শিয়াল ও আঙুর ফল: না পাওয়ার অজুহাতের গল্প

এক ক্ষুধার্ত শিয়ালের ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং আত্মপ্রবঞ্চনার শিক্ষামূলক উপকথা

প্রাচীনকাল থেকে নীতিকথা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এমনই একটি জনপ্রিয় উপকথা হলো "শিয়াল ও আঙুর ফল"। এই গল্পে একটি ক্ষুধার্ত শিয়ালের আঙুর পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, তার ব্যর্থতা এবং সেই ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য অজুহাত তৈরির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। 
শিয়াল ও আঙুর ফল: না পাওয়ার অজুহাতের গল্প

গল্পটি আমাদের শেখায় যে, কোনো কিছু অর্জন করতে না পারলে তার দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আরও চেষ্টা করা উচিত। আসুন, পড়ে দেখি আত্মপ্রবঞ্চনা ও বাস্তবতার এই চিরন্তন শিক্ষামূলক গল্পটি।

শিয়াল ও আঙুর ফল গল্প 

একটি শিয়াল প্রতিদিন তার নিজের খাবার নিজে সংগ্ৰহ করতে এবং খাবার খোঁজে শেয়াল দূর দূরান্তে ঘুরে বেড়াতেন। একদিন শিয়াল খুব ক্ষুধার্ত হয়ে খাবার খুঁজতে বের হলো। সেই দিন তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ ছিল যে, সে কোন খাবার পাচ্ছিলো না। 

শেয়াল মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে দেখল এবং সে কোন খাবার পেল না। অবশেষে ঘুরতে ঘুরতে সে একটা আঙুরের বাগান দেখতে পেল এবং সে আঙ্গুরের বাগানে ঢুকে গেল। 

গাছে থোকা থোকা পাকা আঙুর ঝুলছে। দেখেই শিয়ালের জিভে জল চলে এলো। আঙুরগুলো এত সুন্দর আর রসালো দেখাচ্ছিল যে শিয়ালের বলল, "আহা, এই আঙুর খেতে না জানি কত মিষ্টি হবে!"

আঙুর পাড়ার জন্য শিয়াল লাফ দিল। কিন্তু নাগাল পেল না। আঙুরের থোকা ছিল অনেক উঁচুতে।

সে আবার লাফ দিল। আবারও পারল না। বারবার লাফাতে লাগল। কিন্তু কিছুতেই আঙুরের নাগাল পেল না। শেষে হাঁপিয়ে গিয়ে সে মাটিতে বসে পড়ল।

অনেক চেষ্টা করেও যখন আঙুর পাড়তে পারল না, তখন শিয়াল গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল এবং মুখ বাঁকিয়ে বলল, "ধুর! এই আঙুর তো এখনও কাঁচা, ভীষণ টক। টক আঙুর আমি খাবো না। পরে আঙুর খাবো" 

এই বলে সে হাঁটতে হাঁটতে আঙুল ফলের বাগান থেকে চলে গেল। সে এতোটাই বিরক্ত হল যে, সে আঙুরের বাগানের দিকে এক বার পিছন ফিরে ও তাকালো না। 

গল্পের শিক্ষা (Moral of the story) 

না পেলে আঙুর ফল টক। মানুষ যখন কোনো জিনিস পায় না বা কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারে না, তখন নিজের অক্ষমতা ঢাকতে সেই জিনিসটারই নিন্দা করে। 

জীবনে আমরা অনেক সময় অনেক কিছু পাওয়ার প্রত্যাসা করি, কিন্তু আমরা সেটা পায় না। তখন আমরা ঐ জিনিসটার দোষ গুলো বলি এবং নিজের অক্ষমতা ঢেকে দেয়। 

যদি ও এই অক্ষমতা ঢাকার প্রচেষ্টা কিছু সময়ের জন্য নিজের সম্মান, মর্যাদা, এবং সমাজের চোখে ভালো হিসেবে প্রদর্শিত করে। তবে এই অক্ষমতা ঢাকার প্রচেষ্টা তোমার চেষ্টা কে পুরোপুরি মেরে ফেলে। 

তাই, কোনো কাজ করার আগে আমাদের মেনে নিতে হবে, আমি কোনো কিছু পারি না এবং আমাকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ, অক্ষমতা তো সবারই থাকে। তবে যিনি অক্ষমতা কে চেষ্টার মাধ্যমে সক্ষমতায় পরিণত করে, সেই যুবক বা সেই যুবতী সফল এবং এক সময় অভিজ্ঞ মানুষে পরিণত হয়। 

শেয়াল মত নিজের অক্ষমতা ঢেকে রাখা উচিত নয়। বরং, নিজের অক্ষমতা কে চেষ্টার মাধ্যমে সক্ষমতায় পরিণত করা। যদি আপনি অক্ষমতা ঢেকে না রাখেন, কাজের দোষ না দেন, তাহলে আপনি হবেন পরবর্তী সফল মানুষ। 

শিয়াল ও আঙুর ফল গল্প থেকে প্রশ্ন ও উত্তর 

১০টি ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১. প্রশ্ন: গল্পের প্রধান চরিত্র কে?

উত্তর: একটি শিয়াল।

২. প্রশ্ন: শিয়াল কেন খাবার খুঁজছিল?

উত্তর: সে খুব ক্ষুধার্ত ছিল।

৩. প্রশ্ন: শিয়াল কোথায় আঙুর দেখতে পায়?

উত্তর: একটি আঙুরের বাগানে।

৪. প্রশ্ন: আঙুরগুলো কেমন ছিল?

উত্তর: পাকা ও রসালো।

৫. প্রশ্ন: শিয়াল আঙুর পেতে কী করেছিল?

উত্তর: বারবার লাফ দিয়েছিল।

৬. প্রশ্ন: শিয়াল কি আঙুর পেয়েছিল?

উত্তর: না, পায়নি।

৭. প্রশ্ন: আঙুর কেন পাড়তে পারেনি?

উত্তর: আঙুর অনেক উঁচুতে ছিল।

৮. প্রশ্ন: শেষে শিয়াল কী বলেছিল?

উত্তর: আঙুর টক।

৯. প্রশ্ন: শিয়াল কেন আঙুরকে টক বলেছিল?

উত্তর: নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে।

১০. প্রশ্ন: গল্পের শিক্ষা কী?

উত্তর: না পেলে তার নিন্দা করা উচিত নয়।

আরো গল্প পড়ুন, 





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url