বন্যায় ফসল হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

বন্যায় সুনামগঞ্জে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং পুনরায় ফসল চাষ।

ভাবুন তো, কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমে ফলানো ফসল যদি মাত্র তিন দিনের আগাম পাহাড়ি ঢলে পানির নিচে তলিয়ে যায়, তাহলে একজন কৃষকের কেমন লাগতে পারে? সুনামগঞ্জের কৃষক আমজাদের জীবনে ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটে। 
বন্যায় ফসল হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো

কিন্তু হতাশ না হয়ে তিনি কীভাবে বুদ্ধি, ধৈর্য এবং সবার সহযোগিতায় আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ালেন, চলুন এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পই আজ পড়ি।

বন্যায় ফসল হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

সবুজে ঘেরা সুন্দর জেলা সুনামগঞ্জ। সেই জেলায় বসবাস করত আমজাদ নামের একজন গরিব কৃষক ও তাঁর বউ। এবার তাঁরা ভেবেছিল হয়তো বন্যা হবে না এবং তাই, তাঁরা অনেক ফসল, যেমন: ধানের চারা, বিভিন্ন ধরনের সবজি, পাট, ভূট্টা চাষ করল।‌

কিন্তু, কে জানত তাদের সকল ফসলি জমি এভাবে নষ্ট করে দেবে আগাম পাহাড়ি ঢল। 

আমজাদ সাহেব বাড়িতে বসে দুপুরের ভাত খাচ্ছিলেন। এমন সময় টিভিতে দেখতে পেলেন, বাংলাদেশে আগাম বন্যা (Early Flood) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে। খবরে বলা হলো যে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নেমেছে। যার ফলে হাওর এলাকা আগাম বন্যার পানিতে ডুবে যেতে পারে, যেমন: সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা (বিশেষ করে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা), কিশোরগঞ্জ (হাওর এলাকা), হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার। 

আমজাদ সাহেব খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং বুদ্ধি করে তাড়াতাড়ি নদীর ধারে ছোট ছোট পাটের গাছ কে আগাম আঁটি বেঁধে বাজারে বিক্রি করে দিলেন। যেনো বন্যার পানি তাঁদের পাট ক্ষেতের কোন ক্ষতি করতে না পারে। 

এছাড়াও, লাউ, কুমড়া, শসা, বেগুন, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি জলাবদ্ধতায় নষ্ট হওয়ার আগেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিলেন। 

হঠাৎ সুনামগঞ্জে তিন রাত তিন দিন ধরে পানি হল এবং পুরো অঞ্চল ডুবে গেল এবং বাড়ি, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, পুকুর, হাওড়-বাওড় সব পানিতে তলিয়ে গেল। 

সকল মানুষের পশুপাখি, সবজি খেতে, ধান ডুবে গেল এবং দেখা দিল চরম খাদ্য সংকট। 

জেলার মানুষের মুখে নেমে এলো হতাশা। অনেকের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তবুও তারা একে অপরের পাশে দাঁড়াল। কেউ খাবার ভাগ করে দিল, কেউ আশ্রয় দিল, আবার কেউ গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করল।

কয়েক দিন পর বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। গ্রামের মানুষ আবার নতুন করে জীবন গড়ার প্রস্তুতি নিল। আমজাদ সাহেব নিজের জমি পরিষ্কার করলেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় আবার নতুন বীজ বপন করলেন এবং তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির কাছে চিঠি লিখলেন এবং চিঠিতে জানালেন যে, বন্যায় সুনামগঞ্জে কি কি ক্ষতি হয়েছে। 

এরপর, সরকার সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য জন্য কম টাকায় খাবার বিতরণ করলেন, কৃষি বোর্ড থেকে বিভিন্ন হাইব্রিড এবং দ্রুত বর্ধনশীল জাতের সবজি বীজ সবার মাঝে বিতরণ করলেন। 

কয়েক মাস পর সেই জমিতেই আবার সবুজ ফসল দুলতে লাগল। আমজাদ সাহেব সহ সকল মানুষের মুখে ফিরে এলো হাসি। 

গল্পের শিক্ষা (Moral of the story) 

জীবনে যত বড় বিপদই আসুক না কেন, ধৈর্য এবং পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে বন্যা থেকে মানুষ আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

গল্পটি থেকে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর 

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর:

১. গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

উত্তর: কৃষক আমজাদ।

২. আমজাদ কোথায় বসবাস করতেন?

উত্তর: সুনামগঞ্জ জেলায়।

৩. আগাম বন্যার প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তর: ভারতের মেঘালয় ও আসামে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল।

৪. বন্যার আগে আমজাদ কী বুদ্ধিমানের কাজ করেছিলেন?

উত্তর: পাট ও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় থাকা সবজি আগেই বিক্রি করেছিলেন।

৫. বন্যায় কোন প্রধান ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

উত্তর: বোরো ধান।

৬. বন্যায় গ্রামের কী কী ডুবে গিয়েছিল?

উত্তর: ঘরবাড়ি, স্কুল, মাঠ, পুকুর, হাওর ও ফসলের জমি।

৭. বন্যার সময় গ্রামের মানুষ কীভাবে একে অপরকে সাহায্য করেছিল?

উত্তর: খাবার, আশ্রয় ও গবাদিপশু রক্ষায় সহযোগিতা করেছিল।

৮. পানি কমার পর আমজাদ কী করেছিলেন?

উত্তর: জমি পরিষ্কার করে নতুন বীজ বপন করেছিলেন।

৯. সরকার কৃষকদের কী সহায়তা দিয়েছিল?

উত্তর: কম মূল্যে খাদ্য ও উন্নত জাতের বীজ বিতরণ করেছিল।

১০. গল্পের মূল শিক্ষা কী?

উত্তর: ধৈর্য, পরিশ্রম ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ কাটিয়ে আবার সফল হওয়া যায়।

আরো গল্প পড়ুন,




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url