ফেসবুক এর ইতিহাস [অজানা তথ্য]

ফেসবুক এর ইতিহাস [অজানা তথ্য] 

ফেসবুক সম্পর্কে তথ্য

Facebook একটি জনপ্রিয় এবং স্বীকৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা প্রতিটি মানুষ কে অনলাইনে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। তবে Facebook এর কিছু অজানা তথ্য রয়েছে, আপনি কি তা জানেন? 

না জেনে থাকলে, জেনে নিন। 
  • ফেসবুক কী এবং জনপ্রিয়তা কেন এতো বেশ? 
  • ইতিহাস 
  • কি কি করা যায়

ফেসবুক কী এবং জনপ্রিয়তা কেন এতো বেশি? 

ফেসবুক (Facebook) হল একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা মার্ক জুকারবার্গ এবং তাঁর ৪ রুমমেট (সাভারিন, ম্যাককলাম, মস্কোভিটজ ও হিউজ) মিলে তৈরি করেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেসবুক এর যাত্রা শুরু হয়। 

যখন এটির ব্যবহার শুরু হয়, তখন 'দ্য ফেসবুক' (TheFacebook) নামে যাত্রা শুরু করে এবং যখন এটি ব্যবহার শুরু হয়, তখন TheFacebook শুধুমাত্র হার্ভার্ড শিক্ষার্থীদের জন্য উপলভ্য ছিল। 

পরবর্তীতে, ২০০৫ সালে TheFacebook এর পরিবর্তে ফেসবুকের মূল ডোমেনটি (facebook.com) কিনে নেওয়ার পর এটি উইজারদের কাছে Facebook নামে পরিচিত পায়। 

FACEBOOK এর মূল উদ্দেশ্য হল পরিচিত এবং অপরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এর মধ্যে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে কাজ করে এবং মানুষের আবেগ, অনুভূতি গুলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করে। এর পাশাপাশি এটি ব্যাক্তিগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ব্যাবসায়িক দিক থেকে প্রতি ব্যাক্তির পরিচিত কে তুলে ধরে।‌ অর্থাৎ, এটি মানুষের সামাজিক যোগাযোগ কে অনলাইনে রুপান্তরিত করে এবং অনলাইনে যোগাযোগ করার সুযোগ দেয়। 

এর মূল কোম্পানি মেটা (Meta) হল ফেসবুক এর মাদার কোম্পানি এবং এখন যে আমরা Facebook ব্যবহার করছি তা মুলত Meta পরিচালনা করে। Facebook এর সকল আপডেট ফিচার যুক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া, কোন নিয়ম তৈরি করা ইত্যাদি সকল কাজ মেটা পরিচালনা করে। 

ফেসবুক ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর একটি। এর এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

  • প্রথমত, ফেসবুক কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। শুধু ইন্টারনেট সংযোগ ও একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করলেই আপনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
  • দ্বিতীয়ত, অনলাইন ইনকাম এর সুযোগ ফেসবুককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ব্যবহারকারীরা পোস্ট, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলো প্রকাশের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুবিধা অনেককে প্ল্যাটফর্মটির প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং জনপ্রিয়তা বাড়ায়।
  • তৃতীয়ত, ব্যবসায়িক প্রচারের ক্ষেত্রে ফেসবুক অত্যন্ত কার্যকর। বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সহজেই তাদের পণ্য ও সেবা লক্ষ্যমাত্রার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। ফলে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
  • চতুর্থত, ব্যবহার সহজ হওয়ায় সব বয়সের মানুষ এটি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারে। সরল নকশা ও পরিচিত ইন্টারফেসের কারণে নতুন ব্যবহারকারীরাও দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে যায়।
  • পঞ্চমত, দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ফেসবুককে আলাদা করেছে। গ্রুপ, ইভেন্ট এবং শেয়ার অপশনের মাধ্যমে কোনো খবর, বিনোদনমূলক বিষয় বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব অল্প সময়ে বিপুল মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
  • ষষ্ঠত, মেসেজিং (মেসেঞ্জার), লাইভ সম্প্রচারসহ নানা সুবিধা প্ল্যাটফর্মটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। নিয়মিত আপডেট ও নতুন ফিচার যুক্ত হওয়ার ফলে এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন যোগাযোগব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈশ্বিক যোগাযোগ, আয়ের সুযোগ, ব্যবসায়িক প্রচার, সহজ ব্যবহার ও দ্রুত তথ্য বিস্তারের সমন্বয়ই ফেসবুককে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

ইতিহাস (theFacebook থেকে Facebook)

ফেসবুকের ইতিহাস শুরু হয় আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে, যখন Mark Zuckerberg তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে হার্ভার্ডে পড়াশোনার সময় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন Harvard University। বহু পরিশ্রম ও পরীক্ষার পর তিনি তৈরি করেন একটি সাইট, যার প্রাথমিক নাম ছিল TheFacebook। প্রথমদিকে এটি শুধু হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু ছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

শীঘ্রই এই প্ল্যাটফর্ম হার্ভার্ডের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৪ সালের মধ্যেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। তখন প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধান্ত নেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা সরিয়ে প্ল্যাটফর্মটিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।

