অনলাইন টিউটরিং: সুবিধা, চ্যালেঞ্জ ও জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মসমূহ
অনলাইন টিউটরিং: সুবিধা, চ্যালেঞ্জ ও জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মসমূহ
অনলাইন টিউটরিং শিক্ষা জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা শিক্ষার উন্নয়নে একটি অনলাইন ভার্সন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অফলাইনে টিউটরিং যেখানে থেমে যায়, সেখানে ভার্চুয়াল বা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পড়াশোনা নতুন গতি নিয়ে আসে। এখন শুধু টিউশন নিজ এলাকা বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এখন বৈশ্বিক ভাবে অনলাইন টিউটর হয়ে নিজের যোগ্যতা জানান দেওয়ার সময় চলে এসেছে।
যাইহোক, আপনি এখন যা শিখবেন,
অনলাইন টিউটরিং কি?
অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং এর সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
টিউটরিং এর জন্য জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহ ও ফ্রি উপায়
কীভাবে একজন সেরা টিউটর হওয়া যায়?
আরো অনেক কিছু……
অনলাইন টিউটরিং কি?
অনলাইন টিউটরিং হল একটি অনলাইন ভিত্তিক টিউটরিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষক বা টিউটর এক বা একাধিক শিক্ষার্থী কে যে কোন জায়গা থেকে পাঠ্যদান করাতে পারে এবং ভার্চুয়াল শিক্ষাদান গুলো ভিডিও কল, চ্যাট, স্ক্রিন শেয়ার, ডিজিটাল হোয়াইটবোর্ড এবং AI-based টুল এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারে।
এই ধরনের টিউটরিং পদ্ধতি পড়াশোনা হয় internet ভিত্তিক এবং একটি ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি করে, টিউটর বা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করান। মনে রাখা উচিত, এই ধরনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরির পেছনে নেটওয়ার্কযুক্ত পরিবেশের বিকল্প নেই।
ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং এবং অফলাইন টিউটরিং এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রার্থক্য হল অনলাইনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একই জায়গায় উপস্থিত না থেকেও
ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়ানো ও শেখার কাজ সম্পন্ন করতে পারে, যা অফলাইনে সম্ভব নয়।
network যুক্ত পরিবেশে স্থান ও সময়ের পার্থক্য তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। শিক্ষক এক শহরে বা দেশে, আর শিক্ষার্থী অন্য শহর বা দেশে থেকেও একসাথে ক্লাস করতে পারে।
ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে জয়েন এর ক্ষেত্রে শুধু একজন টিউটর বা শিক্ষক, ও শিক্ষার্থীদের অগ্ৰহই যথেষ্ট, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় থেকে ও Live ক্লাসে একই সময়ে যুক্ত হতে পারে। সবাই কে এক জায়গায় শারীরিক ভাবে একসাথে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
তবে, কিছু ব্যতিক্রম হল যখন Recorded ক্লাস বা মেসেজভিত্তিক টিউশনে একই সময়ে থাকা বাধ্যতামূলক নয়, অর্থাৎ, শুধু লাইভ ক্লাসেই সবার একসাথে উপস্থিত হতে হয়।
যাইহোক, ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং এর জন্য আলাদা শিক্ষার্থী এবং বিষয়ের উপর দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, যেমন: স্কুল শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রফেশনাল স্কিল শেখা মানুষ। এছাড়াও গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষা, প্রোগ্রামিং বা স্কিল ট্রেনিং
