দুই ছেলের দুই ফুল গাছ: সুন্দর ও অসুন্দর

গাঁদা ফুলের গাছের যত্ন, ধৈর্য ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে কীভাবে সাফল্য অর্জন করা যায়, সেই অনুপ্রেরণামূলক শিশুতোষ গল্প।

দুই ছেলের দুই ফুল গাছ গল্পটি একটি শিক্ষামূলক শিশুতোষ গল্প, যেখানে গাঁদা ফুলের গাছের পরিচর্যার গুরুত্ব, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং ধৈর্যের মূল্য সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক পরিচর্যা একটি ছোট চারাকেও সুস্থ ও সুন্দর গাছে পরিণত করতে পারে, আর অবহেলা একটি ভালো সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারে। 

দুই ছেলের দুই ফুল গাছ: সুন্দর ও অসুন্দর

শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল বোঝাতে এই গল্পটি অত্যন্ত উপযোগী।

দুই ছেলের দুই ফুল গাছ: যত্ন ও পরিশ্রমের শিক্ষামূলক শিশুতোষ গল্প

একটি সবুজে ঢাকা ছোট্ট গ্ৰামে হাসানুল্লাহ সাহেবের বাড়ি। পরিবারে তারা মোট চার জন সদস্য একসাথে বসবাস করে। হাসানুল্লাহ সাহেবের বড় ছেলে হাসিব, তার ছোট ছেলে হাবিল, এবং তার সহধর্মীণী হাবিবা।‌

গ্ৰামের মধ্যে হাসানুল্লাহ সাহেবের পরিবার সবচেয়ে সুখী পরিবার। হাসানুল্লাহ সাহেবের কাজের কারণেই তার পরিবারের সুখের মূল উৎস। 

তিনি বাড়ির পাশের একটি নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা বিক্রি করেন এবং এভাবেই তাদের সংসার চলছিল। 

হাসিব এবং হাবিল দুই ছেলেই হাসানুল্লাহ সাহেবের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করত। তারা দুই ভাই তার বাবাকে ফুলের গাছ তৈরির কাজে সাহয্য করতে বেশি পছন্দ করত। কারণ, হাসানুল্লাহ সাহেবের দুই ছেলেই ফুল খুব পছন্দ করত।

একদিন হাসিব এবং হাবিল নার্সারিতে এলো এবং হাসিব বলল, “বাবা, আজকে কোন ফুলের গাছের বীজ টবে রোপণ করতে হবে?”

হাসানুল্লাহ সাহেব বলল, “হাসিব তোমরা দুই ভাই দুইটা টব নাও এবং দুই টবে গাদা ফুলের বীজ রোপণ করো।”

হাসিব বলল, “আচ্ছা, বাবা। আমরা এই কাজ খুব দ্রুত শেষ করতে পারব। তুমি চিন্তা করো না।” 

পাশে থাকা হাবিল বলল, “ভাইয়া, তুমি আগের ফুলের গাছ ঠিকভাবে রোপণ করতে পারোনি। এখন ঠিক ভাবে রোপণ করো।”

হাসিব হাবিলের কথায় রেগে গেল এবং বলল, “হাবিল তুমি শুধু দেখ, আমি কীভাবে এই গাদা ফুলের গাছ কে কীভাবে সুন্দর করে বড় করি। আমি এখান থেকে গাদা ফুল ফুটিয়ে দেখাবো। তারপর, আমি তোমাকে দেখিয়ে দেব।” 

হাসিবের উদ্দীপনা দেখে হাবিল ও বলল, “আচ্ছা, ভাইয়া প্রতিযোগিতা হয়ে যাক। কার ফুলের গাছ, কে সুন্দর করে বড় করতে পারে?”

হাসানুল্লাহ সাহেব দুই ছেলের কথা কাটাকাটি দেখে উঠে এসে বললেন, “তোমরা প্রতিযোগিতা করো। কিন্তু, ঝগড়া করো না। শান্ত হও, যদি তোমাদের মধ্য থেকে যে ভালোভাবে ফুলের গাছ বড় করতে পারবে, তার জন্য রয়েছে বিশেষ পুরষ্কার। তবে, পুরষ্কার কি দিব তা এখন বলব না। তোমরা আগে দুইজন দুই ফুলের গাছ বড় করো। তারপর, আমি তোমাদের পুরষ্কার দেব।”

হাসিব এবং হাবিল খুব মনোযোগ সহকারে ফুলের গাছ বড় করার জন্য প্রস্তুতি নিলো। 

যদিও হাসিব গাঁদা ফুলের যত্নের ব্যাপারে একটু উদাসীন ছিল। তাঁরা দুজনই গাঁদা বীজ অঙ্কুরোদ্গম এর ৫–১০ দিন মধ্যে একটি পরিণত চারায় পরিণত করল। 

এরপর, হাসিব চারা তৈরির ১৫–২৫ দিন পর কোন তেমন কোন পরিচর্যা করল না। তার চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হল। 

অন্যদিকে হাবিল বীজ অঙ্কুরোদ্গম, চারা তৈরির সময় সঠিক অনুপাতে পানি দিল, কীটনাশক দিল, চারা বৃদ্ধির জন্য জমিতে সার দিল। 

