অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিখুঁত গাইডলাইন (বুঝুন এবং আয় করুন)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিখুঁত গাইডলাইন (বুঝুন এবং আয় করুন) 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড ছবি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত জনপ্রিয় মার্কেটিং পদ্ধতি, যা ব্যবহার করে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের পন্য বা পরিষেবার লিংক মার্কেটিং করে প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে কমিশন পায়। সহজ ভাবে বললে, পন্য বা পরিষেবার লিংক মার্কেটিং করে অর্থ উপার্জন করা।

যাইহোক আপনি কি পুরো বিপণন প্রক্রিয়াটি বুঝতে চান এবং ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান? তাহলে প্রথমে বুঝুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এখান থেকে আয় শুরু করুন। এই জন্য আপনাকে জানতে হবে। 

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি
  • এটি কীভাবে কাজ করে 
  • এই মার্কেটিং পূর্বপ্রস্তুতি 
  • কীভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?
  • কারা affiliate marketing করতে পারবে
  • এটির সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ 
  • কীভাবে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম খুঁজে বের করবেন 
  • এটি কীভাবে শুরু করবেন 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) হলো একটি জনপ্রিয় এবং সেরা অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি,‌ যেখানে আপনি কোনো ই-কমার্স কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম (যেমন: Daraz Affiliate Program, Amazon Associates Program, Rokomari Affiliate System) এ নিবন্ধন করে তাদের পণ্য বা পরিষেবার ইউনিক রেফারেল লিংক (Referral Link অথবা Tracking Link) বিভিন্ন ট্রাফিক সোর্স ও মার্কেটিং চ্যানেল (Social Media Marketing, Content Marketing, SEO, Paid Ads, Email Marketing) ব্যবহার করে প্রচার করেন।

যখন কোনো ইউজার আপনার শেয়ার করা লিংকের মাধ্যমে সফলভাবে ক্রয় সম্পন্ন করে, তখন আপনি সেই বিক্রয়ের উপর নির্দিষ্ট কমিশন রেট (Commission Rate অথবা Revenue Share Percentage) অনুযায়ী আয় পান। 

উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি রকমারিতে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছেন। আপনি তাদের একটি জনপ্রিয় বই, যেমন “রবীন্দ্রনাথ সমগ্র (হার্ডকভার সংস্করণ)” এর অ্যাফিলিয়েট লিংক সংগ্রহ করলেন। এরপর সেই লিংকটি আপনি আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজে শেয়ার করলেন এবং বইটির বৈশিষ্ট্য, দাম ও সুবিধা নিয়ে সংক্ষিপ্ত রিভিউ লিখলেন।

কিছুক্ষণ পরে একজন আগ্রহী পাঠক আপনার দেওয়া লিংকে ক্লিক করে রকমারির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করল এবং বইটি অর্ডার করল। অর্ডারটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে আপনার অ্যাফিলিয়েট ড্যাশবোর্ডে একটি নতুন অর্ডারের তথ্য দেখাবে। এরপর যখন রকমারি সেই গ্রাহকের কাছে বইটি ডেলিভারি নিশ্চিত করবে এবং রিটার্ন পিরিয়ড শেষ হবে, তখন আপনি পূর্বনির্ধারিত কমিশন অর্থাৎ বিক্রয়মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আয় হিসেবে পাবেন।

Affiliate marketing সম্পূর্ণ বিক্রির উপর ভিত্তি করে কমিশন দেয়, যদি বিক্রি না হয় তাহলে কমিশন পাবেন না, আর বিক্রি হলে ইনকাম নিশ্চিত। এটি মূলত পারফরম্যান্স ভিত্তিক অনলাইন ইনকাম মডেল, যেখানে আপনার আয় কর্মদক্ষতা এবং কর্মক্ষমতার উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। যখন আপনি মার্কেটিং বেশি করবেন, তখন আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে এবং যখন আপনি মার্কেটিং কম করবেন, তখন আপনার অ্যাফিলিয়েট আয় ও কম হবে। 