প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা শেখানোর কৌশল ও দক্ষতা লাগে।
অনলাইন টিউটরিং এর ইতিহাস
ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং মূলত ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে এসে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়, বর্তমানে অনলাইন টিউশন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষে tutor.com নামের একটি অনলাইন ভিত্তক টিউটরিং প্লাটফর্ম তৈরি হয় এবং এর মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে পাঠ্যদান শুরু হয়।
এরপর ২০০০ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যাপক বিস্তার লাভ করলে অনলাইন টিউশনি ও সমান তালে বাড়তে থাকে, এভাবে চলতে থাকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। তেমন কোন উন্নতি হয়নি এই শিক্ষা পাঠের।
কিন্তু ২০১০ সালের একেবারে শুরুতে Chegg Tutors, Wyzant, Khan Academy এর মত বৈশ্বিক প্লাটফর্ম তৈরি হলে ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং একটি পরিণত অনলাইন পদ্ধতিতে পরিণত হয়, এবং অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে এটি একটি নতুন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে পড়াশোনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা যায় এবং গ্ৰুপ স্টাডি করা যায়।
এরপর, কেটে যায় বহু বছর অনলাইন এর ও বিস্তার ঘটে আগের তুলনায় অনেক অনেক বেশি, সালটি ছিল ২০১৯ সাল, হঠাৎ করোনা ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে অফলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়ে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়ালেখা শুরু করে এভাবে কোভিড-১৯ এর সময় online tutoring বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে, যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারত না।
অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং এর সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
ভাচুয়ালি টিউটরিং এর প্রচুর সুবিধা ও সম্ভবনা থাকলেও বেশ কিছু অসুবিধা, চ্যালেঞ্জ বা বাঁধা এটি কে কিছু সংকীর্ণ করে তোলে। আসুন এই সুবিধা, সুযোগ, ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানি এবং এর চ্যালেঞ্জ গুলো কে জেনে মোকাবেলা করার চেষ্টা করি। কারণ, বর্তমান যুগ অনলাইনের যুগ, এই যুগে অফলাইনে টিউটরিং মানে পিছিয়ে যাওয়া।
অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং এর সুবিধা
অনলাইনে নেটওয়ার্ক ভিত্তিক টিউটরিং এর ১১টি সুবিধা দেওয়া হল, যা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে কেন অনলাইনই একমাত্র উপায় যেখানে টিউটরিং করা সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত হবে।
১. পৃথক পৃথক অবস্থানে ও সময়ে থেকে অনলাইন ক্লাস করানো যায়: একজন টিউটর ও শিক্ষার্থী পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই থাকুক না কেন অনলাইনে সহজেই টিউটরিং করতে পারে, এখানে সময়, অবস্থান, সহ কোন কিছুই বাধা দেয় না।
২. ইন্টারনেট থাকলেই যুক্ত হওয়া যায় - আপনার কাছে মোবাইল ও ইন্টারনেট থাকলেই টিউটর ও শিক্ষার্থী যুক্ত হতে পারে। অফলাইনে টিউটরিং করতে ব্যাগ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে হয়, গাড়ি, জ্যাম, ক্লান্তি সব উপেক্ষা করে সময় মত উপস্থিত থাকতে হয়।
