ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার: সফল ভিডিও এডিটর হওয়ার টিপস

ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার: সফল ভিডিও এডিটর হওয়ার টিপস

একজন ভিডিও এডিটিং করছে

ভিডিও এডিটিং হল একটি অনলাইন ভিত্তিক কাজ, যেখানে একজন ভিডিও এডিটর চাইলেই তার ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারে, এখন আমাদের সফল ভিডিও এডিটর হওয়ার টিপস জানলে এটি আরো সহজ। 

কিন্তু কীভাবে? 

  • এজন্য আপনাকে জানতে হবে ভিডিও এডিটিং আসলে কি? 
  • ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার কতটা সম্ভবনাময় পেশা? 
  • কী কী সফটওয়্যার দিয়ে ভিডিও এডিটিং করা যায়? 
  • ভিডিও এডিটিং করার ধাপ গুলো কি কি
  • ভিডিও এডিটিং কোথায় শিখব?
  • ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার গঠনের সুবিধা কি কি? 

ভিডিও এডিটিং আসলে কি? 

ভিডিও এডিটিং (Video editing) হল মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যবহার করে Raw Video কে মোবাইল অ্যাপস (capcut, InShot, Alight Motion, Kinemaster) অথবা পিসি (PC) সফটওয়্যার দিয়ে কাটছাঁট, কালার কারেকশন, ট্রিম, সাউন্ড এডিটিং এবং ইফেক্ট যোগ করে সুন্দর, প্রাণবন্ত, অর্থবহ ভিডিও তে রুপান্তর করা। 

যিনি ভিডিও এডিটিং করেন, তাকে বলা হয় ভিডিও এডিটর এবং ভিডিও এডিটর এর কাজ হল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার, অ্যাপস, বা টুল ব্যবহার করে ভিডিও কে সাজানো-গোছানো এবং দর্শক বা ভিজিটরদের আর্কষন করে এমন ভাবে ভিডিও গুলো কে এডিটিং করা। 

মনে রাখা উচিত যে, ভিডিও এডিটিং হল একটি সৃজনশীল অনলাইন কাজ, যা সৃজনশীল বা Creative মানুষ গুলোর দ্বারাই ভিডিও এডিটিং কাজ গুলো করা সম্ভব। অর্থাৎ, ভিডিও এডিটর হিসেবে আপনার ক্রিয়েটিভিটি + টেকনিকাল স্কিল থাকা আবশ্যক। 


ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার কতটা সম্ভবনাময় পেশা?

ভিডিও এডিটিং একটি সম্ভবনাময় পেশা, যেখানে আপনি আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারবেন, একজন সফল ভিডিও এডিটর হিসেবে দেশে এবং বিদেশে কাজ করে বাজিমাত করতে পারবেন।‌

কিন্তু কেন Video editing একটি ভালো ক্যারিয়ার? 

১. ভিডিও কনটেন্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে?

ভিডিও এর উপর ভিত্তি করে ভিডিও এডিটিং দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আপনি একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। কারণ, YouTube, Facebook, TikTok, Instagram Reels—সব প্ল্যাটফর্মেই ভিডিও এখন প্রধান কনটেন্ট ফরম্যাট, ফলে আপনার কাজের কোন অভাব হবে না এবং ভিডিও এডিটিং শিখে লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। 

এছাড়াও, আপনি যদি একজন ভালো মানের ভিডিও এডিটর হন, তাহলে আপনি সিনেমা, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ভিডিও এডিটিং এর কাজ, বানিজ্যিক ভিডিও সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও টিউটোরিয়াল ভিডিও এডিটিং এর সুযোগ রয়েছে।‌

Cisco এর Visual Networking Index এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৮০%–এর বেশি ভিডিও কনটেন্ট থেকে আসে, অর্থাৎ যেখানে ভিডিও আছে, সেখানে ভিডিও এডিটর লাগবেই। 


২. গ্লোবাল কাজ, লোকাল সীমাবদ্ধতা নেই

আপনি একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে দেশ বসে দেশের কাজ এবং দেশে বসে বিদেশিদের ভিডিও এডিটিং কাজ করতে পারবেন, বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে গ্লোবালি কাজ করে লাখ টাকা ইনকাম করছে। কারণ, Video editing এর গ্লোবাল চাহিদা সম্পন্ন কাজ এবং আপনি একজন লোকাল হিসেবে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। 

