এক কাঠুরিয়ার সোনার কুড়ালের গল্প

সোনু কাঠুরিয়ার সোনার কুড়ালের রহস্য উন্মোচন 

একটি পুরোনো লোহার কুড়াল, এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড লোহার কুড়াল হল সোনার কুড়াল। আর সেই আগুনেই প্রকাশ পেল বহু বছরের লুকিয়ে থাকা এক বিস্ময়! 
সোনু কাঠুরিয়া সোনার কুড়াল নিয়ে আছে এবং তার নানি পাশে বসে আছে

কীভাবে একটি সাধারণ কুড়াল বদলে দিল কাঠুরিয়া সোনুর পুরো জীবন? জানতে পড়ুন এই শিক্ষণীয় গল্প।

এক কাঠুরিয়ার সোনার কুড়ালের গল্প

সোনারপুর গ্ৰামের সবুজ বন, বিস্তৃত মাঠ, আর মাঠে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলায় গ্ৰামের সুদক্ষ কৃষকগণ। এমনি একটি সুন্দর ও পরিপাটি গ্ৰামে বসবাস করে নিখিল নামের এক কাঠুরিয়া, তার বউ, এবং তার নাতি সোনু। 

নিখিল এর বয়স ৬০ বছর। সে চাই তার কাঠ কাটার দায়িত্ব তার নাতি সোনু নিক। কারণ, নিখিল এর হাঁপানির রোগ আছে, সে ঠিকভাবে এখন আর গাছ কাটতে পারে না। 

একদিন বিকালে নিখিল তার একমাত্র মা-বাবা মরা নাতি সোনু কে ডাকল এবং বলল সোনু তোমার বয়স ২৩ বছর হল। তুমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে। তুমি আমার জায়গায় কালকে থেকে কাঠ কাটতে যাবে। আমার কোনো ছেলে নেই। তাই, এই নাও আমার কুড়াল। এই কুড়াল কাউকে ধার দেবে না। এটাই একদিন তোমার দুঃখ দূর করবে। 

সোনু বলল আচ্ছা নানা কালকে থেকে আমি বনে গাছ কাটতে যাবো এবং এই কুড়াল কাউকে ধার দেব না। এই কুড়াল আমি সব সময় নিজের কাছে রাখবো। 

পরের দিন সকালে সোনু একজন কাঠুরিয়া হিসেবে গাছ কাটতে বের হল। সন্ধার আগেই বাড়ি ফিরল এবং ৭০০ টাকা তাঁর নানার হাতে দিয়ে বলল, নানা আজকে এই পরিমাণ টাকা কাঠ কেটে উপার্জন করেছি। 

তার নানা নিখিল খুব খুশি হল এবং বলল আরো টাকা ইনকাম করো। আমার এটাই প্রার্থনা। 

এভাবে কেটে গেল বেশ কিছু বছর। 

এরপর একদিন রাতে সোনুর নানা মারা গেল। তাঁর নানা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল এবং সোনু ও তার নানির অনেক দুঃখ হল। 

এরপর, সোনুর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল তাঁর নানি। নানি ও নাতি একসাথে বসবাস করতে লাগলো। 

তাঁর নানি একদিন খুব ইচ্ছে হল সোনুর একটি লাল টুকটুকে বউ এর সাথে বিয়ে দেবে। পাত্রি দেখা শুরু হল। 

একটি, দুইটি, তিনটি এভাবে একাধিক পাত্রি দেখলে ও সোনুর কোনো বউ পছন্দ হয় না। আরো কিছু পাত্রী দেখা হল সোনুর জন্য। কিন্তু, একটি ও পছন্দের হল না সোনুর। 

একদিন সকালে সোনু বনে গাছ কাটতে গেল না। সোনু তাঁর বন্ধুদের সাথে সময় কাটালো। 

তাঁর নানি বাড়িতে বসে সকালে ভাত রান্না করছিল এবং রান্না শেষে চুলার মুখ থেকে লকড়ি সরিতে ভূলে যায় এবং তার নানি নানি নদীতে গোসল করতে যায়‌ তারপর, তাদের বাড়িতে আগুন 🔥 লেগে যায়। 

গ্ৰামের মানুষ এসে তাদের ঘরে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করল। কিন্তু, নেভাতে পারল না। সোনু ও তার নানি তাদের বাড়িতে আগুন লাগার কথা শুনে দ্রুত বাড়িতে এলো এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করল। 