৩. সময়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং সময় বাঁচায়। শিক্ষার্থী ও টিউটর নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করতে পারে, এর ফলে স্কুল, চাকরি বা অন্য কাজের সঙ্গে পড়াশোনা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৪. খরচ তুলনামূলক কম: মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট থাকলেই ক্লাস করা যায়। যাতায়াত, হোস্টেল, প্রিন্টেড নোট, কোচিং ফি, এসব খরচ অনলাইন টিউটরিংয়ে অনেকটাই কমে যায়। অর্থাৎ, আপনার অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
৫. মনোযোগ বেশি পাওয়া যায়: টিউটর এবং শিক্ষার্থী উভয়েই পূর্ণ মনোযোগ এর সাথে ভার্চুয়াল ক্লাসে পড়াশোনা সহজেই বোঝাতে ও বুঝতে পারে।
কারণ
একজনের বা ছোট গ্রুপে পড়ানো হয় বলে টিউটর শিক্ষার্থীর দুর্বলতা দ্রুত বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী শেখান।
৬. রেকর্ড করা ক্লাস দেখার সুবিধা: টিউটর লাইভ ক্লাস শেষে একটি রেকর্ডেড ক্লাস ভিডিও পায়, যা পরবর্তীতে মিস হওয়া শিক্ষার্থী দেখে নিতে পারে।
ফলে, লাইভ ক্লাস মিস হলেও রেকর্ড করা ভিডিও পরে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা কঠিন বিষয় বারবার দেখে বোঝার সুযোগ থাকে। যদি অফলাইনে ক্লাসে শুধু চোখে দেখা যায়, ক্লাস থেকে বের হলে কঠিন জিনিস দ্বিতীয়বার দেখার সুযোগ থাকে না।
৮. টেকনোলজি-ভিত্তিক শিক্ষাদান: আধুনিক যুগে আধুনিক শিক্ষা, এটা সবার কাম্য, ডিজিটাল টিউটরিং টেকনোলজি-ভিত্তিক শেখানোর সুযোগ দেয়। এখানে
ভিডিও, অ্যানিমেশন, ডিজিটাল হোয়াইটবোর্ড, কুইজ - এসব ব্যবহার করে শেখা আরও সহজ ও কার্যকর হয়।
৯. একজন ভালো টিউটর হওয়ার সুযোগ: আপনি গ্ৰামে, শহরে, দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকেন না কেন আপনার দক্ষতা থাকলে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করার সুযোগ দিচ্ছে ই-টিউটরিং। গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান, সহ সকল বিষয়ে শিক্ষাদান করানো যায়, শুধু আপনার দক্ষতা থাকলেই হলো।
১০. কম খরচে টিউশন ব্যবসা: একজন শিক্ষিত বেকার নারী ও পুরুষ ইন্টারনেটে প্রাইভেট পড়িয়ে একটি সহজ ব্যবসা দাড় করাতে পারে। অনলাইনে রুম ভাড়া, বিদ্যুৎ, স্টাফ ইত্যাদি, এসব খরচ ছাড়াই অনলাইন টিউশন চালানো যায়। একজন টিউটর হয়েও ভালো টাকা ইনকাম করা যায়।
১১. পৃথিবী ব্যাপী ক্যারিয়ার সম্ভাবনা: অনলাইন পাঠদান অনেক টিউটরের জন্য পূর্ণাঙ্গ পেশা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তৈরি করেছে। যেখানে তারা তাদের দক্ষতা কে বিক্রি একটি সফল অনলাইন ক্যারিয়ার তৈরি করেছে।
অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং চ্যালেঞ্জ
অনলাইন বা অফলাইন আপনি যেখানেই শিক্ষাদান করাবেন সেখানেই কিছু চ্যালেঞ্জ, বাধা, এবং অসুবিধা থাকবে - এটাই বাস্তবতা। আসুন কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ গুলো জেনে নিই, যা আপনাকে একজন টিউটর বা অনলাইন শিক্ষার্থী হিসেবে মোকাবেলা করতে হতে পারে।
১. দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ: অনলাইন টিউটরিং পুরোপুরি ইন্টারনেটনির্ভর, তাই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পুরো লাইভ ক্লাস শেষ হয়ে যেতে পারে, এটি শেখা ও শেখানোর ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দেয়।
২. টিউটর হিসেবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব: সব টিউটর বা শিক্ষার্থী সমানভাবে প্রযুক্তিতে দক্ষ নয়। সফটওয়্যার, অ্যাপ, ডিজিটাল টুল ব্যবহার করতে না পারলে শেখানো ও শেখা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে কোন বিষয়ে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সেটা কে সবার সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয় না।