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, Upwork ও Fiverr–এর তথ্য অনুযায়ী, Video Editing top 10 freelancing skills–এর মধ্যে পড়ে, অর্থাৎ ভিডিও এডিটিং কাজের বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে।‌

আপনি একজন বাংলাদেশি এডিটর হিসেবে USA, UK, UAE সহ বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করে করতে সুযোগ আছে এবং এখান থেকে ভিসা ছাড়াই ডলার ইনকাম করার সম্ভবনা রয়েছে। 

৩. শেখার খরচ কম, টাকা পাওয়া যায় অনেক বেশি

ভিডিও এডিটিং শুরু করতে লাগে, একটি মাঝারি মানের ল্যাপটপ, ভিডিও এডিটিং কোর্স করা, এবং ৩–৬ মাস নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে paid কাজ পাওয়া যায় খুব সহজেই। আপনি একজন Beginner হিসেবে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার (DaVinci Resolve)ফ্রি ব্যবহার করতে পারেন, এবং প্রফেশনাল কাজে Premiere Pro পেইড ব্যবহার করতে পারেন। 

Pro tips: হাসিব নামের একজন ভিডিও এডিটর সিমপুল একটি রিলস ভিডিও এডিটিং করার জন্য $১০০ চার্জ করে এবং সে জানাই তার ক্লাইন্ট আন্তরিকতার সাথে $১০০ পেমেন্ট করে দেয় এবং সে Payoneer এর মাধ্যমে ডলার পায়। 


৪. একাধিক ইনকাম সোর্স তৈরি করা যায়

একজন ভিডিও এডিটর একসাথে একাধিক কাজ করতে পারে, এবং এর জন্য ভিডিও এডিটিং Skill শিখলেই হয়। ভিডিও এডিটিং শিখে যে সমস্ত কাজ পাওয়া যায়, সেগুলো হল: 

  1. ১. Freelancing (Upwork, Fiverr, Freelancer, people per hour, LinkedIn) 
  2. ২. স্যোশাল মিডিয়া একাউন্ট বা চ্যানেল খোলা (ফেসবুক, ইউটিউব এ চ্যানেল খুলে ইনকাম) 
  3. ৩. Course করানো (ভিডিও এডিটিং শিখে অন্যদের শিখানো) 
  4. ৪. Agency কাজ (ভিডিও এডিটর হিসেবে বড় ভিডিও এডিটিং Agency এর কাজ করা) 

অর্থাৎ, একটি স্কিল শিখে বহু ইনকাম পথ তৈরি করা যায়, সেটা হল Video editing । 

৫. AI আসলেও Video Editor শেষ হচ্ছে না

অনেকেই বলছে এআই আসায় Video Editor এর দিন শেষ, কিন্তু আসল ঘটনা হল এআই বর্তমানে Cut, subtitle, noise removal করে, তবে এআই এর কিছু সিমাবদ্ধতা রয়েছে, এখনো এআই পারে না এমন কাজ গুলো হল: Storytelling, Emotion timing, Brand sense, Audience psychology ইত্যাদি। 

যারা প্রফেশনাল কাজ করে তাঁরা শুধু এআই দিয়ে ভিডিও বানিয়ে প্রচার করেন না, তাঁরা জানে একটি ভিডিও ভাইরাল করতে হলে ভিডিও এর মধ্যে থাকতে হবে Strong Hook, Clear Message, Audience Relatability, Proper Story Flow, Fast & Clean Editing ইত্যাদি, এসব একজন ভিডিও এডিটরই পারে একটি ভিডিও এর মধ্যে সংযুক্ত করতে। 

৬. ক্যারিয়ার গ্রোথ খুব পরিষ্কার

সব Video editing–এ ইনকাম সমানভাবে বাড়ে না। কিছু specific editing skill আছে, যেখানে স্কিল যত বাড়ে, rate ঠিক ততটাই সরাসরি বাড়ে, এই সকল Skill develop করলে একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে সবার চেয়ে বেশি ইনকাম করতে পারবেন। এই ক্যারিয়ারে স্কিল বাড়লে ইনকামও সরাসরি বাড়ে: 

  • Senior Editor
  • Motion Graphics Designer
  • Creative Director
  • Post-production Supervisor
  • নিজের Production House


