হার-জিতের গল্প - মোরগ লড়াই খেলা

গল্প হারজিত - জয়পরাজয় এক অনন্য দৃষ্টান্ত 

মানুষের জীবনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, সাহস ও চেষ্টা। শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে থামিয়ে রাখতে পারে না। 
হার-জিত গল্পের ছবি
“হার-জিত” গল্পে রাশেদ নামের এক মেধাবী ও সাহসী ছেলের সংগ্রাম, মনোবল এবং সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই গল্প আমাদের চেষ্টা ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব শেখায়।

হার-জিতের গল্প

স্যার, আসতে পারি?

নোমান স্যার দেখলেন দরজায় একটা ছেলে। সে ক্র্যাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্যার বললেন, এসো।

ছেলেটা এগিয়ে এলো। বলল, আমার নাম রাশেদ। নতুন ভর্তি হয়েছি।

নোমান স্যার জানতেন রাশেদ আসবে। ভর্তির দিন তিনি রাশেদয়ে দেখেছিলেন। দুটি প্রশ্নও করেছিলেন তাকে। রাশেদ চটপট জবাব দিয়েছিল। স্যার বুঝেছিলেন ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। ক্লাসের সবার সঙ্কো নোমান স্যার পরিচয় করিয়ে দিলেন। বললেন, ওর নাম রাশেদ। ও তোমাদের সঙ্কোই পড়বে।

ক্লাসে সেদিন ক্রীড়া প্রতিয়োগিতা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কেউ অংশ নেবে দৌড় প্রতিয়োগিতায়। কারো পছন্দ দড়ি লাফ। নোমান স্যার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী করবে? রাশেদ বলল, অঙ্ক দৌড় ও মোরগ লড়াই করব। ক্লাসের সবাই ভাবছিল, রাশেদ পারবে তো! নোমান স্যার বললেন, খুব ভালো লাগল রাশেদ।

তিন দিন পরের কথা।

সেদিন ক্রীড়া প্রতিয়োগিতা। রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে মাঠ। সবার মনে আনন্দ। খানিকটা উৎকণ্ঠা। কোন খেলায় কে বিজয়ী হবে!

শুরু হলো অঙ্ক দৌড়। সবার আগে অঙ্ক করে দৌড়ে আসতে হবে। যে আসতে পারবে, সে-ই হবে বিজয়ী। ব্র্যাচে ভর দিয়ে রাশেদ দৌড় শুরু করল। ও খুব তাড়াতাড়ি অঙ্ক করতে পারে।

১৫ থেকে ৬৭ বিয়োগ করতে হবে। রাশেদ লিখল ২৮। লিখেই ক্র্যাচ নিয়ে দৌড় দিল। তার সামনে রয়েছে দুই জন। পিছনে তাকিয়ে দেখল, একজন এগিয়ে আসছে। ততক্ষণে রাশেদ চলে এসেছে শেষ সীমানায়। চারদিকে হইচই পড়ে গেল। রাশেদ জিতেছে।

এবার মোরগ লড়াইয়ের পালা। রাশেদ ক্র্যাচ দুটো রেখে দিল এক পাশে। দুই হাত পিছনে রেখে প্রস্তুতি নিল সে। বাঁশিতে ফুঁ দিতেই এগিয়ে গেল সামনে। মোরগ লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে আট জন।

শুরুতে রাশেদ কোনো আক্রমণ করল না। আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করল। লড়াই করতে করতে একে একে পড়ে গেল পাঁচ জন। বাকি রইল তিন জন রাশেদ, রাজু আর ঝিমিত। তই সময়ে রাজু এগিয়ে এলো রাশেদের দিকে। রাশেদ চট করে সরে গেল। রাজু পড়ে গেল ঘাসের উপর। খেলার উত্তেজনায় সবাই হইচই করতে লাগল। বাকি রইল ঝিমিত আর রাশেদ। রাশেদ অবল ঠ্যাডা মাখায় খেলতে হবে।

