কচ্ছপকে গুলতি ছুড়তে গিয়ে বিপদে রবিন — মজার গল্প
রবিন খুবই দুষ্টু এবং চঞ্চল প্রকৃতির একজন ছোট্ট ছেলে, যে রায়হান এর সাথে গুলতি দিয়ে ঘুঘু শিকার করতে গিয়েছিল। কিন্তু, সে এবং রায়হান ঘুঘুর খোঁজ না পেয়ে একটি বড় কচ্ছপ দেখতে পায় এবং তাঁরা কচ্ছপটি গুলতি দিয়ে মারতে যায় এবং রবিন আহত হয়।
কীভাবে রবিন কচ্ছপের আঘাতে কুপোকাত হল এবং জ্ঞান হারালো চলুন জানি সেই মজার ও হাসির গল্পটি।
কচ্ছপকে গুলতি ছুড়তে গিয়ে বিপদে রবিন — মজার গল্প
রবিন এবং রায়হান খুবই ভালো বন্ধু। তাঁরা ছোট্ট মোবারকপুর গ্ৰামে বসবাস করে। যেখানে গাছপাল, লতাপাতা, আর সহজ সরল মানুষ বসবাস করে।
তাদের গ্ৰামে মানুষের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। কিছু প্রাণী সেখানকার মানুষ লালন পালন করে এবং কিছু বন্য প্রাণী রয়েছে, যারা বনের মধ্যে বসবাস করে।
বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে কাঠবিড়ালী, বিভিন্ন ধরনের পাখি, কচ্ছপ, শেয়াল সহ আরো নাম না জানা প্রাণী।
একদিন রবিন এবং রায়হান একটি গুলতি হাতে নিয়ে গ্ৰামের পাশে থাকা জঙ্গলে গেল ঘুঘু শিকার করার উদ্দেশ্যে। রবিন ও রায়হান এর মধ্যে রবিন হল সবচেয়ে দুষ্টু এবং চঞ্চল স্বভাবের। অন্যদিকে রায়হান খুবই শান্ত এবং বুদ্ধিমান একজন ছেলে।
রবিন রায়হান এর বাসায় গেল এবং বলল রায়হান চলো আমরা ঘুঘু শিকারে যায়। ঘুঘু শিকার করতে পারলে তা দিয়ে আমরা একটি পিকনিক করব।
রবিনের কৌতূহলী কথা ফেলতে পারল না রায়হান। দ্রুত ঘরের মধ্যে ঢুকে সাদা টিশার্ট পড়ে বেরিয়ে গেল দুজনে।
যদিও রবিন গুলতি হাতে নিয়েছিল, মাথায় পড়েছিল লাল ক্যাপ, এবং একটি হলুদ টিশার্ট পড়েছিল।
মোবারকপুরের পাতলা আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটতে লাগলো দুজনে।
হাঁটতে হাঁটতে এক গাছ থেকে অন্য গাছে ঘুঘু খুঁজতে লাগলো দুজনে।
গাছের নিচ থেকে গাছের মগডাল পর্যন্ত ঘুঘু দেখতে উঁকি দিল দুজনে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোথাও কোন ঘুঘু দেখতে পেল না।
তবে, জঙ্গলের ভিতর ঘুঘু দেখতে না পেলেও তারা দুজন একটি বড় কচ্ছপ দেখতে পেল।
তাঁরা দুজন জঙ্গল থেকে বের হচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ রবিন দেখতে পেল মাটির রাস্তা দিয়ে কি যেনো একটা ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে।
রবিন বলল এটা হেঁটে যাচ্ছে রায়হান?
রায়হান বলল আরে এটা তো মস্ত বড় একটা কচ্ছপ 🐢।
রবিন বলল তাহলে কি এটা খাওয়া যায়। এটা দিয়ে কি পিকনিক করা যাবে?
রায়হান 😆😆😆😆😆😆 হাসতে লাগলো এবং বলল আরে পাগল বন্যপ্রাণীর মধ্যে সব প্রাণী খাওয়া যায় না। ঘুঘু খাওয়া যায়, কিন্তু কচ্ছপের গোস্ত খাওয়া যায় না।
আচ্ছা বুঝতে পেরেছি। খেতে তো পারব না। কিন্তু কচ্ছপকে তো মারতে পারব।
রবিন কচ্ছপটি কে মারার জন্য গুলতির মধ্যে একটি ছোট্ট পাথর রাখল এবং গুলতির দড়ি খুব জোরে পেছনে টেনে ছুঁড়ে মারল কচ্ছপের গায়ে।
পাথরটি কচ্ছপের গায়ে থাকা শক্ত ও শক্তিশালী খোলসের উপর লাগা মাত্রই উসটে গিয়ে রবিনের মাথায় লাগলো।
মাথায় জোরে পাথরের আঘাতের কারণে রবিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। সে আহত হল।
রবিন মাটিতে পড়ে আছে এবং রায়হান বলল রবিন রবিন কোন সাড়া শব্দ নেই।
রায়হান বুঝতে পারল রবিন জ্ঞান হারিয়েছে। পাশের পুকুর থেকে দুই হাতে পানি নিয়ে এসে রবিন চোখে মুখে মারল রায়হান।
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেল রবিন।
জ্ঞান ফিরে পেয়েই দেখতে পেল সেই কচ্ছপটিকে। রবিন কচ্ছপ দেখেই ভয়ে পালালো।
পিছন থেকে রায়হান বলল থাম থাম আমি ও বাড়ি যাবো রবিন। রবিন একটু দাড়া……..
কিন্তু রবিন কারো কথা শুনলো না এবং দৌড়ে বাড়ি চলে গেল।
অন্যদিকে কচ্ছপটি 🐢 রায়হান ও রবিনের দৌড়ের আওয়াজ শুনে পেছনে ঘুরে তাকালো এবং আবার আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগলো। কচ্ছপ কোন কিছু বুঝতে পারল না।
গল্পের শিক্ষা
বন্য প্রাণী এবং পোষা প্রাণীদের উপর আমাদের সহানুভূতি প্রকাশ করতে হবে। তাদের ক্ষতি করা বা মারা যাবে না। বন্য প্রাণীদের তাদের নিজের মত করে চলতে দিতে হবে।
গল্পে রবিন এবং রায়হান একটি কচ্ছপ কে গুলতির ভিতর পাথর নিয়ে মারতে গিয়েছিল, কিন্তু কচ্ছপের শক্ত খোলসের জন্য কচ্ছপ পাথরের আঘাত থেকে বেচে যায় এবং পাথর উসটে গিয়ে রবিনের মাথায় লাগে।
রবিনের মত দুষ্টু ছেলেদের জানা উচিত যে, কোন প্রাণী কে মারা উচিত নয়।
আরো গল্প পড়ুন,




অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url