক্তিগত কাজে সহায়তা করার চাহিদা বাড়ছে।

এই পয়েন্ট গুলো আপনাকে একটি ধারণা দিতে পারে যে কোন ক্যাটাগরিতে কেমন চাহিদা রয়েছে। তবে, আপনার উচিত নিজের আগ্রহ এবং দক্ষতা অনুযায়ী একটি ক্যাটাগরি বেছে নেওয়া।

উপসংহার

ফ্রিল্যান্সিং একটি দারুণ সুযোগ, যা আপনাকে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার স্বাধীনতা দেয়। আপনি যদি সঠিক পথে চলেন এবং কঠোর পরিশ্রম করেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব। আশা করি, এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং জব ক্যাটাগরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সাহায্য করেছে।

তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার পছন্দের ক্যাটাগরিটি বেছে নিন এবং ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল! আর যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url