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সংজ্ঞা: কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা পরিষেবা মার্কেটিং করে বিক্রি করে দেওয়ার পর যে কমিশন পাওয়া যায় তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। 
  • অ্যাফিলিয়েট কুকি: আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আপনার শেয়ারকৃত অ্যাফিলিয়েট লিংক কত দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, তা হল অ্যাফিলিয়েট কুকি। কুকি মূলত সেই সময়সীমা যার মধ্যে ইউজার আপনার লিংকে ক্লিক করার পর ক্রয় করলে কমিশন পাওয়া যায়। কুকি সময় সাধারণত ২৪ ঘন্ট, ৭ দিন, ৪ মাস বা তার বেশি হয়ে থাকে। একে Link duration time বা Cookie duration time ও বলে থাকে। 
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বাংলা অর্থ: সম্বন্ধ বিপণন, যা বিপণন এর একটি কৌশল।‌
  • অ্যাফিলিয়েট এর বাংলা অর্থ: অধিভুক্ত, সংযুক্ত বা সহযোগী ব্যক্তি যিনি অন্য কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সার্ভিস বিপণন করে। 
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার: যিনি affiliate marketing করেন এবং অ্যাফিলিয়েট কমিশন পান এমন ব্যক্তি কে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বলা হয়, যাকে বাংলায় সম্বন্ধ বিপণনকারী বলা হয়। যিনি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন হন এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রমোট বা বিপণন এর কাজ করেন এবং নিজের পন্য বা সার্ভিস না হওয়া শর্তে ও তৃতীয় পক্ষ হিসেবে পন্য ও সার্ভিস গুলো প্রচার করেন। 
  • অ্যাফিলিয়েট কমিশন: যখন একজন কাস্টমার অ্যাফিলিয়েট links প্রচার বা শেয়ার করার পর, যখন কাস্টমার উক্ত লিংকে ক্লিক করে কুকি টাইম এর মধ্যে ক্রয় করে এবং কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি সম্পন্ন করে তখন অ্যাফিলিয়েটররা একটি কমিশন পায়। আর এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে প্রাপ্ত আয় কে অ্যাফিলিয়েট কমিশন বলে। অ্যাফিলিয়েট কমিশন অ্যাফিলিয়েটররা একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে পায়, যেমন: ২%, ৪%, ১০, ৩০, ৭০% ইত্যাদি। ধরুন, একটি পন্যের মূল্য ১০০ টাকা, তাহলে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যদি ১০% দেয়, তখন আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে ১০ টাকা কমিশন পাবেন। 
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা: যদি আপনি affiliate marketing করেন, তখন এর থেকে বড় সুযোগ হল প্যাসিভ ইনকাম করার সুযোগ। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি আপনার একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক আপনার ইউটিউব চ্যানেল এর ডেসক্রিপশন বক্স, ফেসবুক এর পেজে, বা আপনার ব্লগিং সাইটে যুক্ত করে রাখলেই এখান থেকে যত ইউজার আপনার লিংক থেকে কোন কিছু ক্রয় করবে তত আপনার ইনকাম হবে। এটা সারাজীবন চলতেই থাকবে। 
  • অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম, associates বা সিস্টেম: অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম, associates বা সিস্টেম হল এমন একটি সাইট বা প্লাটফর্ম, যেখানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে জয়েন করে এবং তার নিজস্ব অ্যাফিলিয়েট কার্যকলাপ চালিয়ে থাকে। 
  • অ্যাফিলিয়েট লিংক বা রেফারাল লিংক: অ্যাফিলিয়েট লিংক হল লিংক জেনারেটর ব্যবহার করে তৈরি একটি কাস্টম লিংক, যা ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার লিংক শেয়ার বা প্রচার করে থাকেন। 
  • লিংক জেনারেটর: লিংক জেনারেটর হল অ্যাফিলিয়েট ডেসবোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ব্যবহার করে একজন অ্যাফিলিয়েটর অফিসিয়াল সাইটের লিংক কপি করে তার জন্য একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করতে পারে। এটা শুধু সকল অ্যাফিলিয়েটর এর ড্যাসবোর্ডে পাওয়া যায়। 
  • অ্যাফিলিয়েট আইডি: অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হওয়ার পরে যে আইডি তৈরি হয় তাকে মুলত অ্যাফিলিয়েট Id বলে। Affiliate Id একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর পরিচয় বহন করে এবং এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই ID গুলো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর সিরিয়াল নাম্বার, যা নাম্বার, অক্ষর বা কখনো কখনো মোবাইল নাম্বার আইডি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
  • অ্যাফিলিয়েট অডার: আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে যখন নিজের অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে কোন পন্য বা সার্ভিস ক্রয় করেন, তাকে মূলত অ্যাফিলিয়েট অডার বলা হয়।‌ উদাহরণ স্বরূপ, Amazon এর একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করার পর উক্ত লিংক থেকে আপনি নিজে এক বা একাধিক পন্য ক্রয় করলেন, আর এটাই অ্যাফিলিয়েট অডার। 
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পরিচিতি: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনার মূল পরিচয় হলো একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, এবং আপনার নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি তৈরি হবে, যেমন: Amazon এ অ্যাফিলিয়েটিং করলে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটর, rokomari তে অ্যাফিলিয়েটিং করলে রকমারি অ্যাফিলিয়েটর। 
  • অ্যাফিলিয়েট ড্যাসবোর্ড: অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন করার পর যে একাউন্টে আপনি পন্য বা সার্ভিস ট্র্যাকিং, সেল মনিটরিং, এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি সহ বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট কার্যকলাপ করেন - সেই একাউন্টই মূলত অ্যাফিলিয়েট ড্যাসবোর্ড‌। প্রতিটি অ্যাফিলিয়েটর এর আলাদা আলাদা অ্যাফিলিয়েট ড্যাসবোর্ড থাকে এবং এটি একটি ব্যাক্তিগত ড্যাসবোর্ড, যেখানে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারে না। 
  • অ্যাফিলিয়েট Payment methods: একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর ভিতর বিভিন্ন ধরনের Payment methods যুক্ত থাকে, যা ব্যবহার করে একজন অ্যাফিলিয়েটর তার অ্যাফিলিয়েট কমিশন পায়। দেশি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট পায় এবং আন্তর্জাতিক অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলে পেপাল, পেওনিয়ার, ব্যাংক, কার্ড সহ অন্য মাধ্যমে পেমেন্ট পাবেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি প্রক্রিয়াধীন মার্কেটিং ব্যবস্থা, যেখানে কোম্পানি, ব্যক্তি এবং কাস্টমার এক যোগে কাজ করে। যদি কোন একজন এর অনুপস্থিতি ঘটে, তাহলে এই মার্কেটিং সম্পন্ন হয় না। 

