ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পড়ালেখা: পড়াশোনার এক অনন্য আদর্শ
অর্থাৎ, পড়াশোনা থেকে ছুটি পেলেই আমরা হাপ ছেঁড়ে বাচি। পড়ালেখা যেনো একটি গলায় আটকে থাকা কাঁটা, যা তুলে ফেললেই আমরা মনে হয় স্বস্তি অনুভব করি।
কিন্তু, আসলেই কি পড়ালেখা ছাড়া জীবন চালানো যায়। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ক্ষেত্রে কি পড়ালেখা ছাড়া চলে। না চলে না। তবুও আমাদের এতো অভিযোগ কেন পড়ালেখ নিয়ে।
এছাড়াও, বর্তমান যুগ হল আধুনিক যুগ। এখন সবার বাড়িতেই দুটি, তিনটি এমন কি চারটি পর্যন্ত একটি পরিবারে মোবাইল ফোন রয়েছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা কিছুক্ষণ পড়ালেখা করেই মোবাইল হাতে তুলে নেয় এবং ইউটিউব, ফেসবুক এ ভিডিও দেখা, পোস্ট দেওয়া, কমেন্ট পড়া সহ নানা অনলাইন ভিত্তিক কাজ করে, যা পড়ালেখার জন্য এমন অভ্যাস মোটেও ভালো নয়।
মোবাইল কেন্দ্রীক পড়ালেখা, পড়ালেখা ধ্বংসের একটি সহজ সরল সমাধান। এই ধরনের খারাপ অভ্যাস থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে, নইলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
অথচ জীবনে সফল হতে হলে পড়াশোনার প্রতি নিষ্ঠা, মনোযোগ, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু, আমাদের তো পড়ালেখা শুনলেই জ্বর আসে। তাহলে কীভাবে পড়ালেখা করবেন এবং কার মত পড়ালেখা করবেন?
আপনারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে অনুসরণ করতে পারেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, মূর্খ সমাজের একজন সমাজ সংস্কারক।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ, বাল্যবিবাহের, বহুবিবাহ সহ সমাজের বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তার পড়ালেখার ব্যাপারে ছিল অগাধ পান্ডিত। তিনি সংস্কৃত কলেজে পড়ালেখা করে এবং এই কলেজ থেকে তিনি ১৮৩৯ সালে বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অসাধারণ গুণ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৯ জুলাই ১৮৯১। তিনি ৭০ বছর বেঁচে ছিলেন।
বিদ্যাসাগর গ্রামের পাঠশালা থেকে প্রাথমিক জ্ঞান নেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পড়ালেখা করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর কাছ থেকে পড়াশোনা কীভাবে করতে হয় তা শেখা যায়। তিনি কখনোই পড়ালেখার ব্যাপারে নিজেকে ছাড় দেননি। তিনি অবসর সময় অতিবাহিত করেননি। টেবিল এবং চেয়ার সব সময় তার সঙ্গেই থাকতো। নিজের সবটুকু উজাড় করে পড়ালেখা করতের তিনি।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছিল মাথা ভর্তি কালো চুল। চুল গুলো আমাদের মত সাধারণ নয়। তার মাথার পেছনে ছিল অতিরিক্ত চুল, যা সাধারণত টিকি নামে পরিচিত।
তিনি যখন কাঠের টেবিলে এবং চেয়ারে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করতেন, তখন এই মাথার টিকি দড়ির সঙ্গে বেঁধে রাখতেন, যেনো টিকি পড়ালেখায় সমস্যা না তৈরি করে এবং ঝিমুনি আসলে, ঘুমের কারণে শুয়ে না পড়ে।
সেই সময় আজকের মতো বিদ্যুতের আলো, আধুনিক পড়ার টেবিল কিংবা নানা ধরনের শিক্ষাসামগ্রী ছিল না। বিদ্যাসাগর প্রদীপ বা তেলের বাতির আলোয় পড়াশোনা করতেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন থেকে শিক্ষার্থীদের শেখার বিষয় হলো, শুধু প্রতিভা থাকলেই সফল হওয়া যায় না। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হয়। প্রতিদিন অল্প অল্প করে মনোযোগ দিয়ে পড়লেও একসময় বড় অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
তাই শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের উচিত পড়াশোনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো এবং কোনো বিষয় না বুঝলে তা বারবার অনুশীলন করা। নিজেকে কষ্ট দিয়ে বা ঘুমের প্রয়োজন উপেক্ষা করে নয়, বরং সুস্থভাবে নিয়মিত পড়াশোনা করাই হতে পারে সাফল্যের কার্যকর পথ।
আপনাকে বলছি না ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত রাত দিন ২৪ ঘন্টা পড়ালেখা করতে। আপনাকে বলবো শুধু নিয়মিত ৪-৫ ঘন্টা পড়ুন। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করুন।
আমি বলছি যে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান মনীষী হওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও তাঁর অধ্যবসায়, জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া সবার পক্ষেই সম্ভব।
আরো গল্প পড়ুন,


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url