৭. ভবিষ্যৎ ৫–১০ বছরেও প্রাসঙ্গিক থাকবে

ভবিষ্যৎ পেশা গুলোর প্রচার বা প্রসারের কাজ করবে ভিডিও, যেমন: E-learning, Online coaching, OTT platforms, Personal branding ইত্যাদি - এসব 

সবখানেই মূল অস্ত্র হল ভিডিও। আর এই সকল কাজ কাজ সাজানো গোছানো ভাবে ভিজিটর বা অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করবে ভিডিও এডিটর। ভিডিও এডিটিং কোনো ট্রেন্ড না, এটা ডিজিটাল যুগের স্থায়ী স্কিল, যেখানে আপনি আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।‌


কী কী অ্যাপস ও সফটওয়্যার দিয়ে ভিডিও এডিটিং করা যায়? 

আপনি একজন Video editor হিসেবে আপনাকে ভিডিও এডিটিং এর সময় বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস বা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। এগুলো প্রফেশনাল, সহজ, এবং ফ্রি পাওয়া যায়, যা আপনি মোবাইল, Windows/Mac, Linux, ইত্যাদি ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবেন। 

শিখতে সহজ এবং সোশ্যাল ভিডিওতে ভিডিও আপলোড এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন CapCut, InShot, KineMaster, Filmora, যা আপনি মোবাইল দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলোর play store এ অ্যাপস রয়েছে। 

প্রফেশনাল পোস্ট-প্রডাকশন এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন Premiere Pro, DaVinci Resolve, Final Cut Pro ইত্যাদি, এগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পেশাদার ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার, এই সকল সফটওয়্যার গুলো Windows/Mac, Linux এ খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। কালার গ্রেডিং ও প্রফেশনাল এডিটিংয়ের জন্য সেরা। 

Pro tips: নিচে spacial চারটি tips দেওয়া হলো। 

  • ১. আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, Adobe Premiere Pro হল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পেশাদার ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার (Windows/Mac) এর জন্য। 
  • ২. Wondershare Filmora এডিটিং সফটওয়্যার এর সহজ ইন্টারফেস আছে, যা নতুনদের জন্য ভালো। 
  • ৩. screen recording সহ editting এর জন্য ভালো সফটওয়্যার Camtasia। মনে রাখা উচিত এটি টিউটোরিয়াল ভিডিওর জন্য ভাল। 
  • ৪. VSDC, Shotcut হল একটি ফ্রি এবং ওপেন-সোর্স এডিটিং সফটওয়্যার। 


ভিডিও এডিটিং করার ধাপ গুলো কি কি?

একটি ভিডিও এডিটিং করার জন্য কিছু steps বা ধাপ অনুসরন করা উচিত, এতে ভিডিও এডিটিং সহজ হয় এবং দ্রুত এডিটিং করা যায়। ভিডিও এডিটিং করার ৯টি ধাপ হল: 

১. আইডিয়া তৈরি করা এবং প্রথম কাজ 

২. ভিডিও অথবা ইমেজ গুলো ইম্পোর্ট করা 

৩. ভিডিও বা ইমেজ গুলো কাট করা বা ছেঁটে ফেলা 

৪. ভিডিও বা ইমেজ কাট ছাঁটের পর ফাইন টিমিং ও ট্রানজিশন

৫. কালার কারেকশন এবং ও গ্রেডিং করা

৬. ভিডিও এর মধ্যে অডিও এডিটিং করা 

৭. টেক্সট, টাইটেল ও গ্রাফিক্স

৮. পুরো ভিডিও পুনরায় রিভিউ এবং কারেকশন করা 

৯. এক্সপোর্ট (Export) করা বা ডাউনলোড করা। 


ভিডিও এডিটিং কোথায় শিখব?

ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার গড়তে হলে আপনাকে ভিডিও এডিটিং শিখতেই হবে, কিন্তু কোথায় শিখবেন এই লাখ টাকার পেশা? ভূল কোন উৎস থেকে ভিডিও এডিটিং শেখা যাবে না, শিখতে হবে প্রফেশনাল ভিডিও এডিটরদের থেকে। ভিডিও এডিটিং শেখার নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম গুলো হল: 

১. বই পড়ে ভিডিও এডিটিং।

২. বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম থেকে কোর্স করুন। (10 minutes school)

৩. মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং শিখুন।

৪. বাংলাদেশি নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম থেকে কোর্স করুন (Star IT, BASIS Academy, Creative IT Academy)

৫. মোবাইল দিয়ে Bangla Tutorials দেখতে পারে, এখানে ছোট টিপস, ট্রিকস, মোবাইল ভিডিও এডিটিং দেখতে পাবেন। 

  • Premier ফ্রি ফুল কোর্স 
  • Capcut full ফ্রি কোর্স 

৫. Udemy, Coursera, Skillshare এ গিয়ে প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং কোর্স করতে পারেন। 

ভিডিও এডিটিং লিখছে।

ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার গঠনের সুবিধা কি কি? 

ভিডিও এডিটিং কে পেশা বা ক্যারিয়ার হিসেবে গ্ৰহণ করার পর এর অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কিন্তু কি কি সুবিধা একজন ভিডিও এডিটর পাবে, চলুন জানিয়ে দেয়। 

১. ঘরে বসে কাজ করা যায়।

২. বিশ্ব ব্যাপী কাজের চাহিদা। 

৩. একাধিক আয়ের সুযোগ। 

৪. পিসি বা ল্যাপটপ থাকলেই শুরু করা যায়। 

৫. ৩০০০-৪০০০ হাজার টাকার কোর্স থেকে ভিডিও এডিটিং শেখার সুবিধা। 


ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড? 

ভিডিও এডিটিং শেখা শেষ, এখন আপনাকে একটি কাজ খুঁজে পেতে হবে এবং কাজ খুঁজে আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার তৈরি করতে হবে, কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন? আসুন জানিয়ে দেয়: 

১. সম্পূর্ণ ভিডিও এডিটিং শেখা।

২. এরপর, কাজ শুরু করতে একটি সফটওয়্যার বেছে নিন।

৩. ভিডিও এডিটিং প্রাকটিস করুন।‌

৪. নিজের Portfolio বানান।

৫. Freelancing বা ভিডিও এডিটিং জব করুন 

৬. কাজ পাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করুন।‌

৭. সঠিকভাবে কাজ গুলো সম্পন্ন এবং টাকা ইনকাম করুন। 

নিচে ব্যাখ্যা দেওয়া হল: 


১. সম্পূর্ণ ভিডিও এডিটিং শিখুন 

Timeline & Editing Basics, যেমন: Cut, Trim, Split, Ripple, Roll, Multi-track timeline ইত্যাদির ব্যবহার শিখুন।

Video Formats & Codecs, Frame rate এবং Resolution গুলো সম্পর্কে জানুন।‌

২. এরপর, কাজ শুরু করতে একটি সফটওয়্যার বেছে নিন।

এরপর আপনার পছন্দের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার বেছে নিন, তবে জনপ্রিয় এবং পেশাদারদের পরামর্শ অনুযায়ী Adobe Premiere Pro বা DaVinci Resolve ব্যবহার করতে পারেন। 

৩. ভিডিও এডিটিং প্রাকটিস করুন।‌

ভিডিও এডিটিং চর্চা করা জরুরি, এতে আপনার শেখা জিনিস আরো সুন্দর হয় এবং আসল কাজে ভূল কমে। কিন্তু কী কী প্রাকটিস করবেন? 

  • Daily Timeline Practice (Cut & Trim Mastery) 
  • Raw Footage থেকে Clean Video বানানো
  • Audio Practice (অবহেলা করবেন না)
  • Color Correction & Grading Practice
  • Text, Title & Caption Practice
  • Motion & Transition Practice (ইনকাম বাড়ায়)
  • Platform-wise Editing Practice
  • Speed Practice (দ্রুত কাজ করার অনুশীলন করুন)
  • Real-World Practice (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বাস্তবে কাজ গুলো করা)

মনে রাখা উচিত, প্রতি দিন প্রাকটিস করলেই প্রো লেভেলের ইডিট করা সম্ভব হয়।

৪. নিজের Portfolio বানান।

ভিডিও এডিটর হিসেবে আপনার একটি Portfolio তৈরি করতে হবে, Portfolio টি Behance, Vimeo, Dribbble বা আপনি ডোমেইন ও হোস্টিং নিয়ে তৈরি করতে পারেন। 