প্রথমত, একজন সাধারণ ব্যক্তি কে কোনো কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন করতে হয়। অর্থাৎ, প্রথমে sign up করতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তার নিজস্ব অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ Login হয়ে অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করবে বা সংগ্ৰহ করবে। 

তৃতীয়ত, একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বিভিন্ন মার্কেটিং চ্যানেল (যেমন: স্যোশাল মিডিয়া, ব্লগ আর্টিকেল, ফ্রি এবং পেইড) মেথোড ব্যবহার করে, পন্য বা সার্ভিস মার্কেটিং করার পর কোনো কাস্টমার লিংকে ক্লিক করে পন্য নিলে কমিশন অর্জন হবে। 

আশাকরি পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে পেরেছেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পূর্বপ্রস্তুতি 

Affiliate marketing হল এক ধরনের মার্কেটিং, নতুন এবং পুরাতন সকল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর মার্কেটিং শুরু করার আগে পূর্বপ্রস্তুতি দরকার। তাহলে, মার্কেটিং শুরু করতে কি কি লাগবে? 

১. মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দরকার। এবং অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ এই মার্কেটিং সম্পূর্ণ ডিজিটাল। 

২. এরপর আপনাকে affiliate মার্কেটিং বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কীভাবে মার্কেটিং করতে হয়, অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিভিন্ন কৌশল, এবং কোথায় কোথায় অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার বা প্রমোট করতে হবে। 

৩. এরপর, ব্লগ সাইট তৈরি করা বা Landing page তৈরি করা, যেখানে কাস্টমার প্রবেশ করে অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে পন্য ক্রয় করবে। এছাড়াও, আপনাকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একাউন্ট তৈরি করতে হবে, ই-মেল মার্কেটিং (যেমন: Mailchimp, GetResponse, ActiveCampaign) কোম্পানি ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট লিংক মার্কেটিং করা।

৪. এটি কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে প্রতিদিন ৩-৫ ঘন্টা সময় দিন এবং আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক গুলো বিভিন্ন প্লাটফর্মের উপর পেস্ট করে রাখুন।‌ 

কীভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করব?

আপনি এখনি Social Media Marketing, Content Marketing, SEO, Paid Ads, Email Marketing ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করুন। 

আপনি যদি ইতিমধ্যেই একজন পন্য বা সার্ভিস বিপণনকারী হয়ে থাকেন এবং জানতে চান কিভাবে অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রচার বা প্রমোট করতে হয়, তাহলে নিচের দেওয়া চ্যানেল ব্যবহার করে লিংক মার্কেটিং করুন। 

১. Social Media Marketing 

অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রমোট বা শেয়ার করার সবচেয়ে সহজ এবং স্বীকৃত মাধ্যমে হল Social Media ব্যবহার করে লিংক Marketing করা। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ফেসবুক, ইউটিউব, Instagram, X, Reddit, quora, bluesky, threads, WhatsApp এ লিংক গুলো শেয়ার করুন। এমন ভাবে লিংক গুলো যুক্ত করুন, যেনো স্যোশাল মিডিয়া ইউজাররা আপনার কাস্টমার এ পরিণত হয়। 

যেখানে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক গুলো যুক্ত করতে পারেন। 

  • ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট বক্সের ভিতর, গ্ৰুপের ভিতর, পেজ বা প্রোফাইলের লিংক এর ভিতরে রাখুন।‌
  • ইউটিউবার হলে ডেসক্রিপশন এবং কমেন্টে পিন করুন। 
  • Reddit এবং quora তে প্রশ্নের উত্তর এর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করুন। 
  • এছাড়াও, আপনি যে কোন স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মের কমেন্ট বক্সের ভিতর লিংক যুক্ত করুন। 

২. Content Marketing

Content Marketing হল এক ধরনের টেক্সট মার্কেট পদ্ধতি, যেখানে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে প্রচার বা শেয়ার করা যায়। এর মধ্যে ছবি, ভিডিও, অডিও, লিখা, লিংক ইত্যাদি থাকতে পারে। সেটা হতে পারে একটি ওয়েবসাইট বা Landing page, যেখানে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সার্ভিস সম্পর্কে লিখা থাকে এবং সেখানে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করা হয়, যেনো পাঠক বা কাস্টমার অ্যাফিলিয়েট লিংক ক্লিক করে কোন পন্য বা সার্ভিস কিনতে পারে।‌ 

৩. SEO (Search engine optimisation)

SEO (Search engine optimisation) হল কোন ইঞ্জিন বা Crowling বট এর জন্য আপনার কন্টেন্ট কে অপটিমাইজ করা, যেনো Search engine আপনার কন্টেন্ট কে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ এর কাছে তুলে ধরতে পারে। ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল, বিং ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিন, যেখানে টেক্সট বা ভিডিও কন্টেন্ট দিলে আরো বেশি ভিজিটর পাওয়া যায়। 

খুশির খবর হল: আপনার কন্টেন্ট যদি rank হয় বা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়, তাহলে আপনার যুক্ত করা অ্যাফিলিয়েট লিংক এ মানুষের ক্লিক করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং বেশি বেশি অ্যাফিলিয়েট কমিশন ও অর্জন করা যাবে। 

৪. Paid মার্কেটিং 

Paid মার্কেটিং হল ফ্রি নয় এমন পদ্ধতি, যা ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট লিংক মার্কেটিং করা যায়, যেমন: meta ads, Google ads, এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মার্কেটিং করা। 

Ads বা boosting করার নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট থাকতে হবে এবং এটি ফ্রি মার্কেটিং এর বিপরীত। 

৫. Email Marketing 

Email Marketing হল এক ধরনের ই-চিঠি লিখে মার্কেটিং করার পদ্ধতি, যেখানে একটি পরিষ্কার, মার্জিত, এবং সুন্দর টেক্সট এর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত থাকে। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার চাইলেই পার্সোনাল ইমেল একাউন্ট বা সাবস্ক্রিপশন কিনে ই-মেল কোম্পানি গুলোর মাধ্যমে Email Marketing করতে পারে।  

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ 

সম্বন্ধ বিপণন হল এক ধরনের বিপণন ব্যবস্থা, যেখানে সকল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বা বিপণনকারীর সুবিধা রয়েছে। তবে অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কে এই জনপ্রিয় এবং সেরা অনলাইন মার্কেটিং এ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। কি কি সেই সুবিধা ও অসুবিধা গুলো, আসুন সেগুলো বোঝার চেষ্টা করি। 

সুবিধা সমূহ 

১. প্যাসিভ ইনকাম করার সুবর্ণ সুযোগ: প্যাসিভ ইনকামের এক দারুণ সুযোগ হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। ধরুন, একটি অ্যাফিলিয়েট লিংকের ডিউরেশন টাইম ১ মাস। এই সময়ের মধ্যে কেউ যদি আপনার শেয়ার করা লিংকে ক্লিক করে যেকোনো পণ্য বা সার্ভিস ক্রয় করে, তাহলে সেই বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কমিশন আপনি পেতেই থাকবেন পেতেই থাকবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলি, কোনো পণ্য বা সার্ভিসের মূল্য যদি ১,০০০ টাকা হয় এবং কমিশন হার ১০% হয়, তাহলে একটি পন্য বা সার্ভিস বিক্রিতেই আপনি পাবেন ১০০ টাকা। এখন ভাবুন, যদি একজন ক্রেতা একই লিংক থেকে একাধিক পণ্য বা সার্ভিস কেনেন, তাহলে প্রতিটি ক্রয়ের ওপরই আপনি কত কমিশন পাবেন? আপনি একটু হিসেব করে নেন! অর্থাৎ, একই লিংক থেকে সহজেই একশ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

সঠিক প্ল্যাটফর্মে, সঠিক দর্শকের কাছে, সঠিকভাবে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে পারলে এই আয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