২০০৫ সালে নাম থেকে “The” বাদ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম রাখা হয় Facebook, এবং একই বছরে facebook.com ডোমেইনটি প্রায় ২০০,০০০ ডলারে কেনা হয়। এরপর বড় পরিবর্তন আসে ২০০৬ সালে, যখন ঘোষণা করা হয় যে ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি ইমেইল ব্যবহার করে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। এই সিদ্ধান্তই প্ল্যাটফর্মটিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যায়।

২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ফেসবুকে ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নতুন ফিচার যুক্ত হয়। এই সময়েই চালু হয় News Feed, Like Button, Pages এবং Messenger, যা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আমূল বদলে দেয় এবং প্ল্যাটফর্মটিকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করে তোলে।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে কোম্পানির মূল প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে Meta Platforms রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবাকে একটি সমন্বিত পরিচয়ের অধীনে আনা। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা মার্ক জুকারবার্গের অধীনে বর্তমানে রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যেমন Instagram, Threads এবং WhatsApp।

নানা সমালোচনা, বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আজ ফেসবুক একটি পরিণত, বহুমাত্রিক এবং আধুনিক অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং ডিজিটাল কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

Facebook এর অজানা তথ্য সমূহ

Facebook এর এমন অনেক তথ্য ও ফিচার রয়েছে, যেগুলো অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অজানা থেকে যায়। অথচ এই লুকানো সেটিংস, কৌশল ও সুবিধাগুলো জানা থাকলে ফেসবুক ব্যবহার আরও সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর হয়ে ওঠে। নিচে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো, যা জানলে আপনার ফেসবুক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নতুনভাবে সমৃদ্ধ হবে।

১. ফেসবুকের রঙ নীল কেন, কারণ হল মার্ক জুকারবার্গ Colour blind. 

২. ফেসবুকের পোস্টে #tag এবং @মেনশন করলে আরো ভিউ পড়ে। 

৩. ফেসবুকের পোস্টের মধ্যে 🔗 link দিলে ভিউজ ডাউন হতে পারে। 

৪. ফেসবুক বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার স্যোশাল মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে। কারণ, এই প্লাটফর্মে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন এর ইউজার সংখ্যা বেশ। 

৫. Story তে ছবি বা ভিডিও দিলে ২৪ ঘন্টা থাকে।

৬. পেজে ভিজিটর ও ভিডিওতে ভিউ বাড়াতে অন্যের ভিডিওতে লাইক, গঠনমূলক মন্তব্য বা কমেন্ট করলে নিজের ভিডিওতে ভিউ বাড়ে। 

৭. নিজের ভিডিওতে বা পোস্টের কমেন্ট বক্সে @followers লিখলে অটোমেটিক অন্য সকল ফলোয়ারদের কাছে নোটিফিকেশন চলে যায়। এতে ভিউজ বাড়ে। 

৮. আপনি নতুন পেজ খুলেছেন, তাহলে ট্রেডিং এর উপর ভিডিও এবং পোস্ট করুন। ভিডিওতে অটোমেটিক ভিউজ আসবে। 

৯. কেউ যদি ভিডিওতে লাইক করে তাহলে তাকে অটোমেটিক Invite পাঠানো যায়। 

১০. পেজে একটি playlist রাখলে দ্রুত পেজ গ্ৰো করে। 

১১. ফেসবুক দিয়ে ব্যবসা করা যায়। F-commerce ব্যবসা সম্পর্কে জানুন। 

১২. পেজে ১০০ ফলোয়ার হলে ফেসবুকে লাইভ হওয়া যায়। 

১৩. একাধিক একাউন্ট খোলার সুযোগ। Facebook এ Log out দিয়ে আরো নতুন নতুন ফেসবুক একাউন্ট ও পেজ খোলা যায়। 

১৪. ফেসবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হওয়া একটি স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। বিশ্ববিদ্যালয়টি হল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫. পৃথিবীর অন্যতম পুরাতন Social media platform হল Facebook। 

১৬. ফেসবুকে ছবি, ভিডিও, লিংক, একসাথে শেয়ার করা যায়। 

FAQs (অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর) 

গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর 

১. ফেইসবুক প্রোফাইল

ফেইসবুক প্রোফাইল হল একটি ব্যাক্তিগত একাউন্ট কে বোঝায়, যা ব্যবহার করে ইউজাররা পোস্ট করা, মেসেজ করা, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করা, এবং বিভিন্ন Activity করা যায়। Facebook profile এ ব্যক্তির ছবি থাকে এবং নাম দেখা যায়। 

২. Facebook Messenger

ফেসবুক এর মেসেজিং প্লাটফর্ম হল Messenger, যেখানে গ্ৰুপে এবং one to one message আদান প্রদান করা যায় এবং Messenger হল আলাদা অ্যাপস বা সাইট। 

৩. বাংলাদেশে ফেসবুক কত সালে চালু হয়?

ফেসবুক বাংলাদেশে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে চালু হয়। 

৪. ফেসবুকের নতুন নাম কি?

ফেসবুক এর নতুন নাম হল ফেসবুক, ২০২১ সালে ফেসবুক মেটা (meta) এর অধীনে হয়‌। 

৫. ভালো ফেসবুক নাম কি?

ছোট, অর্থবহ, এবং আপনার পরিচিত শব্দ দিয়ে ফেসবুক নাম ব্যবহার করুন। যাতে সবাই মনে রাখতে পারে এবং আপনার একটি identity তৈরি হয়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url