৩. টিউটর ও শিক্ষার্থীর মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন: মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া, গেম ইত্যাদি এসব অনলাইন প্রভাব শিক্ষার্থীর মনোযোগ নষ্ট করে।
৪. মূল্যায়ন ও পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা: একজন টিউটর এর জন্য শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন যাচাই করা সম্ভব হয় না। অনলাইনে পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টে নকল বা বাইরের সহায়তা নেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
৫. ব্যবহারিক বা হাতে-কলমে শেখার সীমাবদ্ধতা: ল্যাব ওয়ার্ক, প্র্যাকটিক্যাল বিষয়, হাতে-কলমে শেখানো অনলাইনে পুরোপুরি কার্যকর হয় না। ধরুন, আপনি একজন শিক্ষক বা টিউটর হিসেবে আপনার কোন শিক্ষার্থী জিজ্ঞাসা করল, স্যার আমি আমি মানুষ ব্রেন ঠিক ভাবে আঁকতে পারছি না।
অনলাইনে থাকার কারণে তাকে হাতে ধরে এঁকে দেখা যায় না এবং এটা একটি বাড়তি ঝুঁকি বাড়াবে যখন একজন শিক্ষার্থীর সামনে পরীক্ষা থাকে।
৬. প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সময় নষ্ট: অডিও কাজ না করা, ক্যামেরা সমস্যা, লগইন সমস্যা, একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করা, প্রশ্ন ও উত্তর তৈরি করা, কীভাবে পড়ানো যায় তার কৌশল করা ইত্যাদি - এসব কারণে ক্লাসের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং এগুলো বেশ ঝামেলার ও বটে।
৭. চোখ ও স্বাস্থ্যের সমস্যা: দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে চাপ, মাথাব্যথা ও শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেয়, ফলে চোখে কম দেখা, স্থুলতা বৃদ্ধি, সহ নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
৮. ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যা: নেটওয়ার্ক ল্যাগ বা অডিও সমস্যার কারণে কথা স্পষ্ট শোনা না গেলে ভুল বোঝাবুঝি হয়, ফলে ভূল শিক্ষা পরীক্ষায় করলে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হতে পারে।
টিউটরিং এর জন্য জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহ ও ফ্রি উপায়
অনলাইন পাঠদান এর ক্ষেত্রে উপযুক্ত এবং ফ্রি অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে, যা ব্যবহার করে ফ্রি এবং পেইড উভয় ভাবেই টিউটরিং শুরু করা যায়।
- ফ্রি শুরু: YouTube, Facebook, Google Meet
- ব্যক্তিগত টিউশন: Zoom, Google Meet, Starconnect, dikha,
- বড় অডিয়েন্স: YouTube Live
- একাডেমিক: Google Classroom
- স্কিল কোর্স: Udemy, Skillshare
কীভাবে শুরু করবেন এবং কীভাবে একজন সেরা টিউটর হবেন?
একজন ভালো টিউটর বা একজন ভালো অনলাইন শিক্ষক হতে হলে কিছু জিনিস শিখতে হবে, ব্যবহার করতে হবে, এবং কিনতে হবে - তাহলে আপনি একজন টিউটর হিসেবে যাত্রা শুরু করতে পারবেন।
১. যোগ্যতা অর্জন করুন এবং বিষয় নির্বাচন করুন
২. কী কী লাগবে (বাস্তব চেকলিস্ট)
৩. কোথায় পড়াবেন (প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন)
৪. নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের ঠিক করুন (এটা না করলে স্টুডেন্ট পাবেন না)
৫. পেমেন্ট যেভাবে নিবেন
৬. প্রথম স্টুডেন্ট পাবেন কীভাবে (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
৭. টিউটরিং শুরু করুন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হল:
কীভাবে টিউটরিং শুরু করবেন?
