নিজে সফল হোন, অন্যদেরও সফলতার পথে এগিয়ে নিন

একছেলে অন্য জনদের টেনে উপরে তুলছে

আপনি সফল হলেই অন্যরাও একই সফলতা পেতে চায়। অন্যরা ও আপনার পথ অনুসরণ করতে চাই, অন্যরা ও সম্মান পেতে চাই, অন্যরা ও টাকা ইনকাম করতে চাই। এটাই অন্যের জন্য আপনার মোটিভেশন, যা অন্যদেরও সফল হতে সাহায্য করে। 

কিন্তু আমরা সমাজে নানা ব্যক্তির থেকে শুনি ঠিক উল্টো এবং বিপরীত কথা। সমাজের নানা ব্যক্তিরা বলে, একটি ভালো আমের সাথে খারাপ আম রাখলে, খারাপ আম ভালো আম কে নষ্ট করে দেবে। 

আবার অনেকে বলে, একটি পুকুরে রোগ আক্রান্ত মাছ থাকলে পুকুরে থাকা অন্য মাছ গুলো ও আক্রান্ত হবে। 

অথচ, ফল বা মাছের মত আমরা মানুষরা এমন যে নই তা কেউ ভাবে না। আমরা যদি একটু অনুধাবন করে দেখি যে, মাছ ও আমের কোন হিংসা ও নিজেকে রোগ থেকে বাঁচানোর বা নিজেকে ভালো করার সামর্থ তাদের কাছে নেই। 

অথচ, মানুষের মধ্যে রয়েছে হিংসা, নিজেকে ভালো রাখার বিভিন্ন উপায় এবং কখনো খারাপ পরিস্থিতিতে পড়লে তা থেকে উঠার সক্ষমতা। এই গুণ গুলোর জন্যই মানুষের সাথে প্রকৃতির অন্য কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। কারণ, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। 

অর্থাৎ, অন্যের থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে ও নিজেকে খারাপ বানানোর চেয়ে নিজেই ভালো হয়ে উঠুন এবং অন্যদের সফল করুন। 

অন্যজন বিড়ি, সিগারেট, ও মাদক খায়।‌ অন্যরা রাত ২টায় ঘুমায়। তাঁরা নিজেকে পরিবর্তন করে না, তারা বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। আপনি ও তাদের মত হয়ে যাবেন না। 

তাদের থেকে নিজেকে আলাদা করুন, নিজের কাজ প্রতিদিন করুন, নিজের সঠিক অভ্যাসের উপর অবিচল থাকুন।‌ দিন শেষে আপনি বিজয়ী। 

আমি বলছি নিজে অন্যের ভালোর কারণ হয়ে যান। নিজেকে পরিবর্তন করুন, অন্য কে দেখিয়ে দিন ভালো‌ হওয়া কাকে বলে। অন্যের পরিবেশে নিজেকে জড়াবেন না। বরং, নিজের পরিবেশে অন্যদের জড়িয়ে দিন, যেনো খারাপ মানুষেরা ভালো হয়। 

অন্যরা যেনো আপনাকে উদাহরণ হিসেবে গ্ৰহণ করে নেয়। তাঁরা যেনো বলতে না পারে সমাজের মধ্যে কেউ ভালো মানুষ নেই, কেউ সফলতা পায়নি।‌

তাই নিজে আগে সফলতা অর্জন করুন এবং অন্যদেরও সফলতার পথে এগিয়ে নিন।‌

মুহাম্মদ (সা.) এর সফলতা ও ইসলাম ধর্মের প্রসার 

কীভাবে নিজে সফল হবার পর, কীভাবে অন্য মানুষকে সফল করব তা আমরা মুহাম্মদ (সা.) এর কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। 

যখন তিনি আনুমানিক ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্ৰহণ করেন, সেই সময় কি রাসুল সা এর জন্য ভালো পরিবেশ ছিল। উত্তর হল না সেই সময় মুহাম্মদ (সা.) এর জন্য পরিবেশ উপযোগী ছিল না। 

কিন্তু, তিনি কি করেছেন? তিনি মূর্খ জাহেল সমাজের মানুষের মত নিজেকে সেই পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছেন। না, তিনি সেই পরিবেশের কোনো কিছুই গ্ৰহণ করেননি। তিনি সমাজের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেছেন। তিনি চিন্তা করেছেন কীভাবে জাহেলি যুগের মানুষ গুলো কে সোনার মানুষে পরিণত করা যায়। 

তিনি হেরা গুহায় ধ্যান মগ্ন থেকেছেন এবং গোটা মানুব সমাজের ভালোর জন্য দোয়া করেছেন। 

এরপর, যখন আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সা.) কে কুরআন দিলেন, জ্ঞান দিলেন। নিজে একটি পথ, আদর্শ, ও সফলতা পেলেন। 

তখন তিনি অন্য মানুষকে পথ দেখালেন এবং মদিনায় রাষ্ট্র গঠন করলেন এবং মক্কা বিজয় করলেন। 

প্রায় ১৪ শত বছর পর বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সেরা ধর্ম গুলোর মধ্যে একটি হল ইসলাম। 

আপনি ও এমন একজন সফল মানুষ হয়ে উঠুন।‌ যিনি নিজের সফলতা অর্জন এর পাশাপাশি পুরো পরিবার, পুরো সমাজের, পুরো দেশের, এবং পুরো পৃথিবীর আইডলে পরিণত হয়ে উঠবে।‌

আপনার আদর্শ গ্ৰহণ করে অন্যরা ভালো হবে।‌ অন্যরা ভালো কথা বলবে, অন্যরা দুর্নীতি করবে না, অন্যরা সঠিকভাবে পড়ালেখা করবে, অন্যরা ও সফল হবে।‌

শুধু, আপনি পরিবর্তন হয়ে যান এবং নিজে সফল হন।‌  

আরো গল্প পড়ুন,





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url