খরগোশ ও বিড়ালের মজার বন্ধুত্বের গল্প
ঝগড়া থেকে ভালোবাসা, দুই দুষ্টু বন্ধুর হৃদয়ছোঁয়া কাহিনি
পোষা প্রাণীরা শুধু মানুষের সঙ্গীই নয়, তারা একে অপরেরও খুব ভালো বন্ধু হতে পারে। অনেক সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া হলেও সেই ঝগড়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব।
আজকের গল্পে আমরা জানব রহিমের আদরের খরগোশ ও বিড়ালের মজার ঝগড়া, অভিমান এবং তাদের সত্যিকারের বন্ধুত্বের কথা। চলুন গল্লটি পড়ি।
খরগোশ এবং বিড়াল এর গল্প
রহিমের বাড়িতে আছে দুটি খুব চালাক এবং সুন্দর প্রাণী। একটি খরগোশ আর অন্যটি হলো বিড়াল 🐈।
খরগোশ ও বিড়াল ছিল খুবই দুষ্টু এবং সব সময় তারা ঝগড়া করত। তারা দুজনই রহিমের বাড়ি সব সময় বিভিন্ন দুষ্টুমির মাধ্যমে ভরিয়ে রাখত।
তারা দুজনের মধ্যে সব সময় খাবার নিয়ে ঝগড়া হত এবং এই ঝগড়ার কারণে রহিম খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকত। কারণ, তিনি বিড়াল ও খরগোশ কে খুব ভালোবাসত।
রহিম একদিন একটি বড় সিদ্ধান্ত নিল। সে চিন্তা করল, যদি দুটি প্রাণী কে আলাদা করা যায়। তাহলে, তাদের মধ্যে আর ঝগড়া হবে না।
সেইদিন সকালে রহিম বিড়ালটাকে বাড়ির পাশের খামারে রেখে এল এবং একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল যাক দুজনের ঝগড়া থামানো গেছে।
দুপুর বেলা রহিম তার আদরের খরগোশ কে ডেকে খরগোশ এর পছন্দের খাবার গাজর খেতে দিল। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল, খরগোশ খাবার খেল না এবং পুরো বাড়ির বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে লাগল।
তার মুখ থেকে গাজর পড়ে গেল। এই দৃশ্য দেখে রহিম বলল, তুমি খাবার খাবে না। কেন খাবে না, কী হয়েছে তোমার? তুমি কি কাউকে খুজছো।
রহিম বুঝতে পারছে না। আসলে, তার প্রিয় খরগোশ এর হয়েছে কি?
রহিম দেখলো খরগোশ শুধু ঘরের বাইরে মুখ বের করে বসে আছে। যেনো সে খুব অভিমান করেছে, যেনো সে কাউকে চাই, যেনো সে খুব কষ্টে আছে।
রহিম তার খরগোশ এর কাছে এলো এবং দেখল খরগোশ খামারের দিকে তাকাচ্ছে।
তখন রহিম বুঝতে পারল, খরগোশ তার প্রিয় বন্ধু বিড়াল কে না পেয়ে না খেয়ে বসে আছে।
রহিম বাড়ির বাইরে গেল এবং খামার থেকে বিড়ালটিকে খরগোশ এর কাছে নিয়ে আসল।
যেমনি খরগোশ বিড়াল কে দেখল, তেমনি দুজন মিলে একসাথে মারামারি লেগে গেল। রহিম খুব কষ্ট করে এবং খুব দ্রুত বিড়াল ও খরগোশ এর মারামারি থামাল।
এরপর, রহিম দুজনকেই গাজর 🥕 এবং মাছ 🐟 খেতে দিল। খাবার পাওয়া মাত্রই বিড়াল দুটো খাবারকে নিয়ে বাড়ির বাইরে পালিয়ে গেল।
পিছনে পিছনে ছুটল খরগোশ। একটু দূরে গিয়ে বিড়াল থেমে গেল এবং খরগোশ বিড়াল কে ধরে ফেলল এবং একটি অবাক কান্ড ঘটল, বিড়াল তার মাছ 🐟 নিজে খেল এবং খরগোশ কে তার খাবার গাজর 🥕 খেতে দিল।
