এক জলপরীর গল্প - জলপরী ও রাজকুমার

এক জলপরী এক রাজকুমারের জীবন রক্ষা করল

এক জলপরী এক রাজকুমারের জীবন রক্ষা করেছিল, কিন্তু একদিন রাজকুমার তাঁর নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে হল এবং রাজকুমার জলপরী কে ছেড়ে চলে গেল।‌ তারপর কি হল? 
এক জলপরী ও রাজকুমার

গভীর সমুদ্র থেকে শুরু হওয়া এই আবেগঘন রূপকথায় রয়েছে সাহস, ত্যাগ, প্রেম, অপেক্ষা এবং বিচ্ছেদের বেদনাময় গল্প। আপনি যদি রুপকথার জলপরীর গল্প পড়তে চান, তাহলে এই গল্পটি আপনার জন্য। চলুন গল্লটি পড়ি।‌

এক জলপরীর গল্প 

সমুদ্রের মধ্যে বসবাস করত এক জলপরী। 

জলপরী গভীর সমুদ্রের নিচে বসবাস করত লিলি জলপরীর পুরো পরিবার। সেই পরিবারে ছিল লিলির মা, বাবা ও ভাই-বোনেরা। নীল জলরাশিতে সেখানকার জলপরীরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতো। তাঁরা এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্র যাতায়াত করত। 

জলপরী সমাজে একটি প্রথা প্রচলিত ছিল যে, মেয়ে জলপরীরা চাইলেই ১৫ বছরের আগে সমুদ্রের বাইরে গিয়ে একা একা সময় কাটাতে পারবে না।

একদিন লিলি তার মা জলপরীর কাছে গিয়ে বলল, মা আমার কখন ১৫ বছর হবে এবং কখন আমি সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকত পারব। যেখানে খুশি, সেখানে যেতে পারব? 

লিলির মা বলল, লিলি তুমি এখনো ছোট এবং তোমার বয়স এখন মাত্র ১৩ বছর। তুমি আর মাত্র দুটি বছর অপেক্ষা করলে তুমি সমুদ্রের যেকোনো জায়গায় যেতে পারবে। তবে, এখন তোমাকে এই সমুদ্রের গুহার ভিতর সময় অতিবাহিত করতে হবে। 

লিলির মা আরো বলল, সামনের ২টি বছরে লিলি তোমাকে আরো ভালো ভাবে সাঁতার কাটা শিখতে হবে। 

লিলি বলল আচ্ছা মা। আমি দুই বছর অপেক্ষা করব এবং আরো ভালো ভাবে সাঁতার কাটা শিখবো। 

লিলি তাঁর মায়ের কাছ থেকে চলে গেল এবং তাঁর অন্য বোনদের সাথে সাঁতার কাটতে লাগলো। কখনো তাঁরা ডানে যায়, আবার কখনো বামে, আবার কখনো উপরে উঠতে গিয়ে নিচে দ্রুত গতিতে সাঁতার কেটে এক ঝটকায় পানির গভীরে চলে যায়। এভাবেই লিলি ও তার বোনেরা নানান ভঙ্গিতে সাঁতার কাটতে লাগলো। 

এভাবেই কেটে গেল বহু কয়েকটি বছর। লিলির ১৫ বছর পূর্ণ হল। সে এখন চাইলেই সমুদ্রের ভিতর থেকে উঠে সমুদ্রের পাড়ে সময় কাটাতে পারে। 

জীবনের প্রথম সে একদিন সমুদ্রের পাড়ে উঠে গিয়ে বসল এবং বলল কত সুন্দর সমুদ্রের বাইরের জগৎ। আমাদের সমুদ্রের জগৎ এর থেকে পৃথিবীর জগৎ অনেক সুন্দর। 

লিলির প্রতিদিন সমুদ্রের থেকে উঠে সমুদ্রের পাড়ে এসে বসা একটা অভ্যাসে পরিণত হল।

তেমনি একদিন লিলি সমুদ্রের পাড়ে বসেছিল এবং সে দেখতে পেল একটি নৌকা সহ একজন নাবিক কে। সে দেখল নৌকা থেকে কেউ একজন পানিতে পড়ে গেল।‌

কোন কিছু চিন্তা না করে লিলি মানুষটিকে বাঁচাতে গেল এবং লিলি দ্রুত সাঁতার কেটে মানুষটিকে বাঁচালো। 

লিলি মানুষটিকে সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে এলো এবং মানুষটি সুস্থতা বোধ করল। 

আসলে মানুষটি ছিল এক রাজ্যের রাজার ছেলে। সে ছিল রাজকুমার।‌ লিলি একজন রাজকুমার কে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করল। 

এরপর, রাজকুমার জলপরী কে দেখে তাঁর প্রেমে পড়ে গেল এবং তাদের মধ্যে একটি ভালোবাসার মিষ্টি সম্পর্ক তৈরি হল। 

এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেল। রাজাকুমারে রাজ্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে হল।

একদিন সকালে রাজকুমার সমুদ্রের পাড়ে বিষণ্ণ মনে বসেছিল। সে দূরে একটি নৌকা ⛵ দেখতে পেল। উদ্ধার এর জন্য হাত ✋ নাড়ালো এবং নৌকাটির মাঝি রাজকুমার কে দেখতে পেল এবং নৌকায় চড়ে রাজকুমার তার নিজ রাজ্যে ফেলত গেল। 

বিকালে জলপরী সমুদ্রের পাড়ে এসে রাজকুমার কে এদিক ওদিক খুঁজতে শুরু করল। কোথাও রাজকুমার কে খুঁজে পাওয়া গেল না। সে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। 

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হল, 

সন্ধ্যে গড়ি হল রাত। 

তবুও পেল না দেখা একবার,

জলপরী উঁকি মারল যতবার।‌

জলপরীর খুব দুঃখ হল এবং সে সমুদ্রের মধ্যে চলে গেল এবং ফিরলো না কখনো আর। 😢 

এক জলপরীর গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

৮টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর 

১. গল্পটির প্রধান চরিত্র কে?

লিলি নামের এক জলপরী এবং এক রাজকুমার।

২. লিলি কোথায় বাস করত?

গভীর সমুদ্রে তার পরিবারের সঙ্গে।

৩. জলপরী কাকে উদ্ধার করেছিল?

ডুবে যাওয়া এক রাজকুমারকে।

৪. রাজকুমার কেন সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল?

নৌকা থেকে দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যায়।

৫. রাজকুমার জলপরীকে দেখে কী করেছিল?

সে লিলির প্রেমে পড়ে যায়।

৬. রাজকুমার কীভাবে নিজের রাজ্যে ফিরে যায়?

একটি নৌকার মাঝির সাহায্যে।

৭. পরে জলপরী কী করেছিল?

সে রাজকুমারের জন্য অপেক্ষা করেছিল, কিন্তু তাকে আর খুঁজে পায়নি।

৮. গল্পটির শিক্ষা কী?

সত্যিকারের ভালোবাসা ও ত্যাগ সব সময় মিলনের মাধ্যমে শেষ হয় না, তবুও তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।

আরো গল্প পড়ুন,



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url