২. মোবাইল দিয়ে মার্কেটিং করার সম্ভব: আপনি চাইলেই দামি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না ক্রয় করে, শুধু আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে অ্যাফিলিয়েট বিপণন শুরু করতে পারেন। কারণ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার বা প্রমোট করলেই ইনকাম শুরু হয়। 

৩. বেশি দক্ষতার প্রয়োজন নেই: আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানেন, আপনার স্যোশাল মিডিয়ায় একাউন্ট আছে বা ব্লগিং করেন, তাহলে এখন আপনার কাজ chatgpt, Gemini, বা অন্যান্য generative ai দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে আজি অ্যাফিলিয়েট লিংক মার্কেটিং শুরু করা। 


৪. বিনামূল্যে শুরু করা যায়: সম্বন্ধ বিপণন আপনি বিনামূল্যে বা কোন টাকা ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই শুরু করতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ: আমাদের এই আর্টিকেলটি দুই থেকে তিন বার পড়ুন, বুঝুন এবং শেষে আয় শুরু করুন। 

৫. ঘরে বসে মার্কেটিং করা যায়: আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে ঘরে বসেই মার্কেটিং করার সুযোগ পাবেন। এই জন্য আপনাকে ঘরের বাইরে অফিসে যেতে হবে না, রাস্তার অসহ্য জ্যামের ঝামেলায় পড়তে হবে না। ঘরে বসে মোবাইল, কম্পিউটার, বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কাজ করবেন এবং চা খাবেন। চা খেতে খেতে স্যোশাল মিডিয়ায় অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার বা প্রমোট করবেন এবং আয় করবেন। It's very simple process.

অসুবিধা সমূহ

১. ফলাফল পেতে সময় লাগে: সম্বন্ধ বিপণন একটি প্রসেস অনুসরণ করে, যেমন: niche সিলেশন, মার্কেটিং চ্যানেল খোঁজা, অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করা, একটি কন্টেন্ট তৈরি করা, এবং লিংক শেয়ার বা প্রমোট করা এবং শেষে ফলাফল পাওয়া। এইসব প্রসেস কম্পিলিট করতে সময়ের দরকার। 

২. প্রতিযোগিতা বেশি: সম্বন্ধ বিপণন একটি জনপ্রিয় মার্কেটিং পদ্ধতি, যেখানে লাখ লাখ অ্যাফিলিয়েটর ইতিমধ্যেই কাজ করছে এবং তারা অনেক কাস্টমার কে ইতিমধ্যেই রেগুলার কাস্টমার এ পরিণত করেছে। অথাৎ, এই মার্কেটিং এ আপনি ইতিমধ্যেই একজন প্রতিযোগী। 

৩. ট্র্যাফিক না থাকলে আয় কম: সম্বন্ধ মার্কেটিং এ ট্রাফিক, ভিজিটর, ভিউয়ারস, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ট্রাফিক, ভিজিটর, ভিউয়ারসরাই আপনার অ্যাফিলিয়েট কাস্টমার। অর্থাৎ, যথেষ্ট অডিয়েন্স নাই মানে ইনকাম কম। 


কীভাবে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম খুঁজে বের করব (বোনাস টিপস) 

পৃথিবীতে অনেক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের আলাদা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কী কী উপায়ে খুঁজে পেতে পারেন। মোট দুটি উপায় ফলো করে যে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম খুঁজে বের করুন এবং জয়েন করুন এখনি, যেমন: ১. সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। ২. স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার ও Generative ai ব্যবহার করে। 

১. সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ডিজিটাল এজেন্সি, ডিজিটাল শিক্ষা ওয়েবসাইট (যেখানে কোর্স আছে), ডোমেইন হোস্টিং প্লাটফর্ম ইত্যাদি। 

ওয়েবসাইটের ফুটারে গিয়ে দেখুন: ওয়েবসাইটের পেজ scroll করে একেবারে নিচে যান এবং ফুটার সেকশনে খুঁজে বের করুন “Affiliate program বা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করুন” 

২. স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার ও Generative ai ব্যবহার করুন: ফেসবুক, ইউটিউব এর সার্চ বারে সার্চ দিন “জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম বাংলাদেশ” বা “20 best affiliate programmes” 

এছাড়াও, এখন আপনি চাইলে chatgpt, Gemini, সহ অন্যান্য এআই কে জিজ্ঞেস করুন “আমাকে কিছু অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের নাম দাও” তাহলেই আপনি বিভিন্ন ধরনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম পেয়ে যাবেন। 

৩. এছাড়াও, আপনি গুগল, বিং, Yahoo ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে সার্চ দিয়ে অ্যাফিলিয়েট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন এবং তাদের অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ জয়েন হতে পারেন। 