পুরো ঘটনা দেখে রহিম হেসে ফেললো এবং বিড়াল ও খরগোশ কে বাড়ির মধ্যে নিয়ে আসলো। এরপর, তারা দুজন আর মারামারি করত না। তারা দুজনই খুব আনন্দে, মজায় দিন কাটাতে লাগল।
গল্পের শিক্ষা (Moral of the Story)
সত্যিকারের বন্ধুরা ঝগড়া করলেও একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না। বন্ধুর মাঝে ঝগড়া, একটু খুনসুটি খুবই সাধারণ একটি বন্ধুত্বের অংশ। এই ঝগড়ার কারণে বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত নয়। তবে, আপনি যদি ঝগড়া, মারামারি, খুনসুটি পছন্দ না করে, তাহলে সেটা বন্ধুদের বলতে হবে এবং বন্ধুদের ও বুঝতে হবে কে খুনসুটি করে এবং কে করে না।
বাহ্যিক ঝগড়া সব সময় শত্রুতার পরিচয় দেয় না। বন্ধুদের মধ্যে একটু চিমটি কাটা, চুল টানা, সহ বিভিন্ন ইআরকি করা মানেই শত্রুতা নয়। বরং, এটা ভালোবাসা।
ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন খুব শক্তিশালী। যদিও দুজনের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি হতে পারে। তবে, বন্ধুত্বের বন্ধন কে আরো শক্তিশালী করতে ঝগড়া, মারামারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, এই ঝগড়া, মারামারি ছোট বয়সে হলে সেটা ভালো, কিন্তু বড় হওয়ার পর ও যদি এই ধরনের ঝগড়া নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে সেটা হল শত্রুতা।
অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখা উচিত। আপনাকে বুঝতে হবে কে ইআরকি পছন্দ করে, আর কে ইআরকি পছন্দ করে না।
একসঙ্গে মিলেমিশে থাকলে জীবন আরও আনন্দময় হয়। মনে রাখবেন, ইআরকি, মজা, মারামারি, ঝগড়া, খুনসুটি করার চেয়ে ও একসঙ্গে মিলেমিশে থাকা সবচেয়ে জরুরি।
খরগোশ ও বিড়ালের মজার বন্ধুত্বের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রহিমের বাড়িতে কয়টি প্রাণী ছিল?
উত্তর: দুটি প্রাণী ছিল। একটি খরগোশ ও একটি বিড়াল।
২. খরগোশ ও বিড়াল কেমন ছিল?
উত্তর: তারা খুব চালাক, সুন্দর ও দুষ্টু ছিল।
৩. তারা কী নিয়ে ঝগড়া করত?
উত্তর: খাবার নিয়ে ঝগড়া করত।
৪. রহিম কেন চিন্তিত থাকত?
উত্তর: তাদের ঝগড়ার কারণে রহিম চিন্তিত থাকত।
৫. রহিম কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
উত্তর: বিড়াল ও খরগোশকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
৬. বিড়ালটিকে কোথায় রেখে এসেছিল?
উত্তর: বাড়ির পাশের খামারে রেখে এসেছিল।
৭. খরগোশ কেন গাজর খায়নি?
উত্তর: সে তার বন্ধু বিড়ালকে খুঁজছিল।
৮. রহিম কীভাবে বুঝল খরগোশ কষ্টে আছে?
উত্তর: খরগোশ খামারের দিকে তাকিয়ে অভিমান করে বসে ছিল।
৯. বিড়াল ফিরে আসার পর কী ঘটেছিল?
উত্তর: খরগোশ ও বিড়াল আবার মারামারি শুরু করেছিল।
১০. গল্পের শেষে কী হয়েছিল?
উত্তর: তারা বন্ধু হয়ে আনন্দে দিন কাটাতে লাগল।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url