তিন কন্যার গল্প: হলুদ, সবুজ, এবং নীল

কিরণপুর রাজ্যে বসবাস করত এক রাজা, এক রানী ও তার তিন কন্যা। তিন কন্যার নাম হল হলুদ, সবুজ, এবং নীল।‌ রাজ্যের মধ্যে ছিল সুখ আর শান্তি। 

হঠাৎ, কিরণপুর রাজ্যের রাজা ও রানী মারা গেল। রাজ্যের পুরো দায়িত্ব গ্ৰহণ করল হলুদ, সবুজ, এবং নীল রাজ কন্যারা। তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ জায়গা থেকে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ শুরু করল এবং রাজ্যে আবার সুখ ফিরে এলো। 

তিন কন্যা হলুদ, সবুজ এবং নীল

কীভাবে হলুদ, সবুজ, এবং নীল রাজ কন্যা রাজ্যের দুরাবস্থা ঠিক করল। চলুন গল্লটি পড়ি। 

তিন কন্যার গল্প: হলুদ, সবুজ, এবং নীল 

এক সুন্দর পরিপাটি কিরণপুর রাজ্যে বসবাস করত এক রাজা, এক রানী ও তার তিন কন্যা। তিন কন্যার নাম হল হলুদ, সবুজ, এবং নীল।‌ হলুদ কন্যা ছিল একটু হিংসুটে, সবুজ কন্যা ছিল খুব ভালো ও শান্ত‌, এবং নীল কন্যা ছিল বেশ বুদ্ধিমতী ও শিক্ষিত।‌ 

তাঁরা সবাই একসাথে আনন্দে বসবাস করত। 

কিরণপুর রাজ্যের মধ্যে ছিল সুখ আর শান্তি। চারিদিকে রাজ্যের মানুষ খুব আনন্দে বসবাস করছিল। চারিদিকে চাষাবাদ হচ্ছিলো। শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছিল রাজ্যের মূর্খ প্রজারা। সবার শরীর স্বাস্থ্য ছিল সুস্থ। 

কিন্তু হঠাৎ, এক বিরল রোগে পতিত হল রাজা ও রানী। রাজা ও রানীর পেট ব্যথার অসুখ দেখা দিল। তাঁরা দুইজন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিল।

চারদিন অসুস্থ থাকলো রাজা ও রানী। কোন বৈদ্য-কবিরাজের ঔষধ রাজা ও রানীর অসুখ ভালো করতে পারলো না।‌ তাই, শেষমেশ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল রাজা ও রানী।

মৃত্যু বরণ করলেন রাজা ও রানী। রাজ্য জুড়ে কান্নার রোল পড়ে গেল। সবাই অনেক দুঃখ পেল। 

কিছুদিনের মধ্যেই রাজা ও রানীর অবর্তমানে চারিদিকে বিশৃঙ্খলা দেখা দিল।‌ রাজ্যের ভিতর খাদ্যমন্দা দেখা দিল।‌ শিক্ষা ছেঁড়ে মানুষ মারামারি, হানাহানি, সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে গেল।‌

রাজ্যের দায়িত্বে কোন রাজা নেই। রানী ও নেই। রাজ্য পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে পড়ল।‌

এই সময় রাজ্যের হাল ধরল তিন রাজ কন্যা। তিনজন মিলে নিজ নিজ জায়গা থেকে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ শুরু করল।‌

হলুদ কন্যা ছিল একজন চিকিৎসক। সে রাজ্যের প্রজাদের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিল। প্রজাদের মধ্যে কারো ছিল জ্বর-ঠান্ডা, কারো চর্মরোগ, কারো পেটের রোগ, কারো মাথা ব্যথা। হলুদ কন্যা প্রজাদের তার চিকিৎসা দক্ষতা দিয়ে রোগ থেকে সুস্থ করল। সবাই সুস্থ হয়ে উঠল। 

সবুজ কন্যা ছিল ভালো পরামর্শক। সে খারাপ মানুষদের ভালো পথে ফিরে আসার আহ্বান করল। মারমারি, হানাহানি, এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কি হয় এবং মারমারি, হানাহানি, এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করলে কি হবে তা মানুষদের বোঝালো। তার কথায় রাজ্যের অনেক পুরুষ মারমারি, হানাহানি, এবং বিশৃঙ্খলা ত্যাগ করল। সবাই ভালো হয়ে গেল।

রাজ্যে এবার আর কোন রোগ, বিশৃঙ্খলা থাকলো না। সবাই আবার সুখে বসবাস করতে লাগলো। 

এছাড়াও, নীল রাজ কন্যা ছিল একজন শিক্ষক। তিনি রাজের বেয়াড়া, মূর্খ, অজ্ঞ, মানুষদের জন্য রাজ্যের একটি ফাঁকা জায়গায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেন এবং সেখানে নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে, সবাই একসাথে লেখাপড়া শুরু করল। গণিত, বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ালেখা শুরু হল এবং তাঁরা কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠলো। 

রাজ্যে আবার সুখ, শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরে এলো। সবাই আনন্দের সাথে কিরণপুর রাজ্যে বসবাস শুরু করল। 

গল্পের শিক্ষা (moral of the story) 

আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যায়। তাহলে আমাদের দেশ ও একদিন সুখী, উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।‌ দেশ গড়ার লক্ষে সবাই কে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। 

দেশের উন্নয়ন করতে হলে সুস্থ্য জনগণ, শৃঙ্খলা, এবং শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি তৈরি করতে হবে। তিনে মিলেই রাজ্য, তিনে মিলেই দেশ। 

আরো গল্প পড়ুন,

১. রাজা ও তার তিন কন্যার গল্প 

২. রাজা ও রানীর প্রেমের গল্প 

৩. রাজা ও তিন রানীর গল্প


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url