Affiliate marketing কীভাবে শুরু করব

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চাইলে প্রথমে আপনি এখন niche সিলেশন, মার্কেটিং চ্যানেল খুঁজুন, অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করুন, একটি কন্টেন্ট তৈরি করুন, এবং শেষে শেয়ার বা প্রমোট করুন।‌ নিচে ধাপে ধাপে সম্বন্ধ বিপণন শুরু করার প্রসেস দেওয়া হল। 

১. টার্গেটেড niche সিলেশন 

টার্গেটেড niche সিলেশন হল আপনি কোন ক্যাটাগরি পন্য বা সার্ভিস গুলো গুলো প্রচার বা প্রোমোট করতে চাচ্ছেন তা সিলেশন করুন, যেমন: প্রযুক্তি, গেমিং, ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, স্কিল কোর্স, সফটওয়্যার ইত্যাদি। 

আরো একটু পরিষ্কার করে বলি, উদাহরণ স্বরূপ: আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, সেখানে আপনি প্রযুক্তি বিষয়ে মানুষদের বলেন, তাহলে আপনার Niche কি হবে? অবশ্যই প্রযুক্তি।‌ 

২. টার্গেটেড মার্কেটিং চ্যানেল খোঁজা (প্রযুক্তি niche এর জন্য) 

মার্কেটিং চ্যানেল হল এক ধরনের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার বা প্রমোট করার মাধ্যমে, যেখানে আপনি ফ্রি বা মূল্য পরিশোধ করে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। যেমন: ব্লগ বা ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজ বা গ্রুপ, ইমেইল মার্কেটিং, Pinterest, LinkedIn, TikTok অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম - এগুলোর মধ্যে থেকে যেকোনো এক বা একাধিক প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট Niche এর দর্শক তৈরি করুন। অর্থাৎ, একটি বড় অডিয়েন্স তৈরি করুন - ৩ হাজারের উপরে সাবস্ক্রাইবার, ফলোয়ার বা ভিজিটর তৈরি করুন। 

৩. অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন 

অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন মানে হল এমন একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যাদের পন্য বা সার্ভিস এর প্রচার করার জন্য অ্যাফিলিয়েট দরকার, এই জন্য তারা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু রেখেছে। উদাহরণ স্বরূপ, Daraz, rokomari, amazon, alibaba, cj affiliate, এবং আরো অন্যান্য কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান। 

আপনার niche অনুযায়ী, Daraz, rokomari, amazon, alibaba, cj affiliate, এবং আরো অন্যান্য কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সার্ভিস গুলো দেখে নিন এবং জয়েন হওয়ার পর পন্য বা সার্ভিস পছন্দ করে নিন, কোন পন্য বা সার্ভিস গুলো প্রচার বা শেয়ার করতে চান। 

৪. একটি কন্টেন্ট তৈরি করা (অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন এর পর) 

কন্টেন্ট তৈরি করা বলতে বোঝায় কোনো পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে এমন লেখা বা ভিডিও তৈরি করা, যেখানে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করতে পারবেন। এই কন্টেন্ট আপনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করতে পারেন—যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার করা, ব্লগিং ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজের জন্য আর্টিকেল লেখা, কিংবা ইমেইল মার্কেটিংয়ের জন্য আকর্ষণীয় বার্তা প্রস্তুত করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বা পোস্ট পাবলিশ করা:
  • আপনি ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও বা পোস্ট তৈরি করতে পারেন। তবে কন্টেন্ট তৈরি করার সময় অবশ্যই ভিউয়ার বা অডিয়েন্সের মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল ব্যবহার করতে হবে, যাতে তারা আপনার শেয়ার করা অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা কিনতে আগ্রহী হয়।
  • ব্লগিং ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজের জন্য কন্টেন্ট লেখা:
  • একটি ব্লগিং ওয়েবসাইটের জন্য প্রায় ১৫০০ শব্দের মধ্যে SEO-ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখুন এবং লেখার ভেতরে প্রাসঙ্গিকভাবে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করুন। আর ল্যান্ডিং পেজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন আকর্ষণীয় ক্লিকযোগ্য CTA বাটন, পণ্য বা পরিষেবার সুবিধা, এবং কারা এটি ব্যবহার করতে পারে সে সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য।
  • ইমেইল মার্কেটিং করা: ইমেইল মার্কেটিংয়ের জন্য প্রথমে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সের ইমেইল সংগ্রহ করুন। এরপর তাদের উদ্দেশ্যে একটি আকর্ষণীয়, আবেগঘন ও পরিপাটি ই-চিঠি লিখুন, যাতে প্রাপক ইমেইলটি পড়ে আগ্রহ অনুভব করে এবং আপনার দেওয়া লিংকের মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা ক্রয় করতে উৎসাহিত হয়।

৫. শেষে শেয়ার বা প্রমোট করা (সকল মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করা) 

এখন আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করুন, প্রতিদিন বিভিন্ন মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার বা প্রচার করুন, এবং কোন পন্য বা সার্ভিস বেশি ক্রয় করছে তা বুঝে সেই ধরনের পন্য বা সার্ভিস প্রচার করুন। 

এখন আপনার কাজ পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিদিন মার্কেটিং করা এবং অ্যাফিলিয়েট কমিশন উপার্জন করা। 

FAQs (অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর) 

বেশ কিছু অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল: 

নতুনদের জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

নতুনদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট লিংক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অর্থ উপার্জন করা। 

Affiliate marketing এর মূল কাজ কি?