ঝিমিত এগিয়ে আসছে। লাফিয়ে লাফিরে রাশেদও এগিয়ে যাচ্ছে। মুখোমুখি হতেই কাঁধ দিয়ে জোরে আঘাত করল বিমিত। রাশেদ সরে গেল। খেলা জমে উঠেছে। মাইকে খেলার ধারাবর্ণনা করছেন নোমান স্যার।

বিমিত আবারও আক্রমণ করল। রাশেদ কাঁধ দিয়ে আক্রমণ প্রতিহত করল। কিন্তু কাঁপতে কাঁপতে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। মনোবল দৃঢ় করে সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। হঠাৎ দেখল তীব্রবেগে এগিয়ে আসছে বিমিত। আক্রমণের ভঙ্গিতে রাশেদও এগিয়ে গেল। কাঁধ দিয়ে হালকা আঘাত করে পথ ছেড়ে দিল। ভারসাম্য রাখতে না পেরে হুড়মুড় করে পড়ে গেল বিমিত। বন্ধুরা সব চিৎকার করে উঠল, রাশেদ! রাশেদ!

বিকালে হেড স্যার বিজয়ীদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিলেন। পুরস্কার হিসেবে হাতে তুলে দিলেন বই। তিনি বললেন, হার-জিত বড়ো কথা নয়, খেলায় অংশগ্রহণই মূল বিষয়।

গল্পের নীতিকথা (Moral of the Story)

শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের সফলতার বাধা নয়। দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, চেষ্টা এবং অংশগ্রহণের ইচ্ছা থাকলে মানুষ সফল হতে পারে। হার-জিত বড় কথা নয়, চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করো, অংশ গ্ৰহণ করো হার বা জিত যাইহোক না কেন ফলাফল নিয়ে চিন্তা করা বাদ দাও। দেখবে হারতে হারতে জিতে গেছো। মনোবল শক্ত করো বিজয় আসবেই। 

হারজিতের গল্প প্রশ্ন উত্তর

১০টি গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হল:

১. রাশেদ কে ছিল?

উত্তর: রাশেদ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র।

২. রাশেদ কী দিয়ে চলাফেরা করত?

উত্তর: রাশেদ ক্র্যাচের সাহায্যে চলাফেরা করত।

৩. রাশেদ কোন কোন খেলায় অংশ নিয়েছিল?

উত্তর: রাশেদ অঙ্ক দৌড় ও মোরগ লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল।

৪. অঙ্ক দৌড়ে কী করতে হয়েছিল?

উত্তর: অঙ্ক করে দ্রুত দৌড়ে এসে শেষ সীমানায় পৌঁছাতে হয়েছিল।

৫. অঙ্ক দৌড়ে কে বিজয়ী হয়েছিল?

উত্তর: রাশেদ বিজয়ী হয়েছিল।

৬. মোরগ লড়াইয়ের শেষে কারা বাকি ছিল?

উত্তর: শেষে রাশেদ ও ঝিমিত বাকি ছিল।

৭. মোরগ লড়াইয়ে কে জয়ী হয়েছিল?

উত্তর: রাশেদ জয়ী হয়েছিল।

৮. হেড স্যার কী বলেছিলেন?

উত্তর: হেড স্যার বলেছিলেন, “হার-জিত বড়ো কথা নয়, খেলায় অংশগ্রহণই মূল বিষয়।”

৯. নোমান স্যার রাশেদ সম্পর্কে কী বুঝেছিলেন?

উত্তর: নোমান স্যার বুঝেছিলেন যে রাশেদ অত্যন্ত মেধাবী।

১০. গল্পের মূল শিক্ষা কী?

উত্তর: আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও মনোবল থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
রাশেদ ও নোমান স্যার কথা বলছে

রাশেদ সহ সবাই মোরগ লড়াই খেলছে

শেষের গল্পের অংশ



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url