আব্দুল কাদের জিলানীর সত্যবাদীতা ও ডাকাত দলের ঘটনা

আব্দুল কাদের জিলানী সত্যবাদীতার শিক্ষা মূলক গল্প 

বড়পীর খ্যাত আব্দুল কাদের জিলানীর বাল্যকালে ঘটে একটি ডাকাত দলের সাথে এক ভয়ংকর ঘটনা। ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা লুকানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য বলেছিলেন। তাঁর সত্য কথা ডাকাত দলকে এতোটাই আবেগ আপ্লুত করে ছিল যে, পরবর্তীতে ডাকাত দল ডাকাতি ছেড়ে ভালো পথে ফিরে এসেছিল। 

আব্দুল কাদের জিলানীর সত্যবাদীতা ও ডাকাত দলের ঘটনা

চলুন পুরো ঘটনাটি পড়ি, কী হয়েছিল সেই দিন। কেন ডাকাত দল ডাকাতি ছেড়ে দিল। 

আব্দুল কাদের জিলানীর সত্যবাদীতা ও ডাকাত দলের ঘটনা 

বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী ছিলেন একজন সত্যিকারের আলেম, দাঈ এবং আধ্যাত্মিক গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। তিনি সত্য কথা বলা খুবই পছন্দ করতেন এবং মিথ্যা বলা কখনোই পছন্দ করতেন না। 

আব্দুল কাদের জিলানী কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সবুজ-শ্যামল জিলান অঞ্চলের একটি শান্ত গ্রামে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর গ্ৰামের মতই ছিলেন শান্ত, নম্র, ভদ্র এবং তিনি ছিলেন তার মায়ের প্রতি অনুগত। 

তার মা তাঁকে শেখাতেন সত্যবাদীতা। কারণ, ইসলামে ধর্মে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে মহাপাপ। এই পাপ কে অনেক বড় দেখেছিলেন তার মা সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তিনি তাঁর একমাত্র পুত্র আব্দুল কাদের কে সব সময় সত্যের পথে থাকা, সত্যের পথে চলা, সত্য কথা বলা শিক্ষা দিয়েছিলেন। 

ছোট থেকেই তাঁর মা তাঁকে শিক্ষার প্রতি অনুগত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আব্দুল কাদের জিলানী ও পড়ালেখায় ছিল খুবই ভালো এবং মেধাবী একজন ছাত্র। 

একদিন পড়াশোনার জন্য আব্দুল কাদের জিলানী এর প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি জিলান নগরীর শান্ত গ্ৰামে ছেঁড়ে বাগদাদ যাবেন শিক্ষা অর্জন করতে। সেই সময় বাগদাদ ছিল জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার এক বিশাল আতুর ঘর। বর্তমানে বাগদাদ হল ইরাকের রাজধানী। 

যাইহোক, বাগদাদ যাবেন আব্দুল কাদের জিলানী। 

দিনক্ষণ ঠিক হল ছোট আব্দুল কাদের জিলানী কে তাঁর মা একা একা ছেড়ে দিলেন না। তাঁকে একটি কাফেলার সাথে যুক্ত করে দিলেন। 

কাফেলায় যুক্ত করার আগে সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা বললেন, বাবা তোমার প্রতি আমার উপদেশ হল কখনোই মিথ্যা কথা বলবে না, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন সব সময় সত্য কথা বলবে। 

তাঁর মা তাঁকে আরো উপদেশ দিলেন তোমার জামার মধ্যে সেলাই করা আছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা। যখন তোমার প্রয়োজন হবে, তখন তুমি স্বর্ণমুদ্রা গুলো যথাযথ জায়গায় খরচ করবে।

রওনা হল কাফেলা, গন্তব্য হল বাগদাদ। 

পাহাড়, মরুভূমি, ছোট ছোট গাছপালার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কাফেলা। 

হঠাৎ, কাফেলা ঘেরাও করে সামনে দাঁড়ালেন অসংখ্য ডাকাত সদস্য। ডাকাত দলের সর্দার বলল, যার কাছে যা আছে সব বের করে দাও, নইলে এক একজন কে হত্যা করব। 

কেউই তাঁদের মূল্যবান সম্পদ বের করল না। ডাকাত দল জোড়াজোড়ি করে সবার থেকে অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা হাতিয়ে নিল।

শেষে আব্দুল কাদের জিলানীর কাছে এলো ডাকাত দলের সর্দার এবং আব্দুল কাদের জিলানী কে ডাকাত দলের সর্দার তাঁর সব কিছু তল্লাশি করল। কিন্তু, কোন কিছুই পেল না। 