শেষ পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হল। আগুনে সোনুর ঘর ও রান্না ঘর পুড়ে গেল এবং সোনুর নানির ঘর আগুন লাগা থেকে রক্ষা পেল। 

সোনুর খুব দুঃখ হল এবং পুড়ে যাওয়া ঘরের মধ্যে তার মূল্যবান জিনিস খোজার চেষ্টা করল। সোনু দেখলো তার মূল্যবান জিনিস গুলোর মধ্যে কোন কিছু অক্ষত নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

হঠাৎ, পুড়ে যাওয়া ঘরের কোণে দেখতে পেল, একটি উজ্জ্বল সোনালী বস্তু। যেনো এক টুকরা সোনা। 

সোনু ঘরের কোণে গেল এবং সেই উজ্জ্বল বস্তুটি তুলে দেখতে পেল যে, এটি তাঁর নানার দেওয়া কুড়াল। সে খুবই আনন্দিত হল এবং খুশি হয়ে সে তার নানির কাছে গেল। 

তার নানির কাছে গিয়ে সোনু বলল নানি, নানা যে কুড়াল আমাকে দিয়েছিল। সেই কুড়াল কোনো লোহার কুড়াল নয়। বরং, সেটা হল একটি সোনার কুড়াল। এই দেখো, আগুনে পুড়ে গিয়ে লোহার প্রোলেপ উঠে গিয়ে সোনার কুড়ালটি দেখা যাচ্ছে। 

তার নানি ও অনেক বেশি খুশি হল এবং বলল এই সোনার কুড়াল বিক্রি করে তোর বিয়ে দেব এবং আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করব। চল, সোনু এই সোনার কুড়াল বিক্রি করে দেয়।

সোনু ও তাঁর নানি একটি সোনার দোকানে গেল এবং পুরো কুড়াল বিক্রি না করে অল্প পরিমাণ সোনা বিক্রি করলো এবং অনেক টাকার মালিক হল। বাকি কুড়াল এর অংশ ভবিষ্যৎ এর জন্য মাটিতে পুঁতে দিল। 

একদিন সোনু বিয়ে করল এবং সোনু, তার বউ ও তাঁর নানি সুখে বসবাস লাগলো। 

গল্পের শিক্ষা 

বড়দের উপদেশ সবসময় পালন করা উচিত। বড়দের উপদেশ এর মধ্যে থাকে, রহস্য, শিক্ষা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা, যা প্রতিটি ছেলে ও মেয়ে কে পালন করা উচিত। 

সোনার কুড়াল গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

৭টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. সোনুর নানার বয়স কতছিল?

উত্তর: ৬০ বছর 

২. নিখিল কেন সোনুকে নিজের কুড়ালটি দিয়েছিলেন?

উত্তর: বয়স ও হাঁপানির কারণে তিনি আর গাছ কাটতে পারতেন না। তাই নিজের দায়িত্ব সোনুর হাতে তুলে দিয়ে কুড়ালটি যত্নে রাখতে বলেছিলেন।

৩. সোনুর বাড়িতে আগুন লাগার কারণ কী ছিল?

উত্তর: সোনুর নানি রান্না শেষে চুলার আগুন পুরোপুরি নিভাতে ভুলে নদীতে গোসল করতে গেলে বাড়িতে আগুন লেগে যায়।

৪. আগুনের পর সোনু কী আবিষ্কার করেছিল?

উত্তর: আগুনে লোহার প্রলেপ পুড়ে যাওয়ায় সে দেখতে পায়, তার নানার দেওয়া কুড়ালটি আসলে খাঁটি সোনার তৈরি।

৫. সোনু কি পুরো সোনার কুড়াল বিক্রি করেছিল?

উত্তর: না। সে কুড়ালের অল্প অংশ বিক্রি করে প্রয়োজনীয় টাকা নেয় এবং বাকি অংশ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে।

৬. সোনার কুড়াল পাওয়ার পর সোনুর জীবনে কী পরিবর্তন আসে?

উত্তর: সে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়, নিজের বিয়ে করে এবং নানিকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন শুরু করে।

৭. লোহার কুড়াল পুড়ে গিয়ে কোন কুড়াল তৈরি হয়েছিল?

উত্তর: সোনার কুড়াল। 

আরো গল্প পড়ুন,





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url