জাদুর লাঠি – দয়ার সবচেয়ে বড় জাদুর গল্প

একজন ছেলের যাদুর লাঠি - ছেলেটির তিনটি ইচ্ছা পূরণ 

গ্ৰামের সাধারণ পরিবেশে বড় হওয়া একজন ছেলে ইব্রাহিম। সে পেল একটি যাদুর লাঠি। ইব্রাহিম যাদুর লাঠিটি এক পরীর কাছ থেকে পেয়েছিল।‌ পরী বলল তুমি এই লাঠিটি তিনবার ব্যবহার করে, যে কোন কিছু চাইতে পারবে এবং তা এই যাদুর লাঠির অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে পূরণ হবে। 
জাদুর লাঠি – দয়ার সবচেয়ে বড় জাদু

ইব্রাহিম কি কি চেয়েছিল। চলুন গল্লটি পড়ি এবং জেনে নিই। সে কি খারাপ কোন কিছু চেয়েছিল, নাকি অনেক ধন সম্পদ চেয়েছিল। পড়ুন এবং জানুন এখনি। 

জাদুর লাঠি গল্প

একটি ছোট্ট সবুজ গ্রামের পাশে ছিল একটি বিশাল বটগাছ। সেই গ্রামেই বাস করত ইব্রাহিম নামে এক কৌতূহলী ও দয়ালু ছেলে। 

একদিন খেলতে খেলতে সে বট গাছের শিকড়ের কাছে একটি জাদুর লাঠি খুঁজে পেল। লাঠিটি দেখতে সাধারণ হলেও তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অলৌকিকতা, এক মায়াবী শক্তি এবং এক রহস্যময় ক্ষমতা। 

ইব্রাহিম বুঝতে পারল, এটি সাধারণ কোনো লাঠি নয়। কিন্তু সে জানত না, এই জাদুর লাঠিই তার জীবন এবং পুরো গ্রামের ভাগ্য বদলে দেবে।

ইব্রাহিম লাঠিটি হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে রঙিন আলো ছড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি সুন্দর পরী তার সামনে এসে দাঁড়াল।

পরী মিষ্টি হেসে বলল, “ইব্রাহিম, তুমি কি জানো এই লাঠিতে অসাধারণ জাদুকরী ক্ষমতা আছে। তুমি খুবই ভাগ্যবান তুমি লাঠিটি পেয়েছো। এই লাঠি তোমার মোট তিনটি ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। 

তবে মনে রেখো, নিজের স্বার্থের জন্য বা কাউকে ক্ষতি করার জন্য এটা ব্যবহার করা যাবে না। মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করলে এই শক্তি বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।"

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইব্রাহিম কিছুক্ষণ চিন্তা করল। সে ভাবল গ্ৰামের শিক্ষার কথা, গ্ৰামের মানুষের কথা, এবং মানুষের তিন বেলা খেতে না পাওয়ার কথা।‌

পরদিন সকালে ইব্রাহিম যাদুর লাঠি নিয়ে বাইরে বের হল।‌ সে দেখতে পেল বৃদ্ধ কৃষক হাবিবুর চাচা ভারী দুটি পানিভর্তি বালতি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। বয়সের ভারে তিনি নুয়ে পড়েছেন।

ইব্রাহিম মনে মনে প্রথম ইচ্ছা করল,
"এই বালতিগুলো যেন হালকা হয়ে যায়।"

মুহূর্তেই ম্যাজিক-এর মতো বালতিগুলো এতটাই হালকা হয়ে গেল যে হাবিবুর চাচা সহজেই সেগুলো নিয়ে হাঁটতে লাগলেন।

তিনি অবাক হয়ে বললেন, "এ যেন একেবারে আশ্চর্য ঘটনা, আমাকে পানির বালতি শক্তি দিয়ে ঢুয়ে নিয়ে যেতে হবে না!"

ইব্রাহিম শুধু একটু হেসে চলে গেল। সে কাউকে জানাল না যে এর পেছনে জাদুর লাঠির অলৌকিক শক্তি রয়েছে।

ইব্রাহিম বাড়িতে ফিরে গেল এবং আরো দুটি ইচ্ছা কি করা যায় তা চিন্তা করতে লাগল।‌ 

কয়েকদিন পরে গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ের কারণে বড় ক্ষতি হলো। ছাদের টিন উড়ে গেছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে। শিশুরা আর ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছিল না।

ইব্রাহিম ভাবল, যদি এই স্কুলটি আবার সুন্দর হয়ে যায়। তাহলে, গ্রামের ভবিষ্যৎও সুন্দর হবে।

সে দ্বিতীয়বার লাঠিটি ব্যবহার করল।

মুহূর্তের মধ্যেই ভাঙা দেয়াল নতুন হয়ে উঠল, ছাদ ঠিক হয়ে গেল, জানালা-দরজা চকচক করতে লাগল। পুরো ঘটনাটি ছিল এক বিস্ময়কর অলৌকিক শক্তির প্রকাশ।

