বৃষ্টির দিনে ছাতা দিয়ে সাহায্য করল বিথি
চলুন সুন্দর গল্পটি বিস্তারিত পড়ি। আসলে কী হয়েছিল চলুন জেনে নেওয়া যাক। গল্পটিতে বিথি সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব এবং সাহায্য করেছে। অন্যদিকে সায়েমা বাড়ি পৌঁছানোর পর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। গল্পটিতে সামাজিক দিকটি খুবই চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।
বৃষ্টির দিনে ছাতা দিয়ে সাহায্য করল বিথি
বিথি ও সায়েমা খুব ভালো বন্ধু। তারা মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।
বর্ষাকালের একদিন বিথি ছাতা নিয়ে স্কুলে এল। কিন্তু সায়েমা কোনো ছাতা ছাড়াই স্কুলে এল।
স্কুল ছুটি হলো। সায়েমা স্কুলের প্রবেশপথের কাছে জুতার তাক থেকে নিজের জুতা নিল। তারপর জুতা পায়ে দিয়ে স্কুলের বাইরে তাকাল। সে দেখল, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।
বৃষ্টি দেখে সায়েমার মন খারাপ হয়ে গেল। সে ভাবতে লাগল, কীভাবে বাড়ি যাবে। তার কাছে কোনো ছাতা বা রেইনকোট ছিল না। সে দ্রুত বাড়ি যেতে চাইল। কারণ, দেরি হলে তার মা অনেক চিন্তা করবেন।
এমন সময় বিথি জুতার তাক থেকে নিজের জুতা নিতে এল। সে দেখল সায়েমা মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
বিথি জিজ্ঞেস করল, সায়েমা তোমার কী হয়েছে? তুমি মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন?
সায়েমা বলল, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে কোনো ছাতা নেই। আমি কীভাবে বাড়ি যাব? দেরি হলে আমার মা চিন্তা করবেন।
বিথি তার বন্ধুর সমস্যাটি বুঝতে পারল। সে বলল, চিন্তা করো না সায়েমা। আমি তোমাকে সাহায্য করব। চলো, আমরা দুজন একসঙ্গে ছাতার নিচে বাড়ি যাই।
বিথির কথা শুনে সায়েমা খুশি হলো। তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
সায়েমা বলল, ধন্যবাদ বিথি। তুমি আমাকে অনেক সাহায্য করলে। তুমি যদি আমার সঙ্গে ছাতা ভাগ করে না নিতে, তাহলে আমাকে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি যেতে হতো।
বিথি বলল, বন্ধুর বিপদে বন্ধুকে সাহায্য করতে হয়। চলো, এবার বাড়ি যাই।
তারপর বিথি ও সায়েমা হলুদ ছাতার নিচে দাঁড়াল। তারা দুজন বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল।
চারদিকে বৃষ্টি পড়ছিল। হলুদ ছাতার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল। ছাতার চারপাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে রাস্তায় পড়ছিল।
দুজনের কাঁধে স্কুলব্যাগ ছিল। তাদের পায়ে জুতা ছিল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা রাস্তায় পড়ছিল। রাস্তার ওপর জমে থাকা পানি এদিক-ওদিক বয়ে যাচ্ছিল।
ছাতার কারণে তাদের শরীরের বেশির ভাগ অংশ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু হাঁটার সময় তাদের পা পানিতে ভিজে যাচ্ছিল।
রাস্তার কোথাও কম পানি জমেছিল, আবার কোথাও বেশি পানি জমেছিল। তারা সাবধানে পানি পেরিয়ে সামনে এগিয়ে চলল।
প্রায় আধা ঘণ্টা হাঁটার পর সায়েমা তার বাড়ি দেখতে পেল। সে খুশি হয়ে দ্রুত বাড়ির বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। তারপর বিথির দিকে তাকিয়ে তাকে বিদায় জানাল।
সায়েমা বলল, ধন্যবাদ বিথি। তুমি আমাকে সাহায্য করেছ। তোমার জন্যই আমি বৃষ্টিতে বেশি না ভিজে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি।
বিথি হাসিমুখে বলল, স্বাগতম সায়েমা। তোমাকে সাহায্য করতে পেরে আমি খুব খুশি হয়েছি।
সায়েমা বলল, বাই বাই বিথি। আবার দেখা হবে!
বিথি হাত নেড়ে বিদায় জানাল। তারপর সে নিজের বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল।
গল্পের শিক্ষা
বিপদে পড়লে কে আসল বন্ধু এবং কে আসল বন্ধু নয় তা বোঝা যায়। শুধু মুখে বললেই বন্ধু হয় না। সুখে দুঃখে পাশে থাকাই আসল বন্ধুর পরিচয়।
গল্পে সায়েমার আসল বন্ধু হল বিথি, যে স্বার্থপরের মত বৃষ্টির মধ্যে একা ছাতা মাথায় দিয়ে আসে নি। বরং, বিথি প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়েছে এবং সায়েমা কে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা দিয়ে সাহায্য করেছে।
আরো গল্প পড়ুন,





অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url