এখানে আপনার পূর্বের অভিজ্ঞতার কিছু ভিডিও, সার্টিফিকেট, সফটওয়্যার ব্যবহার এর অভিজ্ঞতা, অন্যান্য প্রজেক্ট শেষ করার কিছু প্রমাণ রাখা যায়। এগুলো দেখেই একজন ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ দিবে। 

৫. Freelancing বা ভিডিও এডিটিং জব করুন 

আপনার পছন্দ অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন এজেন্সি, কোম্পানি, টিভি চ্যানেল বা অন্যান্য যেকোনো জায়গায় চাকরি করতে পারেন। এছাড়াও, আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ খুঁজতে পারেন। 

৬. কাজ পাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করুন।‌

প্রথমে কেউ আপনাকে কাজ দেবে না, কারণ আপনি নতুন এবং অভিজ্ঞতা কম। তবে, আপনি যদি একজন যোগ্য এবং দক্ষতা সম্পন্ন ভিডিও এডিটর হন, তাহলে কিছু কৌশল অবলম্বন করে কাজ পেতে পারেন।

  • ১. কম টাকায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিন।
  • ২. ক্লাইন্টদের এক্সট্রা কাজ করুন। 
  • ৩. ছোট ছোট কাজ গুলো সম্পন্ন করুন, এতে বড় কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে। 
  • ৪. আপনি দক্ষতা অনুযায়ী জবে এ্যাপ্লিই করুন 

৭. সঠিকভাবে কাজ গুলো সম্পন্ন এবং টাকা ইনকাম করুন। 

প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে দিল, সেটা হোক ফ্রিল্যান্সিং, এজেন্সি বা কোম্পানির কাজ। 

আরো পড়ুন: ফ্রিল্যান্সিং কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে শুরু করব? 

Pro tips: এভাবে ও শুরু করতে পারেন 

১. ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন ( ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট জব এর মাধ্যমে ডেক্সটপ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ দিয়ে সারা পৃথিবীতে কাজ শুরু করুন) 

২. বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, প্লাটফর্মে ফুল টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে। (বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় চাকরি খুঁজতে হবে এবং অনলাইনে খুঁজতে পারেন) 

৩. একজন ভালো মানের ভিডিও এডিটর হলে ফেসবুক, ইউটিউব এ চ্যানেল খুলে আয় করতে পারেন। (পেজ বা চ্যানেল খুলতে হবে) 

৪. ছোট-বড় নাটক সিনেমার ভিডিও এডিটিং করতে পারেন। (জবে এ্যাপ্লিই করতে হবে) 


FAQs (অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর)

১. কি কি নিয়ে ভিডিও তৈরি হয়? 

একটি একটি ভিডিও তৈরি হয় দুটি উপায়ে, ১. ইমেজ, ২. Raw ভিডিও থেকে।

ইমেজ হল কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি, যেখানে একজন ভিডিও এডিটর একটির পর আরেকটি ছবি সাজিয়ে একটি পরিপূর্ণ ভিডিও তৈরিতে রুপ দেন। 

ভিডিও হল কিছু ছোট ছোট ভিডিও, যেখানে একজন ভিডিও এডিটর একটির পর আরেকটি ভিডিও সাজিয়ে সুন্দর একটি ভিডিওতে পরিণত করেন।‌

২. ভিডিও এডিটিং এর উপর কি কি দক্ষতা অর্জন করব? 

একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইন, স্টোরিটেলিং, ভিডিও কাটিং ইত্যাদি দক্ষতা অর্জন করা লাগে। এক কথায়, ভিডিও এডিটিং এর উপর ব্যাসিক এডিটিং সবচেয়ে ভালো ভাবে রত্য করতে হবে। কারণ প্রতিটি ভিডিও এর মধ্যে এসব দক্ষতা লাগবেই।

৩. পেশাদার ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার কোনটি? 

পেশাদার ভিডিও এডিটর, ইউটিউবার, চলচ্চিত্র নির্মাতা সহ প্রায় সকলের Adobe Premiere Pro প্রথম পছন্দ। সফটওয়্যারটি পেশাদার মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ পেশাদার টুলস, কালার গ্রেডিং, অডিও মিক্সিং, AI ফিচার, মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সহ ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও এডিটিং করে। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url