Affiliate marketing এর মূল কাজ হল পন্য বা সার্ভিস এর লিংক প্রমোট করা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক সেল তৈরি করা। অর্থাৎ, একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর মূল উদ্দেশ্য হল বেশি বেশি লিংক শেয়ার এবং বেশি অর্থ উপার্জন।‌

একটি Affiliate লিংক থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

হ্যাঁ, একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে হাজার থেকে লাখ টাকা উপার্জন করতে পারেন। কারণ, একটি শেয়ার বা প্রমোটকৃত লিংক থেকে যত বার, যত দিন ঐ লিংক থেকে কোন কিছু ক্রয় করবে, আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে ততদিন উক্ত লিংক থেকে কমিশন পেতে থাকবেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কত পারসেন্ট কমিশন দেওয়া হয়?

প্রতিটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন পারসেন্ট কমিশন দেয়।

  • Amazon Associates – 1% থেকে 10% কমিটি (প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী) 
  • HubSpot Affiliate – ~30% recurring কমিশন
  • Semrush Affiliate – ~40% recurring কমিশন
  • রকমারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে 5% থেকে 10% পর্যন্ত
  • ডারাজ বাংলাদেশ ০ থেকে ১৭.২% পর্যন্ত কমিশন দেয়। 
অর্থাৎ, ই-কমার্স অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে অ্যাফিলিয়েট কমিশন কম দেয় এবং ডিজিটাল কোর্স এর চেয়েও ফাইন্যান্স বা কার্ড এর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্ৰামে মার্কেটিং করলে বেশি কমিশন পাবেন। 

এফিলিয়েট মার্কেটার হলে কি করতে হয়?

একজন এফিলিয়েট মার্কেটার এর কাজ হল প্রতিদিন অ্যাফিলিয়েট লিংক বিভিন্ন Social Media তে শেয়ার করা, Content এর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করা, Paid Ads রান করা, এবং Email Marketing এর মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট লিংক মার্কেটিং বা প্রমোট করা। 

এফিলিয়েট মার্কেটারদের আয় কত?

একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত অনলাইন থেকে ইনকাম করে। নতুন বাংলাদেশি অ্যাফিলিয়েটরা মাসে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বা Amazon associate, alibaba, Cj affiliate, hostinger এর অ্যাফিলিয়েটর হলে মাসে ১০ থেকে ২০,০০০ থেকে টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে। এছাড়াও, প্যাসিভলি একজন পুরাতন বা এক্সপার্ট অ্যাফিলিয়েটর মাস শেষে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে। 

Affiliate link কিভাবে পাওয়া যায়?

অ্যাফিলিয়েট লিংক আপনার অ্যাফিলিয়েট একাউন্ট এর ড্যাশবোর্ড পাওয়া যাবে। অ্যাফিলিয়েট link মূলত একটি বিশেষ লিংক, যা অ্যাফিলিয়েট ড্যাশবোর্ডে বা লিংক জেনারেটর ব্যবহার করে তৈরি করতে হয়। আপনার অ্যাফিলিয়েট একাউন্টে log in করুন এবং মেনু বারে চক করুন। 

সম্বন্ধ বিপণন কী?

সম্বন্ধ বিপণন হল অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন করে লিংক বিপণন করা এবং সম্বন্ধ বিপণন হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বাংলা শাব্দিক অর্থ। 

নতুনদের জন্য কোন অ্যাফিলিয়েট ভাল?

নতুনদের জন্য ভালো এবং সহজে জয়েন করা যায়, এমন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম গুলো হল: (দেশি অ্যাফিলিয়েট) daraz affiliate, rokomari affiliate, এবং amazon affiliate (আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত)। যেখানে আপনি নতুন বা বিগিনার হিসেবে মোবাইল দিয়ে অ্যাফিলিয়েট বিপণন শুরু করতে পারেন। 

এফিলিয়েট মার্কেটার কিভাবে বেতন পায়?