ইন্টারনেটে টিউটরিং ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে আপনাকে ৭টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে - সেগুলো নিচে দেওয়া হল:
১. যোগ্যতা অর্জন করুন এবং বিষয় নির্বাচন করুন
এক বা একাধিক বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করুন, যদি কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, তাহলে উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে নিয়ে টিউটর হিসেবে টিউটরিং শুরু করতে পারেন।
২. কী কী লাগবে (বাস্তব চেকলিস্ট)
অনলাইন টিউটর হতে হলে বেশ কিছু জিনিস আপনার দরকার, যা আপনাকে অনলাইন ক্লাস করানোর জন্য কাজে দেবে।
Minimum setup
- স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ
- ভালো ইন্টারনেট (10–20 Mbps)
- ইয়ারফোন / হেডফোন
- Google Meet বা Zoom (ফ্রি)
Optional কিন্তু প্রফেশনাল হলে ভাল
- Writing pad বা graphics tablet
- External mic
- Canva (slide বানানোর জন্য)
৩. কোথায় পড়াবেন (প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন)
শিক্ষার্থীদের একটি অনলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে, এই জন্য কিছু ফ্রি ও সহজ উপায়, জনপ্রিয় অনলাইন টিউটরিং প্ল্যাটফর্ম এবং বাংলাদেশি কিছু প্লাটফর্ম এর নাম দেওয়া হলো:
ফ্রি ও সহজ কিছু উপায় হল Facebook Group or Page, WhatsApp or Telegram, Google Meet ইত্যাদি।
জনপ্রিয় কিছু ই-টিউটরিং প্ল্যাটফর্ম, যা
আন্তর্জাতিক ভাবে ক্লাস পরিচালনা করতে দেয়, যেমন: Preply, Tutor.com, Cambly, Chegg Tutors ইত্যাদি
বাংলাদেশি কিছু সাইট এর নাম দেওয়া হলো: Starconnect, Bohubrihi (course-based)
Shikkhok.com, 10 Minute School (instructor application)
৪. নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীদের ঠিক করুন (এটা না করলে স্টুডেন্ট পাবেন না)
নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীরা কারা, কোন ক্লাসে পড়ে, ইত্যাদি ঠিক করুন। উদাহরণ স্বরূপ,
“SSC 2026 ব্যাচের গণিত”
“Class 8 English Grammar”
“Beginner Spoken English for adults”
৫. পেমেন্ট যেভাবে নিবেন
আপনি দেশি শিক্ষার্থীদের নাকি বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াবেন তার উপর নির্ভর করে পেয়েন্ট নিন, পেমেন্ট গুলো বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় এর মাধ্যমে নিতে পারেন এবং বিদেশ থেকে নিতে Payoneer, wise, Bank transfer ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।
৬. প্রথম স্টুডেন্ট পাবেন কীভাবে (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
প্রথমে কেউ স্টুডেন্ট সহজে পায় না, শিক্ষার্থীদের প্রথমে আপনার টিউটরিং এর সম্পর্কে জানাতে হবে। এই জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:
- ১. ফ্রি কিছু ক্লাস ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় দেওয়া।
- ২. এডস রান করতে পারেন।
- ৩. কিছু অফার দিন, আগে শেখা পরে টাকা, কম টাকায় দামি কোর্স ইত্যাদি।
৭. টিউটরিং শুরু করুন…..
যখন আপনি কিছু শিক্ষার্থী বা স্টুডেন্টস পাবেন, তখন তাদের নিয়ে টিউটরিং শুরু করতে পারেন। প্রতিটি ব্যাচ থেকে শিক্ষা নিন এবং এভাবে টিউটরিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলুন।
কীভাবে একজন সেরা টিউটর হবেন? (আমার কিছু টিপস)
একজন সেরা এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন টিউটর হতে হলে কিছু অনলাইন ভিত্তিক জ্ঞান এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক ভাবে পরিচালনা করার উপায় জানতে হবে, কিন্তু কি কি জানতে হবে?