শিক্ষকরা অবাক হয়ে বললেন,
 "এ যেন সত্যিই বিস্ময়কর ক্ষমতা! কে করল এই আশ্চর্য কাজটি"

শিশুরা আনন্দে আবার স্কুলে ফিরল।

এবার ইব্রাহিমের হাতে রইল শেষ একটি সুযোগ।

সে ভাবল, নিজের জন্য বড় বাড়ি, অনেক টাকা কিংবা খেলনা চাইতে পারি না। কিন্তু, গ্রামের অনেক পরিবার প্রতিদিন না খেয়ে ঘুমায়। ছোট ছোট শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদে। এটা তো চাইতে পারি। 

অনেক ভেবে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমার শেষ ইচ্ছা, আমাদের গ্রামের কোনো মানুষ যেন আর কখনো খাবারের অভাবে কষ্ট না পায়।"

লাঠিটি উজ্জ্বল আলোয় জ্বলে উঠল।

সেই দিন থেকেই গ্রামের জমিতে ভালো ফসল হতে শুরু করল। ফলের গাছ ভরে গেল ফল দিয়ে। পুকুরে মাছ বৃদ্ধি পেল। কারও ঘরে আর খাবারের অভাব রইল না।

লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, এ যেন কোনো মায়াময় ক্ষমতা বা অদ্ভুত শক্তি কাজ করছে। কেউ কেউ একে অতিপ্রাকৃত শক্তি বলল, আবার কেউ মনে করল এটি মন্ত্রশক্তির ফল। কিন্তু সত্যটি জানত শুধু ইব্রাহিম আর সেই পরী।

রাতের আকাশে আবার পরী এসে উপস্থিত হলো।

ইব্রাহিম জিজ্ঞেস করল, "তাহলে কি জাদুর লাঠির শক্তি শেষ?"

পরী হেসে উত্তর দিল,
 "লাঠির শক্তি শেষ হয়েছে, কিন্তু তোমার ভালোবাসা, দয়া আর সততার শক্তি কখনো শেষ হবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদু হলো মানুষের ভালো কাজ।"

সেদিনের পর ইব্রাহিম আর কখনো জাদুর লাঠি ব্যবহার করতে পারেনি। কিন্তু সে প্রতিদিন মানুষের পাশে দাঁড়াত, গাছ লাগাত, অসহায়দের সাহায্য করত এবং ছোটদের পড়াশোনা শেখাত।

নীতিকথা

দয়াই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদু। যে নিজের চেয়ে অন্যের উপকারকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেই মানুষই প্রকৃত অর্থেই মহান। 

নিজের স্বার্থের জন্য নয়। বরং, অপরের উপকারের কথা চিন্তা করে কোন কিছু চাইলে সেই ইচ্ছা নিজের উপর ও প্রভাব ফেলে। 

গল্পে আমরা ইব্রাহিমের শেষ ইচ্ছা হল গ্ৰামের মানুষ যেনো সব সময় খাবার পায়। আসলে, ইব্রাহিম এখানে বুদ্ধি করে শেষ ইচ্ছাটা চেয়েছিল। কারণ, ইব্রাহিম সেই গ্ৰামেই থাকবে এবং সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবে বলেই তার এমন ইচ্ছা। 

গল্প থেকে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১০টি সাধারণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর 

১. প্রশ্ন: ছেলেটির নাম কী ছিল?

উত্তর: ইব্রাহিম।

২. প্রশ্ন: ইব্রাহিম কোথায় জাদুর লাঠি পেয়েছিল?

উত্তর: একটি বড় বটগাছের নিচে।

৩. প্রশ্ন: জাদুর লাঠি সম্পর্কে কে ইব্রাহিমকে বলেছিল?

উত্তর: একটি পরী।

৫. প্রশ্ন: ইব্রাহিম কয়বার জাদুর লাঠি ব্যবহার করতে পারত?

উত্তর: তিনবার।

৫. প্রশ্ন: প্রথম ইচ্ছায় ইব্রাহিম কাকে সাহায্য করেছিল?

উত্তর: একজন বৃদ্ধ কৃষককে।

৬. প্রশ্ন: দ্বিতীয় ইচ্ছায় কী মেরামত হয়েছিল?

উত্তর: গ্রামের স্কুল।

৭. প্রশ্ন: শেষ ইচ্ছায় ইব্রাহিম কী চেয়েছিল?

উত্তর: গ্রামের সবাই যেন সবসময় পর্যাপ্ত খাবার পায়।

৮. প্রশ্ন: পরী ইব্রাহিমের কোন গুণের প্রশংসা করেছিল?

উত্তর: তার দয়া ও নিঃস্বার্থতার।

৯. প্রশ্ন: গ্রামের মানুষ জাদুর ঘটনাকে কী মনে করেছিল?

উত্তর: অলৌকিক ঘটনা।

১০. প্রশ্ন: গল্পের নীতিকথা কী?

উত্তর: দয়াই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদু।

আরো গল্প পড়ুন,






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url