প্রতিটি এফিলিয়েট মার্কেটার (বাংলা: সম্বন্ধ বিপণনকারী) পন্য বা পরিষেবার প্রতিটি বিক্রির উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পায়, এবং MFS, ব্যাংক , এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সাপ্তাহিক ও মাসিক বেতন পায়। একজন মার্কেটার কত দিন পর পর এবং সর্বনিম্ন কি পরিমাণ অর্থ অ্যাফিলিয়েট ডেসবোর্ডে জমা হলে পেমেন্ট withdrawal করতে পারবে তা নির্ভর করে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের উপর। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং শেখা কি সহজ?

হ্যাঁ, এফিলিয়েট মার্কেটিং শেখা ১০০% সহজ এবং নতুনরা মোবাইল ফোন থাকলেই শিখতে পারে। ফ্রি এবং পেইড কোর্স করার মাধ্যমে এটি শিখতে পারেন। ফ্রিতে শিখতে চাইলে ইউটিউবে এক্সপার্টদের ভিডিও দেখতে পারেন অথবা অনলাইনে ১০ মিনিট স্কুল এর কোর্স করতে পারেন। এছাড়াও, আপনি আপনার নিজ জেলায় যে কোন আইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে Affiliate marketing যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। 

ফ্রিতে এফিলিয়েট মার্কেটিং শেখা যাবে কি?

হ্যাঁ, আপনি ফ্রিতে এফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে পারেন, এই জন্য আপনাকে বিভিন্ন ফ্রি চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে এবং সময় দিয়ে ধীরে ধীরে শিখতে হবে। ফ্রিতে affiliate marketing শিখতে ইউটিউব ভিডিও, ব্লগ আর্টিকেল, বিভিন্ন কোম্পানির ফ্রি কোর্স, এবং সরকারিভাবে কোর্স করতে পারেন। 

টাকা ছাড়াই কি এফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়?

জি, ফ্রিতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে পারেন, যেখানে আপনি বিনামূল্যে বা টাকা ছাড়াই শিখে আয় করতে পারেন। কারণ, এটি ফ্রিতে করা যায় এবং যে কোন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে টাকা লাগে না। আপনি চাইলে, daraz, amazon, rokomari, Ali baba তে এখনি জয়েন করে আয় শুরু করতে পারেন। 

Affiliate marketing কি লাভজনক?

Affiliate marketing একটি লাভজনক মার্কেটিং পদ্ধতি, যা ব্যবহার করে আপনি আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন এবং বাংলাদেশে বসে সারা পৃথিবীতে পন্য বা পরিষেবার মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন। আপনি চাইলে এখান থেকে মাসে ৩০-১,০০০০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন। সঠিক মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন করলে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এবং এখান থেকে প্যাসিভ ইনকাম ও তৈরি করা সম্ভব।‌

অ্যাফিলিয়েট কোড কি?

অ্যাফিলিয়েট কোড হল নির্দিষ্ট একটি কোড, যা সংখ্যা এবং অক্ষর দিয়ে হয়ে থাকে। এটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের দিয়ে থাকে, যেনো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা কোন পন্য বা সার্ভিস ক্রয় করার সময় যেনো অতিরিক্ত ছাড় পায়। এটি মূলত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের একটি মার্কেটিং কৌশল। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল আয়ের উৎস কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল আয়ের উৎস হল কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে লিংক মার্কেটিং করার পর প্রতিটি বিক্রির উপর কমিশন অর্জন। অর্থাৎ, বিক্রির উপর কমিশন অর্জনই একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের আয়ের মূল উৎস। 

জনপ্রিয় এবং সহজে প্রবেশ করতে দেয় এমন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম।

বাংলাদেশি এবং বিদেশি এমন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর নাম দেওয়া হল যেখানে আপনি খুব সহজেই জয়েন করতে পারবেন এবং সম্বন্ধ বিপণন করতে পারবেন, যেমন: rokomari, daraz, amazon, alibaba, 10 minutes school। 

কারা affiliate marketing করতে পারে?

সকল সম্বন্ধ বিপণন এর উপর দক্ষতাসম্পন্ন নারী, পুরুষ, চাকরি জীবী, বৃদ্ধ, সবল এবং দূর্বল মানুষ affiliate marketing করতে পারে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সংখ্যক অডিয়েন্স থাকতেই হবে তা বাধ্যতামূলক নয় বা বড় কোন পদে কাজ করতে হবে এমন কোন শর্ত নেই। 

Affiliate মার্কেটিং করতে কি ভিজিটর লাগে?

না, যদিও কিছু কিছু অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট follower, সাবস্ক্রাইবার, ভিজিটর বা ভিউজের পরিমাণ দেখে। আমার পরামর্শ হল এই মার্কেটিং শুরু করার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ অডিয়েন্স থাকা উচিত।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url