ডাকাত দলের সর্দার বলল, এই যুবকের নিকট কোন সম্পদ নেই। সবাই চলো এখান থেকে চলে যায়। 

ডাকাত দল যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আব্দুল কাদের জিলানী তাঁর নিরাবতা ভাংলেন এবং ডাকাত দলের সর্দার কে লক্ষ্য করে বললেন, ডাকাত সর্দার আমার কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে। 

ডাকাত দলের সর্দার পেছন ফিরে তাকালেন। এই যুবক তুমি কি বললে? তোমার কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রাটি আছে। 

আব্দুল কাদের জিলানী বললেন, হ্যাঁ সর্দার। আমার কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে, যা আমার মা আমাকে আমার জামার ভিতর দিয়েছিলেন।‌

এরপর, আব্দুল কাদের জিলানী তাঁর স্বর্ণমুদ্রার গুলো দেখালেন এবং বললেন এই দেখুন সর্দার আমার ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা এখানে আছে। 

ডাকাত দলের সর্দার ছোট্ট বালকের কথা শুনে হতবাক হয়ে গেলেন এবং বললেন তোমাকে তো আমি একবার তল্লাশি করেছি। 

তুমি তো চাইলেই তোমার ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা রক্ষা করতে পারতে এবং অন্য কোন জায়গায় ব্যবহার করতে পারতে। তুমি কেন আমাকে তোমার স্বর্ণমুদ্রা গুলোর কথা বললে?

ছোট্ট আব্দুল কাদের জিলানী উত্তরে বললেন, আসলে আমার মা আমাকে সব সময় সত্য কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই, আমি আপনাকে আমার ৪০টি স্বর্ণমুদ্রার কথা জানিয়েছি। 

এরপর, ডাকাত দলের সর্দার চুপ করে রইলেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে লাগলো। 

তিনি বললেন, আমরা আল্লাহর কত নির্দেশ অমান্য করি। কখনোই সত্য কথা বলি না।‌

আর তোমার মায়ের নির্দেশ তুমি একটি ডাকাত দলের সামনে অনুসরণ করলে। 

এরপর, ডাকাত দল ভালো হয়ে গেল এবং ডাকাতি ছেড়ে দিল। 

গল্পের শিক্ষা

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে সত্যবাদিতা কখনো মানুষকে ছোট করে না; বরং একজন সত্যবাদী মানুষই অন্য মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। আসুন সত্যবাদী হই এবং অপর মানুষ কে প্রভাবিত করি। 

গল্পে আব্দুল কাদের জিলানী যেমন ডাকাত দল কে তার সত্যের গুণ দিয়ে প্রভাবিত করেছিল। 

একটি ছোট্ট ছড়া (সত্যবাদী)

লেখক, মোঃ সামিউল আলী 

আমি হবো সত্যবাদী,

হবো না আমি মিথ্যেবাদী।

সত্য আমার জীবনের আলো,

মিথ্যা ছেড়ে চলব ভালো।

আব্দুল কাদের জিলানীর সত্যবাদীতা ও ডাকাত দলের ঘটনা থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. গল্পের মূল বিষয় কী?

উত্তর: সত্যবাদিতা ও ডাকাত দলের ঘটনা।

২. কিশোরটির কাছে কী ছিল?

উত্তর: ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা।

৩. স্বর্ণমুদ্রাগুলো কোথায় রাখা ছিল?

উত্তর: জামার ভেতরে সেলাই করা ছিল।

৪. কারা কাফেলায় আক্রমণ করেছিল?

উত্তর: একদল ডাকাত।

৫. ডাকাতরা কী জানতে চেয়েছিল?

উত্তর: তাঁর কাছে কোনো সম্পদ আছে কি না।

৬. কিশোরটি কী উত্তর দিয়েছিল?

উত্তর: তাঁর কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে।

৭. কেন তিনি সত্য বলেছিলেন?

উত্তর: তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না।

৮. সত্য শুনে ডাকাত সর্দারের কী হয়েছিল?

উত্তর: তিনি অনুতপ্ত হন।

৯. পরে ডাকাত দল কী সিদ্ধান্ত নেয়?

উত্তর: তারা ডাকাতি ছেড়ে সৎ পথে ফিরে আসে।

১০. গল্পের প্রধান শিক্ষা কী?

উত্তর: সত্যবাদিতা মানুষের জীবন ও সমাজ পরিবর্তন করতে পারে।

আরো গল্প পড়ুন,

১. বায়েজিদ বোস্তামীর মাতৃভক্তি গল্প 

২. মিথ্যে কথা বলার পরিণতি 

৩. এক সত্যবাদী কাঠুরিয়ার গল্প 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url