হাবিলের গাঁদা ফুলের গাছের দ্রুত বৃদ্ধি পেল। সে ২৫–৪৫ দিন মধ্যে একটি সুন্দর, পরিপাটি, রোগ মুক্ত গাছ তৈরি করল। 

হাসিব বীজ অঙ্কুরোদ্গম, চারা তৈরির সময় সঠিক ভাবে পরিচর্যা না করার কারণে তাঁর গাঁদার গাছ ঠিক মতো বৃদ্ধি পেল না, গাছ রোগাক্রান্ত হল, এবং হাসিবের গাছ একটি অসুন্দর গাছে পরিণত হল। 

প্রায় দুই মাস পর হাসিব ও হাবিলের আব্বা তাদের গাছের পরিদর্শনে আসলেন। হাসানুল্লাহ সাহেব তার দুই ছেলের কাজ দেখে একটু অবাক হলেন এবং একটু বিরক্ত হলেন। 

হাসানুল্লাহ সাহেব হাবিল কে বললেন, “তোমার গাঁদা ফুলের গাছে খুব সুন্দর ভাবে ফুল হয়েছে এবং দেখে বোঝা যায় যে, তুমি গাছের যত্ন নিয়েছো। 

এরপর, হাসানুল্লাহ সাহেব হাসিব কে ডেকে বললেন, "তোমার গাছ বড় হয়েছে, ফুল দিয়েছে। কিন্তু সঠিকভাবে পরিচর্যা না করার কারণে একটি অসুস্থ গাঁদা ফুলের গাছ এ পরিণত হয়েছে। তুমি যদি খুব যত্মে গাঁদা ফুল গাছ বড় করতে, তাহলে তোমার চাহিদা অনুযায়ী অসংখ্য গাঁদা ফুলের মালিক হতে। কিন্তু, তোমার গাছ ঠিক মত যত্ন ও পুষ্টি না পাওয়ার কারণে একটি অসুন্দর গাছ এ পরিণত হয়েছে।" 

তারপর, হাবিল কে ডেকে বললেন, "হাবিল, এই নাও তোমার পুরষ্কার।”

পুরষ্কারে হাবিল আরো একটি গাঁদা ফুলের গাছ পেল এবং খুব খুশি হল। 

গল্পের শিক্ষা (Moral of the story) 

ধৈর্য ধরে সঠিক পরিচর্যায় একটি গাছ নিজের মতো করে বড় করলে নিজের চাহিদা অনুযায়ী ফলাফল আসা করা যায়। গাছ কে তাঁর নিজের মতো করে বাড়তে দিলে সেটা খেয়াল খুশি মত বৃদ্ধি পায় এবং সেই গাছের ফলাফল কখনোই ভালো আসা করা যায় না।

অর্থাৎ, গাছ থেকে ভালো ফল আসা করলে ভালো পরিচর্যা করতে হবে, সঠিক সময় ও সঠিক অনুপাতে সার দিতে হবে, আগাছা পরিষ্কার করতে হবে, তাহলে গাছ অবস্যই আপনার চাহিদা অনুযায়ী ফল দিবে।‌

এই গল্প থেকে আমারা শিক্ষা নিতে পারি যে, আমাদের সন্তানরা এক একটি গাছের মত। গাছের যত্ন ও পরিচর্যা করলে যেমন ভালো ফল দেয়, ঠিক তেমনি আমাদের সন্তানগুলো কে যদি সঠিক শিক্ষা দেয়, ভালো কাজে উৎসাহ দেয়, প্রতিটি মূহুর্ত দেখে রাখি। তাহলে, আমাদের সন্তানরা ও হবে একজন যোগ্য, সৎ, ও ভালো মনের মানুষ। 

অবশ্যই, আমাদের সন্তানদের চোখে চোখে রাখতে হবে, বেঠিক কাজ করলে শাসন করতে হবে। 

দুই ছেলের দুই ফুল গাছ গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. গল্পের প্রধান চরিত্র কারা?

উত্তর: হাসিব ও হাবিল।

২. তাদের বাবা কী কাজ করতেন?

উত্তর: নার্সারিতে বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রি করতেন।

৩. দুই ভাই কোন ফুলের বীজ রোপণ করেছিল?

উত্তর: গাঁদা ফুলের বীজ।

৪. প্রতিযোগিতার ঘোষণা কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: হাসানুল্লাহ সাহেব।

৫. হাসিবের গাছ অসুন্দর হলো কেন?

উত্তর: সঠিক পরিচর্যার অভাবে।

৬. হাবিল কীভাবে গাছের যত্ন নিয়েছিল?

উত্তর: নিয়মিত পানি, সার ও রোগ দমন করে।

৭. কার গাছে বেশি সুন্দর ফুল ফুটেছিল?

উত্তর: হাবিলের গাছে।

৮. বিজয়ী কে হয়েছিল?

উত্তর: হাবিল।

৯. হাবিল কী পুরস্কার পেয়েছিল?

উত্তর: আরও একটি গাঁদা ফুলের গাছ।

১০. গল্পের মূল শিক্ষা কী?

উত্তর: যত্ন, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার ফল সব সময় ভালো হয়।

আরো গল্প পড়ুন,

১. ঘাসফড়িং ও পিঁপড়ার গল্প 

২. নতুন দেশ গল্প - এক কিশোরের স্বপ্নের যাত্রা 

৩. অভাবের সংসারে দুই ছেলের গল্প 

৪. লোভী দুই মালীর গল্প 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url