শিয়াল আর সোনালি মোরগ গল্প
শিয়ালের চতুরতা ও অহংকারের শিক্ষা
চতুরতা মানুষের জীবনে যেমন রক্ষা করে, তেমনি ভুলভাবে ব্যবহার হলে বিপদও ডেকে আনে। এই গল্পে আমরা দেখব একটি শিয়ালের ধূর্ততা, কৌশল, এবং প্রতারণার মাধ্যমে কীভাবে সে এক সোনালি মোরগকে ফাঁদে ফেলে এবং মোরগ কে তার শিকারের পরিণত করল।
এখানে লোভ, অহংকার এবং ছলনা একসাথে কাজ করে একটি দুঃখজনক পরিণতি তৈরি করে। শিশুদের জন্য এই গল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা বহন করে, যেখানে বুদ্ধি, সতর্কতা এবং বিচারবোধের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
শিয়াল আর সোনালি মোরগ
একটি শান্ত গ্রাম্য পরিবেশে একজন চাষি তার নিজের বাড়ি একটি সুন্দর সোনালি মোরগ লালন পালন করত। মোরগটি ছিল দেখতে খুব সুন্দর। সোনালি মোরগ যখন বাইরে বের হতে, তখন তার পালক সূর্যের আলোতে ঝলমল করত।
চাষির তার ডাকে সকালে ঘুম থেকে উঠত। প্রতিদিন তাঁকে খাবার দিত এবং চাষি তার নিজের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তাঁকে স্নেহ করত।
কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল, মোলগটি ছিল একটু বোকা এবং সরল। সবার কথা মত কাজ করত। কেউ ডাকলে তার কাছে যেত।
সোনালি মোরগটির ডাক খুব সুরেলা ছিল, তাই মোরগটি সব সময় ডাকত এবং সবাই মোরগের সুরেলা কন্ঠের প্রশংসা করত।
সোনালি মোরগটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল। বদ নজর পড়ল শিয়ালের। শিয়াল বিভিন্ন কৌশল করে, তাকে শিকার করার চেষ্টা করতে লাগলো।
চালাক শেয়াল প্রতিদিন সকালে একটি শিয়াল চাষির মোরগের কাছে আসত। সে দূর থেকে মোরগকে দেখে মিষ্টি কণ্ঠে বলত,
“আহা! তোমার গলার আওয়াজ খুব সুন্দর! তোমার ডাক শুনলেই প্রকৃতি নতুন ভাবে জেগে ওঠে।”
এই কথা শোনার পর মোরগের মনে আনন্দ হল এবং নিজে গর্ববোধ করল। সে ভাবতে শুরু করল, সত্যিই হয়তো সে এই বনের সবচেয়ে সুন্দর কন্ঠের প্রাণী।
শিয়াল ছিল অত্যন্ত ধূর্ত। সে জানত, সরাসরি আক্রমণ করলে মোরগ পালিয়ে যাবে। তাই সে ব্যবহার করল কৌশল, মায়া এবং ছলনা।
প্রতিদিন শিয়াল মোরগটির প্রশংসা করল। এভাবে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় কথা আদান-প্রদান হতো।
একদিন শিয়াল চাষির বাড়ির সামনে গেল এবং বলল,
“মোরগ তোমার চমৎকার গলা, এই সুন্দর গলার স্বর তুমি চাষির বাড়িতেই শুধু শোনাতে চাও। তুমি একটু বাড়ির বাইরে আসো, চলো আমরা বনের অন্যান্য পশুপাখি দের তোমার গলার সুরেলা কণ্ঠ শোনায়। তারা তোমাকে অনেক প্রশংসা করবে।”
মোরগ প্রথমে কিছুতেই বনে যেতে চাইলো না। কিন্তু, শিয়ালের মিষ্টি কথার মধ্যে সে সন্দেহ খুঁজে পেল না। তাই, বোকা সোনালি মোরগ যেতে চাইলো।
ঠিক তখনই শিয়ালের আসল পরিকল্পনা সফল হওয়ার পথে এগোতে লাগল। মোরগ ধীরে ধীরে চাষির বাড়ির উঠান থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। তখন, শিয়াল চারিদিকে তাকলো এবং সুযোগ বুঝে মোরগের গলা ধরে ফেলল।
শেষে, সোনালি মোরগটি শেয়ালের খাবারে পরিণত হল এবং মোরগটির জীবন কাহিনী এখানেই শেষ হল।
গল্পের শেষ ও শিক্ষা
শিয়ালের চতুরতা, ধূর্ততা এবং কৌশলী আচরণ তাকে তার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করলেও এটি একটি অমানবিক কাজ ছিল। অন্যদিকে, মোরগের নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত গর্ববোধ তাকে দুর্বল করে তুলেছিল এবং শেষে সোনালি মোরগ এর পরিণতি খুব খারাপ হল।
নীতিকথা
অতিরিক্ত প্রশংসা ও অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দিতে পারে। বুদ্ধি ও সতর্কতা ছাড়া অন্যের কথায় সহজে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক হতে পারে। অন্যকে বিশ্বাস করা বন্ধ করুন।
শিয়াল আর সোনালি মোরগের গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর
১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রশ্ন: গল্পের প্রধান চরিত্র দুটি কী?
উত্তর: শিয়াল এবং সোনালি মোরগ।
২. প্রশ্ন: শিয়াল মোরগকে কীভাবে প্রলুব্ধ করত?
উত্তর: মিথ্যা প্রশংসা ও মিষ্টি কথার মাধ্যমে।
৩. প্রশ্ন: মোরগ কেন শিয়ালের কথায় বিশ্বাস করল?
উত্তর: সে অহংকার ও প্রশংসার কারণে বিভ্রান্ত হয়েছিল।
৪. প্রশ্ন: শিয়ালের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: মোরগকে ফাঁদে ফেলে খেয়ে ফেলা।
৫. প্রশ্ন: শিয়াল কী ধরনের আচরণ করেছিল?
উত্তর: ধূর্ত ও প্রতারণামূলক আচরণ।
৬. প্রশ্ন: মোরগ কোথায় নামল?
উত্তর: খামারের মাটিতে শিয়ালের কাছে।
৭. প্রশ্ন: মোরগের দুর্বলতা কী ছিল?
উত্তর: অহংকার এবং সহজে বিশ্বাস করা।
৮. প্রশ্ন: গল্পের মূল ঘটনা কী?
উত্তর: শিয়াল মোরগকে ফাঁদে ফেলে ধরে ফেলে।
৯. প্রশ্ন: শিয়াল কীভাবে সফল হলো?
উত্তর: কৌশল ও মিথ্যা প্রশংসার মাধ্যমে।
১০. প্রশ্ন: এই গল্পের শিক্ষা কী?
উত্তর: অতিরিক্ত প্রশংসা ও অহংকার বিপদ ডেকে আনে।
আরো গল্প পড়ুন,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url