১. আপনার কথা স্পষ্ট করুন এবং উদাহরণ সহ সকল ধরনের লেশন শিক্ষা দিন।
২. Canva বা অনুরূপ প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্লাইড তৈরি করুন, যেনো শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন।
৩. অনলাইন ক্লাস শুরু করার আগে সকল কিছু চেক করে নিন, যেমন: ক্যামেরা, ইন্টারনেট, এবং একটি ক্লাস পরিচালনা করার জন্য যা যা লাগে সব আগেই এক জায়গায় করুন।
৪. কিছুক্ষণ পড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক নিন, যদি কেউ বুঝতে না পারে, তাহলে বুঝিয়ে দেওয়া।
৫. শেখানোর একটি পরিষ্কার কাঠামো রাখুন
John Hattie–র Visible Learning গবেষণায় দেখা যায়,
Structured teaching–এর effect size 0.75+ (খুব শক্তিশালী)। কিছু কার্যকরী উপায় দেওয়া হল, যা আপনাকে ক্লাস পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
- আগের ক্লাস রিভিশন (5 মিনিট)
- নতুন বিষয় (20–25 মিনিট)
- লাইভ প্র্যাকটিস (10–15 মিনিট)
- প্রশ্ন + ফিডব্যাক (5 মিনিট)
FAQs (অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর)
অনলাইন কোচিং বা টিউটরিং সম্পর্কে আপনার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, অসুন কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই।
১. অনলাইন টিউটর বলতে কি বোঝায়?
অনলাইন টিউটর হল ইন্টারনেট ব্যবহার করে যিনি শিক্ষার্থীদের Zoom, Google Meet, YouTube , Facebook বা অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে লাইভ ক্লাস নেন, একজন টিউটর ছাড়া অনলাইন টিউটরিং ব্যর্থ এবং এখানে একজন টিউটর একজন শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন।
২. কীভাবে একটি ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি হয়?
একজন টিউটর প্রথমে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে একটি নেটওয়ার্ক যুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এবং এখানে ভার্চুয়ালি শিক্ষক বা টিউটর এবং শিক্ষার্থীরা পৃথক পৃথক অবস্থান থেকে যুক্ত হয়, আর এভাবেই গড়ে উঠে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম।
৩. অনলাইন টিউটরিং নাকি অফলাইন টিউটরিং কোনটি সেরা?
অনলাইন টিউটরিং এবং অফলাইন টিউটরিং এর মধ্যে দুইটিই তার ব্যবহার, অবস্থান এবং সময়ের এর উপর ভিত্তি করে সেরা। আপনি যদি একজন ব্যস্ত মানুষ হন এবং ব্যালান্স করে চলতে চান তখন অনলাইন টিউটরিং আপনার জন্য সেরা হতে পারে এবং আপনি যদি শিক্ষার্থীদের সামনা সামনী পড়াতে চান তখন আপনার জন্য অফলাইন টিউটরিং সেরা হতে পারে।
৪. ইন্টারনেট ভিত্তিক টিউটরিং কি অফলাইন প্রাইভেট বা টিউশন এর জায়গা দখল করতে পারে?
হ্যাঁ, Online tutoring অফলাইন টিউটরিং এর জায়গা দখল করতে পারে, কারণ
১. মানুষ বর্তমানে অনলাইন নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
২. বিশ্বব্যাপী অনলাইন শিক্ষাদান এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. মানুষ বর্তমানে গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন বা শুধু একাডেমীক পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত নেয়, এখন মানুষ অনলাইন Skill ডেভেলপ করছে এবং বর্তমানে মানুষেরা সকল ব্যবসা, চাকরি, পড়াশোনা অফলাইন থেকে অনলাইনে transform করছে।
উপসংহার
অনলাইন টিউটরিং হল ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে টিউটর এবং শিক্ষার্থীর একটি মিলনস্থল, যেখানে একটি শ্রেণী কক্ষের মতই শিক্ষক ক্লাস করান এবং শিক্ষার্থীরা শেখে। প্রার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, অনলাইন ক্লাস গুলো সম্পন্ন হয় ভার্চুয়ালি।
বর্তমান যুগ অনলাইন যুগ, তাই এই যুগে অবশ্যই পড়াশোনা অনলাইন নির্ভর হওয়া উচিত। এটি একটি ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা, যখন মানুষ আর ক্লাসে যাবে এবং মানুষ ঘরে বসে পড়াশোনা করবে।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url